এ যেন নতুন চোখে ঢাকার আরেক রূপ দেখলাম। ঢাকা প্রাচীন সেটা জানি, কিন্তু এভাবে অলিতে গলিতে পরতে পরতে ইতিহাস এভাবে লুকিয়ে আছে! এভাবে ভেবে দেখিনি কখনও। নেক্সট টাইম ঢাকাটাকে অন্যরকম সমীহের চোখে দেখতে হবে সত্যি! কিংবদন্তির ঢাকা বইটায় লেখক নাজির হোসেন এক অসাধ্য সাধন করেছেন। ঢাকা কিভাবে ঢাকা হয়ে উঠলো, ঢাকেশ্বরী মন্দির নাকি ঢেকে রাখা থেকে, বুড়িগঙ্গাই বা কোথা থেকে এলো আলোচনা করেছেন পুরাণ থেকে। ঢাকার লালবাগ কেল্লা, বড় কাটরা, ছোট কাটরা, আহসান মঞ্জিল, হোসেনী দালান সব কিছুর ইতিহাস এসেছে একে একে। ঢাকার অভিজাত এলাকা হিসেবে আমরা ধানমন্ডিকে চিনে থাকি।অথচ একটা সময় বিপুল পরিমাণ ধান উৎপাদন হতো বলে এই এলাকা ধানমন্ডি নামে প্রচারিত হতে থাকে। সুপরিচিত শাহবাগ, নীলক্ষেত, মালিবাগ, পলাশী, পিলখানা, দোলাইখাল, দিলকুশা, হাতিরপুল, সূত্রাপুর, চূড়িহাট্টা, হাজারিবাগ, আরমানিটোলা, শাঁখারী বাজার, বংশাল, ফ্রেঞ্চ রোড, ফুলবাড়িয়া, কাওরান বাজার, মতিঝিল, ঠাটারি বাজার, মোগলটুলি,রমনা পার্ক, চকবাজার... ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। আর কতো নাম করব? এই সব এলাকার নামের সাথে জড়িয়ে আছে ইতিহাস। এর সাথে সাথে আলোচনার মাঝে ছিল ঢাকার সুবেদারগণ, নবাবদের দান-দক্ষিণা আর জৌলুসের কথা, আছে ধর্ম সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে আসা পীর ফকিরদের কথা আর তাদের অলৌকিক সব নিদর্শন গাঁথা, রাজধানী স্বীকৃতি পেয়েও আবারও সেই স্বীকৃতি হারানোর বেদনা, কোম্পানি আমলে কিছু নিবেদিত প্রাণ অফিসারের (ভাইসরয়, লর্ড, ম্যাজিস্ট্রেট, চেয়ারম্যান প্রভৃতি) উন্নয়নমূলক কাজ।
ঢাকা আসলেই কিংবদন্তির একটা শহর। এর অলি-গলিতে মিথ আর সত্যি জড়িয়ে আছে একে অপরের সাথে। বইটা পড়তে পড়তে বর্তমানের ধূলো-মলিন, জ্যামের শহর হিসেবে নয় চোখের সামনে ফুটে উঠবে অন্যরকম এক ঢাকার ছবি। যেখানে শ্রান্তি নয়, শান্তি আছে।
ঢাকা যদি বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলির শহর হয়, তাহলে এই শহরকে ঘিরে চুয়ান্ন হাজার কিংবদন্তি থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু না। সেই পাহাড়সম কিংবদন্তিকে এক মলাটে উপস্থাপনের কঠিন কাজটি করেছেন নাজির হোসেন। বইটিকে শুধু ঢাকার ইতিহাস বললে ভুল হবে; কারণ ঢাকার ইতিহাস বলতে গিয়ে লেখক চলে গিয়েছেন কখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কিংবা পাক-ভারত উপমহাদেশের ক্ষমতার উত্থান পতনের অলি-গলিতে। বইটির প্রথম সংস্করণ ১৩১ পৃষ্ঠায় ১৯৭৬ সালে ও ২৪৮ পৃষ্ঠায় ১৯৮১ সালে দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। ১৯৯৫ সালে তৃতীয় সংস্করণে পৃষ্ঠা সংখ্যা দাঁড়ায় ৬০৮-এ। অর্থাৎ বইটি লিখতে গিয়ে অনেক তথ্য বের হয়ে এসেছে এবং তা সংযুক্ত করতে হয়েছে।
ঢাকা শহরের নামকরণ নিয়ে বিতর্ক যেন শেষ হয়না। ইউরোপীয় পর্যটক ও মুসলিম ঐতিহাসিকগণ যে এলাকাটিকে 'বেনগলা' বলে চিহ্নিত করেছেন তাকেই আজকের ঢাকা বলে মনে করেন অনেকে। বল্লাল সেনের নির্মিত 'ঢাকেশ্বরী মন্দির' এর নামেও ঢাকার নামকরণ হয়ে থাকতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট জগদীশ চন্দ্র সরকারের মতে, হিন্দু রাজার রাজধানী বিক্রমপুর ও সোনারগাঁও-এর উপর সতর্ক দৃষ্টি রাখার উদ্দেশ্যে এই স্থানটি ঢেক্কা বা ঢাক্কা তথা ডাক চৌকি হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলে এটা ঢাকা নামে অভিহিত হয়েছে। অন্য এক কাহিনি মতে হিন্দুদের বাদ্যযন্ত্র ঢাক কিংবা বুড়িগঙ্গা তীরে একটি বড় ঢাক বৃক্ষ হতেই ঢাকার নামকরণ হয়েছে। নানা মুনির নানা মত।
ঢাকার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় চার কোটি। অর্থাৎ দেশের এক চতুর্থাংশ মানুষের বসবাস এই ছোট শহরটিতে। অথচ এক শতাব্দী পূর্বে ১৯০১ সালে এই শহরের জনসংখ্যা ছিল মাত্র ৯০ হাজার। ব্রিটিশ শাসনের পূর্বে ঢাকাকে নিয়ে রাজা-বাদশাহরা চিন্তা করেনি; দিল্লির হর্তা-কর্তারা শুধু কর নিয়েই কার্য সমাধা করেছেন। ব্রিটিশরা শাসনভার তুলে নেওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে নগরের উন্নয়ন কাজে হাত দেয়; যদিও তাতে নিজেদের স্বার্থ জড়িত ছিল।
ঢাকা শহরের বিভিন্ন রোড বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামানুসারে হয়েছে। অনেক সময় উন্নয়ন কাজে অর্থ সাহায্য করতেন ধনাঢ্য ব্যক্তিরা এবং বিনিময়ে নিজের নামে একটি রাস্তার নামকরণ করে ফেলতেন। আবার ধর্মীয় বা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জনপ্রিয়তাও রাস্তা কিংবা এলাকার নামকরণে ভূমিকা রেখেছে। এত এত রাস্তা বা এলাকার নাম ও তাদের ইতিহাসে ঠাসা বইটি; বইটি পড়েই ঢাকা শহর ভ্রমণের স্বাদ পেয়ে যাবেন।
ঢাকা শহরের ইতিহাস নিয়ে পূর্বে একটি গবেষণা গ্রন্থ পড়ার সুযোগ হয়েছিল। বইটি তেমন টানেনি তার বর্ননার কারণে। এদিক দিয়ে 'কিংবদন্তির ঢাকা' প্রশংসার দাবিদার। বইটিতে যেহেতু বিরাট ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা হয়েছে; তাই পরিচ্ছেদ কিংবা নির্দিষ্ট করে লেখা থাকলে ভালো হতো। এতে করে নির্দিষ্ট বিষয়গুলো একসাথে জানা যেত। ঢাকা নিয়ে সবারই কমবেশি আগ্রহ আছে। তাই যদি ঢাকা শহরের গলিঘুচির ইতিহাস জানতে চান বইটি পড়তে পারেন। হ্যাপি রিডিং।
আজকের কলকাতা যখন পাণ্ডববর্জিত স্থান, তখন সুবা বাংলার রাজধানী ঢাকা। মুর্শিদাবাদ তো রাজধানী হলো শাহজাদা আজমের সাথে মুর্শিদকুলী খাঁনের তিক্ত সম্পর্কের কারণে। ঢাকা নিয়ে আগ্রহ সৃষ্টির আকর এই বইটি। বাহান্ন বাজার, তিপ্পান্ন গলিতে ছড়িয়ে আছে কত গল্প, কত কাহিনি। তার সত্যাসত্য নির্ণয় করা কঠিন। লেখক নাজির হোসেন খাস ঢাকাইয়া। তাই তিনি ঢাকাকে নার্সিসাসের দৃষ্টিতে দেখেছেন তা অস্বীকার করব না। কমপক্ষে দশ বছর আগে পড়েছি। অথচ এখনও মনে আছে "কিংবদন্তির ঢাকা" পড়তে গিয়ে যেমন আনন্দ এবং রোমাঞ্চ অনুভব করেছিলাম, তেমনটি অনেক ভালো ভালো গল্প-উপন্যাস পড়েও অনুভূত হয়নি। ঢাকা নিয়ে রীতিমতো গল্পের আসর বসিয়েছেন নাজির হোসেন।
এই বইয়ের তথ্যের ভিত্তি নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকলেও ঢাকার বিভিন্ন ব্যক্তি ও সম্প্রদায় নিয়ে যে বর্ণনা নাজির হোসেন দিয়েছেন তা সামাজিক ইতিহাস হিসেবে মূল্যবান।
লেখক জিয়াউর রহমানের পার্টি করতেন। তাই শেষদিকে রাজনৈতিক প্রোপাগাণ্ডা আছে। এমন সুখপাঠ্য বই লেখার জন্য নাজির হোসেনের এইটুকু অপরাধ মার্জনা করা যায়।
এই বই কোনো ঐতিহাসিকের লেখা নয়। কোনো প্রামাণ্য গ্রন্থ নয়। পুরান ঢাকার অলি-গলি, নবাববাড়িকে জড়িয়ে থাকা গল্পের,ঘটনার সংকলন মাত্র। তাই ইতিহাসগ্রন্থ না ভেবে গল্পের বই কিংবা প্রচলিত কিংবদন্তী জানার আগ্রহ থাকলে অবশ্যই পড়ুন "কিংবদন্তির ঢাকা"।
গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড নামটা ব্রিটিশদের দেয়া। কংকালটা মৌর্য সাম্রাজ্যের সময় থেকে, উত্তরাপথ নাম ছিল। হাজার দেড়েক বছর পরে এলেন শেরশাহ। সড়ক ই আজম, বাদশাহী সড়ক যে নামেই ডাকি না কেন, তিনি দুই দিকে বাড়ালেন, ওইদিকে কাবুল হলো সীমানা, এইদিকে চট্টগ্রাম। সড়কের প্রতি দুই ক্রোশ পরে পরে স্থাপিত হলো সরাইখানা, আরেক নাম ক্যারাভান সরাই, বাংলায় পান্থ নিবাস। আজকের যে সিমেন্টের জঙ্গল কারওয়ান বাজার, যার সিগনালে বসে কোন প্রেমিক শাহবাগে অপেক্ষমান প্রেমিকার "এত কাছে তবু এতদূর" ভেবে ভেবে অস্থির হয়, সেখানে এরকম একটা ক্যারাভান সরাই ছিল। কালের বিবর্তনে ক্যারাভান আমাদের উচ্চারণে হয়ে গেল কারওয়ান, আর এখানে একটা বাজার হবার পর নাম হল কাওরান বাজার। গল্পটা হয়তো সত্যি, প্রাচীন ইতিহাসের অলিতে-গলিতে মিথ আর সত্যি মিলেমিশে হয়ে গেছে একাকার। তাই আজিমপুর নামের উৎস শাহজাদা মোহাম্মদ আজম নাকি বাদশা জাদা আজিম উশ শান, সেই নিয়ে চলতে পারে মায়াবী বিতর্ক। ঢাকার কলে কলে যখন ওয়াসার পানি আসতো না, ঢাকার মানুষ কি তখন পানীয় জল বঞ্চিত ছিল? মোটেই না। ভিস্তিওয়ালা ছিল, ছাগলের চামড়ার মশকে তৈরি পাত্রে পানীয় জল নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তারা পৌঁছে দিয়ে আসত আদি প্রাণের উৎস। ভিস্তিওয়ালাদের স্থানীয় ভাষায় ডাকা হতো সাক্কা, কালের বিবর্তনে তা হয়ে গেল সিক্কা, আর তাদের এলাকা? সিক্কাটুলি! ইসলাম খান চিশতী দ্বারা গোড়াপত্তন হওয়া মহল্লা চিশতিয়ানে ছিল বাগ এ বাদশাহী, আর ছিল অবারিত সবুজ আর বেহেশতী পরিবেশ। সেই তো আজ হয়ে গেছে শাহবাগ, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। রমনা শব্দের অর্থ লন, ফার্সি থেকে বেড়াতে এসে থেকে গেল বাংলায়। কালে জমজম কামান তলিয়ে গেছে বুড়িগঙ্গার গর্ভে, রয়ে গেছে বিবি মরিয়ম কামান, মীর জুমলার কথিত সেই কামান বুড়িগঙ্গার অতল থেকে ডেকে উঠলো সঙ্গিনীকে, সেই সঙ্গিনী কখনো সদরঘাট কখনো চকবাজার। মুঘলদের বিখ্যাত বেশিরভাগ শহরেই একটা করে চকবাজার থাকে, চক মানে বর্গক্ষেত্র, স্কয়ার, চৌকোনা আকৃতির বাজার এরা, এবার অবশ্য রকমারি ইফতার নিয়ে এখানে চিরন্তন হইচই নাই। ঢাকা এলো ঢাক নাকি ঢাকেশ্বরী থেকে নাকি ঢেকে রাখা থেকে, নাকি ইসলাম খান সীমানা নির্ধারণের জন্যে লোক পাঠালেন যতদূর ঢাকের শব্দ যায় ততদূর পর্যন্ত আর সেই থেকে ঢাকা, এইসব রহস্যের কূল কিনারা কোনোদিনও কি হবে?
পড়ছিলাম আমাদের অতি প্রিয় ঢাকার ইতিহাস (নাকি পুরাণ) বিষয়ক একটা বই, নাজির হোসেনের কিংবদন্তীর ঢাকা। ঢাকা নিয়ে যাই পাই, পড়ে ফেলি। কেনো এতো আগ্রহ নিয়ে পড়ি? কারণ ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় কত কত কত প্রজন্মের গল্প ঘুরে বেড়ায়, তার কোন ইয়ত্তা নাই। বইটা মাঝে মাঝে একটু খেই হারিয়ে ফেলে, তবে ধৈর্য ধরে রাখলে বইটার মাঝে রীতিমত ক্যাম্পাস জীবনের টইটই করে উদ্দেশ্যহীন ঘুরে বেড়ানোর মজা পাওয়া যায়।
ঢাকা যাদের কাছে শুধু বাস করবারই যায়গা নয় বরং ঢাকা যাদের কাছে কোনো অব্যক্ত দাবি রেখে যায় সময়ে অসময়ে, অসহ্য জ্যাম,দরিদ্রতা,মাটি-কাটা,খাল ভরাট,রাস্তা কাটা, দুর্গন্ধময় নর্দমার, রাস্তায় রাস্তায় ডাস্টবিনের অত্যাচার সব সহ্য করে অথবা নিজের ভাগ্যকে গালি দিয়ে কিংবা একদিন সব ছেড়ে ছুড়ে ঢাকার মাজায় লাথি মেরে যারা চলে যেতে চায়,আবার নিশুতি রাতে এক চিলতে বারান্দায় বসে নিচে কুকুরের ঘেউ ঘেউ শুনতে শুনতে এই নিকৃষ্ট শহরকে ভালো লাগার কিংবা ভালোবাসার হ্যালুসিনেশনে ভোগে,এই শহর আমার বলে মনে কেমন একটা আনন্দ পায় এবং পরদিন আবার ঢাকাকে গালি দিয়ে বেড়ায় এই বইটা তাদের জন্য৷
পুরা ঢাকার ঠিকুজি পাওয়া যায় এই বই এ। যারা পরবর্তীতে ঢাকাকে নিয়ে লিখেছেন সবাই আসলে এই বই কেই মাদার বই হিসেবে ইউজ করে লিখেছেন। বই টার সমস্যা একটাই অনেক সাহিত্যিক গুণাবলি নাই। বোরিং হিস্ট্রি বলে গেছেন। সম্ভবত তিনি যে সাহিত্যিক নন একজন রাজনীতিবিদ এটাই সম্ভবত কারন। তবে ঢাকার ইতিহাস জানার জন্য এই বই পড়াই লাগবে।
ঢাকা নিয়ে রিসেন্টলি বেশ কয়েকটা বই পড়া হয়েছে। 'ঢাকা পুরাণ', 'জিন্দাবাহার', 'অতীত ঢাকার আশ্চর্য ইতিহাস' ইত্যাদি। সবগুলো বইয়েই কম-বেশি একটা নির্দিষ্ট বই থেকে রেফারেন্স নেয়া হয়েছে। তাই ভাবলাম সেই বইটাই পড়ে দেখা যাক, যেটা থেকে অন্যসব ঢাকা-সম্পর্কিত বই রেফারেন্স নেয়। এবং পড়তে গিয়ে বুঝতে পারলাম যে কেন এই বই থেকে সব রেফারেন্স নেয়া হয়।
কি আছে এই বইয়ে? ভুল প্রশ্ন। সঠিক প্রশ্নটা হলো, কি নেই এই বইয়ে? ঢাকা সম্পর্কিত যে বইগুলো পড়েছি সেগুলোতে নির্দিষ্ট কিছু স্থান ও তার ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু 'কিংবদন্তির ঢাকা'র সূচিপত্র দেখে চোখ কপালে উঠে যাবে নিশ্চিত! অভিধানে যেমন অ, আ, ক, খ অনুসারে শব্দ সাজানো থাকে, এই বইয়ে ঠিক তেমনিভাবে ঢাকার স্থানগুলোকে বর্ণমালার ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে। এতগুলো স্থানের নাম লিখতে গেলে আর অন্যকিছু লেখার জায়গা থাকবেনা।
সূচিপত্র অনুযায়ী সাড়ে ছয়শো+ স্থান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এই বইয়ে। তার মধ্যে অসংখ্য জানা পরিচিত স্থান যেমন আছে, তেমনি আছে অনেক অজানা অচেনা স্থান। আর এসব স্থানের অতীত ইতিহাস শুনলে আরো অবাক হতে হয়, একইসাথে হতে হয় মুগ্ধ। ঢাকার অন্যান্য বইগুলোর আলোচনায় তিন-চারটি ইন্টারেস্টিং ব্যাপার তুলে আনলেও এই বইয়ের ক্ষেত্রে সেটা করা বেশ কঠিন, কারন এখানে এত পরিমান ইন্টারেস্টিং ইতিহাস/তথ্য আছে যে কোনটা রেখে কোনটা তুলে আনা উচিত তা বোঝা দায়।
বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলির শহরকে নিয়ে যে চুয়ান্ন হাজার কিংবদন্তী থাকতে পারে তা নাজির হোসেনের এই বইটি পড়লেই বোঝা যায়। সাড়ে ছয়শো স্থান নিয়ে আলোচনা করেছেন লেখক, তার মধ্যে যে শুধু ঢাকার ইতিহাসই আছে তা নয়, উঠে এসেছে বিশ্বযুদ্ধ, ভারত-পাকিস্তান, বাদশাহ-নবাব, ইংরেজ আমল সহ আরো কত কি।
ঢাকার অসংখ্য স্থানের নামকরন হয়েছে বিখ্যাত/গুরুত্বপূর্ণ সব মানুষদের নামে, এছাড়া অন্যান্যভাবেও নামকরন হয়েছে, তার মধ্যে অনেক নামকরন বিকৃত রুপ নিয়েছে, অনেক নাম সময়ের সাথে হারিয়ে গিয়েছে। এসবকিছু আলোচনা করেছেন লেখক, আলোচনা করেছেন ঢাকার অলিতে গলিতে মিশে থাকা নানা মিথ নিয়ে। আরো আছে দারুন সব অলৌকিকতার নিদর্শন গাঁথা। অদেখা ঢাকার এক পূর্ণ রুপ তুলে ধরা হয়েছে এই বইয়ে। সেই কিংবদন্তির ঢাকা ভ্রমন করতে বইটি পড়া আবশ্যক।
খুবই অসাধারণ একটা বই। অসম্ভব উপভোগ করেছি প্রতিটা পাতা। তবে এক তারকা কমে যাবার একমাত্র কারণ হলো অধ্যায়ভিত্তিক ভাগ না করে দেয়া। যদি বইটা কাহিনী, এলাকা বা পুরোনো ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চল ভাগ করে দেয়া হতো, তাহলে পড়তে খুবই আরাম পেতাম। এই ধরণের বইগুলো রি-রিড দেয়ার দাবিদার। অধ্যায় ভাগ করে না দেবার কারণে প্রিয় জায়গাগুলো আরেকবার খুঁজে পেতে বেশ গলদঘর্ম হতে হবে। বিশাল কলেবরের বইটার সাথে সময়টা খুব ভালো কাটলো...
আরবান লিজেন্ডের খোঁজ করতে গিয়ে পড��তে শুরু করেছিলাম কিংবদন্তির ঢাকা!কিন্তু ঢাকা শুধু কিংবদন্তির নয় ইতিহাস-ঐতিহ্য-প্রাচীনত্ব ও গৌরবময় শহর ও বটে!কিংবা বায়ান্ন বাজারের তেপান্ন গলিরর ঢাকা!কত অজানা ইতিহাস কত কথা।