আড়াইশো তিনশো বছরের পুরনো স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় সিন্দুকের মতো দেখতে নিরেট লোহার তৈরি লম্বা একটা বাক্স। কী আছে ওই বাক্সের ভিতরে! গুপ্তধন?
বাক্স খোলার পর সবাই অবাক হয়ে দেখতে পায় বাক্সের ভিতরে অসম্ভব রূপবতী এক তরুণীর মৃত দেহ! লাশটার গায়ে বিবর্ণ, মলিন পোশাক। দেখেই বোঝা যায় শত শত বছরের পুরনো। অথচ দেহটা তরতাজা। যেন খানিকক্ষণ আগেই মারা গেছে। পোস্টমর্টেম করতে গিয়ে ডাক্তার আবিষ্কার করেন মেয়েটা জীবিত। খুব ক্ষীণ হলেও প্রাণের স্পন্দন রয়েছে। পরে সে মেয়ে উধাও হয়ে যায়। আসাদ সাহেব নামে লোকের ঘরে সেই মেয়ে বুড়ি সেজে কাজের জন্য ঢুকে। কেউ তার পরিচয় জানে না। সে আসাদ সাহেবের জন্য অনেক ভালো ভালো রান্না করে, সেবা যত্ন করে। কিন্তু আসাদ সাহেব ধীরে ধীরে বুড়িয়ে যাচ্ছেন। শরীর শুকিয়ে যাচ্ছে। দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তিনি কখনো বুয়াকে খেতে দেখেন নি। আস্তে আস্তে তিনি মারা যান আর বুয়া তার টাকা নিয়ে চলে যায়।
পাঠ-প্রতিক্রিয়া: একটা কবিতায় পড়েছিলামঃ
" পরের মুখে শেখা বুলি পাখির মতো কেন বলিস? পরের ভঙ্গি নকল করে নটের মতো কেন চলিস?"
এই বইটা পুরোপুরি লাইন দুটোর সাথে মিলে যায়। যারা হুমায়ূন আহমেদের 'কুটু মিয়া' পড়েছেন তারা উপরের কাহিনী সংক্ষেপ পড়ে ধরতে পেরেছে যে শুধু জেন্ডার পরিবর্তন করে পুরোপুরি বসিয়ে দেওয়া হয়ে গল্পটা। যার কুটু মিয়া পড়েননি তাদেরও যে ভালো লাগবে সে আশাও আমি রাখি না। শুধু প্রথমে জমিদার বাড়ির কাহিনী দিয়ে পুরো গল্পকে মনে করেছেন লেখক হয়ে গেছে মৌলিক। কুটু মিয়া থেকে ইন্সপায়ার্ড হওয়া এক কথা আর পুরো গল্প হুবহু মেরে দেওয়া আরেক কথা। লেখক রহস্যপত্রিকাতেও লিখেন দেখেছি। আশা করি যদি সামনে বই বের হয় তাহলে নিজস্ব মৌলিক বের হবে। আমার যে বই ভালো লাগে না সেগুলো আমি রিভিউও দেই না। পড়ে রেখে দেই। এখন মনে হচ্ছে লিখতে হবে।
তিনশো বছরের পুরনো স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে পাওয়া যায় সিন্দুকের মতো দেখতে শক্ত লোহার বস্তু । অনেক কষ্টে সেটা খোলার পর দেখা যায় সেখানে গুপ্তধন না একটা মেয়ের লাশ।অসম্ভব সুন্দরী মেয়ে। কিন্তু লাশ দেখে মনে হলো কাল পরশু মারা গেছে! পোস্টমর্টেম করার সময় দেখা গেল বেঁচে আছে এখনো! মানে কি ? কি হচ্ছে এসব ?
ঠিক ভয়ংকর গল্প না। তবে অতিপ্রাকৃত। লেখনী ভালো। সহজ সরল ভাষায় লেখা। বোরিং লাগবে না কোথায়। এক নিশ্বাসে শেষ করার মতোই বইটা। তবে হুমায়ূন আহমেদ এর কুটু মিয়া উপন্যাসের সাথে গল্পের মিল খুজে পাওয়া যায়।
সোনারগাঁয়ের পানামনগর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে পুরানো একটি স্থাপনার ধ্বংসবিশেষ। সেই স্থাপনা ভেঙে তাতে শুরু করা হবে দুইশো শয্যার একটি সরকারি হাসপাতাল।
ধ্বংসবিশেষের মাটি খুঁড়তে গিয়ে শ্রমিকরা খুঁজে পায় একটি লোহার বাক্স। বাক্সের সাইজ কফিনের মতো। বাক্সের ভেতর গুপ্তধন থাকতে পারে - এমন আরো বহু জল্পনা-কল্পনা ও বাক্স খোলার অনেক ব্যর্থ চেষ্টার পর ফায়ার সার্ভিসের লোকেদের ইলেকট্রিক কাটারের মাধ্যমে খোলা হলো প্রাচীন মজবুত জিনিসটি। আর তাতে পাওয়া গেলো এক তরুণীর লাশ! তরুণীর পোশাক বহু বছর আগেকার যুগের কিন্তু তার লাশ দেখে মনে হচ্ছে মারা গিয়েছে গতোকাল!
আর সেই ডেডবডির পোস্টমর্টেম করতে গিয়ে ডাক্তার আবিষ্কার করলেন - এটি মোটেও ডেডবডি নয়! মেয়েটি গভীর কোমায় রয়েছে, কিন্তু সে জীবিত!
পাঠ-প্রতিক্রিয়া : রহস্যপত্রিকায় আফজাল হোসেনের লেখা হরর উপন্যাসিকা ছোটগল্পগুলো পড়তাম একসময়। লোকটা বেশ গা-ছমছম করা লেখা লিখে বলতে হয়। এখনো মনে আছে কোনো একটা গল্প পড়ার পর ভয়ে তিনদিন অব্দি গায়ে কাঁটা দিয়েছিল, তখন স্কুলে পড়তাম।
"কুহকিনী" শুরু করার প্রধান কারণ ছোট্ট পরিসরে থ্রিল এর লোভ 😋 মাত্র বাহাত্তর পৃষ্ঠায় রোমাঞ্চ পেলে মন্দ কি! একঘণ্টার পাঠ। তার উপর কাহিনী পছন্দ হয়েছে।
ছোটখাটো টুইস্ট ছিল। বেশিকিছু বললে স্পয়লার হয়ে যাবে 🙈 রোমাঞ্চপ্রেমী হলে পড়ে দেখতে পারেন।