নামের মতোই বর্তমান উপন্যাসিকা সংকলনটিও কিঞ্চিত ব্যতিক্রমী। পাঁচটি ছোট উপন্যাস এই গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। ইদানীং খুব কম পত্র-পত্রিকাই বই হওয়ার মতো একটি উপন্যাস তাদের বিশেষ সংখ্যায় ছাপতে পারে, ফলে লেখককেও রচনার আয়তন সঙ্কুচিত করতে হয়। পূর্ণাঙ্গ উপন্যাসের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এই পঞ্চ-রচনাকে উপন্যাসিকা হয়ে থাকতে হল। একটি ব্যতীত চারটি লেখাই জীবন ও সময়ের নিবিড় প্রতিফলন এবং প্রকাশকালেই স্বীকৃতির আলোয় চিহ্নিত। খ্যাতিমান লেখকের রচনাশৈলী, গদ্য, বর্ণনা এবং বাস্তবতার নিরিখে টানটান প্রতিটি কাহিনি- যা কখনও বেদনাময়, কখনও নেহাতই নির্মল আনন্দময়তায় উদ্ভাসিত। শুধু একটি রচনাই নবকুমার বসু-র বিশেষ জীবন্ধর্মী সাহিত্যের উদাহরণ হিসাবে সংকলিত হয়েছে।
নবকুমার বসু-র জন্ম ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৯। উত্তর চব্বিশ পরগনার শিল্পাঞ্চলে চূড়ান্ত অভাব ও দারিদ্র্যের মধ্যে শৈশব, বাল্যকাল কেটেছে। স্কুলে ফ্রি অথবা হাফ-ফ্রি হিসেবে পড়াশুনা। পূর্ব এবং পশ্চিমবঙ্গীয় মিশ্র সাংস্কৃতিক ধারায় বড় হয়ে ওঠা। পণ্ডিত এবং শিক্ষাব্রতী দাদামশাই যোগেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের সাহচর্যে এবং সান্নিধ্যে প্রাথমিক অধ্যয়ন। লেখাপড়া। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়ন। এমএস পাশ করার পরে শল্যচিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা। ’৯৩ সাল থেকে ইংল্যান্ড প্রবাসী, সরকারি চিকিৎসা বিভাগে কর্মরত।স্কুলজীবন থেকে সাহিত্যচর্চা, হাতে লেখা পত্রিকা প্রকাশনা। স্কুল-কলেজ ম্যাগাজিনের পরে দেশ-পত্রিকায় প্রথম গল্প ১৯৭৭ সালে। লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনে যুক্ত, অজস্র ছোটগল্প লেখা চলেছে একই সঙ্গে লিটিলম্যাগ্ এবং প্রতিষ্ঠিত পত্র-পত্রিকায়। ছোটদের গল্প, রহস্য কাহিনী, ধারাবাহিক উপন্যাস লিখেছেন। এছাড়াও রয়েছে গল্পগ্রন্থ ও ভ্রমণ উপন্যাস। বাংলা সাহিত্যের একনিষ্ঠ পাঠক। প্রবাসেও বাংলাভাষার প্রসার ও চর্চার ব্যাপারে উৎসাহী। ‘চিরসখা’ প্রথম দীর্ঘতম উপন্যাস।