What do you think?


কী করে কলকাতা হলো
71 pages, Paperback
First published August 1, 1972
About the author
Purnendu Pattrea
76 books26 followersPurnendu Patri (sometimes Anglicised as Purnendu Pattrea) was an Indian poet, writer, editor, artist, illustrator, and film director. He was best known for his poems and stories, particularly for his poetry collection Kathopokathan in Bengali, and for his experimentation with book cover design. He also was a researcher of the history of Kolkata.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 8 of 8 reviews
May 22, 2023
এক ইংরেজ বাবু বনের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। পথে একজনকে দেখল ঘাস কাটছে। তার কাছে ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করলেন,"এ জায়গার নাম কী?" সে লোক আবার ইংরেজি জানে না। ভাবল ঘাসের কথা বুঝি জানতে চাইছে। তাই উত্তর দিল,"কাল কাটা।" সেই বাবু খাতায় খচখচ করে জায়গার নাম লিখলেন "kalkatta" এটা হচ্ছে কলকাতার নামকরণ নিয়ে সবচেয়ে হাস্যকর গল্প। নামকরণ নিয়ে আরো কয়েকটা গল্প পূর্ণেন্দু পত্রী উল্লেখ করেছেন। তবে শুরুতেই কিন্তু নামের ইতিহাসে চলে যাননি।
শুরুটা হয়েছে মসলার গল্প দিয়ে৷ যেই মসলার লোভে একে একে ঘাটি গেড়েছিল পর্তুগীজ, ডাচ এবং ইংরেজেরা। শেষমেশ কীভাবে টিকে গেল ইংরেজরা তার ছোটখাটো গল্পও আছে। তবে ইংরেজদের মূল জয়যাত্রা বলা যায় সিরাজদৌল্লাকে হারানোর পর থেকে। ইংরেজদের ফুলে ফেপে উঠা পকেটের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে লাগল একটা শহরের গন্ডি। সেই শহরকেই আমরা আজ কলকাতা নামে চিনি। কলকাতার শুরুটা তাই দেখানো হয়েছে ইংরেজদের চোখেই। এই বইতে মূলত কলকাতার জন্ম ও শৈশবকাল মানে আঠারশো পর্যন্ত ঘটনা স্থান পেয়েছে। ততোদিনে অবশ্য মানুষজন বুঝে গিয়েছিল বাংলার সবচেয়ে বড় শহর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে কলকাতা।
শুরুটা হয়েছে মসলার গল্প দিয়ে৷ যেই মসলার লোভে একে একে ঘাটি গেড়েছিল পর্তুগীজ, ডাচ এবং ইংরেজেরা। শেষমেশ কীভাবে টিকে গেল ইংরেজরা তার ছোটখাটো গল্পও আছে। তবে ইংরেজদের মূল জয়যাত্রা বলা যায় সিরাজদৌল্লাকে হারানোর পর থেকে। ইংরেজদের ফুলে ফেপে উঠা পকেটের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে লাগল একটা শহরের গন্ডি। সেই শহরকেই আমরা আজ কলকাতা নামে চিনি। কলকাতার শুরুটা তাই দেখানো হয়েছে ইংরেজদের চোখেই। এই বইতে মূলত কলকাতার জন্ম ও শৈশবকাল মানে আঠারশো পর্যন্ত ঘটনা স্থান পেয়েছে। ততোদিনে অবশ্য মানুষজন বুঝে গিয়েছিল বাংলার সবচেয়ে বড় শহর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে কলকাতা।
November 4, 2021
মাত্র ৬৪ পৃষ্ঠার বই থেকে অনেককিছু জানলাম। বেশ তৃপ্তি আর আরাম নিয়ে পড়লাম। এর কারণ হলো লেখকের ঝরঝরে লেখা এবং সুন্দর লেখার স্টাইল। যারা কলকাতা নিয়ে জানতে আগ্রহী তারা এই ছোট বইটি দিয়ে শুরু করতে পারেন.... যদিও ভারতবর্ষ নিয়েও বেশকিছু জানতে পারবেন বইটির শুরুতে
বইয়ের শুরুটা হলো-যখন পর্তুগীজরা এদেশে রেশমি, মসলা এসবের জন্য এই দেশে পাড়ি জমাতে থাকে এবং বাণিজ্য করতে থাকে। তারপর আসে ইংরেজরা। ইংরেজরা আস্তে আস্তে বাণিজ্য শুরু করে এবং কলকাতা গড়ে তুলতে থাকে....
বইয়ের শুরুটা হলো-যখন পর্তুগীজরা এদেশে রেশমি, মসলা এসবের জন্য এই দেশে পাড়ি জমাতে থাকে এবং বাণিজ্য করতে থাকে। তারপর আসে ইংরেজরা। ইংরেজরা আস্তে আস্তে বাণিজ্য শুরু করে এবং কলকাতা গড়ে তুলতে থাকে....
August 22, 2023
কলকাতা কি করে কলকাতা হল, সেটার একটা ছোট্ট বিবরণ। পড়ে উল্লসিত হবার কারণ নেই মোটে। কারণ এ ইতিহাস বাঙালির বঞ্চনার আর গাধামির ইতিহাস। যে কলকাতা শহর রোমান্সের, সেটা মূলত গড়েছিলেন ইংরেজ বণিকেরা, তাও আমাদের বলদামি আর সময়ে সময়ে বন্দুক ধরে।
যে কলকাতা আমাদের অপমানের নামান্তর,সেটা নিয়েই কত লাফালাফি, জেনে অবাক হতে হয়। তবে ইতিহাস সমাজের দর্পণ। কেউ যদি এই ইতিহাস পড়ে এই শিক্ষা নেয় যে নিজের দেশের মাটি বেচে নিজের ট্যাক ভরলে সে বেশিদিন থাকে না, তাহলে কলকাতা পঠন সার্থক হতে পারে।
এখানে অনেকের বাংলাদেশ ভারত বিতর্ক টেনে আনতে পারেন, তবে তাতে লজ্জার ভার বিন্দুমাত্র কমে না। কলকাতা যখন কলকাতা হচ্ছে, স্বাধীন বাংলা তখনও সূদুরপরাহত।
একটা ক্ষুদ্র গ্রাম থেকে কিভাবে কলকাতা ইংরেজদের রাজধানী হল, আর তারপরের ইতিহাসটুকু তো সমাজ বইয়ে মুখস্থ করেছেনই। সূচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বের হওয়া একেই বলে।
যে কলকাতা আমাদের অপমানের নামান্তর,সেটা নিয়েই কত লাফালাফি, জেনে অবাক হতে হয়। তবে ইতিহাস সমাজের দর্পণ। কেউ যদি এই ইতিহাস পড়ে এই শিক্ষা নেয় যে নিজের দেশের মাটি বেচে নিজের ট্যাক ভরলে সে বেশিদিন থাকে না, তাহলে কলকাতা পঠন সার্থক হতে পারে।
এখানে অনেকের বাংলাদেশ ভারত বিতর্ক টেনে আনতে পারেন, তবে তাতে লজ্জার ভার বিন্দুমাত্র কমে না। কলকাতা যখন কলকাতা হচ্ছে, স্বাধীন বাংলা তখনও সূদুরপরাহত।
একটা ক্ষুদ্র গ্রাম থেকে কিভাবে কলকাতা ইংরেজদের রাজধানী হল, আর তারপরের ইতিহাসটুকু তো সমাজ বইয়ে মুখস্থ করেছেনই। সূচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বের হওয়া একেই বলে।
September 3, 2021
লাইব্রেরির এক চিপা থেকে এই বইটা বের করলাম। লেখকের নাম দেখে ফিক করে হেসে দিলাম। ছোট্ট একটা বই। ব্রিফ (ব্রিফের বাচ্চা) হিস্ট্রি অব কলকাতা। ভেতরে লেখা আছে, Old History of Kolkata for Juvenile.
জুভেনাইল হোক আর যাই হোক। ছোট্ট বইখানা পড়ে ভালই লাগল।
আচ্ছা, আপনারা বলতে পারেন, কলকাতার নাম কলকাতা কেন হল?
এই বইয়ে কয়েকটা সোর্স দিয়েছে, একটা কাহিনী পড়ে বেশ মজা লাগল—রাস্তা দিয়ে একটা নেটিভ যাচ্ছিল। নবাগত সাহেব তাকে দেখতে পেয়ে প্রশ্ন করল, ওহে, এ জায়গাটার নাম কি?
চাষাভুষো মানুষ, ইংরেজিতে মা গঙ্গা! সে ভাবলে সাহেব বুঝি তাকে প্রশ্ন করছে ওই ঘাস কবে কাটলে?
সে তাই সাহেবকে জবাব দিলে, আজ্ঞে, কাল কাটা। সাহেব অমনি পকেট থেকে ডাইরি খুলে গোটা গোটা করে লিখে নিলেন জায়গাটার নাম কাল কাট্টা—Calcutta! 😂
জুভেনাইল হোক আর যাই হোক। ছোট্ট বইখানা পড়ে ভালই লাগল।
আচ্ছা, আপনারা বলতে পারেন, কলকাতার নাম কলকাতা কেন হল?
এই বইয়ে কয়েকটা সোর্স দিয়েছে, একটা কাহিনী পড়ে বেশ মজা লাগল—রাস্তা দিয়ে একটা নেটিভ যাচ্ছিল। নবাগত সাহেব তাকে দেখতে পেয়ে প্রশ্ন করল, ওহে, এ জায়গাটার নাম কি?
চাষাভুষো মানুষ, ইংরেজিতে মা গঙ্গা! সে ভাবলে সাহেব বুঝি তাকে প্রশ্ন করছে ওই ঘাস কবে কাটলে?
সে তাই সাহেবকে জবাব দিলে, আজ্ঞে, কাল কাটা। সাহেব অমনি পকেট থেকে ডাইরি খুলে গোটা গোটা করে লিখে নিলেন জায়গাটার নাম কাল কাট্টা—Calcutta! 😂
January 8, 2022
ভারতবর্ষে বা তখনকার হিন্দুস্থানে যদি মসলা আর মসলিন না মিলতো, তাহলে ভারতবর্ষ হয়তো কোনদিন পরাধীনই হতো না। এদেশে না আসতো পর্তুগীজ, না ইংরেজরা, পালশীর যুদ্ধ ও হতো না। হতো না আরও এমন অনেক কিছু।
পিরোড-কোভিলহাম পায়ে হেঁটে ইজিপ্ট দিয়ে ভারতবর্ষ ঘুরে গিয়ে রাজা ম্যানোয়েলকে খরব দেন।
ভারতবর্ষ সোনার দেশ, মাটির নিচে হীরে পান্না, মুক্তোআর মাটির উপরে আছে সুগন্ধি মসলা ও মসলিন কাপড়। গোটা ইউরোপ তাদের মসলা আর মসলিনের জন্য পাগল তাই জলপথে ভারতবর্ষে পৌঁছাতে হবে।
১৪৯৭ সালের জুলাই মাসে তিনটে জাহাজ নিয়ে সেই ভারতবর্ষের উদ্দেশ্যে রওনা দেন ভাস্কো-ডা-গামা। মসলা আর মসলিনের টানে। জাহাজ এসে ভিড়লো কালিকট বন্দরে বালাবার উপকূলে।
ইংরেজরা সুতানটিতে হাত পা ছড়িয়ে বসে ব্যবসা শুরু করলেও তাদের মনে একটা বাঁধা ছিলো। বিদেশের মাটিতে "মেড ইন কালিকট" লেবেল দেওয়া মালের যেমন আদর -কদর সেখানে ইংরেজদের " মেড ইন সুতানুটি" মালের কপালে হয়তো তেমন জুটবে না তাই তারা কালিকট কে একটু রদবদল করে kalikata করে। সেই থেকেই কলিকাতা।
তবে গবেষকরা এটা মানতে নারাজ।
তাঁরা বলেছেন, যে জায়গটার নাম কলকাতা, সেখানে আগে ছিলো জেলেদের বাস। আর তাদের ছিল চুনের ভাটি। চুনের চলতি নাম কলি। ভাটির আটপৌরে নাম কাতা। দুয়ে মিলে কলকাতা।
লেখক পূর্ণেন্দু পত্রী র কলকাতা সিরিজের বই " কী করে কলকাতা হলো"। এই কলকাতা সিরিজের অন্য সব বইয়ের মতই চমৎকার একটা বই।
পিরোড-কোভিলহাম পায়ে হেঁটে ইজিপ্ট দিয়ে ভারতবর্ষ ঘুরে গিয়ে রাজা ম্যানোয়েলকে খরব দেন।
ভারতবর্ষ সোনার দেশ, মাটির নিচে হীরে পান্না, মুক্তোআর মাটির উপরে আছে সুগন্ধি মসলা ও মসলিন কাপড়। গোটা ইউরোপ তাদের মসলা আর মসলিনের জন্য পাগল তাই জলপথে ভারতবর্ষে পৌঁছাতে হবে।
১৪৯৭ সালের জুলাই মাসে তিনটে জাহাজ নিয়ে সেই ভারতবর্ষের উদ্দেশ্যে রওনা দেন ভাস্কো-ডা-গামা। মসলা আর মসলিনের টানে। জাহাজ এসে ভিড়লো কালিকট বন্দরে বালাবার উপকূলে।
ইংরেজরা সুতানটিতে হাত পা ছড়িয়ে বসে ব্যবসা শুরু করলেও তাদের মনে একটা বাঁধা ছিলো। বিদেশের মাটিতে "মেড ইন কালিকট" লেবেল দেওয়া মালের যেমন আদর -কদর সেখানে ইংরেজদের " মেড ইন সুতানুটি" মালের কপালে হয়তো তেমন জুটবে না তাই তারা কালিকট কে একটু রদবদল করে kalikata করে। সেই থেকেই কলিকাতা।
তবে গবেষকরা এটা মানতে নারাজ।
তাঁরা বলেছেন, যে জায়গটার নাম কলকাতা, সেখানে আগে ছিলো জেলেদের বাস। আর তাদের ছিল চুনের ভাটি। চুনের চলতি নাম কলি। ভাটির আটপৌরে নাম কাতা। দুয়ে মিলে কলকাতা।
লেখক পূর্ণেন্দু পত্রী র কলকাতা সিরিজের বই " কী করে কলকাতা হলো"। এই কলকাতা সিরিজের অন্য সব বইয়ের মতই চমৎকার একটা বই।
November 24, 2021
এই ছোট্ট বইটা এক বসায় পড়ার মতো। পুরোনো কলকাতার অতো খুঁটিনাটি একেবারে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে নেই। কিন্তু যা আছে তাও অনেক বিস্তর। যদিও বইটা কিশোরদের জন্য একেবারে যথেষ্ট এবং লেখক সম্ভবত ওদের উদ্দেশ্যেই লিখেছেন বইটি। তবুও বড়দেরও সমান পুলকিত করে। ভাস্কো-ডা-গামার ভারতবর্ষ আবিষ্কার থেকে শুরু করে কলকাতায় ইংরেজি শাষণ এবং তাদের রাজাত্ব বিস্তারের সময় পর্যন্ত বর্ণনা দেওয়া আছে। এর মাঝে কলকাতা সৃষ্টির কাহিনী, ইংরেজদের নবাবদের দরবারে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার ইত্যাদি বিষয়গুলো এসেছে। বইটাকে পেঁচিয়ে অযথা মোটাও করা হয়নি। যা আছে তাই সারকথা। লেখক খুব সুন্দরভাবে তা বর্ণনায়িত করে গিয়েছেন।
March 8, 2022
এখনকার কলকাতা দেখলে মানুষ অবাক হয়,চারিদিকে সারি সারি বিল্ডিং,পুরো শহর রঙিন আর চারদিকেই প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগে আছে। আগের কলকাতা কি এমন ছিল? মোটেও না। এই কলকাতা ছিল একটা বিশাল জঙ্গল।
এই জঙ্গল ছিল সোনায় মাখা। রাশি রাশি সোনা দাদা,মুক্তি মুক্তো ছড়িয়ে ছিল,সাথে ছিল হীরের মত দামী মসলা আর মসলিনে ভরপুর। এই মসলা আর মসলিনের টানে এদেশে একদিন পাড়ি জমায় পর্তুগিজরা। তারপর আসে ব্রিটিশরা,এদের হাত ধরেই আবিষ্কার হয় আজকের কলকাতা।
"কী করে কলকাতা হলো" বইয়ে আমাদের কলকাতা আবিস্কারের গল্প শুনিয়েছেন শ্রদ্ধেয় লেখক পূর্ণেন্দু পত্রী। লেখকের চমৎকার ভাষায় বইটা যেন জীবন্ত হয়ে উঠে। তবে খুব সংক্ষেপ করে লেখা,বিশদভাবে জানতে হলে আরো অনেক পড়াশোনার দরকার।
এই জঙ্গল ছিল সোনায় মাখা। রাশি রাশি সোনা দাদা,মুক্তি মুক্তো ছড়িয়ে ছিল,সাথে ছিল হীরের মত দামী মসলা আর মসলিনে ভরপুর। এই মসলা আর মসলিনের টানে এদেশে একদিন পাড়ি জমায় পর্তুগিজরা। তারপর আসে ব্রিটিশরা,এদের হাত ধরেই আবিষ্কার হয় আজকের কলকাতা।
"কী করে কলকাতা হলো" বইয়ে আমাদের কলকাতা আবিস্কারের গল্প শুনিয়েছেন শ্রদ্ধেয় লেখক পূর্ণেন্দু পত্রী। লেখকের চমৎকার ভাষায় বইটা যেন জীবন্ত হয়ে উঠে। তবে খুব সংক্ষেপ করে লেখা,বিশদভাবে জানতে হলে আরো অনেক পড়াশোনার দরকার।
January 13, 2024
মানছি পরাধীনতার ইতিহাস কিন্ত স্বপ্নের শহরের সূত্রপাত।
Displaying 1 - 8 of 8 reviews








