শীতের পরশে পুজোর বাদ্যি। কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের বদানত্যায় ডিসেম্বরের শহরে এক টুকরো শরৎ পেলাম আবার। 'যতিচিহ্ন' সামাজিক উপন্যাস। যথা নিয়মে, একগুচ্ছ রঙিন চরিত্রদের সজীব রোল-কল্। তবুও, এই বইয়ের মূল উপজীব্য বাঙালির সেরা উৎসব। সুখ দুঃখের মিষ্ট আবেশে দুগ্গা মায়ের চিরায়ত মায়া।
লেখক কল্যাণে গল্পের গরু গাছে চড়ে না। বরং ডায়মন্ড হারবার ছাড়িয়ে এক নব্য-প্রতিষ্ঠিত রিসর্টের সবুজ লনে পায়চারি করে মনের সুখে। বইয়ের শুরুতে আটখানি বিক্ষিপ্ত ঘটনার অবতীর্ণ করে, 'রিভারফ্রন্ট রিসর্ট'-এর সুতোয় বেঁধে ফেলেন লেখক। স্বার্থ, প্রেম ও স্বপ্ন দেখান চরিত্র প্রতি। এরই সাথে, পুজোর ছোয়া। যা বাড়ির পুজো না হয়েও অনেক বেশি ঘরোয়া। সুনীল আকাশে পেজা তুলোর মতন স্বকীয় ও নরম!
বইয়ের পাতায় আজ থেকে প্রায় বছর দশেক পূর্বের এক পৃথিবী। খুব পুরনো না হয়েও, নস্টালজিয়া ট্রিপে সচরচার ব্রাত্য এক যুগ। প্রভাতী এসএমএস, এফ এম রেডিও, কলারটিউন ও গান ডাউনলোডের সেই সদ্য ফেলে আসা সময়-সরণি। যা হয়তো এককালে বেশ যুগোপযোগী ছিল। পাঠক হিসেবে, আমিই বরং দেরিতে পড়ে, ভুলভাল বকছি। তবুও সবটা ভালো লাগে। দুর্ভাগ্যজনক, লেখকের আর পাঁচটা বই নিয়ে যত্ত আলোচনা হয়, এই বইখানির কপালে ফুটেজ জোটে না সেরকম।
আমিও যেমন। বছর শুরুতে লেখকের 'অচেনা স্রোত' পড়ে বেজায় হতাশ হয়েছিলাম। বছর শেষে 'যতিচিহ্ন' সুদে আসলে মিটিয়ে দিলো সব। কে বলে, ২০২৩-এ কেবল শাহরুখ খানের কামব্যাক হলো? বইটির রেটিং নিয়ে দ্বিধায় ছিলাম। সাড়ে তিন কি চার তারা দিয়ে চ্যাপ্টার ক্লোজ করতে পারতাম, যেমন করি। তবুও...মাঝে মধ্যে আতসকাচটুকু না ধরলেই নয়? এটা লিখতে লিখতেই, আমার ক্রিটিকাল সত্ত্বা হেরে যাচ্ছে আবেগের কাছে। সবই বুঝি। কতকটা বাধ্য হয়েই অনুপমের গান গাই তাই, 'আজ তবে থাক থাক, অনুভূতি পিষে যাক...'
ফিল-গুড উপন্যাস পড়ে চোখে জল আসলো। হাতের পাঁচ আঙ্গুল গলে পাঁচটি তারা বেরোবে না? গোপালের পিসি তো নই আমি।
(৫/৫ || ডিসেম্বর, ২০২৩)