◻️"একটা বেড়া পেরিয়ে গেলে আর বোধহয় ফেরা হয়না। কে বলতে পারে, কার জীবনে সেই বেড়াটা কোথায়?"
◻️বড় অস্থির, বড় বিপথগামী সময়। পিচ্ছিল আধুনিক সময়ে যুবসমাজ বেপথু। ড্রাগচক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে যুবক-যুবতী। সৌরভ, সাবিত্রী, স্বপন, শুভ, দীপু-রা। উচ্চশিক্ষিত, অথচ কী এক মোহের টানে হ্যালুসিনেশনের কালো দুনিয়ায় বাস করতে চায়। সেই অগ্নির মতো সর্বভুক ড্রাগসের নেশা তছনছ করে দিতে পারে একটা সুন্দর সংসারকে। শুধু সংসার কেন, মেরুদণ্ড ভেঙে দেয় একটা গোটা সমাজের কাঠামোর। নেশার ঠিক উল্টোদিকে সমাজে রয়েছে অগাধ ভালোবাসা নিয়ে অপেক্ষমান 'হৃদকমল'। ওদের দু-হাত বাড়িয়ে ডাকছে, ফিরে এসো ঘরে। একদিকে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনের হাতছানি, অন্যদিকে মোহময় মাদক। 'হৃদকমল' একটি উপন্যাস, নাকি একটি রিহ্যাব, নাকি কোনো শঙ্কিত ভবিষ্যদ্বাণী?
◻️উপন্যাসটি "সাপ-লুডো" আর "হৃদকমল" নামের দুটি উপন্যাসের সংমিশ্রণ, যেখানে প্রথম পুরুষ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এক একটি চরিত্রের জবানবন্দি পাওয়া গেছে। সেই জবানবন্দীতে শামিল অনেকেই, কখনও প্রতিমা, কখনও শুভব্রত, আবার কখনও বা উশ্রী, মল্লিকা, পাবলো ইত্যাদি। প্রত্যেকের বর্ণনা পড়লে বোঝা যায় ড্রাগের দুনিয়া কতটা ভয়াবহ, কতটা অন্ধকার, মানুষ ড্রাগের জন্য কতটা অপরাধপ্রবণ হয়। এই উপন্যাস নিঃসন্দেহে সচরাচর উপেক্ষিত এক অন্ধকার সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতি সচেতনতা বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম।
◻️আসলে এই খেলায় হারজিত সব খেলুড়ের হাতেই।নেশার আরোগ্য হয় নিজের অন্তরের থেকে চেষ্টা করলে তবেই! যারা এই যুদ্ধে হেরে যায়, শুধু কেবলমাত্র তারা জিততে চাই না বলে... কিন্তু কেনো চাই না উত্তর জানা নেই। যারা নিজেদের ইচ্ছার জোরে ফিরে আসতে পেরেছে তারা রয়ে গেছে বাকিরা পরিবার কে সর্বশান্ত করে কাছের মানুষকে অথৈ জলে ফেলে দিয়ে অকালেই চলে গেছে।কোনো ডাকই তাদের ফেরাতে পারলো না।
◻️ তারপর? জিতল কে, আলো না অন্ধকার? পৃথিবীর রূপরসবর্ণগন্ধ কি আবার ধরা দিল এদের জীবনে? নাকি কালের অতলে টেনে নিয়ে গেল এই সর্বনেশে নেশা? সম্পর্কের কত না চোরা-টান, প্রেম-ভালোবাসা ছড়িয়ে আছে চরিত্রদের মধ্যে। দু-এক জায়গায় মল্লিকা ও স্বপনের নাম ভুল মুদ্রিত হওয়ার সমস্যাটুকু বাদ দিয়ে এ উপন্যাসে আপনি গভীরে মনোযোগ দিতে বাধ্য। অবক্ষয় ও উত্তরণের এক নিরন্তর দ্বন্দ্ব নিয়ে বাংলার অন্যতম লেখকের মর্মস্পর্শী উপন্যাস 'হৃদকমল'।