সতেরটি ছোট ছোট গল্প (‘ছোটগল্প’ নয়), যা লেখক দেশে বিদেশে নানা ধরণের মানুষ আর পরিস্থিতির অভিজ্ঞতাসমূহকে গল্পের ভঙ্গিতে বর্ণনা করছেন। এগুলো যেহেতু বাস্তব ঘটনার ওপরেই লেখা, তাই অধিকাংশ গল্পই (দু’টি বাদে) প্রথম পুরুষে লেখা হয়েছে। অন্য মানুষের গল্প হলেও পাঠক এগুলোতে একদিকে যেমন নিজেকে খুঁজে পাবেন, ঘটনাগুলো অনেক পরিচিত মনে হবে, আবার কিছু গল্প পড়ে হয়তো অবাক হয়ে ভাববেন, “এ ও কি সম্ভব?” যেমন “আলঝেইমার” গল্পে প্রবীণ রহমান সাহেব ও তার স্ত্রী সুরমার সবকিছু ভুলে যাওয়ার বিষয়টি কৌতুককর মনে হলেও পাঠক তার পিতা/মাতা বা দাদা/নানীদের ক্ষেত্রে এমনটা হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন, বয়স বাড়ার সাথে সাথে তিনিও যে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন সেটা ভেবে এধরণের প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য সহমর্মিতা অনুভব করবেন; “ভালবাসার ওম” গল্পটি পড়ে আমাদের মা কিংবা নিকটাত্ম্বীয় গুরুজনদের – দেখা যায় না কিন্তু অনুভব করা যায়, এ ধরণের কী পরিমাণ ভালবাসা যে আছে, সেটা উপলব্ধি করতে পারবেন; “আহসানের স্বপ্ন”তে পাঠক বেলজিয়ামে প্রচন্ডরকম অনিশ্চয়তার মধ্যে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাঙ্গালী যুবকটির জন্য গভীর সমবেদনা বোধ করবেন, তার জন্য শুভকামনা করবেন; “জীবন এমনই” গল্পটি আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে, ‘কতোটা অনিশ্চিত আর ক্ষনস্থায়ী আমাদের এই জীবন…
অথচ আমরা এই একটি মাত্র জীবনে যা কিছু করছি, সেটাই কী সব?’; কিংবা “গ্র্যানী ফ্ল্যাট” গল্পটি অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকার প্রেক্ষাপটে লেখা হলেও পশ্চিমা দেশগুলোতে শেষ জীবনে পিতা/মাতা বা প্রবীণদের জীবন কতোটা নির্মম পরিস্থিতিতে যেতে পারে, তার সাথে আমাদের দেশের (অধিকাংশ ক্ষেত্রে) প্রবীণদের জীবনের শেষ দিনগুলো কতোটা আনন্দময় ও ভালবাসায় পরিপূর্ণ হয়ে থাকে, সেটা তুলনা করে গর্বিত বোধ করতে পারেন যে, ভালবাসা, মানবতা এখনো আমাদের মতো দরিদ্র দেশের মানুষগুলোর ভেতরেই অবশিষ্ট আছে।
দৈনন্দিন জীবনের অতি পরিচিত কিছু ঘটনা ও চরিত্রগুলোতে হাসি, আনন্দ, বেদনা ও আবেগের অনেক উপকরণ রয়েছে বিধায় পাঠক এই বইটির গল্পগুলো পড়ে আনন্দ পাবেন বলে বিশ্বাস।
* বদরুল মিল্লাতের প্রথম কোন বই পড়লাম। লেখক প্রচুর পড়েন, এবং পড়ার পাশাপাশি লেখালেখি করেন, এই ছাপটা পেলাম লেখাটাতে, এইটাই আমায় সবচেয়ে আনন্দ দিয়েছে। অনেক অভিজ্ঞতার সমষ্টি ছিল তার লেখাতে...
* প্রথম পুরুষে লেখা ছিল, বেশিরভাগ গল্প। নিজের জীবনের গল্প বলেছেন। বইটাকে অনেকটা আত্মজীবনী ধরনের ছোটগল্পের বইও বলা যেতে পারে, সে অর্থে। তবে মন্দ লাগে নি। এক বসাতে, না, এক শোয়াতেই বইটা শেষ করে উঠলাম , মাত্রই...
* বইটিতে মোট ১৭টি ছোটগল্প আছে।
আলঝেইমার গল্পের আলঝেইমার সম্পর্কে জানতাম না, জেনে একই সাথে বিস্ময় আর হতাশ হলাম, কী কষ্টকর রোগ!
জীবন এমনই... আসলেই তো, জীবন তো এমনই হয়! চলে যায় দিন, কীভাবে কীভাবে যেনো!
গ্র্যানী ফ্ল্যাট আমাদের পৃথিবীর সভ্য জাতি হিসেবে খ্যাত, তাদের জন্যে, যারা তাদের বাবামাকে খুব সহজেই ভুলে যায়! ১৮ পার হলেই!
নাড়ির টান গল্পটা মোটামুটি লেগেছে।
একটি মাচাং এর গল্প পড়ে বাচ্চাকালের সমাজ স্যারের কথা ইয়াদ হলো, অনেক 'জ্ঞান' দিয়ে এখন আমেরিকার দ্বিতীয় শ্রেণীর মহান নাগরিক :)
নস্টালজিয়া... সায়ন্সের ছাত্র হয়েও সত্যি বলতে, জীবনে একটা সাইন্স ফিকশন পড়ি নাই, পড়তে ভালোও লাগে না আসলে। তাও এটা মোটামুটি ভাবিয়েছি আমায়, গল্পটা, আসলেই তো!
জুতা আবিষ্কার এবং... হা হা ... মজার গল্প।
চিঠি দিও... কষ্ট, বুকে দীর্ঘশ্বাস!
টেরিবল টু'জ... একটা বয়সের পরে সব্বার জীবনের গল্প।
ভালবাসার ওম...ভালোই।
আহসানের গল্প... ভাগ্য বিতাড়িত এক ফেরারির জীবন কাহিনী। চলতে ফিরতে এমন অনেককেই আমরা দেখি...
একজন বইপোকা... এইখানে নিজেকে আবিষ্কার করলাম... বয়স হয়ে গেলে কি আমারও এমনটাই পরিণতি হবে !