KOLKATAR MANDIR-MASZID STHAPOTYA-ALANKARAN-RUPANTAR [Essay] By Tarapada Santra
প্রচ্ছদ – কৃষ্ণেন্দু চাকী
বিরামবিহীন নগরায়ণের ফলে কলকাতার প্রাচীন মন্দিরসৌধের বহুলাংশ ইতিমধ্যেই ধ্বংস বা রূপান্তরিত হয়ে গেছে। অনুরূপভাবে, সংস্কারের প্রলেপে প্রাচীন মসজিদগুলির স্থাপত্য-বৈশিষ্ট্যও প্রায় নিশ্চিহ্ন। এমন পরিস্থিতিতে লেখক এই গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করে রাখলেন কলকাতার ধর্মীয় স্থাপত্যের এক সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ইতিহাস।
কলকাতার ইতিহাস আলোচনা প্রসঙ্গে যে-সব বিদেশি ঐতিহাসিক তাঁদের রচনায় ধর্মীয় স্থাপত্যের উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে প্রাধান্য পেয়েছে খ্রিস্টীয় ভজনালয় অর্থাৎ গির্জার বিবরণ। অথচ কলকাতার হিন্দুরা এবং খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী বাদে অন্যান্য আগত সম্প্রদায় তাদের সে-সব ধর্মীয় উপাসনালয় স্থাপন করেছিলেন, তা এই শহরের সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছিল। বিশেষত, হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মন্দির-মসজিদের স্থাপত্য-ভাস্কর্যের মধ্যে সামাজিক ইতিহাসের এমন বহু তথ্য ও তত্ত্ব আত্মগোপন করে আছে, যা কলকাতার পূর্ণাঙ্গ ইতিবৃত্ত রচনার সহায়ক। এদিকে কলকাতার চেহারা সভ্যতার অগ্রগতির চাপে যেভাবে দ্রুত বদলে যাচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে অতীত ইতিহাসের বহু উপকরণ, যেখানে এইসব দেবালয়-উপাসনালয়ও রূপান্তরের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। কোনও কোনও ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। এইরকম এক ধ্বংসোন্মুখ অবস্থায় লেখক কলকাতার রাস্তায়,অলিতে গল্লিতে ঘুরে সংগ্রহ করেছেন মন্দির-মসজিদের ইতিহাস-স্থাপত্য-অলংকরণের এক নিবিড় রূপরেখা ধর্মীয় স্থাপত্য হওয়া সত্ত্বেও কলকাতার ইতিহাসে এইসব প্রাচীন মন্দির-মসজিদের গুরুত্ব অপরিসীম। সঠিক অনুশীলন ও বিশদ বিশ্লেষণে লেখক সেদিকে আমাদের দৃষ্টি ফিরিয়েছেন।
সূচিপত্র –
কলকাতার মন্দির-মসজিদঃ স্থাপত্য-অলংকরণ-রূপান্তর কলকাতার বিভিন্ন রীতির মন্দির- স্থাপত্য সম্পর্কিত সারণি প্রসঙ্গঃ কলকাতার মসজিদ পরিশিষ্ট ১: জগন্নাথ মন্দির পরিশিষ্ট ২: কলকাতার মন্দিরে নিবদ্ধ প্রতিষ্ঠালিপির বিবরণ পরিশিষ্ট ৩: ১৮৫৬ খ্রি. প্রণীত পথ-পঞ্জিতে উল্লিখিত কলকাতার মন্দির দেবালয়ের তালিকা পরিশিষ্ট ৪: ১৮৫৬ খ্রি. প্রণীত পথ-পঞ্জিতে উল্লিখিত কলকাতার মসজিদসমূহের তালিকা গ্রন্থপঞ্জি অনুক্রমণিকা