মানুষের বোধোদয় ঘটে, কারও আগে, কারও পরে। আমার না হয় পরেই ঘটলো, কিন্তু আমি শান্তি পাচ্ছি এই ভেবে যে, ঘটেছে। দেরিতে হলেও ঘটেছে। বাকীটা জীবন, সে যতদিনই বাঁচি আর যাকেই প্রয়োজন হোক, তোমাকে প্রয়োজন হবে না।
আমার খোঁজ করো না।
ব্রক্ষপুত্রের পাড়ে" অসম জীবন বিন্যাসের বেদর্নাতক দুই নারীর আর্তনাদ। দুই বোন যাদের মাঝে ছিল স্মৃতির এক আশ্চর্য পাহাড় আর পুরুষ জাতির নির্মমতার এক ঝাক ভালবাসার ছলে বেদর্নার রোমহষর্ক সমুদ্র।
তসলিমা নাসরিন বুকের মাঝে তমসা রঙের পাথর থাকা বেদনা থেকে লেখা এই অসাধারণ বই। ময়মনসিংহের তার সেই পুরনো ব্রক্ষপুত্র নদীর পাড়ে ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে ছুঁটে চলা, নদীতে সাঁতার কাটা, দুই বোনের প্রকৃতিতে হারিয়ে যাওয়া তিনি বর্ণনা করেছে যমুনা আর নূপুর এই দুই বোনের মাঝে।
কতটা বেদনা নিয়ে বেড়ে ওঠা এই জীবন, যতটা বেদনা না হলে জীবন হয় না।
যমুনা এবং নূপুর দুই বোন! দু'জনের মাঝে ভালবাসার আশ্চর্য কাঁঠালিচাঁপার মিল! দু'একই ধাতুতে গড়া মা। যমুনা যে সমাজকে ত্যাগ করেছে, যাকে ভালবেসেছে তার থেকে সন্তান তো নিয়েছে কিন্তু সেই পুরুষকে বাবা হওয়ার অধিকার দেয় নি। সম্পর্কের টানা পোড়নে সমাজের কাছে মুখ লুকানোর জন্য কিংবা নিজের সম্মান রক্ষায় জারজ সন্তানকে বাবা চেয়েছিল মেরে ফেলতে। কিন্তু যমুনা তা হতে দেয়নি। নিজের বলিষ্ঠ স্পন্দমান তেজে রক্ষা করেছিল নিজের সন্তানকে। তার জন্য নিজের জীবন যাকে একবার বলেছিল, সেই প্রেমিককে হত্যাও করেছিল। দু'জন নারীর নিজ দেশ ত্যাগ করে বিদেশে থাকাকালীন মায়া মমতার এক অদ্ভুত সৌন্দর্য এই বই। পুরুষরা নারীদের কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে তাও তিনি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।
নিরপেক্ষ বিশ্লেষণে বলা যায়, তিনি যতটা পুরুষকে পর্যবেক্ষণ করেছেন, কিংবা তাদের মাঝে নিজেকে সর্পে দিয়েও দেখেছেন; এই পৃথিবীতে তিনি প্রেমিকা হতে পারবেন না। পুরুষের চাতাকলে, তাদের চাহিদার কাছে তাকে মরতে হবে! ড্রেসার মেশিনে পাথরের টুকরো যেমন ক্ষুদ্র বালিকণায় রুপান্তরিত হয়, তেমনি পুরুষশাসিত সমাজে নারীরা হবে ক্ষুদ্র ধ্বংসাত্মক জীব!
একজন, যে খুব প্রেমিক হতে চেয়েছিল!