Jump to ratings and reviews
Rate this book

দেশ বিভাগ

Rate this book
ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পিছনে যেমন শত শহীদের আত্মোৎসর্গের গৌরবকাহিনী, তেমনই রয়েছে রক্ত-কলুষিত দেশবিভাগের করুণ ঘটনা। বস্তুত স্বাধীনতা দেশবিভাগের মূল্যেই অর্জিত। তবু যাঁরা দেশবিভাগ চেয়েছিলেন তাঁদের উল্লাস—দাবি সনদের পূর্ণ প্রাপ্তির অভাবে হয়েছে কণ্টকিত, আর, যাঁরা তা চাননি তাঁদের মন স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় ভারাক্রান্ত। কিন্তু দেশবিভাগ কি একান্তই আকস্মিক কোনওঘটনা? মোটেই তা নয়। কিছু লোকের অকারণ জিদ, কিছু মানুষের ভুল বোঝাবুঝি অথবা কোনও-কোনও লোকের অহেতুক ক্ষমতাপ্রিয়তার পরিণাম মাত্র নয় যেমন দেশবিভাগ, তেমনই হয়তো দেশবিভাগের দাবিকেও সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলা যাবে না। বস্তুত, দেশবিভাগের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকলেও এর জন্য প্রস্তুতি চলেছিল দীর্ঘ দিন ধরে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ধীরে ধীরে এর জন্য প্রস্তুতিপর্ব চালিয়ে গিয়েছিল। তাদের বিষের বাঁশির সুরের তালে তালে প্রলয়নাচন নেচেছে ভারতবর্ষের মানুষ। যদি দেশবিভাগকে কোনওভাবে আটকান যেত, তবে তার জন্য কী মূল্য দিতে হোত সেকথাও ভেবে দেখার মতাে জরুরি এক বিষয়।উনিশ শো সাতচল্লিশ সালের চোদ্দই ও পনেরই আগস্টের আগে বহু-বহু বছর ধরে নাটকের যে-মহড়া চলছিল নেপথ্যে, তৈরি হচ্ছিলেন কুশীলবেরা, শাণিত করছিলেন তাঁদের অস্ত্র, সেই ঐতিহাসিক কাহিনীই বিবৃত হয়েছে এই বইটিতে। ক্রোধ এবং বেদনা উদ্রেককারী দেশবিভাগের ঘটনাবলীর যে বিশ্লেষণ এতে করা হয়েছে তা নতুন করে মানুষকে চিন্তা করার অবকাশ এনে দেবে।

210 pages, Hardcover

First published January 1, 1993

1 person is currently reading
15 people want to read

About the author

জন্ম ১৯২৭ সাল। আদি বাড়ি হুগলী জেলায়, তবে জন্ম-কর্ম কলকাতাতেই।ছাত্রাবস্থায় ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হন এবং গঠনকর্মে আত্মনিয়োগ করেন। কিছু কাল সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই দলীয় রাজনীতির সংশ্রব ত্যাগ করেন। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পাঠ শেষ করে প্রথমে একটি বিদেশী সংস্থায় যুক্ত হন। কিন্তু স্বদেশী কাজে সুযোগ পাওয়ার অসুবিধা বোধ করে সে-কাজ ছেড়ে দিয়ে কলকাতা কর্পোরেশনের কাজে যুক্ত হন। ছাত্রজীবনে যেমন, কর্মজীবনেও তেমন গান্ধী-ভাবনার গঠনকর্মে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থেকেছেন।বর্তমানে বহু স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। এই কাজে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক পরিভ্রমণ করেছেন।গান্ধীদর্শনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাতা ও সুলেখক বলে সমধিক পরিচিত।দেড় শতাধিক প্রবন্ধের লেখক এবং পঁচিশটি পুস্তক-পুস্তিকার রচয়িতা।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
2 (40%)
4 stars
2 (40%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
1 (20%)
Displaying 1 - 3 of 3 reviews
Profile Image for Dev D..
171 reviews28 followers
April 11, 2022
দেশবিভাগ এমন একটি ঘটনা যা প্রায় দুশো বছর বৃটিশ শাসনে থাকা ভারতবর্ষকে একই সাথে স্বাধীন ও ভাগ করেছিল। এই ভাগ সবার কাম্য ছিল না, আবার কারো কারো খুবই কাম্য ছিল। অনেকে শুরুতে এর বিরোধিতা করলেও শেষ পর্যন্ত তা মেনে নিয়েছিলেন নানা কারণে যার একটি হলো এটি ছাড়া স্বাধীনতা পাওয়া সুদূর ভবিষ্যতে হবে মনে হয়েছিল আরেকটি হলো হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সংগঠিত রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা এবং অবিশ্বাস।


জিন্নার দ্বিজাতিতত্ত্বের উপর ভিত্তি করেই দেশভাগ হয়েছিল। জিন্না হয় নিজে বিশ্বাস করতেন অথবা রাজনীতির কারণেই বারবার বলে এসেছিলেন মুসলিম জাতি এবং হিন্দু জাতি দুটো আলাদা। তাদের সংস্কৃতি, ধর্ম, ইতিহাস সবই আলাদা এবং বৃটিশরা ক্ষমতা হস্তান্তর করলে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের অধীনে মুসলিম জাতির মানুষ বাস করতে পারে না। তাই তার কাছে স্বাধীনতা বা স্বাধীকারের পূর্বশর্ত ছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো নিয়ে আলাদা হয়ে যাওয়া। এক্ষেত্রে জিন্না এবং মুসলিম লীগের মতামত ছিল একই কারণ জিন্নাই ছিলেন মুসলিম লীগের সর্বময় ক্ষমতার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারী। অপরদিকে কংগ্রেস ছিল তূলনামূলক একটি গণতান্ত্রিক দল যার মূল লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা এবং এককেন্দ্রিক শাসন। নেহেরু, প্যাটেল, আজাদের মতো নেতারা তো ছিলেনই তার বাইরে ছিলেন মহাত্মা গান্ধী যিনি শেষ দিকে কোন মূল পদে না থেকেও ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক এবং দেশভাগের পূর্ণ বিরোধী। গান্ধী কিংবা কংগ্রেস কখনো মুসলিম লীগকে মুসলিমদের একক প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় নি, ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে পৃথক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা থাকলেও মুসলিম লীগ তখন তা প্রমাণ করতেও পারে নি। কংগ্রেসেও বেশ কিছু মুসলিম নেতা থাকলেও জিন্না তাদের মুসলিমদের প্রকৃত প্রতিনিধি মনে করতেন না।


তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবং ১৯৪৬ এর নির্বাচনে মুসলিম লীগের মুসলিম আসনগুলোতে ব্যাপক জয়লাভ কংগ্রেসকে পিছু হটতে বাধ্য করে। তাছাড়া ওয়াভেল, ক্রিপস মিশন বা শেষ পর্যন্ত মাউন্টব্যাটেন সবাই দেশভাগের ভিত্তিতেই স্বাধীকার এবং শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার দাবি মেনে নিতে রাজি হয়েছিলেন। তাছাড়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে এর বাইরে যাবার সাহস কেউ করেন নি। মহাত্মা গান্ধী যদিও সবসময় বলেছিলেন দেশভাগ হচ্ছে তার দেহকে দুটুকরো করার মতো, যেকোনভাবেই তিনি এটা আটকাবেন তবে তার সম্মতি ছাড়াই দেশভাগের প্রস্তাবে কংগ্রেস সায় দিয়ে দিয়েছিল এবং তিনিও শেষ পর্যন্ত বাস্তবতা মেনে নিয়েছিলেন। আর জিন্না শুরু থেকে পুরো পাঞ্জাব এবং বাংলাকে নিয়ে পাকিস্তানের দাবি করে আসলেও এই দুই প্রদেশের ধর্মভিত্তিক বিভাজন তাকেও মেনে নিতে হয়েছিল। লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারতের ভাইসরয় হবার মাত্র ৫/৬ মাসের মধ্যেই দেশভাগ কার্যকর করতে সক্ষম হন যদিও তিনি শুরুতে বলেছিলেন ১৯৪৮ সালের জুনের মধ্যেই তিনি তা সম্পন্ন করবেন। তবে ১৯৪৭ এর মে মাসের মধ্যেই তিনি বিবদমান দুটো পক্ষকে তার কূটনীতির জালে তার প্রস্তাবে রাজি করিয়ে ফেলেন এবং ১৫ আগস্ট ক্ষমতা হস্তান্তরের দিন ঠিক করেন কারণ এই দিনটি ছিল তার জন্য বিশেষ একটি দিন এই দিনেই তিনি মিত্র বাহিনীর পূর্ব অঞ্চলের প্রধান হিসেবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রণক্ষেত্রে জয়লাভ করেছিলেন।

তবু যত দ্রুত এবং ঘটনাবহুল হোক দেশভাগ কোন আকস্মিক ঘটনা নয়। হিন্দু ও মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের পারস্পরিক অবিশ্বাস ও ঘৃণা যুগযুগ ধরেই ছিল। বৃটিশ শাসকরা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তাকে সময়ে সময়ে উস্কে দিয়েছেন মাত্র আর এদেশের নেতারা ক্ষমতার মসনদে বসার জন্য তার ব্যবহার করেছেন মাত্র। তাই ভারতের মূল ভুখন্ডে থাকা বিপুল সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর কথা চিন্তা না করেই জিন্না পাকিস্তান গঠন করতে চেয়েছেন, সফলও হয়েছেন। আর চিরকাল ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের কথা বলে আসলেও কংগ্রেস দেশভাগ মেনে নিয়েছে এবং পাঞ্জাব ও বাংলাকে ভাগের বিনিময়ে। দিনশেষে হয়তো কেউ জেতে নি, কেউ হারেও নি। হেরে গেছে দেশভাগে ক্ষতিগ্রস্ত দুই ভখন্ডের সংখ্যালঘুরা আর মহাত্মা গান্ধী ও তার আদর্শ।

এই বইয়ের দূর্বলতা বলতে ঠিক দেশভাগের সময়ের কোন বিশদ বিবরণ এতে নেই যা আছে সবই দেশভাগের পূর্বের প্রভাবক ঘটনাবলী এবং দেশভাগের সিদ্ধান্তের কথাই, এক্ষেত্রে একই ঘটনা একাধিক ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে গিয়ে বর্ণনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে বারবারই। তবে সার্বিকভাবে বইটি মোটামুটি নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতেই লেখা হয়েছে বলে মনে হয়েছে, কারণ এটি এমন এক বিষয় নিয়ে লেখা যা নিয়ে বলতে গেলে খুব নিরপেক্ষ মানুষও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিচার করতে পারেন না।
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 38 books1,869 followers
October 5, 2022
এই বইয়ে আলোচনা বিন্যস্ত হয়েছে নিম্নলিখিত ক'টি অধ্যায়ে~
১. পূর্বাভাস;
২. পরিকল্পনা;
৩. প্রস্তুতি;
৪. প্রয়োগ;
৫. পরিণতি-ক;
৬. পরিণতি-খ।
শেষে থেকেছে তথ্যপঞ্জি এবং সেই সময়ের অন্য কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
আজ থেকে প্রায় ত্রিশ বছর আগে এই বই যখন প্রকাশিত হয়, তখনকার ভারতবর্ষের, এমনকি বাংলার সঙ্গে আজকের তুলনা চলে না। সেই সময়কার নিরিখে এই বইটি যত মূল্যবানই মনে হোক না কেন, আজ পড়তে গিয়ে থমকে যেতে হয় তিনটি জিনিস দেখে।
প্রথমত, এই বই তিলক ও (অসাম্প্রদায়িক) জিন্না'র সমঝোতাকে একেবারে নস্যাৎ করে দিয়ে গান্ধি'র পন্থাকে সমর্থন করেছে। অসহযোগ আন্দোলনের সময়ে সেই সাম্প্রদায়িক ও সঙ্কীর্ণ বোঝাপড়ার বিষবৃক্ষই যে পরে ফল ফলিয়েছিল, তা লেখক সচেতনভাবে এড়িয়ে গেছেন।
দ্বিতীয়ত, সুভাষচন্দ্র বসু'র জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবনা যে কতটা অসাম্প্রদায়িক ছিল, আজাদ হিন্দ ফৌজ ভারতে জয়ী হয়ে প্রবেশ করলে যে দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসই অন্যরকম হত— এই বিষয়ে লেখক সম্পূর্ণ নীরব।
তৃতীয়ত, পূর্ববঙ্গের হিন্দু বাঙালিদের যে কী দুর্দশা হতে চলেছিল তা জেনেও জন-বিনিময়ের প্রস্তাবটি কেন তৎকালীন কংগ্রেস কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করেননি— সেই নিয়েও লেখক একটি শব্দও লেখেননি।

এর তুলনায় শংকর ঘোষের লেখা 'হস্তান্তর' বইটি পড়াই বিধেয়। ছেচল্লিশের নোয়াখালি-কলকাতা হয়ে আজকের বাংলাদেশ অবধি পুরো পথটার সত্যিকারের নেপথ্য ও পশ্চাৎ কাহিনি জানা যায় ওটি পড়লে।
এই বইটা?
একে স্বচ্ছন্দে 'ফ্রিডম অ্যাট মিডনাইট'-এর কংগ্রেসি সংস্করণ বলা চলে। এতে মাউন্টব্যাটেনের স্তুতি দেখলেও সেই ধারণাটিই পোক্ত হয়।
Profile Image for Atanu.
10 reviews3 followers
April 23, 2017
ভারতবর্ষের স্বাধীনতা কি সুপ্রীম ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত ?
উত্তরঃ দেশবিভাগ, ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক বিভেদ আর চিরস্থায়ী সাম্প্রদায়িকতা যা আজও ভারতবর্ষের প্রতিটি মানুষ হৃদয়ে ধারণ করেন। দু'শ বছরের বঞ্চনা, নিপীড়ন আর বিভেদের রাজনীতি খেলে গেল যারা, স্বাধীনতার পর তারা শত্রু না হয���ে ভারতীয়রা নিজেরাই নিজেদের প্রধান শত্রু হয়ে উঠল। হিন্দু বনাম মুসলমান । কি আশ্চর্য !
আসল গুটিবাজি করে সব কেঁড়ে নিয়ে বিভেদের গোল পাকিয়ে গেল চতুর ব্রিটিশরা । আর বোকা জিন্না কেবল ধর্মীয় গোঁড়ামি আর ক্ষমতার মসনদে বসার লোভে ব্রিটিশদের নতজানু হয়ে ভিক্ষুকের মত ভিক্ষা করে নিল পাকিস্তান, যা পৃথিবীর বুকে আজও এক ব্যর্থ রাষ্ট্র ।
মুসলিম লীগ কখনোই প্রত্যক্ষ স্বাধীনতা সংগ্রাম করেনি, বরং কংগ্রেসের সংগ্রামের ফল ঘরে তুলেছে কাপুরুষের মত । বইটিতে যুক্তিপূর্ণভাবে আলোচনায় এটাই প্রমাণিত হয় ।
দেশবিভাগের পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে দুর্বল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভূমিকা নতুন করে নেয় তাদেরই পরম চিরমিত্র আমেরিকা, নব্য উপনিবেশবাদী, নব্য বেনিয়া সাম্রাজ্যবাদী শক্তি । আমেরিকার প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় পাকিস্তান মিলিটারি হয়ে ওঠে প্রচন্ড শক্তিশালী, যেন তাদের ঘাড়ে সওয়ার হল সেই ব্রিটিশদেরই ভুত । এই মিলিটারি দিয়ে আজও পশ্চিমা শক্তি পাকিস্তানকে দিয়ে ভারতবর্ষে তাদের প্রভাব বজায় রেখেছে ।চিরস্থায়ী দ্বন্দ্ব পাকিয়ে রেখেছে ।
অন্যদিকে ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর নতুন মেরুকরণ হওয়া বিশ্ব রাজনীতিতে শুরু হল রাশিয়া তথা সোভিয়েত ও আমেরিকার মধ্যে কোল্ড ওয়ার। নতুন দেশ INDIA যোগ দেয় রুশ বলয়ে ।অর্থাৎ অ্যান্টি ব্রিটিশ-আমেরিকান বলয়ে, যাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে স্বাধীনতা অর্জিত হয়ে নতুন ভারতের তাদের বিপক্ষ শিবিরে । ভারতের সামরিক শক্তি গড়ে উঠতে থাকে রাশিয়ান সহায়তায় । এই হল ভারত-রুশ ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তি ।
আর নিরুপায় গান্ধী অখন্ড ভারতের স্বপ্ন দেখতে দেখতেই চলে গেলেন, স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেছে আজও । কিন্তু তিনি হয়ে আছেন এক আদর্শের মহীরুহ । অসাম্প্রদায়িকতার শিক্ষক হয়ে ইতিহাসের পাতায় ।
যদিও এখনকার প্রেক্ষাপটে সবার মনে হতে পারে দেশ ভাগ হয়ে ভালই হয়েছে । রক্তবন্যা-হানাহানি-দাঙ্গা থেকে তো মুক্তি মিলেছে । যদিও ১৯৪৭ এ সমসাময়িক কিছু রায়ট হয় । তথাপি সর্বান্তে শান্তিই মিলেছে।
কিন্তু বারবার আমরা ভুলে যাই, এই বিভেদ, এই সাম্প্রদায়িকতা আমাদের কারোই সৃষ্টি নয় । ধর্মীয় বিভেদ আমাদের উপর চাপিয়ে গেছে, তৈরী করে গেছে এবং শুরু করে গেছে ঐ ব্রিটিশরাই যা আজও তাদের প্রতিভূরা বজায় রেখে শাসন-শোষণের ক্ষমতা ভোগ করছে ।
আর ঐ দ্বিজাতিতত্ব, ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্র, দেশবিভাগ যে সম্পূর্ণ ভুল-ভ্রান্ত তা অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণিত হয় পাকিস্তান ভেঙে স্বাধীন, সার্বভৌম, অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়ে।

*** বইটি পড়লে ভারতবর্ষের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিষবৃক্ষের গোড়াপত্তনের পশ্চাৎ ও নেপথ্যের সব সত্য ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় । পর্দার অন্তরালের কারিগর-কুশীলবরা এখানে একদম উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে লেখকের লেখায় ।
Displaying 1 - 3 of 3 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.