Abdullah Abu Sayeed (Bengali: আবদুল্লাহ আবু সাইয়ীদ; born 25 July 1939) is a Bangladeshi writer, television presenter, organizer and activist. He is currently the Chairman of Bishwa Sahitya Kendra, a non-profit organization that promotes the study of literature, reading habits and progressive ideas.
Early life:
Sayeed was born in 1939 in Calcutta. His father was Azimuddin Ahmed, a teacher of both English and Bengali literature.He was also a playwright. Sayeed passed SSC exam from Pabna Zilla School in 1955 and HSC exam from Profollo Chandra College in 1957. He later earned the degree of BA and MA in Bengali from the University of Dhaka in 1960 and 1961 respectively.
Career:
Sayeed was a professor of Bengali language in Dhaka College.In mid-1970s he started presenting Shaptabarna (Seven Colors), a multidimensional TV show in Bangladesh Television. In 1978, he founded the Bishwa Sahitya Kendra.
AWARDS:
Sayeed was given the 97th Ramon Magsaysay Award in Journalism, Literature, and Creative Communication Arts for "cultivating in the youth of Bangladesh a love for literature and its humanizing values through exposure to the great books of Bengal and the world".
Bangla Academy Award (2011) for his essays. Ekushey Padak (2005) Mahbub Ullah Trust Award (1998) National TV award (1977)
বইটি মূলত আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সময় দেওয়া ভাষণের লিখিত রূপ। মূলত কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কাজের ব্যাপারেই। এজন্যে বইটি পড়ে অত ভালো লাগলো না কেননা কোয়ান্টামের রক্তদান কর্মসূচী ছাড়া বাকি সবই মোটামুটি স্নেক ওয়েলের মত লাগে। আদৌ কারো ওসব করে উপকার হয়েছে কিনা কে জানে। তবে বাংলাদেশ বলে কথা, দেওয়ানবাগীরও তো কত কত ভক্ত।
কোয়ান্টামে উৎসাহী(ফিজিক্স না ফাউন্ডেশন) হলে বইটি পড়ে দেখতে পারেন।
গত ফেব্রুয়ারি কথা। ফেব্রুয়ারির বইমেলায় কেনার জন্য বইয়ের তালিকা তৈরিতে নেটে সার্চ করছিলাম। বিভিন্ন বইয়ের রিভিউ দেখছিলাম । এর মধ্যে পেয়ে গেলাম এই বইটি । নির্ঝঞ্ঝাট সাহিত্যের বই নয়।জীবনের কথা। আমার মনে হয় এই মুহূর্তে আমার দরকার ছিল এ বই। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের "ভাঙ্গো দুর্দশার চক্র"। আমার জীবন ও জীবিকার দোদুল্যমানতা ------- সিদ্ধান্তহীনতায় মূল্যবান বই। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন এর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বক্তৃতা মালার সংকলন।
পুরো বই জুড়ে ইতিবাচকতার স্বপক্ষে কথা বলেছেন লেখক। লেখকের মতে নেতিবাচক চিন্তাভাবনা কিছুই এনে দেয় না বরং ব্যর্থতা, নৈরাশ্য এসব ছাপিয়ে ইতিবাচকতাকে বরণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। কাজকে এক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়েছেন, নানাবিধ কাজে ডুবে থাকলে নেতিবাচকতা স্পর্শ করে না বরং তা সামনে এগিয়ে যাওয়ার রসদ যোগায়। এছাড়া সংগঠন নিয়েও বেশ কিছু কথাবার্তা আছে।
বইটা মূলত কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে দেওয়া বক্তৃতা এবং সাক্ষাৎকারের সংকলন। খুব বেশি ইতিবাচকতা বা নেতিবাচকতা কোনোটাই ঠিক কাম্য নয়। সেইদিক দিয়ে বইটা কিছু কিছু জায়গায় একঘেয়ে, একপেশে লেগেছে। তবে অতিরিক্ত নেগেটিভিটিতে ভোগা কারো মনে যদি কিছুটা ইতিবাচকতার জন্ম হয় পড়ে..তবে বইটি সার্থক।
মানুষকে স্বপ্ন দেখাতে পারার ক্ষমতা খুব কম সংখ্যক মানুষেরই আছে, আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার তাদের অন্যতম। তার সকল বইয়েই তিনি আশার কথা শোনান, স্বপনের কথা শোনান। ভাঙো দুর্দশার চক্র মুলত তার কিছু বক্তৃতার সংকলন এবং স্যারের বক্তৃতা একজন মানুষকে উজ্জীবিত করার জন্য যথেষ্ট।
স্যারের কোন বক্তৃতা বা বই আমাকে কখনো হতাশ করেনি, এই বইটিও তার ব্যতিক্রম নয়।
জীবন সম্পর্কে হতাশ ব্যক্তিদের আশার বাণী শোনাবে বইটি।
বইয়ের লেখক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ যে একজন আশা জাগানিয়া মানুষ - এটা সকলেই জানেন। শিক্ষক হিসেবে তার খ্যাতি ছিল কিংবদন্তীতুল্য। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশনে তার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানগুলো ছিল দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে। কিন্তু তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হল- ষাটের দশকে সাহিত্য আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ও পরবর্তীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা, যাকে কেন্দ্র করে তৈরী হয়েছে বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বই পড়া কর্মসূচী।
"ভাঙো দুর্দশার চক্র" এই বইটি প্রকাশিত হবার পেছনে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের অবদান অনস্বীকার্য। এই ফাউন্ডেশনটি দীর্ঘদিন ধরে আত্মিক উন্নয়ন, মানসিক মুক্তি, মেডিটেশন, রক্তদান কর্মসূচির মতো জনহিতৈষী কাজ করে আসছে। প্রায় দেড় দশক ধরে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সেখানকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়েছেন। তার সেসব বক্তৃতার বিষয়বস্তু কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ইতিবাচক কাজগুলোর মূলবার্তার সাথে কোন না কোনভাবে সম্পৃক্ত ছিল। আর আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের কথা মানেই যে অফুরন্ত জ্ঞানের প্রবাহ, সে নিয়ে বলার কী-ই বা আছে? একসময়, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন চিন্তা করল তার দেয়া শিক্ষা/জ্ঞান/বার্তা গুলোকে পুস্তকাকারে লিপিবদ্ধ করে রাখলে সেটা ফাউণ্ডেশনের বাইরের মানুষগুলোর কাছেও পৌছে দেয়া যাবে৷ সেই ভাবনা থেকেই তারা বক্তৃতাগুলোর পুরনো অডিও,ভিডিও রেকর্ড গুলো সংগ্রহ করে তা পুস্তকাকারে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু বক্তৃতার কথা কী বইতে সরাসরি ছেপে দিলে সামঞ্জস্য থাকে? তাই, সায়ীদ স্যারকে দিয়েই সেই পান্ডুলিপি সম্পাদনা করানো হয় এবং ২০১৭ এর অমর একুশে বইমেলাতে প্রকাশ করা হয়।
মানব জীবনের আমাদের সবাইকে বিভিন্ন পর্যায়ে নানা ঘাত-প্রতিঘাতে, দুঃখ, শোক, অশান্তির মুখোমুখি হতে হয়৷ কারণ যেটাই হোক না, এই অভিজ্ঞতাগুলো ভালো হয় না। এমন-ও হয় যে, বেঁচে থাকার ইচ্ছে থাকে না। কখনো নিজের ভুলে আমরা কূল হারাই। আবার কখনো নিজে সৎ থাকলেও অন্যদের কূটচালে অসহায় হয়ে পরি। একঘেয়ে,আনন্দহীন,দুর্ভাবনাময় এ সময়গুলো হতাশায় জর্জরিত থাকে। ফুরিয়ে যেতে থাকা কুপীর আলোর মত এ সময়টা আমাদের সবার-ই পরিচিত। যখন আমরা বুঝতে পারি এই প্রতিকূলতাকে জয় করার সামর্থ্য আমাদের 'মধ্যে'ই আছে, কিন্তু সেই সক্ষমতার কবাটের ছিটকিনি খুলতে যে ধাক্কা দেবার প্রয়োজন অনভ্যাসের কারণে সেটা আমরা দিতে পারি না। লেখক এই বইটির মাধ্যমে সেই ধাক্কাটি ই যেন আমাদের দিতে চেয়েছেন। তার প্রতিটি বার্তাতেই ছিল আশার ফোয়ারা…
লেখক বলতে চেয়েছেন আমাদের আশাহত, দুর্দশাময় এই অবস্থার পেছনে আছে আত্মবিশ্বাসের অভাব। এই অভাবের কারণ চ্যালেঞ্জকে ভয় পাওয়া আর যথেষ্ট প্রচেষ্টা না দেয়া৷ এই যে ভয়, সেটা আমাদের চিন্তাকে ওলটে পালটে দেয়, ভেতরের শক্তিকে নিস্ক্রিয় করে দেয়। তাহলে উপায়?
উপায় একটাই- কাজ!!! কাজের মধ্যে মাতালের মতো বুঁদ হয়ে থাকতে হবে। লেখকের ভাষায়, "কাজ হচ্ছে গঙ্গাজল, কাজের মধ্যে বাঁচা মানে জীবনের মধ্যে বাঁচা"। চেষ্টা, প্রশিক্ষণ, কৌশল, সাধনা, একাগ্রতা সমস্ত ইতিবাচকতা দিয়ে আমাদের 'ভয়' কে আক্রমণ করতে হবে। তাহলে কী হবে? তাহলে আমরা সাহসী কয়ে উঠব, ফিরে পাব আমাদের আত্মবিশ্বাস।
এ পর্যায়ে বলে রাখা দরকার, লেখকের মতে কাজ করার পাশাপাশি কিসের জন্য কাজ করছি সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছেন, এখ�� মানুষের সবচেয়ে বেশী আরাধ্য জিনিষ হল 'সাফল্য'- কারণ ওতেই মেলে নারী,বাড়ি,গাড়ি… অন্তরে এরূপ বাসনার তৃষ্ণায় হারিয়ে ফেলছে মনুষ্যত্ব৷ লেখকের ভাষাতেই শুনুন, " যে যাই বলুক, সাফল্যকে একটা পর্যায়ের পর আমি বড় কিছু মনে করি না। কারণ সাফল্য একটা বৈষয়িক বিষয়, স্থুল জিনিষ। আমি বড় মনে করি সার্থকতাকে"। অর্থাৎ সাফল্যের পেছনে না ছুটে আমাদের খোজা উচিত সার্থকতাকে। এজন্য কী করতে হবে?
'দিতে' হবে। একটা মোমবাতির সার্থকতা কোথায়? শুধু স্থবির হয়ে দাড়িয়ে থাকায়, না জ্বলে জ্বলে আলো দিয়ে নিঃশেষ হওয়াতে? সুতরাং, দিতে পারতে হবে৷ দিতে শেখো, দেওয়া মানেই বাঁচা। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, "আমার যত বিত্ত, প্রভু; আমার যত বাণী, সব দিতে হবে"। তবে এই যে দান, তা যেন লোভের জন্য বা কিছু পাওয়ার আশায় না হয়৷ লোভ খুবই নিম্নমানের বিষয়। বরং আনন্দের জন্য দিতে পারতে হবে। এভাবে কাজের মাধ্যমে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারলে, অন্যের জন্য নিজে ত্যাগ স্বীকার করতে পারলে, তবেই আসবে সার্থকতা। আর এটাই হল আমাদের যাবতীয় দুর্দশা, যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবার পাথেয়।
বইয়ের কিছু উল্লেখযোগ্য উক্তিঃ
♦" উপদেশ দেবার ব্যাপারে আমার আগ্রহ নেই। যে উপদেশ দেয় সে আসলে উপদেশ শোনায় অন্যকে,কিন্তু দেয় নিজেকে"।
♦" উত্তেজনা আর শক্তি এক নহে। ইহারা পরষ্পরবিরোধী" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
♦" প্রত্যেকটা মানুষ বাসনার আগুনে জ্বলছে। এই নরক যন্ত্রণা থেকে বাঁচার উপায়ঃ লোভ কমিয়ে ফেলা" -গৌতম বুদ্ধ।
♦" সফল সেই মানুষ- যে পৃথিবীর কাছ থেকে নেয় বেশী আর সার্থক সেই মানুষ- যে দেয় বেশী "।
♦" যেভাবে পার এই ক্ষণজীবনে সজ্জনের সঙ্ঘ গড়ে তোলো " - শঙ্করাচার্য
♦ তুমি তোমার যৌবনের সমান, আমি সারাজীবনে সমান।
♦" প্রিয়ার গালের কালো তিলের জন্য আমি সমরখন্দ ও বুখারা বিকিয়ে দিতে পারি" - কবি হাফিজ (কবিদের কথা… সিরিয়াসলি নিয়েন না 🤐)
♦ শীর্ষে মানুষ সবসময়ই একা। ওখানে যেতেও হয় একা, বাঁচতে ও হয় একা।
বইটা পড়ার আমন্ত্রণ রইল। সৃষ্টিকর্তা আমাদের সহায় হোন।
মানুষকে স্বপ্ন দেখাতে পারার ক্ষমতা খুব কম সংখ্যক মানুষেরই আছে, আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার তাদের অন্যতম। তাঁর সব বইয়েই তিনি আশার কথা শোনান, স্বপ্নের কথা শোনান। ‘ভাঙো দুর্দশার চক্র’ বইটি মূলত কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে দেয়া তাঁর অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তব্যগুলোর একটি সংকলন। এটি কোনো সাধারণ প্রবন্ধগ্রন্থ নয়—বরং এটি একটি গভীর আত্মজাগরণমূলক আহ্বান। সমাজের অসংগতি, অনিয়ম, দুর্নীতি, মূল্যবোধের অবক্ষয় ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার চিত্র লেখক তুলে ধরেছেন প্রাঞ্জল ভাষায়—ব্যঙ্গ ও বাস্তবতার দারুণ সমন্বয়ে। বইজুড়ে নানা গল্প আর সূক্ষ্ম হাস্যরস লেখাগুলোকে আরও সুখপাঠ্য করেছে।
পুরো বইয়ের মূল প্রতিপাদ্য হলো —ইতিবাচকতা। লেখক দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, নেতিবাচক চিন্তা-ভাবনা আমাদের কিছুই দেয় না; বরং তা ব্যর্থতা ও হতাশার দিকেই ঠেলে দেয়। এর বিপরীতে, ইতিবাচক মনোভাব ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছেন লেখক। তাঁর মতে, কাজের মধ্যেই আছে মুক্তি—নানামুখী কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখলে নেতিবাচকতা আমাদের ছুঁতেও পারে না। এছাড়া সংগঠন নিয়েও বেশ কিছু কথাবার্তা আছে।
পরিশেষে বলবো, ‘ভাঙো দুর্দশার চক্র’ বইয়ে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের দর্শন আপনাকে ভাবাবে, নাড়া দেবে এবং হয়তো আপনাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতেও শেখাবে। পড়তে পারেন বইটি।
"যে এর আগে জীবনে কোনোদিন বড় কিছু পায়নি, এত বড় বিরাট প্রাপ্তির চাপ সে কী করে সহ্য করবে! ফলে যা করার তার ঠিক উল্টোটা করে সে ফিরে আসে। ... যুগ যুগের অপ্রাপ্তি, পরাজয়, আতঙ্ক, আর অবিশ্বাস তাকে এমনভাবে গুঁড়িয়ে ছোট করে রেখেছে যে, সামনে কোনো ন্যায্য প্রাপ্তি বা সাফল্য এলেও নিজেকে সে তার যোগ্য ভাবতে পারে না।" [পৃঃ ৩১]
যারা রক্ত নিয়ে কাজ করেন,যারা সংগঠন করেন, যারা ইতিবাচকতায় বিশ্বাস করেন, তাদের এই বইটি ভালো লাগবে।
আমার আশেপাশে রক্ত নিয়ে অনেকে কাজ করেন। আমিও করি মনে হয়। এরাই বেশি মনে হয়। এমনকি কয়েকজন ড্রাকুলা উপাধি পাওয়া ব্যাক্তিও আছেন। তবে আমার একটা যোগ আছে রক্ত দেওয়া ভালো, কিন্তু এই ভালোই যেন শেষ ভালো না হয়। “একটা প্রদীপ যেমন হাজার প্রদীপকে প্রজ্বলিত করে কিন্তু নিজে কমে না, তেমনি মানুষের মহত্ত্বও অন্যকে মহৎ করে তোলে-নিজে এতটুকু না কমে। মানুষের রক্তও তাই। না দিলেও নিজের শরীরের ভেতরেই মরে যাবে। কিন্তু দিলে অন্যের শরীরে গিয়ে তাকে নতুন জীবনের মধ্যে জাগিয়ে তুলবে। তখন আপনার তুচ্ছ রক্ত অন্যের জীবন হয়ে এই পৃথিবীতে কথা বলবে, গান গাইবে, হয়ত মানুষকে নতুন আশ্বাসে উজ্জীবিত করবে, তাদের মাধ্যমে আপনার রক্ত দীর্ঘকাল ধরে পৃথিবীতে পাতা মেলে ফুল ফুটিয়ে যাবে”
রক্তদান এমনই। আমরাতো খালি অসুস্থ মানুষের কথা বলে, ভয় দেখিয়ে রক্ত নিতে অভ্যস্ত, একটু মহৎ চিন্তাও মাথায় দিতে হবে। “বিশেষ করে তরুণদের বলি , দিতে শেখো। খুন করতে করতে মানুষ খুনি হয়, দান করতে করতে দাতা। ছোট জিনিস দিতে থাকলে তুমি বড় কিছুকে , এমনকি তোমার নিজেকেও একদিন দিতে পারবে” এর সবচেয়ে বড় উদাহরন মনে হয় নজরুল ভাই। তিনি কি শুধু রক্ত নিয়ে ব্যস্ত, ত্রান বিতরন, বন্যা স্বাস্থ্য কার্যক্রম, বাসের ছাদে সাহিত্যচর্চা কিসে নেই তিনি। রক্ত নিয়ে কাজ করে তিনি মানুষের মন জয় করেছেন, এখন কাজ করে যাচ্ছেন আরো বড় পরিসরে। শুধু রক্ত রক্ত করেন বলে কি-তিনি কি বিয়ে করেননি, নাম বদলে দিয়েছেন, নিজের হবু বাচ্চা নিয়ে কতটা পাগল হওয়া যায় তার বড় উদাহরন হতে যাচ্ছেন তিনি। যেহেতু আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের বক্তব্য এর সংকলন, তাই কিছু ভালো লাগার মত লাইন তুলে দেবার লোভ সামলাতে পারলাম না। যা বিভিন্ন বক্ততায় আপনি ভাব করে লাগিয়ে দিতে পারবেন। ইতিবাচকতা প্রসঙ্গেঃ “আর কোনো মিনমিন টিমটিম নয়। সাহসী হতে হবে। যা করতে যাব তার উপর বিশ্বাসী হয়ে অন্ধের মত ঝাপিয়ে পড়তে হবে। জীবনে যা হবার তা যখন হবেই তখন ইতিবাচক হয়েই তার মোকাবিলা করা উচিত। নেতিবাচকতা মনে মধ্যে কথা বলতে চাইলেই ঝট করে ইতিবাচকতার দিকে সরে যেতে হবে”
কাজ বিশ্বাস ও ইতিবাচকতাঃ “আমরা যদি দুঃখ ব্যার্থতা বা যন্ত্রনার হাত থেকে বাচতে চাই, তবে আসুন, আজকেই কাজ শুরু করে দিই। নিদ্রাহীন, শ্রান্তিহীন অজস্র আনন্দময় কাজ। আবার বলি-কাজ মানেই সাফল্য, সাফল্য মানেই আনন্দ। তাই কাজের মধ্যে বাচা মানেই আনন্দের মধ্যে বাচা। আর এই আনন্দের পথ হল, আমাদের প্রত্যেকের বুকের মধ্যে যে ব্যাক্তিগত পর্বতচুড়াটি আছে তাকে জয় করতে ঝাপিয়ে পড়া”।
এই লাইনগুলা আমার নিজেকে শিক্ষা দেবার জন্যঃ “কিন্তু সমস্যা হল, বাংলাদেশে সমালোচকের সংখ্যা এতই বেশি যে, মনে হয়, আমাদের দেশে সমালোচকই আছে, মানুষ নেই। কথায় কথায় বিদ্রুপ, কারনে অকারনে আক্রমন, সামান্য ত্রুটিতেও নিন্দা গীবত। যেমন কিছু লিখলে ব��বে-‘বলুন, একি কোনো লেখা হল? ভালো কি হত না আরো ভাল হলে? যেন কথাটা কেউ জানেনা। আবার না লিখলে বলবে-‘উনি যে লিখছেন না, এ কি ঠিক হচ্ছে? ভেতরে এত কথা নিয়ে এমন চুপ করে থাকা! এ তো বিবেকের সংগে বিশ্বাসঘাতকতা”। “শুধু বললেই হয় কারো-এগিয়ে যাও! কাজ কর। তুমি পারবেই’। সাম্প্রতিক সময়ে মুরাদ ভাই প্রোগ্রামের দোষ ত্রুটি ধরার জন্য আমার কাছে জিজ্ঞেস করেন, ভাই সব ঠিক আছে। হেহে।
“সমাজের সবখানে এমনি এক আত্মঘাতী নেতিবাচকতা। শুধু সমালোচনা আর নিন্দা। সবাইকে ধ্বংস করার একটা অশুভ পায়তারা সবসময়। এদেশে অধিকাংশ মানুষ নিজে কিছু করছে না। করার ক্ষমতাও নেই। সুতরাং অন্যের সাফল্য সে কী করে সহ্য করবে? আমার পাশের জন এত সব করে ফেলল, আর আমি যেই কে সেই। এ কি সহ্য করার মতো?” এটাও আমার জন্যঃ “বাঙালি ব্যার্থতার সবচেয়ে বড় কারন হচ্ছে শারীরিক উপযুক্ততার অভাব। আমাদের দেশে একশ জন মানুষের মধ্যে ৯০ জন মানুষের ফিজিক্যাল ফিটনেস নেই। একটা দুরারোগ্য স্বাস্থ্যহীনতা আমাদের অস্তিমজ্জায় জেকে বসে আছে। একটা তলহীন গভীর অক্ষমতা ও নির্জীবতা আমাদের সমস্ত চিন্তাচেতনা ও শক্তির ভিত্তিকে নিস্ক্রিয় করে রেখেছে। আমরা তাই চাইলেও আত্মশক্তিতে জেগে উঠতে পারিনা। সেজন্য চাই সচেতনতা”। এতকাল পরীক্ষার নাম করে চিকন ছিলাম, এখন বিয়ার নাম করে চিকন আছি। পাবলিকের ভাষ্য অনুযায়ী-বিয়া না করলে মোটা হব না। আরে ভাই ব্যায়াম টা তো আমাকেই করতে হবে কিনা? বউ কইরা দিবে, না শাশুড়ী কইরা দিবে। শেষের টা হিমু পরিবহণের জন্য, ক্ষয়িষ্ণু এই সংগঠনের এখন এই দিকে চিন্তা করা উচিতঃ “যে সংগঠন থেকে অনুপ্রাণিত মানুষেরা থেকে থেকে নতুন উদ্যেমে জন্ম নেবে, শেষ পর্যন্ত সেই সংগঠনই টিকে থাকবে-তা তারা সে সংগঠনের মূল ধারাকে প্রতিবাদই করুক আর সমর্থনই করুক। অর্থাৎ যে সংগঠনের মূল স্বপ্ন সময়ের পরীক্ষায় পাস হবে, সে সংগঠনই টিকে থাকবে। সঙ্ঘের এই জাগ্রত সন্তানেরাই সংগঠনের দীর্ঘবাহিতার স্তম্ভ। যদি কোনো সঙ্ঘে এই মানুষ না জন্মায়, তবে সে সংগঠন একসময় ধসে যাবে। আর যদি উল্টোটা হয় তবে ওই সংগঠন দিনের পর দিন আরও বিস্তৃত, শক্তিশালী, বলীয়ান ও সংহত হবে। নতুন নতুন স্বপ্ন জাগানোর ক্ষমতা যে সংগঠনে যত বেশি সেটি তত দীর্ঘস্থায়ী” ধন্যবাদ সবাইকে।
This entire review has been hidden because of spoilers.