...একজন কবিকে স্যার বলা কি ঠিক হবে? ওসি সাজ্জাদ হোসেন একটু দ্বিধায় পড়ে গেলেন। ওয়ারেন্ট অফ প্রিসিডেন্স এ কবিদের অবস্থান কোথায়? হায়ারআর্কি অনুযায়ী একজন কবি কি ওসির চেয়ে সিনিয়র হবেন? কিছুক্ষণ ভেবে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন সাজ্জাদ হসেন। নাহ্, এ ক্ষেত্রে স্যার বলাটাই সমীচীন হবে। যেনতেন কোনো কবিকে স্যার বলার প্রশ্নই আসে না-দরকারও নাই। কিন্তু নোবেল পাওয়া একজন কবির জন্য মনে হয় এই আইন শিথিল করা যায়...
রিভিউয়ার হিসেবে আমার ভারি দুর্নাম আছে। আমি রিভিউ দেয়ার ব্যাপারে নাকি অনেক কিপটা। কিপটা কিনা জানি না কিন্তু কিন্তু জাজমেন্টাল এইটা ঠিক৷ যোবায়ের আহসান এর আগের বেশ কয়েকটা বই পড়ে আমার মনে হয়েছিলো হুমায়ুন আহমেদ এর সস্তা রিপ অফ পড়ছি (Which is true by the way!)। সেই হিসেবে ওসি-হতনামা বইটাও আমি খুব আহামরি এক্সপেক্টেশন নিয়ে হাতে নিই নাই। But I simply loved it!
বইয়ের মূল ক্যারেক্টারের নাম সাজ্জাদ হোসেন। তিনি পল্লবি থাকার ওসি। একজন পুলিশের যা যা ক্যারেক্টার থাকা লাগে সবই তার মাঝে আছে, তাও তিনি ভিন্ন। আমার কাছে মনে হয় এইজন্যই এই ক্যারেক্টারকে আমার সবচেয়ে মনে ধরেছে! তিনি মহাপুরুষ নন কিন্তু ভেতরে তিনি একজন ভালোমানুষ। গল্পের প্লটটা বেশ কমন কিন্তু এর মাঝেও বেশ ভালোভাবে লেখক মুন্সিয়ানা এনেছেন। যদিও হুমায়ুন আহমেদ টাইপই রয়ে গেছে কিন্তু বই শেষ করার পর খারাপ লাগে নাই বিষয়টা।
হুমায়ূন আহমেদের লেখনশৈলী নকল করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা! লেখক এটা জ্ঞাতসারেই করেছেন নাকি অজ্ঞাত ছিলেন এই ব্যাপারে তা আমি জানি না। কিন্তু পাঠিকা হিসেবে এই হুমায়ূন আহমেদের ছোঁয়া আমার ভীষণ চোখে লেগেছে। বারবার মনে হচ্ছিলো ইচ্ছে করে, জোর করে হুমায়ূনীয় ভাব আনতে চাচ্ছেন লেখক। নতুন লেখকদের বেশ কয়েকজনের মধ্যেই এই ব্যাপারটা লক্ষ্য করেছি, ব্যাপারটা খুবই বিরক্তিকর!