হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহতম ঘটনাগুলোর একটি। এর আগেও একাধিক জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে। কিন্তু কোনো একটি হামলায় একসঙ্গে এত বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের শিকার এর আগে হয়নি। এমনকি জিম্মি ঘটনারও কোনো নজির নেই আমাদের দেশে। হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা। সারাবিশ্বেও আলোচিত হয়েছে এই হামলা। এ ঘটনার পর দেশি-বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারকে বহু প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের অনেকেই দেশ ছেড়েছেন। পাশাপাশি এই ঘটনা সামাজিকভাবে চাঞ্চল্য ও অস্থিতিশীলতার জন্ম দিয়েছে। দেশের অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। এসব প্রভাবের সবকিছুই ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগের চেয়ে জঙ্গিবিরোধী অভিযান ও তৎপরতা জোরদার করেছে। কঠোরভাবে জঙ্গি দমনে কাজ করে যাচ্ছে তারা।
Keeping my wild obsession about this attack aside, I want to know more about Faraz and how he is written in this book. I mean Bollywood made this controversial lad the hero of their film "Faraz" so had to see where the hype came from.
হোলি আর্টিজানে হামলার নৃশংসতা ঠিক কতটুকু ভয়াবহ ছিল তা পুরোপুরি বুঝতে হলে এই বই অবশ্যই পড়ে দেখতে হবে। বইতে আছে সেই রাতে অপারেশনে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য, জিম্মিদের সাক্ষাৎকার এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিশ্লেষণ। ফারাজের তথাকথিত বীরত্বের ঘটনাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। একই সাথে হাসনাত করিম ও তাহমিদ — সন্দেহভাজন থেকে সন্দেহমুক্ত — তাদের কাহিনিও তুলে ধরা হয়েছে। তাহমিদের চিঠিটা পড়তে গিয়ে খারাপ লেগেছে। আর বারবার মন খারাপ হয়েছে নিহত মানুষগুলোর জন্য। মৃত্যু নিশ্চিত করতে যাদেরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করেছে জঙ্গিরা। শেষ অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের শুরু থেকে আজ অবধি ব্রিফ ইতিহাস৷ তবে পড়তে গিয়ে থেমে গিয়েছিলাম সাইফুল ও শাওনের অসহায় ভাগ্যের কথা ভেবে। হোলি আর্টিজানের ঘটনায় যাদের নাম অনুচ্চারিত থেকে গেলো পাবলিক স্ফিয়ারে।
হোলি আর্টিজান, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম এক রক্তাক্ত অধ্যায়। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশ এতটা ভয়াবহ তান্ডব খুব কমই দেখেছে। গুলশানে তথাকথিত জিহাদিদের তান্ডবে সেদিন থমকে কয়েকঘন্টার জন্য থমকে দাঁড়িয়েছিল গোটা বাংলাদেশ। অপরাধ বিষয়ক সাংবাদিক নুরুজ্জামান লাবু হোলি আর্টিজান এর সেই রক্তাক্ত অধ্যায়ের খোঁজ নিয়েছেন নিজ সাংবাদিকতার চোখে।
লেখক সেদিন ঘটনার শুরু থেকেই গুলশানে ছিল নিজ পেশাগত কারনে। বইয়ের শুরুতেই তিনি পাঠককে নিয়ে যান, খবরের পেছনের খবরে। লেখকের বর্ণনায় স্পষ্ট অনুভব করা যাচ্ছিলো সেদিন যারা মাঠে ছিল তাদের উত্তেজনা।
দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে শুরু হয়, তখনকার দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার, আটকে থাকা জিম্মীদের বিশেষ সাক্ষাৎকার। তাদের সাথে আলাপকালে লেখক এমন অনেক বিষয় তুলে আনে, যা আমরা খবরের পাতায় তেমন দেখিনি।
নানাজনদের সাক্ষাতকারে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠে, তাহল সেদিনকার ঘটনকার আকস্মিকতা। যা ধাক্কা দিয়েছিল গনভবন থেকে শুরু করে পুরো বাংলাদেশে। পুরো রাতের বেশিরভাগ সময়েই দায়িত্বরতরা রীতিমত হিমশিম খেয়ে যায়।
আটকে পড়া জিম্মীদের বর্ণনা থেকে অনেক কিছুই জানা যায়। সবথেকে বড় কথা, তাদের সাক্ষাৎকার জন্ম দিয়ে যাবে পাঠকের মনে কিছু 'স্পর্শকাতর' প্রশ্ন, যার উত্তর চাওয়ার সাহস কিংবা সুযোগ এখনকার পরিবেশে নাই।
আপাতত এই দেশের সবচেয়ে বড় আতংকের বিষয় বিপথগামী এই মানুষগুলো। সেদিনকার গুলশান হামলা ছিল অনেকদিনের পরিকল্পনার একটা ট্রেইলর। জিম্মিদের কথা থেকে জানা যায়, সেদিনকার সন্ত্রাসীরা কত্তটা ঠান্ডা মাথায় ছিল, কত্তটা গভীরভাবে ব্রেনওয়াশড ছিল।
পুরো বই জুড়ে লেখক অনেক কথাই বলতে গিয়েও মনে হয়েছে থেমে গিয়েছেন। লেখক সে কথাগুলো আকারে ইংগিতে বুঝাতে চেয়েছিলেন অন্যদের ভাষায়। তবে সাংবাদিকদের "রসহীন" লেখক হিসেবে যে বদনাম আছে, লেখক তার পুরো বইয়ে সেটা অনেকটাই আস্তে আস্তে কাটিয়ে উঠছেন।
সাংবাদিক হিসেবে লেখক তার সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন পুরো বইয়ে। অনেক "ডকুমেন্ট" তিনি হাজির করেছেন যা সাধারনত চোখে আমরা এতদিন দেখিনি। তবে পাঠক হিসেবে আমি, আরেকটু বেশি অনুসন্ধান আশা করেছিলাম, শুধুমাত্র সাক্ষাৎকারের থেকে। আমি পত্রিকার রিপোর্ট নয়, একটা সম্পাদকীয়র আশা করছিলাম। আরেকটু বেশি অভিজ্ঞতা শোনার আক্ষেপটা থেকে গেল।
আজ থেকে কয়েক বছর পর এই বই নিঃসন্দেহে একটা দলিল হিসেবে কাজ করবে। লেখক এক মলাটে সারিবদ্ধ ভাবে হাজির করেছেন ভয়াবহ সে হামলার সবকিছু। লেখককে অবশ্যই তার পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ।