Mihir Sengupta is an Indian writer of Bengali origin, best known for his 2005 autobiography Bishaad Brikkho (Tree of Sorrow). It describes the 1947 partition as seen by the author, who was uprooted from his native Barisal in present-day Bangladesh and ended up in Calcutta as a refugee. Bishaad Brikkho is regarded as an important literary document of the 1947 partition and won the Ananda Puroshkar literary prize. His current residence is in the West Bengal state of India.
মহেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা প্রকাশনা জগতের একজন দিকপাল। বরিশালে তার শৈশব, মায়ের কঠোর তত্ত্বাবধানে স্বনির্ভর হয়ে ওঠা, দারিদ্র, মায়ের মৃত্যুর পর মাতুলালয়ে বড় হওয়া, বিপ্লবীদের সাথে দিনযাপন, জেলে গমন, পরবর্তীতে পুস্তক প্রকাশনার সাথে যুক্ত হওয়ার গল্পগুলো পড়লে সেই সময় সম্পর্কে স্পষ্ট একটা ধারণা পাওয়া যায়। আরো পড়ার ও জানার আগ্রহ জাগে। সে বড় অদ্ভুত সময়। শেষজীবনে জীবনানন্দের কবিতার প্রতি তুমুলভাবে আকৃষ্ট হয়েছিলেন মহেন্দ্রনাথ। এর কারণ অনুসন্ধান করেছেন মিহির সেনগুপ্ত। মহেন্দ্রনাথের অচরিতার্থ প্রেম তথা বিবাহিত জীবনই কি ছিলো কারণ? নাকি জীবনানন্দ আর মহেন্দ্রনাথের মধ্যে আছে নিগূঢ় কোনো মিল? পুরো বইটা পড়ে অন্যরকম এক আনন্দ পেলাম। পাঠক হিসেবেও ঋদ্ধ হলাম।
মিহির সেনগুপ্ত আমাদের খুবই প্রিয়। তার বইগুলি আমরা জমিয়ে রাখি পড়ার জন্য। দুধের ক্ষীরের মতন, শেষ পাতে খাওয়া হবে বলে। এই বইটিও তেমনি। নামকরণের সার্থকতা গোয়েন্দাগিরিতে। কোলকাতার বিশিষ্টই প্রকাশনা সংস্থা সাহিত্য সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ষরই মহেন্দ্রনাথ দত্ত, যিনি আবার বিশিষ্ট বরিশাইল্যা, তাকে নিয়ে এই আখ্যান। বরিশালের রাজার নাম ছিল কন্দর্প রায়, তার ছেলের নাম রাম, রাজা ছেলেরে ডাকতেছেন, ওই "রামউয়া"। মহেন্দ্রনাথ এইখানে বাধ সাধলেন, রাজপুত্রদের নাম ওরম হয়? জবাবে তার শিক্ষক কইলেন, হেইয়া কোন এলাকার রাজা বোঝতে হইবে, তহন কি এয়ানের কলিকাতার ভাষা আছিল? ভদ্রভাষা ছেল সংস্কৃত আর ফারসি। মহেন্দ্রনাথ আর জীবনানন্দের জন্ম একি বছরে। উনি নিজে একটা জীবনীগ্রন্থ না হলেও জীবন সংক্ষেপ গ্রন্থ রচনা করেছিলেন, যা প্রকাশিত হয়। এই বইটাতে মিহির সেনগুপ্তের গোয়েন্দাগিরি আছে, আর মহেন্দ্রনাথের নিজের কিছু গল্প আছে যেগুলি উনি নিজে না বলে কাউকে দিয়ে বলাতে চেয়েছিলেন। উপন্যাস না এটা, জীবনী না, লেখক নিজেকেই এই গদ্যের মধ্যে নিয়ে এসেছেন অনেকবার। জীবনানন্দ দাস এসেছেন, বনলতা সেন তো বটেই,
"পৃথিবীর সব রং নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল; সব পাখি ঘরে আসে— সব নদী— ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন; থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।"
নগ্ন নির্জন হাত --
"অনেক কমলা রঙের রোদ ছিলো, অনেক কাকাতুয়া পায়রা ছিলো, মেহগনির ছায়াঘন পল্লব ছিলো অনেক; অনেক কমলা রঙের রোদ ছিলো, অনেক কমলা রঙের রোদ; আর তুমি ছিলে; তোমার মুখের রূপ কতো শত শতাব্দী আমি দেখি না, খুঁজি না।"