Purnendu Patri (sometimes Anglicised as Purnendu Pattrea) was an Indian poet, writer, editor, artist, illustrator, and film director. He was best known for his poems and stories, particularly for his poetry collection Kathopokathan in Bengali, and for his experimentation with book cover design. He also was a researcher of the history of Kolkata.
বৃষ্টিনেশাভরা সন্ধ্যাবেলা! গল্প করছিলাম এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে। হঠাৎ স্টোরিতে চোখে পড়ল তক্ষশিলার পূর্ণেন্দু পত্রীর কলকাতাসমগ্রের বিজ্ঞাপন! দেখে সাথে সাথে জিভে জল। বন্ধুটিকে বললাম, একটা ছবি পাঠাই। দ্যাখ তো তোর জিভেও জল আসে কিনা? তারও একই রিএকশন।
আলাদা আলাদা করে পূর্ণেন্দু পত্রীর কলকাতা নিয়ে লেখা অনেক বইই পড়া হয়ে গিয়েছিল আমার। তবুও গাঁটের জোরের অভাবে এখনি কলকাতা সমগ্র কেনা সম্ভব না। কিন্তু একটা কলকাতা তো এখনি পড়তে হবেই৷ তাই ছড়ায় মোড়া কলকাতাটা ভাবলাম পড়ে ফেলি ঝটপট।
পুরনো কলকাতা আর পুরনো ঢাকা। এই দুটো আমাকে চুম্বকের মতো টানে। আর এমন সরস আর মজাদার ইতিহাসে ভরপুর বই হলে তো কথাই নেই। নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে ছড়ায় ছড়ায় কলকাতার নানা গল্প এসেছে এতে।
তখনকার দিনে কবিরা ছাড়াও সাধারণ মানুষেরাও শহরের নানা ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মুখে মুখে ছড়া বানাত। সেইসব ছড়া থেকে পাওয়া যায় তৎকালীন নানা ঘটনার চিত্র আর ইতিহাস। যেমন, রেতে মশা দিনে মাছি, এই নিয়ে কলকেতায় আছি। কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের একটি ব্যঙ্গাত্মক ছড়া হলেও কলকাতার তৎকালীন পরিবেশ নিয়ে কিন্তু বেশ একটা ছবি পাওয়া যায়।
অথবা, ইন্দ্রের বাহন ঐরাবত কলকাতায় ফিটন রথ পালকির যুগ পার হয়ে ইংরেজ সাহেব বা কলকাতার সম্ভান্ত বাবুদের যে ওয়েলার ঘোড়ার ফিটন গাড়িই সেরা বাহন হয়ে উঠেছিল, যাকে আবার মেমসাহেবরা পাত্র সন্ধানের একটি মাপকাঠিও মানতেন, ছড়াটি বলে যায় তারই কথা।
এমন আরো নানা ছড়ার পেছনের গল্প আর ইতিহাস নিয়েই সাজানো এই ছোট্ট বইটি৷ কদিন আগে পড়া সুকুমার সেনের কলিকাতার কাহিনী এর প্রথম অধ্যায়টিও ছিল এমন ছড়ায় মোড়া সরসতা নিয়ে। আর এখানে তো একটা গোটা বইই, তাও আবার লেখকের স্বাদু ভাষায়। প্রচ্ছদটিও একেবারে খাসা।
মজার ব্যাপার, দুটি বইয়েই রবিঠাকুরের ছেলেবেলার কথা বলেছেন লেখকেরা। কিছুটা বিবরণ তুলেও দিয়েছেন৷ সত্যিই ছেলেবেলার মতো আত্মকথা দুটি হয় না!
কালে কালে মুখে মুখে বহু ছড়া প্রচলিত হয়ে যায়। একসময় ছড়ার পেছনের গল্প হারিয়ে গেলেও ছড়াগুলো রয়ে যায়। পূর্ণেন্দু পত্রী সেসব ছড়ার হারিয়ে যাওয়া গল্পগুলো বলেছেন চমৎকার ভঙ্গিমায়। তবে একেক ছড়া একেকজনকে নিয়ে একেক সময়ে রচিত হওয়ায় ঘটনার ধারাবাহিকতা কিংবা সংযোগ তেমন একটা থাকেনি। বিচ্ছিন্ন ঘটনার মতোন লেগেছে। কলকাতা সিরিজের এই বইটাকে তাই কিছুটা পিছিয়েই রাখতে হচ্ছে।
একটা সময় ছিল যখন কোন বিশেষ ঘটনা ঘটলে সাধারন মানুষেরা সেটা নিয়ে কবিতা রচনা করতেন। সে কবিতার অনেকগুলোই ঠাঁই পেয়েছে ইতিহাসের পাতায়।
শ্রদ্ধেয় লেখক পূর্ণেন্দু পত্রী আমাদের শোনালেন সেসব কবিতার পিছনের ইতিহাস। সেখানে কখনো এসেছে ইংরেজি সাহেবদের কথা,কখনো কলকাতার বাবুদের কথা,কখনো রামমোহন রায়ের মত বিখ্যাত ব্যক্তির কথা।
লেখক এত চমৎকার ভাষায় লিখছেন, পড়লে খুব সহজে বইয়ের মধ্যে ডুবে যাওয়া যায়। এই সিরিজের বইগুলো পড়ার আরেকটা সুবিধা হচ্ছে অনেকে গুলো বিখ্যাত বইয়ের নাম জানতে পারা যায়। হয়ত সব গুলো এখন পাওয়া যাবে না,যা পাওয়া যায় তাও মন্দের ভালো।
মানুষ মুখে মুখে চলতি কোন ঘটনা ছড়া বানিয়ে বলতে ভালোবাসে তা সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে যায় না। আর সেই ছড়ার মধ্যে থেকে যায় একটা যুগ এবং সেই যুগের মজার কাহিনি আর অজানা সব ইতিহাস।
কলকাতা নামের শহরকে ঘিরে সে-রকম অনেক মজার ছড়া ছড়িয়ে আছে নানা জায়গায়। তেমনই সব মজার ছড়া নিয়ে লেখক পূর্ণেন্দু পত্রী সাজিয়েছেন এই বই " ছড়ায় মোড়া কলকাতা "। কলকাতা নিয়ে মজার মজার সব ছড়া আগে এবং পরে সেই ছড়ার ইতিহাস। ছোট্ট এই বইটা ইতিহাস ও তথ্যে টইটম্বুর। লেখক পূর্ণেন্দু পত্রীর কলকাতা সিরিজের আরও একটা চমৎকার মজার বই।
A very interesting book about a very interesting phenomena from the past of a city which was once rich in its glory and culture, a city called Calcutta. A very quick read. Good if you enjoy to read non fiction when you're on the go.
ছোটদের জন্য লেখা হলেও বেশ তথ্য বহুল বলা যায়। কলকাতা ও তার সাথে জড়িয়ে থাকা ইতিহাসের অনেক কিছুটা আচ পাওয়া যায়। ছড়ায় ছড়ায় অনেজ কিছু উঠে এসেছে সেই ইতিহাস।