MOHAMMAD NAZIM UDDIN (Bengali: মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন) is a writer and Translator of more than 26 novels..His original works are NEMESIS, CONTRACT, NEXUS, CONFESSION,JAAL, 1952: nichok kono number noy, KARACHI, RABINDRANATH EKHANE KOKHONO KHETE ASENNI and KEU KEU KATHA RAKHE. These six Thriller novels are highly acclaimed by the readers.
গত তিনটি খণ্ডের তুলনায় বেশি হৃষ্টপুষ্ট হলেও এই খণ্ডটি ঠিক ততখানি আনন্দ দিল না। তার মধ্যেও যেক'টি লেখা মনে থেকে গেল তারা হল~ ১. ছায়াময়: শরীফুল হাসান ২. রক্ত-লাল: জাহিদ হোসেন ৩. নেহাই: জাবেদ রাসিন ৪. ত্রিনয়ান: তাকরীম ফুয়াদ ৫. থ্রি টেন টু ইউমা: অনুবাদ রবিন জামান খান ৬. মানিক: নিয়াজ মেহেদী ৭. একেই বলে শুটিং: নাবিল মুহতাসিম এই খণ্ডে অনূদিত লেখার শতকরা হারও আগের খণ্ডগুলোর তুলনায় বেশি ছিল। যাইহোক, সন্ধে থেকে এখনও অবধি সময়টা লাল আর কালো-তে ঘিরে বেশ ভালোভাবেই কেটে গেল এই সিরিজের সৌজন্যে।
আমি যেহেতু থৃলার গল্পসংকলন ১,২ বা ৩ পড়ি নি তাই আগের গুলার সাথে তুলনা করতে পারছি না। থৃলার গল্পসংকলন- ৪ আমার আমার কাছে মোটামুটি লেগেছে। কিছু গল্প ভালো লেগেছে কিছু গল্প ভালো লাগে নি। মিশ্র অনুভুতি যাকে বলে। যে গল্পগুলা ভালো লেগেছে সেগুলা হল:
১. লুকাশনি, তানজীম রহমান ২. বানিয়াচং, রবিন জামান খান ৩. জঙ্গলের চিত্রনাট্য, সুস্ময় সুম ৪. নেহাই, জাবেদ রাসিন ৫. একেই বলে শুটিং, নাবিল মুহতাসিম ৬. ত্রিনয়ন, তাকরীম ফুয়াদ ৭. বুমেরাং, বাপ্পী খান ৮. উই থ্রি, ডিন কুনজ, অনু: নজরুল ইসলাম ৯. মানিক, নিয়াজ মেহেদী ১০. টু সার্ভ ম্যান, ড্যামন নাইট, অনু: আশিকুর রহমান খান ১১. প্রহেলিকা, বাপ্পী খান ১২. হোটেল অ্যাট দ্য এন্ড অফ দি রোড, স্টিফেন কিং, অনু: সালমান হক ১৩. আই গট টু গেট অ্যাওয়ে, স্টিফেন কিং, অনু:সালমান হক ১৪. শেষ থার্টিফাস্ট, মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ১৫. সখেদ, মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
যেরকম থ্রিলার আশা করেছিলাম, পাইনি। এগুলো কি থ্রিলার বলা যায় !?পড়ে তো তেমন স্বাদ পেলাম না। থ্রিলারের মতো রুদ্ধশ্বাস ব্যাপারটাই এখানে নাই।এগুলোকে থ্রিলার নাম দেওয়া হলো কেনো জানিনা, এখানে বিভিন্ন টাইপের গল্পের সমাবেশ আছে। ছোটো ছোটো গল্প তাই বেশি সময়ও লাগে না এক একটা পড়তে। যারা থ্রিলারের খোঁজে এই বই পড়বেন ভাবছেন, তারা কিন্তু ঠকে যাবেন। ওভারঅল বইটাকে ২ স্টারের বেশি দিতে পারলাম না। মোট ২৭টা গল্প আছে।আমার পছন্দ তো খুব hatke type, চট করে কিছু পছন্দ হয় না,তাই এত গুলোর মধ্যে আমার শুধু মাত্র চারটে গল্পই ভালো লেগেছে, শুধু সেই ৪ টে নামই উল্লেখ করলাম - ১) সখেদ (মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন) = ৪.৫স্টার। ২)শেষ থার্টিফার্স্ট (মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন) = ৪স্টার। ৩) ত্রিনয়ন (তাকরীম ফুয়াদ) = ৪স্টার। ৪)জঙ্গলের চিত্রনাট্য (সুস্ময় সুমন) = ৩.৫স্টার।
*এটাই ২০২০সালের শেষ পড়া বই আমার।বছরের শেষে বেশি কিছু পড়তে পারলাম না, আগামী ২ মাসও মনে হয় আর পড়া হবে না, ওয়েব সিরিজে মন আসক্ত হয়ে পড়েছে।😁
বইঃ থৃলার গল্পসঙ্কলন ৪ লেখকঃ বিবিধ সম্পাদকঃ মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন প্রকাশকালঃ ২০১৭ (আমার পড়া হয়েছেঃ তৃতীয় সংস্করণঃ ২০১৯) প্রকাশনাঃ বাতিঘর ধরনঃ রহস্য, রোমাঞ্চ, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, ইতিহাস-আশ্রিত, পৌরাণিক, মনস্তাত্ত্বিক, অতিপ্রাকৃতিক, আধিভৌতিক, পরাবাস্তব, অপরাধ, হাস্যরসাত্মক প্রভৃতি ঘরানার ২৭টি গল্পের সমাহার। পড়া শুরু হয়েছিলঃ ২৭শে আগস্ট আর শেষ করেছিঃ ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ তারিখে।
পাঠ-অনুভূতিঃ
এককথায়ঃ মিশ্র।
২৭টির মধ্যে ১৯টি মনে বেশি দাগ কেটেছে, সেগুলোর ব্যাপারে লিখছি। (বইয়ের সূচীপত্রে থাকা ক্রম অনুসারে উল্লেখ করা হল।)
১. নিত্য ওথেলো, মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (২.৬ তারকা) - রহস্য শেষ হতে হতেও শেষ হল না, ব্যাপারটা ভালো লেগেছে। ২. ছায়াময়, শরীফুল হাসান (১.৬ তারকা) - (মনো?)চিকিৎসক আহমেদ করিম কীভাবে নেবেন তা জানতে ইচ্ছে করছে...। ৩. লুকাশনি, তানজীম রহমান (২.৮ তারকা) - ভৌতিক আবহ তৈরির দিক থেকে লেখক বরাবরের মতো সফল; শেষের দিকে এসে আমার মাথায় এটাই ঘুরছিলঃ "মিনি, পালাও! পালাও!" খুব করে চাইছিলাম মিনি বা অন্য কেউ যেন লুকাশনির খপ্পরে না পড়ে কিংবা পড়লেও যেন পালাতে পারে বা কেউ তাকে/তাদেরকে উদ্ধার করে। আশা করি লেখক ভবিষ্যতে এ ঢাউস আকৃতির ছোট গল্পটাকে একটা ছোটখাটো উপন্যাসে রূপ দেবেন। ৪. রক্তলাল, জাহিদ হোসেন (২.৬ তারকা) - অতিপ্রাকৃত গল্পটার শেষটা ভালোই লেগেছে। ৫. বানিয়াচং, রবিন জামান খান (২.৬ তারকা) - এমনটা হতেও পারে-এই বোধটা দেয়ার জন্য হলেও বলব গল্পটা সার্থক। ৬. জঙ্গলের চিত্রনাট্য, সুস্ময় সুমন (৩ তারকা) - ভাবলাম একরকম, হল আরেকরকম। কাহিনীর মোড় ঘুরে যাওয়াতে গল্পটা মনে স্থান করে নিয়েছে। ৭. নিশিখেকো রহস্য, তানিয়া সুলতানা (৩.৪ তারকা) - একটা চরিত্রকে ঘিরে চমক ছিল। ভালোই ছিল। তবে একটু ভিন্ন কিছুও যোগ করা যেত। ৯. নেহাই, জাবেদ রাসিন (২.৮ তারকা) - কিছু নতুনত্ব ছিল। ব্যাখ্যা ছিল না। ১০. ত্রিনয়ন, তাকরীম ফুয়াদ (৫ তারকা) - বেশ ভয় ধরানো ছিল। বাস্তবের মিশেলে অতিপ্রাকৃত - প্লট ভালো ছিল। কিন্তু শেষটায় আমার খারাপ লাগল। লেখকের প্রতিভা আছে। ১১. থ্রি টেন টু ইউমা, লিওনার্ড এলমোর, অনুবাদ: রবিন জামান খান (৩.৪ তারকা) - ভালোই। রোমাঞ্চকর ছিল। ক্ল্যাসিক ওয়েস্টার্ন। এরপর কী হয় তা জানতে ইচ্ছে করছে। ১৩. একেই বলে শুটিং, নাবিল মুহতাসিম (৫ তারকা) - খুব হেসেছি কিছু কিছু অংশে (৮ মজার মুহূর্তে), যেগুলো গল্পের চরিত্রদের জন্য মোটেও মজার কিছু ছিল না। (পরে অবশ্যি আর হাসি ��ায়নি। সঠিক আমেজটা ছিল।) গল্পের দুই চরিত্রেরই মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বটা ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পুরো গল্পে একটা টানটান উত্তেজনা তো ছিলই, শেষের আগে মিথ্যে/তখনকার মত সমাপ্তি আর এরপর সত্যিকারের শেষ-এর আভাসটা যথার্থ লেগেছে। দারুণ লেগেছে পুরো গল্প, আর উপসংহার। ১৫. সত্তা, সালমান হক (২.৪ তারকা) - চরিত্রায়ন ভালো হয়েছে। শেষটা গতানুগতিক। ভিন্ন কিছু করা যেত। ১৬. আমরা, সজল চৌধুরী (৫ তারকা) - বিজ্ঞানের অত্যন্ত জটিল একটা বিষয় (আর তার ভেতরের কিছু ধারণা) খুব সহজ করে গল্পের মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে। গল্পের মধ্যকার তবে ঠিক প্রাসঙ্গিক নয়, এমন একটা ব্যাপার কেন যেন আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলাম, ('এক মাস বাইশ দিন পরে...' পরিচ্ছেদের শেষ বাক্যটা।)। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী হিসেবে কিছু নতুনত্ব ছিল, তার উপর আবার শেষটাও চমকপ্রদ ছিল। গল্পটা মনে রাখার মতো। ১৭. নাইট সার্ফ, স্টিফেন কিং, অনুবাদ: নাবিল মুহতাসিম (২.৪ তারকা) - মহামারি নামক দুর্যোগ-আক্রান্ত ভবিষ্যতের আশাহত এক কল্পলোকের বিষণ্ণতা ঘেরা সমাজের জীবনকাহিনীর কিছু অংশ। ২০. উদ্দেশ্য, তানজিরুল ইসলাম (২ তারকা) - ঠিক আছে। মেটা+সাই-ফাই হিসেবে খারাপ না। ২১. টু সার্ভ ম্যান, ড্যামন নাইট, অনুবাদ: আশিকুর রহমান খান (৩ তারকা) - শুরুটা অনাকর্ষণীয় হলেও ধীরে ধীরে কাহিনীতে রহস্য জমাট বেঁধেছে; শেষটা চমকপ্রদ ছিল, যদিও ভালো লাগেনি এহেন সমাপ্তি। (কিংবা আতঙ্কের সূচনা!) ২২. প্রহেলিকা, বাপ্পী খান (৫ তারকা) - আমারই গা শিরশির করছিল গল্পের শেষে এসে। ভৌতিক আবহ তৈরিতে লেখক সার্থক! ২৫. অন্য ভুবন, শরীফুল হাসান (১.৪ তারকা) - কাহিনীর চমকটা অচেনা নয়, তবে অনেকদিন পর পেলাম। কাহিনীটা কেন যেন ঠিক জমে উঠতে পারেনি। ২৬. শেষ থার্টিফাস্ট, মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (৩ তারকা) - মূল বিষয়বস্তু, তাকে রূপ দেয়া, সমাপ্তি - সবটায় নতুনত্ব ছিল, যদিও ভিনগ্রহের আক্রমণের ধারণাটা আদৌ নতুন নয়। বড়গল্প হলে, মানুষ আর হলিয়েনদের লড়াই আর শেষে মানুষদের বিজয় কিংবা দুই জাতির সহাবস্থান নিয়ে একটা ভালো প্লট হত।
কেবল উপরের গল্পগুলো ধরলে রেটিংঃ ৩.১১ আর সব মিলিয়ে পুরো বইটার রেটিংঃ ২.১৯।
প্রায় প্রতি পাতায় ভুল বানান বা পুরো বইয়ের বানান সম্পাদনায় অমনোযোগিতা কিংবা অনীহা খুবই খারাপ লেগেছে।
দুইটা গল্প (বিষয়বস্তুর জন্য, লেখনীর জন্য না) এ সংকলনে না থাকলে বইটা পড়ার অভিজ্ঞতা শেষে এসে আরও বেশি ভালো থাকত, ৮. দ্য ক্যাট ফ্রম হেল, স্টিফেন কিং, অনুবাদ: সান্তা রিকি আর ২৭. সখেদ - মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ।
সব মিলিয়ে বলব, এরকম সংকলন পড়ে যেমন ভয়াবহ কিছু অভিজ্ঞতা হতে পারে, তেমনই অনেক সুখপাঠ্য গল্পের আর সেসবের লেখকদের সন্ধানও মেলে।
থৃলার ছোটগল্পে ঠিক আমার আশ মেটেনা। গল্পগুলো দ্রুত শেষ হয় বলে, প্রতিটা গল্পের শেষেই আক্ষেপ থাকে। যে কারণে, থৃলার গল্পসঙ্কলন সিরিজটা আমার পছন্দের শীর্ষে নয় কখনোই। তবে, কোনটাই কিন্তু বাদ দেইনি। সংগ্রহেও আছে ৪টা ই। এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের কারণ যদি জানতে চান, তাহলে দোষ দেব অভ্যাসের। বাতিঘর প্রকাশনীর বই বেরিয়েছে আর আমরা সংগ্রহে নেই, তেমনটা হলে কষ্টেই নাওয়া-খাওয়া বাদ দেয়ার জোগাড় হবে। বাতিঘরের বই আর আমার শখ না (আগে ছিল), এখন অভ্যাস। আর এর কৃতিত্ব সম্পূর্ণটাই প্রকাশনী সংশ্লিষ্ট লেখক-অনুবাদকের।
শেষ থার্টিফার্স্ট পছন্দের শীর্ষে। সুপার ডুপার। এর বাইরেও ভাল লেগেছে বেশ কয়েকটা গল্প। ভাল লাগেনি তেমন গল্পও আছে, অনুবাদ আছে। বিশেষতঃ স্টিফেন কিং ইজ নট মাই কাপ অব টি। না বরং শ্রদ্ধা রেখে বলি, তাঁর লেখা পছন্দ করার যোগ্যতা আমার নেই। তাই ভাল-খারাপের মিশেল অনুভূতি এই বইয়ের ব্যাপারে।
প্রচ্ছদটা একদম উড়িয়ে দিয়েছে। “ডিলান” বলে কথা। তবে, পছন্দের শীর্ষে আছে থৃলার ৩ এর প্রচ্ছদ। বলার অপেক্ষা রাখেনা, সেটাও ডিলান সাহেবেরই আঁকা।
ছোটগল্পের সংকলনের সমস্যা বেশ কয়েকটাই - বেশিরভাগ গল্পের শেষটা পড়ে অসম্পূর্ণ লাগে নাহলে গল্পের ছোটগল্প স্ট্যাটাস বজায় রাখতে গিয়ে কাহিনী বা ব্যাকগ্রাউন্ড ঠিকভাবে ফ্লেশড আউট হয় না।
শেষ হইয়াও হইলো না শেষ - কোটেশনটা বলতে বা ব্যবহার করতে যতটা ভালো লাগে, সব পাঠকের কাছে ততোটা লাগে না। এই বইয়ের প্রায় প্রতিটা গল্পের শেষেই আমার এমনটা লেগেছে।
আরেকটা সমস্যা - বাতিঘরের বইয়ের টানা টাইপোগুলো ঠিক হবার কোন আশা দেখছি না নিকট ভবিষ্যতে।
রামোনা এবং জোজো। তাদের সংসার জীবন বেশ ভালোই যাচ্ছে। কিছু আফসোস যদিও আছে, কিন্তু সেই আফসোসের কারণগুলো যে তাদের সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে এমনটাও নয়। সুন্দরভাবে চলতে থাকা এই জীবনটা হুট করেই মোড় নেয় অন্যদিকে। জোজো ভাবতেও পারেনি তার জীবনটা এমন হয়ে যাবে কিছুক্ষনের মধ্যেই। সবকিছু বিবেচনার পর, সে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে একটা। বহুবার তার অন্তর্গত মন তাকে বাধা দিলেও সেই বাধা মানতে রাজী নয় সে। তার সিদ্ধান্তের পথেই এগোতে থাকে সে। কিন্তু গল্পের মোড়টা একবার ঘুরে যায় অন্যদিকে। হাঁফ ছেড়ে বাঁচে সে। ভাগ্যিস গল্পটা মোড় নিয়েছিলো অন্যদিকে! নয়ত জীবন তছনছ হয়ে যেতো তার। কিন্তু ওই মোড়েই কি গল্পটা শেষ? নাহ! আবার শুরু হয়ে যায় অন্য এক প্যাঁচ। জোজো নিজেও জানেনা, এর শেষটা কি হতে যাচ্ছে! দু'টো টুইষ্টে চলতে থাকা লেখাটা আপনার মনোযোগ ধরে রাখতে বাধ্য।
• ছায়াময় - শরীফুল হাসান
উদ্ভট একজন লোক। যে একা থাকতে ভীষণ পছন্দ করে। কলিগদেরকে বন্ধু বলে বিবেচনা করা যায়না! স্কুলের বন্ধুরাও সবাই দূরে দূরে। সুতরাং, তাকে বন্ধুহীনই বলা যায়। নিজের সঙ্গটা সে উপভোগ করে। একদমই যে একা এমনটা নয়। কারণ, তার সাথে আছে কেউ একজন! কে সে? একা থাকতে চাওয়া মানুষটার সাথে এমন কে আর থাকবে? সে কি করে? তার কি কাজ? গল্পের শেষটা মোড় নিতে থাকে অন্যদিকে। ঢেকে যেতে থাকে একটার পর একটা রহস্যে। উত্তরগুলো হয়তো পাওয়া সম্ভবও হতে পারে, হয়তো না!
• লুকাশনি - তানজীম রহমান
বাবা মেয়ের সুন্দর একটা ক্যামেস্ট্রি বলা যায়। গল্পের চরিত্র ছোট্ট মিনি, তার বাবা এবং আরও কয়েকজন মিলে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন রকমের খেলাধুলায় মেতে থাকে। ঠিক এরকমই কোনো একটা দিনে জীবনটা পরিবর্তন হয়ে যায় অনেকের। কিন্তু কেনো?
• রক্ত-লাল - জাহিদ হোসেন
ঘটনাটি উদ্ভট কিসিমের একটা লোককে নিয়ে। যে প্রায়শই বলে দিতে পারতো কি ঘটতে যাচ্ছে। বাইরের সবাই জানলেও, তাকে আশ্রয় দেয়া ঘরে থাকা মানুষটার জানতে দেরি হয়ে যায় এবং ফলাফলটা একটু অন্যরকমেরই হয়ে যায়। অতিপ্রাকৃত বলা যায় কিনা গল্পটাকে সঠিক জানিনা, তবে হাসি-কান্না, বর্ণনা সব মিলিয়ে দারুন গল্প।
• বানিয়াচং - রবিন জামান খান
জায়গার ব্যাখ���য় লেখক বরাবরই সেরা। যা ভালো লাগতে বাধ্য। ডকুমেন্টারি করতে যাওয়া একটা দল কোনো এক তথ্যে তাজ্জব বনে, আগ্রহী হয় সেটাকে সমাধান করতে। অপরিবর্তনীয় কিছু একটা নিয়ে ঘেরা এই গল্পটার বর্ণনা সুন্দর। তবে শেষটাতে আরও কিছু আশা করেছি আমি। একটা পিপাসা রয়ে গিয়েছে। কি হল, জানার! আমার মনে হয়, সবারই সেই জানার পিপাসা এবং আগ্রহটা থাকবে গল্পটা শেষ করবার পরে।
• জঙ্গলের চিত্রনাট্য - সুস্ময় সুমন
একটা সুন্দর ভালোবাসার গল্প। ভ্রমণেরও স্বাদ পাওয়া যাবে গল্পটাতে। কিন্তু সেই ভ্রমণেই কোনো এক ঝামেলায় ফেঁসে যায় সেই দম্পতি। তবে সেই বাধা আর ঝামেলা উতরে উঠতে পারবে কিনা, এটার চাইতেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ শেষের টুইস্টটা। শেষে এসে মনে হবে, এতোক্ষন যা ভেবে এসেছেন সব চোখের পলকে ভুল হয়ে যাচ্ছে। অসাধারণ লেগেছে আমার, বিশেষ করে বর্ণনা সমূহ।
• নিশিখেকো রহস্য - তানিয়া সুলতানা
একটা মেয়েকে ঘিরে চলতে থাকা গল্পটা অতিপ্রাকৃত ধারার। নতুন বিয়ে করা এক দম্পতির ভালোবাসাময় কথোপকথন পাওয়া যায় এখানে। কিন্তু গল্পের নামের মতোই কোনো একটা রহস্য থেকেই যায়। নতুন একটা জায়গায় থাকা, এবং সেখানের তথাকথিত কোনো এক গল্পের রহস্যেরই ব্যাখা রয়েছে গল্পটায়। কোনো এক চরিত্র ফেঁসে যায় সেখানে। সবকিছু জানার পরেও, প্রকৃতির টানেই হয়তো সব বাধা অতিক্রম করে চলে যায় সে। কিন্তু সে কি আর পেরিয়ে আসতে পারবে সেই বাধা? নাকি আটকে যাবে মায়াজালে!?
• দ্য ক্যাট ফ্রম হেল - স্টিফেন কিং
অনুবাদঃ শান্তা রিকি
নাম শুনেই বুঝা যায় গল্পটা কি নিয়ে। একটা বিড়াল! হ্যা, ঠিক তাই। কিন্তু বিড়ালটিকে অভিশপ্ত বলার কারণটা কি? সেটা গল্প পড়লেই জানা যাবে। তবে শুরুটা এমন, কাউকে ভাড়া করা হচ্ছে একটা বিড়ালকে মারার জন্য। বিড়ালের সব গল্প শুনে সে রাজী হয় এবং বেরিয়ে পরে তার কাজের উদ্দেশ্যে। বিড়ালটাকে মারতে হবে! স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিলো সবকিছু সে। তবে শেষমেষ? বিড়ালটাকে কি মারা সম্ভব হবে? দারুন গল্প এবং ভীষণ ভালো অনুবাদ। লেখিকার পড়া এটা আমার প্রথম অনুবাদ। সামনে আরও পড়বো অবশ্যই!
• নেহাই - জাবেদ রাসিন
পুরো গল্প সম্পর্কে যেহেতু ধারণা নেই, সুতরাং শুরুটা দিয়েই জাজ করে ফেলবেন না। পড়তে একটু উদ্ভট লাগতে পারে, কেনো বললাম কারণটা পড়লেই বুঝবেন। তবে শেষের অপেক্ষা না করলে অনেক কিছু মিস করতে পারেন। শুরুটা ঠিক এরকম, পত্রিকা কোনো এক লেখিকার একটা লেখা পড়ে তার কথাই সারাদিন ভাবতে থাকে গল্পের মূল চরিত্র। অনেক খুঁজে খুঁজে বের করে তার বই, এরপরে ঠিকানা। কথোপকথন হয় তাদের মাঝে, তবে আপনি যেভাবে ভেবেছেন শুরু থেকে গল্পটা ঠিক তেমনভাবে শেষ হবেনা, যা যা কথোপকথন আশা করবেন তার কিছুই হবেনা। ৩৬০ ডিগ্রি এঙ্গেলে ঘুরে গিয়ে শেষের টুইষ্টটা আপনাকে ভালো লাগাতে বাধ্য।
• ত্রিনয়ন - তাকরীম ফুয়াদ
নামটাতেই ব্যাখা আছে অনেক। তবে সেই ব্যাখাটা খুঁজতে অপেক্ষা করতে হবে গল্পের শেষের। উদ্ভট কিসিমের একটা লোকের সাথে সাক্ষাত হয় গল্পের মূল চরিত্রের। মোটরবাইকের প্রতি প্রবল আকর্ষন থাকায় ওই সাক্ষাত হওয়া লোকটার কাছ থেকে শিখে নিতে চায় বাইক চালানো। এরপরে একটা দূর্ঘটনা। কিন্তু এসবের মাঝে ত্রিনয়ন কোথায়? পড়ে নিন গল্পটা, জেনে যাবেন অতীতের কোনো এক স্মৃতিঘেরা তথ্যের সাথে ত্রিনয়ন আর বর্তমানের সম্পর্ক!
• থ্রি টেন টু ইউমা - লিওনার্ড এলমোর
অনুবাদঃ রবিন জামান খান
দারুন অ্যাকশনে ভরপুর এই গল্পটা। বর্ণনা, অনুবাদ বেশ ভালো লেগেছে। একশনগুলো আমি চোখের সামনে দেখতে পেয়েছি যেনো। দুই চরিত্রের মুখোমুখি কথোপকথন চলতে থাকা এই গল্পটায় ধরে রাখা হয় এক চরিত্রকে। তাকে পাঠাতে হবে অন্য কোথাও। কিভাবে পাঠানো হবে কিংবা এতো লোকবল সমৃদ্ধ মানুষটাকে আদৌতেও সম্ভব হবে কিনা গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া তাই নিয়েই এই গল্প। আর হ্যা, শুরুতে তো বলেইছিলাম দারুন অ্যাকশন তো আছেই।
• মানিক - নিয়াজ মেহেদী
উদ্ভট একটা চরিত্রকে ঘিরে থাকা এই গল্প। চরিত্রের নাম 'মানিক'। অংকে ফেল করতে থাকা এই চরিত্রের সবচেয়ে বড় শত্রু আসমত স্যার, এবং বন্ধু মৌমাছি। মৌমাছির সাথে তার সম্পর্ক কি, তা সঠিক জানা নেই। এক পর্যায়ে গ্রামে রটে যায় তাকে কিছু একটা পেয়ে বসেছে। সে যাই হোক, রৌদ্রময় একটা দিন থেকে হঠাৎ মেঘাচ্ছন্ন আকাশের আগমনে শেষ হয় গল্প। ভালো লেগেছে, তবে ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় গল্পটিতে "আসমতস্যার" শব্দটাকে, "আসমত স্যার" এভাবে লিখলে বেশি সুন্দর লাগতো চোখে এবং পড়তেও।
• একেই বলে শুটিং - নাবিল মুহতাসিম
প্রাইভেট মেডিকেল এবং সেখানের কিছু তথাকথিত বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। একটু দূর থেকে আসা কাউকে অস্বাভাবিক চোখে দেখে ভার্সিটির প্রায় সবাই-ই, এমনকি শিক্ষকরাও। এই গল্পটাকেই একটু নাটকীয়তা এবং সাসপেন্সের সাথে তুলে ধরা হয়েছে। শুরু থেকেই যাকে মনে হতে থাকবে গল্পটা তার কষ্টটুকু নিয়েই, তবে শেষে দেখা যাবে আসলে সবকিছুই অন্যরকম। ঠিক গল্পের নামের মতোই, 'একেই বলে শুটিং'
• উই থ্রি - ডিন কুনজ
অনুবাদঃ নজরুল ইসলাম
নতুন একটা পৃথিবীর সূচনা হতে যাচ্ছে। তাদের হাত ধরে, যাদের কিছু আলাদা ক্ষমতা রয়েছে। সূচনা বাস্তবায়িত হওয়ার পরে আগত কাউকে নিয়ে শঙ্কা দেখা যায় গল্পের চরিত্রগুলোর মাঝে। কিভাবে শুরু হবে সেই নতুন পৃথিবী? ওরাই বা কেনো করবে সেই সূচনা? আর আগত কিসের বিপদ তাদের? সবকিছুর উত্তর সমৃদ্ধ এই গল্পটা যেমন দারুন, তেমন দারুন অনুবাদও।
• সত্তা - সালমান হক
আমাদের জীবনের আশেপাশের স্বাভাবিক একটা গল্পকেই চরিত্র আকারে তুলে দেয়া হয়েছে আমাদের সামনে। অবৈধ সম্পর্ক এবং তার ফল। তবে আগের লাইনটি শুনে এটা ভেবে বসবেন না, যে গল্পটি ওইসব ব্যাখায় ঘেরা। মূলত, গল্পটি সেই ফলাফলকেই ইঙ্গিত করে। যেভাবে আমরা মাথা ব্যাথাকে সারাতে চাই, যেভাবে চাই আমাদের জীবনের অপ্রয়োজনীয় কেউ সরে যাক, সেভাবে কি একটা সত্তাকেও আমরা সরিয়ে দিতে চাইবো? স্বাভাবিক গল্পের, অসাধারণ উপস্থাপন।
• আমরা - সজল চৌধুরি
মরে যাওয়া কাউকে জীবিত দেখতে চাওয়ার পাগলামীটা বেশি ভালোবাসার মানুষগুলোর ক্ষেত্রেই হয়। এই গল্পের শুরুটা তেমনই। তবে সেই পাগলামীর একটা ভিত্তি আছে। গল্পের মূল চরিত্রের রিসার্চ অনুযায়ী মৃত প্রানীকেও বাঁচিয়ে তোলা সম্ভব! ভিন্ন মাত্রা, পর্দার্থের ব্যাখা এবং অনেক তথ্য মিলিয়ে চলতে থাকা গল্পটায় মূল চরিত্রের ভিন্ন মাত্রার প্রমাণ পাওয়া যায়। ভিন্ন মাত্রার কারো সাথে সে যুক্ত কিনা, থাকলেও কিভাবে? অনেক প্রশ্নেরই উত্তর মিলবে এই গল্পে। তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, গল্পটাকে এতোই বাস্তবিক মনে হবে যেনো সবকিছুই খুব সত্য। প্রতিটি চরিত্রই সত্য, বাস্তবিক!
• নাইট সার্ফ - স্টিফেন কিং
অনুবাদঃ নাবিল মুহতাসিম
মহামারী, কিছুটা ভালোবাসাময় কথোপকথন সমৃদ্ধ এই গল্পটার অনুবাদ দারুন। সমুদ্রের পাড়ের সুন্দর বর্ণনা, কথোপকথন সব মিলিয়ে ভালোই। বেশি কিছু বলার নেই। তবে বর্তমান কিছু চিত্রের সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যাবে।
• বুমেরাং - বাপ্পি খান
সাইবার ক্রাইম, সাইবার নিরাপত্তা এসব সমৃদ্ধ এই গল্পটি। কয়েকজনের উদ্দ্যোগ কিভাবে ভার্চুয়াল ভিত্তিক সমস্যা থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করে যাচ্ছে সেটাই আছে এই গল্পে। তবে সব ঘটনারই পেছনে কোনো রহস্য থাকে, থাকে ভালো কাজে বাধা। আবার, মাঝে মাঝে দেখা যায় কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে আসে সাপ। সবকিছুর মিশ্রন আছে এই গল্পে। জটপাকানো সব কথাগুলোর উত্তর পাওয়া যাবে বুমেরাং গল্পে।
• দ্য এগ - অ্যান্ডি ওয়ের
অনুবাদঃ লুৎফুল কায়সার
মৃত্যুর পরে কারো সাথে কথা বলতে দেখা যায় চরিত্রকে। কিছু ধারণা পাল্টে দিতে পারে আপনার, সত্যি না হলেও মনে হতে পারে সত্যিই সবকিছু। মনে হতে পারে সবই আপনি! উদ্ভট শোনাচ্ছে কথাগুলো? উত্তর খুঁজে নিতে পারেন এই ছোট্ট গল্পটাতে।
• উদ্দেশ্য - তানজিরুল ইসলাম
গল্প নাকি বাস্তব? কল্পনা নাকি সত্যি? প্রথমে স্ত্রী, তারপরে সন্তান। তারপরে যা নিয়ে ব্যস্ত থেকে সমাধান করে ফেলার পথে, তখন ঘটে আরেক বিপত্তি। গল্পের ভেতরে একটা গল্পের মতো। মনে হয়, কেউ লিখছে কিংবা বাস্তবেই হচ্ছে। কেউ চাচ্ছে সমাপ্তি, অথবা প্রকৃতির চাহিদাতেই হয়ে যাচ্ছে সমাপ্তি। বেশি বলে ফেললে, গল্প পড়তে আর ভালো লাগবেনা। তবে প্রশ্নগুলোর উত্তর অবশ্যই পাওয়া যাবে।
• টু সার্ভ ম্যান - ড্যামন নাইট
অনুবাদঃ আশিকুর রহমান খান
কানামিতি! এটা আবার কি? ভিনগ্রহের কিছু নাকি আমাদের পৃথিবীরই। তারা বলে যাচ্ছে, তারা ভালো চাচ্ছে আমাদের। আমাদের সুখ, স্বাভাবিক জীবন দেয়াটাই তাদের উদ্দেশ্য। যখন কেউ আর কষ্টে থাকবেনা তখন তাদের উদ্দেশ্য স্বার্থক হবে। তবে মূল রহস্যটা কি? কেউ কেনো কোনো বিনিময় ছাড়া আমাদের ভালো চাইবে? কারা এরা? কি এদের আসল উদ্দেশ্য? নাকি পুরোটাই অন্যকিছু! স্বাভাবিক কিছু!? উত্তর আছে গল্পে।
• প্রহেলিকা - বাপ্পী খান
লেখক বর্ণনায় পারদর্শী। কথোপকথনের মাঝখানেও আপনার চোখের সামনে তুলে ধরবে পুরো গল্পটা। মনে হবে, আপনার সাথেই হচ্ছে বা সামনেই হচ্ছে। গল্পটা একজন আর্টিস্টকে নিয়ে। যিনি আঁকায় পারদর্শী। তবে তার সেই পারফেকশনের পেছনে আছে মডেলদের পরিশ্রম এবং কষ্ট। বাস্তবিক ভাব না এলে তিনি আঁকায় পারফেকশন আনতে পারেন না। এমন একটা বাস্তবিক ছবি দেখার পরে দুইজনের মনের প্রশ্নের উত্তরগুলো দিয়ে দেন একজন। সেই আর্টিস্টের গল্প! বিভৎসতা, হিংস্রতার গল্প। কিন্তু এখানেই শেষ নয়! আরও বাকি, আর একটু টুইস্ট!
• হোটেল অ্যাট দ্য এন্ড অফ দি রোড - স্টিফেন কিং
অনুবাদঃ সালমান হক
পুলিশের তাড়া খেয়ে এক হোটেলে আশ্রয় নেয় দুজন। পুলিশেরা যখন আর তাড়া করতে করতে খুঁজে পায়না, তখন তাদের মনে প্রশ্ন জাগে এমন একটা জায়গায় কেনো এই হোটেল! একটা রুমে ঢুকে একদম নিশ্চিন্ত সেই তাড়া খেয়ে আসা দুজন। কিছুদিন থাকলেই সব ঠিক। কিন্তু, হুট করেই দেখা যায় অসংগতি! কি সেটা?
• আই গট টু গেট অ্যাওয়ে - স্টিফেন কিং
অনুবাদঃ সালমান হক
কেউ একজন পালাতে চায়! সবকিছু ছেড়ে, সবকিছু পেরিয়ে। কোনো এক জায়গায় আটকে আছে সে। কে আটকে রেখেছে তাকে? কেনো রেখেছে? পালাতে চায় কেনো সে? আর কে এই 'কেউ?'
• অন্য ভুবন - শরীফুল হাসান
লেখকের বর্ণনা এবং চরিত্রের উপস্থাপন অসাধারণ। সাম্ভালা পড়ার পর থেকেই তার লেখার প্রতি টান আমার। বৃষ্টি, আর কথোপকথন। সব মিলিয়ে চমৎকার সাজানো হয়েছে গল্পটা। বিয়ে নিয়ে দু'জনের কথোপকথনের মাঝে উঠে আসে অন্য কোনো এক গল্প! যা বহু আগের। যার সমাধান করা সম্ভব হয়নি। সেই সমাধানের দরজা খুঁজতে খুঁজতে হারিয়ে যায় সবকিছু! বদলে যায় দুটো মানুষের জীবন! কিভাবে আর কেনো? আমার প্রিয় লেখার একটি হয়ে থাকবে এই গল্পটা।
• শেষ থার্টিফাস্ট - মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
কেমন হয় যদি কাউকে মারতে পারলেই বেঁচে থাকা যায় নিজের স্বাভাবিক সময়ের আরও বেশি? কেমন হয় যদি অমরত্ব হয় সত্যি? পৃথিবীর নতুন সহস্র শতাব্দীতে পা রাখতে যাওয়া এই সময়টা বদলে দেয় অনেকের জীবন! মূল চরিত্রকে মারতে হবে আর একজনকে! তবেই বেড়ে যাবে তার বাঁচার সময়! টার্গেট খুঁজতে গিয়ে সে মুখোমুখি হয়, অন্য সত্যের। আস্তে আস্তে সবকিছুর মুখোশ, রহস্য এবং পেছনের গল্পগুলো বুঝে উঠতে পেরে যায় সে। নতুন পৃথিবীর সময় শুরু হয়ে গিয়েছে, পরিষ্কার হয়েছে ব্রেইন ওয়াশড হয়ে যাওয়া মস্তিষ্কটাও। কিন্তু…
• সখেদ - মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
কবরস্থানের দারুন বর্ণনায় গড়ে উঠা এই গল্পটায়, উল্লেখ আছে একটা উদ্ভট নেশার। কিন্তু কি সেটা? রাতের আড়ালে গোরস্থানের আশেপাশে কেনোই বা থাকে কেউ? নতুন কোনো কবর কেনো হয় তার উদ্দেশ্য? তার দৈনন্দিন নেশা কাটাতে গিয়ে সে জরিয়ে যায় অজানা কোনো এক বেড়াজালে! পারবে কাটিয়ে উঠতে? নাকি আটকে যাবে সেই বেড়াজালের চক্রে?
দারুণ অভিজ্ঞতা হল বইটি পড়ে। আমার কাছে খুবই ভাল লেগেছে। দুই-তিনটে গল্প বাদে সবগুলো ভালো লেগেছে। ইউনিক টাইপের অনেক থৃলার গল্প পেয়েছি বইটিতে। এককথায় ছোট ছোট থৃলার গল্প নিয়ে দারুণ এক সংকলন বটে!!
বইটিতে যে গল্পগুলো রয়েছে- ১. নিত্য ওথেলো, মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ২. ছায়াময়, শরীফুল হাসান ৩. লুকাশনি, তানজীম রহমান ৪. রক্তলাল, জাহিদ হোসেন ৫. বানিয়াচং, রবিন জামান খান ৬. জঙ্গলের চিত্রনাট্য, সুস্ময় সুমন ৭. থ্রি টেন টু ইউমা, লিওনার্ড এলমোর, অনু: রবিন জামান খান ৮. নেহাই, জাবেদ রাসিন ৯. একেই বলে শুটিং, নাবিল মুহতাসিম ১০. ত্রিনয়ন, তাকরীম ফুয়াদ ১১. নিশিখেকো রহস্য, তানিয়া সুলতানা ১২. দ্য ক্যাট ফ্রম হেল, স্টিফেন কিং, অনু: সান্তা রিকি ১৩. বুমেরাং, বাপ্পী খান ১৪. উই থ্রি, ডিন কুনজ, অনু: নজরুল ইসলাম ১৫. মানিক, নিয়াজ মেহেদী ১৬. সত্তা, সালমান হক ১৭. টু সার্ভ ম্যান, ড্যামন নাইট, অনু: আশিকুর রহমান খান ১৮. আমরা, সজল চৌধুরি ১৯. উদ্দেশ্য, তানজিরুল ইসলাম ২০. দ্য এগ, অ্যান্ডি ওয়ের, অনু: লুৎফুল কায়সার ২১. প্রহেলিকা, বাপ্পী খান ২২. হোটেল অ্যাট দ্য এন্ড অফ দি রোড, স্টিফেন কিং, অনু: সালমান হক ২৩. আই গট টু গেট অ্যাওয়ে, স্টিফেন কিং, অনু:সালমান হক ২৪. নাইট সার্ফ, স্টিফেন কিং, অনু: নাবিল মুহতাসিম ২৫. অন্য ভুবন, শরীফুল হাসান ২৬. শেষ থার্টিফাস্ট, মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
থৃলার গল্প সংকলন ৪ মূলত ১৯ টি মৌলিক এবং ৮ টি অনুবাদ থ্রিলার এর সংকলন। থৃলার গল্প সংকলন ১,২, ৩ এর পরে এ বছরের মে মাসে প্রকাশিত হয়েছে এ সংকলন। এবারের সংকলন উৎসর্গ করা হয়েছে বিশ্বখ্যাত হরর থ্রিলার লেখক স্টিফেন কিং কে। - নিত্য ওথেলো-মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন - ওথেলো ডিজঅর্ডার নিয়ে এক লেখা , ভালো লেগেছে। তবে ফিনিশিং টা কেমন যেন হঠাৎ করেই হয়ে গেল, আরেকটু বড় গল্প আশা করেছিলাম ।
ছায়াময় - শরিফুল হাসান - এটি লেখকের আহমেদ করিম সিরিজের একটি লেখা ,যে কিনা অনেকটা মিসির আলীর মতো ,কাহিনীটাও অনেকটা আমি এবং আমরা ঘরানার , মোটামুটি লাগলো । - লুকাশনী - তানজিম রহমান - সংকলনের সবচেয়ে ভয়াবহ থ্রিলার ,সাধারণ লুকোচুরি খেলা থেকে এ ধরণের লেখা আসলেই অভাবনীয়। বরাবরের মতো এবার ও লেখকের ক্ষমতা দেখে অবাক হয়ে গেছি ,এক কথায় দুর্দান্ত এক থ্রিলার/হরর গল্প। - রক্ত - লাল - জাহিদ হোসেন - বাহাদুর নামের এক লোককে ঘিরে এক সুপারন্যাচারাল থ্রিলার। আগের সংকলনের মতো এবারেও লেখকের লেখনী ঝরঝরে। তবে লেখাতে continuation এর একটু সমস্যা আছে। ফ্ল্যাশব্যাকের কাহিনীতে মনে হয় না মোশাররফ করিম বা ফেসবুক এতটা জনপ্রিয় ছিল যেভাবে লেখক বর্ণনা করেছেন। - বানিয়াচং - রব��ন জামান খান - বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গ্রামকে কেন্দ্র করে লেখা থ্রিলার , এটাও মোটামুটি লাগলো।, - জঙ্গলের চিত্রনাট্য - সুস্ময় সুমন - প্রথমদিকে সাদামাটা লাগছিলো ,শেষের " চিঠি " পরে থ হয়ে গেছি।এটাও ভালো মানের। - নিশিখেকো রহস্য - তানিয়া সুলতানা - এটা কেমন যেন ম্যাড়মেড়ে লাগলো। লেখনী একটু বেশি ই কঠিন হয়ে গেছে মনে হলো। বর্ণনাভঙ্গিতে আরেকটু প্রাঞ্জলতা থাকলে ভালো হতো। - দ্যা ক্যাট ফ্রম হেল - স্টিফেন কিং ( অনুবাদ - সান্তা রিকি ) - নাম দেখেই বোঝা যাচ্ছে এক অভিশপ্ত বিড়ালের কাহিনী , স্টিফেন কিং এর সিগনেচার স্টাইলের ভয়াবহতা আছে গল্পে ,পড়তে গিয়ে আঁতকে উঠেছি। অনুবাদ ও ভালো হয়েছে। - নেহাই-জাবেদ রাসিন - এ গল্পটা বেশ ভালো লেগেছে। অদ্ভুত এক লোকের কয়েকটি অদ্ভুত দিনের কাহিনী। ফিনিশিং দুর্দান্ত হয়েছে। - ত্রিনয়ন -তাকরীম ফুয়াদ - এ গল্পের বিল্ড আপ ভালো ছিল ,ফিনিশিং এ তা প্রেডিক্টেবল লাগলো ,এ গল্প নিয়ে আরেকটু কাজ করা যেত বলে মনে হয়েছে । - থ্রি টেন টু ইউমা - লিওনার্ড এলমোর (অনুবাদ -রবিন জামান খান ) - সংকলনের একমাত্র ওয়েস্টার্ন থ্রিলার।মুভিটা আগেই দেখা ছিল ,তারপরেও গল্পটি পড়তে গিয়ে কোন সমস্যা হয়নি। অনুবাদ ঝরঝরে। - মানিক - নিয়াজ মেহেদী - এই গল্পের প্লটের চেয়ে স্টোরিটেলিং ভালো লেগেছে। " ফ্রেম স্টোরি " বলে একটা literary term use করা হয়েছে। সাধারণত মহাভারত ,রামায়ণ , আরব্য রজনী তে এ ধরণের স্টোরি টেলিং দেখলেও ছোটগল্পে এ ধরণের কোন কিছু খুব একটি দেখিনি ,ব্যাপারটা ভালো লেগেছে। - একেই বলে শুটিং - নাবিল মুহতাসিম - সংকলনের one of the best গল্প। নাম শুনলে সত্যজিৎ রায়ের এক গল্পের কথা মনে হলেও এ গল্পের সাথে তার কোন কানেকশন নেই। স্কুল শুটিং টার্মটা আন্তর্জাতিক ভাবে বেশ পরিচিত হলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ ধরণের লেখা অবাক করেছ���। প্রথম থেকে শেষ লাইন পর্যন্ত সাস্পেনফুল প্লট , দারুন লেখনী , অভাবনীয় ফিনিশিং ! - উই থ্রি - ডিন কুনজ ( অনুবাদ - নজরুল ইসলাম ) - সুপার হিউম্যান তৈরী করা নিয়ে কাহিনী। কাহিনী খুব বেশিই imaginary লাগলো।আরেকটু ডিটেলিং আশা করেছিলাম , অনুবাদ খারাপ না। - সত্তা - সালমান হক - লেখনী বেশ ভালো তবে কাহিনী খুব প্রেডিক্টেবল লাগলো ( গত সংকলনেও ঘোর লাগা ঘোর নামে এ ধরণের একটা গল্প ছিল।) আরেকটু সাসপেন্স আশা করেছিলাম। - আমরা - সজল চৌধুরী - পারফেক্ট সাইন্স ফিকশন। ম্যাড সায়েন্টিস্ট আর প্যারালাল ইউনিভার্স এর মতো জটিল কনসেপ্ট উঠে আসলেও বুঝতে কোন অসুবিধা হয় নি , ভালো লেগেছে। - নাইট সার্ফ - স্টিফেন কিং ( অনুবাদ - নাবিল মুহতাসিম ) - Typical dystopian sci-fi thriller , মোটামুটি লাগলো। - বুমেরাং - বাপ্পী খান - টেকনো থ্রিলার টাইপের লেখা। হ্যাকিং রিলেটেড লেখা পড়তে সবসময়ই ভালো লাগে ,এটাও বেশ ভালো লেগেছে। - উদ্দেশ্য - তানজিরুল ইসলাম - মেটাফিকশন টাইপের লেখা , এ দেশে এ ধরণের লেখা খুব কম হয়েছে ,সেই হিসেবে গল্পটা ভালোই। - টু সার্ভ ম্যান - ড্যামন নাইট -(অনুবাদ-আশিকুর রহমান খান) - Alien invasion নিয়ে লেখা sci-fi thriller, খারাপ লাগেনি । - প্রহেলিকা - বাপ্পী খান - মাত্র একটা ছবি নিয়ে এক আর্ট exhibition নিয়ে লেখা thriller । ইউনিক প্লট , শেষটাও ভালো লেগেছে। - হোটেল এন্ড দ্যা এন্ড অব দ্যা রোড + আই গট টু গেট অ্যাওয়ে - স্টিফেন কিং ( অনুবাদ - সালমান হক ) - স্টিফেন কিং এর দুইটি ছোট গল্পের অনুবাদ। এক নিমিষে পড়ে ফেলার মতো। - অন্য ভুবন - শরিফুল হাসান - প্লট ভালো ছিল ,কিন্তু কাহিনীর শেষটা খাপছাড়া লাগলো। - শেষ থার্টিফাস্ট - মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন - দারুন প্লট , দারুন execution। লেখকের কাছ থেকে ঠিক এ ধরণের এক গল্পই আশা করেছিলাম। - সখেদ - মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন - এক পলাতক আসামির এক রাতের গল্প। সংকলনের সবচেয়ে বীভৎস গল্প। - এবার আসি সংকলনের সবচেয়ে প্রিয় গল্পে ,মৌলিকের ক্ষেত্রে বেছে নেয়া অনেক কঠিন হলেও অনুবাদের দিক থেকে ধরলে সবচেয়ে ভালো লেগেছে অ্যান্ডি ওয়ের এর দ্যা এগ (অনুবাদ করেছেন লুৎফুল কায়সার )।Philosophical science fiction বরাবরই আমার খুব প্রিয় এক sub -genre। অনেক দিন পড়ে এ ধরণের গল্প পরে মুগ্ধ হলাম , what an unique an mind bending plot it is,spell bound !
খুব একটা খারাপ নাহ। মোটামুটি চলে। পড়ে বেশী মজা লাগেনি। ছায়াময় গল্পটা ভালই ছিল। কিন্তু অসমাপ্ত মনে হল। এছাড়া নেহাই, মানিক অন্যভুবন আর শেষ থার্টিফাস্ট ভাল লেগেছে। অবাক হয়েছি স্টিফেন কিং এর গল্প নাইট সার্ফ পড়ে। সেখানে একটি সামান্য ফ্লুর কারণে পৃথিবীর সব মানুষের মৃত্যু হয়ে যায় দেখানো হয়েছে। এই করোনার সময়ে ফ্লুয়ের মত রোগের সাথে গল্পটার মিল পেয়ে বেশ অবাক হয়েছি।
মোঃ নাজিম উদ্দিনের সংকলনে থৃলার গল্প সংকলনের ৪র্থ সংকলন এবং আমার জানামতে এর পর আর সংকলন বের হয়নি। এটি সবচেয়ে মোটা বইও বলে। অধিকন্তু এই সংকলনে গল্পের সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি। দেশি লেখকদের লেখাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সাথে কিছু বিদেশী লোখকদের অনুবাদ গল্পও রয়েছে। আমার মোটামুটি লেগেছ। কিছু কিছু ছিল চমৎকার আর কিছু পড়ে আশাহতই হয়েছি প্রত্যাশার তুলনায়।।
বেশ কিছুদিন পর একটা গল্পগ্রন্থ পড়লাম। আগের তিনটার চেয়ে এটা একটু নিচেই থাকবে।গল্প সংখ্যা বেশি হলেও অনেক গল্পই ভালো লাগেনি। তবে রবিন জামান খানের বানিয়াচং গল্পটার কথা আমার আজীবন মনে থাকবে। গল্পটা লেখক অসাধারণ কিছু লেখেননি।এই প্লটে আরো একটু উন্নতি করে বেটার একটা গল্প পাঠকদের উপহার দিতে পারতেন।কিন্তু গল্পের শেষে নিচে লেখা কথাটাই হলো মূল। আগে থেকে বলতে চাইলাম না। পড়ে দেখতে পারেন
দুয়েকটা গল্প বাদে (যেমনঃ নেহাই কিংবা টু সার্ভ ম্যান) বাকিগুলো যাচ্ছেতাই। প্রচুর ছাপার ভুল। কিছু কিছু লেখকের ভুল। কোন এক গল্পে বলা হলো গল্পের চরিত্র প্রতিদিন অফিস থেকে বাসায় ফিরে রান্না করে খেয়ে শুয়ে পড়ে আবার বলা হলো প্রতিদিন বুয়া এসে রাতের খাবার রান্না করে যায়। আরেক গল্পে বলা হলো এটা ২০৯৯ সাল। কয়েক ঘন্টা পরে শুরু হবে নতুন সহস্রাব্দ। কিছু কিছু গল্প যেন জোর করে লেখা। যাই হোক যে ধরনের থৃল আশা করেছিলাম তা পাইনি।