Purnendu Patri (sometimes Anglicised as Purnendu Pattrea) was an Indian poet, writer, editor, artist, illustrator, and film director. He was best known for his poems and stories, particularly for his poetry collection Kathopokathan in Bengali, and for his experimentation with book cover design. He also was a researcher of the history of Kolkata.
যারা কবিতা ভালোবাসেন না অথবা যারা ভালোবাসেন কবিতা গল্প শিল্প সনেট থেকে ক্যালিগ্রাম কবিতা থেকে সিনেমা ছন্দ বনাম কবিতার পিছনে লুকান গদ্য কবিতার অনুবাদ নাকি রিমেক? কবিতা নিয়ে গল্প কবিদের নিয়ে গল্প ।
৯৪ পাতার নাতিদীর্ঘ এই বইটিতে ৩৫ খানা স্বল্প দৈর্ঘ্যের গদ্যে পুর্ণেন্দু পত্রী আলোচনা করেছেন বেশিরভাগ ফরাসি ও বিদেশী কবির কবিতা। পুর্ণেন্দু পত্রী নিজে বাংলা ভাষার কবি হয়ে একজন বাঙালি কবির কথাও লেখেন নি। অথচ টি এস এলিয়ট লিখিত "ওয়েস্ট ল্যাণ্ড"-এর নির্মম কাঁটছাট করেছিলেন বলে এজরা পাউন্ডকে নতমস্তকে স্মরণ করেছেন। একজন সিনিয়র কবি তরুন কবির কবিতার কাটছাঁট করছেন এমন দৃষ্টান্ত বাংলা সাহিত্যে বিরল। পুর্ণেন্দু পত্রী এই বইতে নিজেই বলেছেন, "কলকাতায় এলিয়ট হয়তো আছে। কিন্তু (এজরা) পাউন্ড নেই।"
অথচ এই বইয়ে তিনি এজরা পাউন্ড হতে পারতেন। কিন্তু বাংলা কবিতাকে বস্তুত এড়িয়েই গেছেন। লেখক বেঁচে থাকতে জয় গোস্বামীর "গোঁসাইবাগান" পান নি। পেলে এই আক্ষেপ করতেন না। দেখতেন একজন সিনিয়র বাংলা কবি কী পরম মমতায় তরুন কবিদের কবিতা বুঝিয়ে দিচ্ছেন। হাত ধরে আমাদের শেখাচ্ছেন কেমন করে আধুনিক বাংলা কবিতা পাঠ করতে হয়।
সবশেষে বলি, বাংলা ভাষায় ফরাসি কবিতার রস কতটা অনুভূত হয় তা সন্দেহের উর্ধ্বে নয়।
আমরা যারা কবিতা পড়ি, কবিতা প্রচন্ড রকমের ভালোবাসি। তারা কিন্তু কবিতার আদ্যোপান্ত জীবন নিয়ে পড়ি না কিংবা জানার তেমন আগ্রহ দেখাই না। কবিতারও ঘর আছে, আছে তার বাহির, আছে সামনের দরজা, পেছনের দরজা। কবিতা স্বপ্ন, না সত্যি? কবিতা পৌঁছে দিতে চায় আমাদের? কার মুখোমুখি হলে কবিতারা খুশি হয়? কবিতা দিনের মতো স্পষ্ট নাকি রাতের মতো রহস্যময়? কতটুকুই বা চিনেছি আমরা কবিতাকে। এসব নানান সংক্রান্ত নিয়ে এত সুন্দর একটা বই যে আছে, তা জানা ছিল না আমার।
গিয়েছলাম অফিসের কাজে কাজির দেউড়িতে। সেখান থেকে বাতিঘর কাছেই ছিল, ত্রিশ টাকা রিক্সা ভাড়া। বই পাগল মানুষের জন্য চট্টগ্রাম বাতিঘর হলো মক্কা। এক ছাদের তলায় দেশি বিদেশি কতই না বই রয়েছে এখানে! কফির মগে চুমুক দিতে দিতে বইয়ের পাতা উলটানোর মতো আনন্দ, বই পাগলরাই জানে।
মানুষের কথা ভেবে নাকি গাছ দীর্ঘ হয়। আর কবিতার কথা ভেবে রাত যেন নি:সঙ্গ হয়।
কিছু বই স্পর্শ করতেই আনন্দের অনুভূতি হয়। এই বইটা আমার কাছে সেরকম। প্রথম কবে পড়েছিলাম মনে নেই। তবে পাঠের আনন্দটা মনে আছে। আর মনে আছে- এ বই পড়ে প্রথমবারের মতো অনেক কবির নাম জেনেছিলাম। নতুন করে ‘ছবির দেশে কবিতার দেশে’ পড়া শেষে মনে হলো ঐ রেশ থাকতে থাকতে এটাও পড়ে ফেলি আবার। ছোটো বই। এক সকালেই ফুরিয়ে গেল। কবি ও কবিতার কথা, কবিতা ঘিরে কবিদের টুকরো জীবন, কবিতা নিয়ে অনুভূতি- এই ধরা আছে বইতে। যদি এক কথায় বইটা নিয়ে বলি তবে বলব- কবিতার ভূবনে হেঁটে বেড়াবার আমন্ত্রণ জানায় এ বই।