'হলুদ পোড়া' গল্পটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেশ পরিচিত একটি ছোটগল্প। এই নামের গল্পগ্রন্থটির প্রথম গল্পটিই 'হলুদ পোড়া'।
অতিপ্রাকৃত ধরনের এই গল্পটি মানিক বাবুর গতানুগতিক ধারার লেখার বাইরে। গল্পটি নিয়ে আমার বেশ আগ্রহ ছিল, ভেবেছিলাম হয়ত 'তারানাথ' জাতীয় কোন কিছু হবে। বাট সেই জাতীয় কিছু পাইনি। খুবই সাদামাটা একটি গল্প। তবে মানিক বাবুর গতানুগতিক ধারার বাইরের লেখা পড়লাম, এটাই ভাল লাগল।
গল্পগ্রন্থটিতে মোট ১০ টা গল্প আছে। কোন গল্প গ্রন্থের সবকটি গল্প ভাল লাগবে না, এটাই স্বাভাবিক। ২/৩ টি গল্প অনেক ভাল লাগবে, এটাও স্বাভাবিক। কিন্তু 'হলুদ পোড়া' গল্প গ্রন্থটির ক্ষেত্রে এটা ব্যতিক্রম হয়েছে। কোন গল্পই আহামরি ভাল লাগেনি। তবে, সব গুলো বিবেচনা করে 'ধাক্কা' ও 'অন্ধ ও ধাঁধা' গল্পটি তুলনামূলক ভাবে ভাল।
'ধাক্কা' গল্পে সেই মানিক বাবুর দেখা মেলে। নারী পুরুষের এক সম্পর্ক। যে সম্পর্কের কোন নাম নেই, আবার সম্পর্ক ফেলনা না, আবার গভীর ও না! অথবা নিজেরা নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে সন্দিহান!
'অন্ধ ও ধাঁধা' গল্পে, অন্ধ স্বামীর যে পল্লীবঁধুর চিত্র অঙ্কিত হয়েছে সেটা ভাল লেগেছে। এই পল্লীবঁধু ঠিক গতানুগতিক পল্লীবঁধু না, আর আধুনিক শহুরে ধরনেরও না। এক দৃঢ় অথচ কোমল রমণীর মনে হয়েছে তাকে।