পিতা-পুত্রের সংলাপের মাধ্যমে বৈঠকি মেজাজে সরস গদ্যে ভারতীয় দর্শন গুলোর প্রাথমিক পাঠ নিতে পারবেন। আমার মতো যারা দর্শন এর প্রতি আগ্রহী তাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য বই।
তবে কিশোর-তরুণ অর্থাৎ যারা এই বইয়ের টার্গেট পাঠক তাদের কাছে বইটা সামান্য দুর্বোধ্য লাগতে পারে। তবে আমার কাছে কিন্তু পড়ে অনেক সহজ লেগেছে এবং উপভোগ্য ছিল।
ভারতীয় দর্শন এবং ইউরোপীয় দর্শনের মধ্যে যে পার্থক্য আছে সেটা বুঝতে পারবেন বইটা পড়ে। ধর্ম-পুরাণ ভারতীয় দর্শনের সাথে জড়িয়ে আছে। কিন্তু ইউরোপীয় দর্শন ধর্মের দাগ থেকে মুক্ত।
দর্শনে আগ্রহীদের জন্য অবশ্যপাঠ্য বই। পড়ে মজা পাবেন। অনেক নতুন কিছু জানতে পারবেন৷ তবে যারা সাহিত্যের নিয়মিত পাঠক নন তাদের মাথা এলোমেলো হয়ে যেতে পারে।
1 star because the struggle to finish this wasn't worth it and the book failed to deliver what it promised. I like philosophy and I know very well that it's a difficult subject and writing a book on it can't be easy. But the book and the title claims it to be a "মজার পাঠ" and let me tell you there was nothing "মজার" about this read. It was unnecessarily complicated with difficult words and poorly scripted, complex sentences and lists. The know-it-all son got on my nerves. This book claims to be a fun read where the target group is teens/pre-teens. Highly doubt that any adult would enjoy this and actually remember the content, let alone young audiences.
দর্শনশাস্ত্র শিক্ষার প্রাচীনতম ও সমৃদ্ধশালী এক শাখা। মানুষের স্বতন্ত্র চিন্তাধারা থেকে এই শাস্ত্রের উৎপত্তি।এটি মূলত কাজ করে বিজ্ঞান ও ধর্মের মধ্যবর্তী একটা মাধ্যম হয়ে।যেখানে ধর্ম ও বিজ্ঞানের বিরোধ হয় সেখানে অনেকসময় দর্শন একটি সমানুপাতিক বিশ্লেষণ দাড় করিয়ে সমঝোতায় আসতে চায়।
পৃথিবীতে নামজাদা বহু দার্শনিকের নাম পাওয়া যায়।রেনে দেকার্তে,কার্ল মার্ক্স,প্লেটো,অ্যারিস্টটল,সক্রেটিস প্রমুখের নাম পাওয়া যায়।আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) নিজেও ছিলেন একজন প্রভাবশালী দার্শনিক।একটি আধুনিক পৃথিবীর উত্থানে শুধু বিজ্ঞানের আবিষ্কার নয় বরং সেই সাথে অবদান ছিল দার্শনিকদের অসাধারণ চিন্তাশক্তির।দর্শনের অমীয় ধারা কেবল ব্যক্তিসত্ত্বায় সীমাবদ্ধ নয়।প্রতিটি ধর্ম,প্রতিটি জাতির নিজস্ব দর্শন আছে।পারিপার্শ্বিকতার দরুন একটি মানুষের অবচেতন মনেই বিভিন্ন চিন্তা ঘুরপাক খায়।এই চিন্তা থেকেই মানুষ একেকজন দার্শনিক হয়ে গড়ে উঠে।আমরা প্রত্যেকেই একেকজন দার্শনিক।আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে দর্শনশাস্ত্র আমাদের শিশু কিশোরদের জন্য বুঝে উঠা কতই না দুঃসাধ্য।অথচ তাদের সরল মনেই কতশত চিন্তা।এই বইটিতে লেখক পিতা পুত্রের প্রাণবন্ত কনভারসেশনের মধ্য দিয়ে দর্শনের প্রাথমিক ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছেন।এই ধারণা দিতে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন প্রাচীন ভারতীয় দর্শনের। ভারতীয় দর্শনও কত সমৃদ্ধ ও বিচিত্র আর এর কত শাখা ও উপশাখা।দর্শনের সমৃদ্ধ যে জায়গাটা তা পিতা পুত্রের কথোপকথনেই উপলব্ধ।মূলত দর্শন নিয়ে প্রচলিত সমাজে যে ভীতি ও পাঠ্যে অনীহা তা দূর করে দিয়ে দর্শনকে সহজপাঠ্য হিসেবে সকলের মাঝে তুলে ধরার চমৎকার প্রচেষ্ঠা চালিয়েছেন লেখক।
বইয়ের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক এর সাবলীল বিশ্লেষণ।আপনার কোন কিছু প্রিয় হয়ে উঠতে হলে সেই জিনিসটা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা চাই।এখানে লেখক দেখাতে চেয়েছেন একজন ডাক্তার পিতা কীভাবে দর্শন নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন এমনকি প্রাণবন্ত বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে পুত্রকে দিনকে দিন দর্শনের প্রতি কৌতুহলদ্দিপক করে তুলছেন।এই কৌতুহলের মধ্যে দিয়ে পুত্রের মাঝেও প্রতিদিন দর্শনের প্রতি আগ্রহ জন্মাচ্ছে।যদি দর্শন সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে থাকেন তবে আমি বলবো এই বই থেকে সহজ সাবলীল ভাষায় একটি স্পষ্ট ধারণা নিতে পারেন।❤️
ভারতীয় দর্শন সম্পর্কে আমার ধারনা আরো গভীর হয়েছে এটা নিশ্চিত। ভারতীয় দর্শন যথেষ্ট বড় এবং জটিল। নতুন নতুন শব্দেরও সেখানে শেষ নেই। তবুও এত সব জটিল বিষয় গুলো ছোটদের উদ্দেশ্যে এক ছোট্ট বইবন্দি করে পিনাকী ভট্টাচার্য অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। তবে পাঠক হিসেবে আমার কাছে বইটা নিয়ে মিশ্র অনুভূতি। প্রথমে ভালই লাগছিল। তারপর আবার একসময় জটিল হয়ে গেল বিষয়াদি এরপর আবার সহজ তারপর আবার জটিল। রোলারকোস্টার রাইড এর মত। ছোটদের বইটা কতটা বোধগম্য হয়ে সেই নিয়ে সন্দিহান। তবে ভারতীয় দর্শন নিয়ে আগ্রহ আছে আর এই বিসয়ে আরো জানতে চান আম্ন কার জন্য সুন্দর এই বিষয়ে যাত্রা-শুরু-বই এটা হতে পারে।