Jump to ratings and reviews
Rate this book
Rate this book
কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘যতিচিহ্ন’ উপন্যাসে কাহিনিই প্রধান, কিন্তু গল্পের সাবলীল গতি, অনেকগুলি সুতো শুরুতে ছড়িয়ে রেখে শেষে জাল গুটিয়ে নেওয়ার মুনশিয়ানা, চরিত্রচিত্রণ আলাদাভাবে চোখে পড়ে। উপন্যাসের গোড়ায় বলা আটটি আপাতবিচ্ছিন্ন ঘটনাক্রম একে-একে মেশে ডায়মন্ড হারবারে সদ্য গড়ে ওঠা এক রিসর্টে এসে। তবে কেন্দ্রীয় চরিত্রের মতো কেন্দ্রীয় কোনও কাহিনিও নেই ‘যতিচিহ্ন’তে, যা আছে, সেখানে খানিক প্রাচীন ধারণা অনুযায়ী দেখানো হয় শুভর জয়, অশুভর হার! সেকারণেই সম্ভবত নেপথ্যে উপস্থিত থাকে দুর্গাপুজো, শারদ আবহ। তাই আইটেম গানে শরীর প্রদর্শন করে নেচে যে-রুক্মিণী মুচমুচে গোপন খবরের শিরোনামে, তার সঙ্গে মিলে যায় একখালি গাঁয়ের কাঁসর বাজিয়ে ল্যাংড়া পুতু, তাই সাংবাদিক শুভব্রত আকস্মিকভাবেই আবিষ্কার করে ফেলেন ঘরের এসি-র আড়ালে লুকিয়ে রাখা স্পাইক্যাম (পাঠক আগেই জানতেন, স্পাইক্যাম রয়েছে বাথরুমের গিজ়ারগুলিতেও), ভেস্তে যায় প্রতীক নন্দীর মতলব। রিসর্টের রিসেপশনিস্ট ঝুমাকে লেখক কখনও মিলিয়েছেন দুর্গার সঙ্গে, তাই তার মুখেই শোনা যায়, “যদি সত্‌ থাকিস, মেয়েদের অনেক শক্তি। মা দুর্গা তোকে শক্তি জোগাবেন!” যদিও কোনও দেবীত্ব আরোপিত হয় না তার চরিত্রে।

192 pages, Hardcover

Published January 1, 2013

37 people want to read

About the author

Krishnendu Mukhopadhyay

39 books19 followers
কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৬৪, ব্যারাকপুরে। প্রথম জীবন কেটেছে শ্যামনগরে। ইছাপুর নর্থল্যান্ড বয়েজ হাইস্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা। স্কুলজীবন থেকেই লেখালেখির সূত্রপাত। প্রথমে অনিয়মিতভাবে কিছু লিটল ম্যাগাজিনে লিখতেন। ২০০৫ থেকে নিয়মিতভাবে আনন্দবাজার পত্রিকার বিভিন্ন প্রকাশনায় ছোটগল্প লিখছেন। ‘খেজুর কাঁটা’ গল্পটি নিয়ে হয়েছে শ্রুতিনাটক। ছোটগল্প ‘ছবির মুখ’ আকাশবাণীতে বেতারনাটক হয়ে সম্প্রচারিত হয়েছে। লেখকের ‘ব্রহ্মকমল’ গল্পটি ২০০৬-এ ‘দেশ রহস্যগল্প প্রতিযোগিতা’য় প্রথম পুরস্কার লাভ করেছে। ২০০৭-এ ‘পূর্বা’ শীর্ষক একটি কল্পবিজ্ঞান গল্পের জন্য ‘দেশ গল্প প্রতিযোগিতা’য় দ্বিতীয় স্থান পেয়েছেন। রাধিকা লেখকের প্রথম উপন্যাস।পেশাদারি জীবনে ইঞ্জিনিয়ার, বেসরকারি বিদ্যুৎ সংস্থায় তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে কর্মরত। সাহিত্য ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ে প্রবন্ধ লেখেন। ভারতীয় মার্গ সংগীতের প্রতি বিশেষভাবে অনুরক্ত।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
4 (20%)
4 stars
8 (40%)
3 stars
7 (35%)
2 stars
1 (5%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 6 of 6 reviews
Profile Image for Tiyas.
473 reviews138 followers
October 23, 2025
শীতের পরশে পুজোর বাদ্যি। কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের বদানত্যায় ডিসেম্বরের শহরে এক টুকরো শরৎ পেলাম আবার। 'যতিচিহ্ন' সামাজিক উপন্যাস। যথা নিয়মে, একগুচ্ছ রঙিন চরিত্রদের সজীব রোল-কল্। তবুও, এই বইয়ের মূল উপজীব্য বাঙালির সেরা উৎসব। সুখ দুঃখের মিষ্ট আবেশে দুগ্গা মায়ের চিরায়ত মায়া।

লেখক কল্যাণে গল্পের গরু গাছে চড়ে না। বরং ডায়মন্ড হারবার ছাড়িয়ে এক নব্য-প্রতিষ্ঠিত রিসর্টের সবুজ লনে পায়চারি করে মনের সুখে। বইয়ের শুরুতে আটখানি বিক্ষিপ্ত ঘটনার অবতীর্ণ করে, 'রিভারফ্রন্ট রিসর্ট'-এর সুতোয় বেঁধে ফেলেন লেখক। স্বার্থ, প্রেম ও স্বপ্ন দেখান চরিত্র প্রতি। এরই সাথে, পুজোর ছোয়া। যা বাড়ির পুজো না হয়েও অনেক বেশি ঘরোয়া। সুনীল আকাশে পেজা তুলোর মতন স্বকীয় ও নরম!

বইয়ের পাতায় আজ থেকে প্রায় বছর দশেক পূর্বের এক পৃথিবী। খুব পুরনো না হয়েও, নস্টালজিয়া ট্রিপে সচরচার ব্রাত্য এক যুগ। প্রভাতী এসএমএস, এফ এম রেডিও, কলারটিউন ও গান ডাউনলোডের সেই সদ্য ফেলে আসা সময়-সরণি। যা হয়তো এককালে বেশ যুগোপযোগী ছিল। পাঠক হিসেবে, আমিই বরং দেরিতে পড়ে, ভুলভাল বকছি। তবুও সবটা ভালো লাগে। দুর্ভাগ্যজনক, লেখকের আর পাঁচটা বই নিয়ে যত্ত আলোচনা হয়, এই বইখানির কপালে ফুটেজ জোটে না সেরকম।

আমিও যেমন। বছর শুরুতে লেখকের 'অচেনা স্রোত' পড়ে বেজায় হতাশ হয়েছিলাম। বছর শেষে 'যতিচিহ্ন' সুদে আসলে মিটিয়ে দিলো সব। কে বলে, ২০২৩-এ কেবল শাহরুখ খানের কামব্যাক হলো? বইটির রেটিং নিয়ে দ্বিধায় ছিলাম। সাড়ে তিন কি চার তারা দিয়ে চ্যাপ্টার ক্লোজ করতে পারতাম, যেমন করি। তবুও...মাঝে মধ্যে আতসকাচটুকু না ধরলেই নয়? এটা লিখতে লিখতেই, আমার ক্রিটিকাল সত্ত্বা হেরে যাচ্ছে আবেগের কাছে। সবই বুঝি। কতকটা বাধ্য হয়েই অনুপমের গান গাই তাই, 'আজ তবে থাক থাক, অনুভূতি পিষে যাক...'

ফিল-গুড উপন্যাস পড়ে চোখে জল আসলো। হাতের পাঁচ আঙ্গুল গলে পাঁচটি তারা বেরোবে না? গোপালের পিসি তো নই আমি।

(৫/৫ || ডিসেম্বর, ২০২৩)
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 39 books1,877 followers
September 12, 2022
কিছু-কিছু উপন্যাস কোনোরকম ভান বা আড়ালের আশ্রয় না নিয়ে স্রেফ একটা গোছানো, ফিল-গুড গল্প বলতে চায়। সচরাচর এই অপরাধে স্মরণজিৎকে দায়ী করা হলেও একসময় কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ও কিন্তু ঠিক এই ধাঁচের লেখাই পরিবেশন করতেন।
শারদীয় দেশ ২০১২-তে পরিবেশিত আলোচ্য উপন্যাসটি একদম তেমন ধাঁচের উপন্যাস।
এতে অনেকগুলো আলাদা রং, আলাদা উপাদানের সুতো আছে। তার কোনোটিতে অভিনেত্রী মেয়ে'র আইটেম নাম্বার 'গিরগিট গিরগিট'-এর বিপুল জনপ্রিয়তা আর রসালো আলোচনা সহ্য করতে না পেরে তাঁর বাবা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হন। কোথাও পরিস্থিতির সঙ্গে লড়ে নিতে চাওয়া একটি মেয়ে মুখোমুখি হয় নিঃশব্দ হিংস্রতার। কোথাও আবার ঢাক বাজানোর ক্ষমতা হারানো এক ঢাকী করুণার পাত্র হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে চায়। আর কোনো এক সূত্রে এক প্রাক্তন ক্রাইম রিপোর্টার তৈরি হন পেজ-থ্রি-র মস্ত বড়ো স্কুপ জোগাড় করতে।
সবক'টা সুতো, সব রং এসে মেশে নীল আকাশ আর সাদা কাশে। সব শব্দ আর কান্না খুঁজে নেয় ঢাকের বোল। জীবনের শব্দ আর বাক্যগুলো এই একটি উৎসবের মধ্যেই খুঁজে নিতে চায় যতিচিহ্ন।
এ বই কোনোদিন আকাদেমি পাওয়ার জন্য লেখা হয়নি। গূঢ় তত্ত্বের তীব্র পরিবেশনের সামান্যতম বাসনাও রাখেনি এই লেখা। এ শুধু নির্ভার গদ্যে, আকর্ষণীয় চরিত্রচিত্রণের মধ্যে দিয়ে একটা নিটোল গল্প বলতে চেয়েছে।
পুজোয় এমন লেখাও এক-আধটা না পড়লে কি চলে, বলুন?
পিতৃপক্ষ শুরু হয়ে গেছে। আপনিও একটি-একটু করে তৈরি হোন পুজোর জন্য। নতুন লেখাপত্তরের পাশাপাশি এই ফার্স্ট ক্লাস উপন্যাসটা পড়ে দেখতেই বা দোষ কী?
Profile Image for Shreyashi Bhattacharjee Dutta.
84 reviews6 followers
January 28, 2021
কাহিনীর শুরুতে রয়েছে আটটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় যে এই ঘটনায় বর্ণিত চরিত্রদের মধ্যে কোন মিল নেই।
এবারে এই সবগুলো মানুষ তাদের নিজেদের পরিবার নিয়ে অথবা কোন কাজ নিয়ে দুর্গা পুজোর সময় এসে পৌঁছায় ডায়মন্ড হারবারে অবস্থিত রিভার ফ্রন্ট রিসোর্টে। কিন্তু কিসের যেন একটা ষড়যন্ত্র চলছে ভেতরে ভেতরে।
কেন বিজন তার কর্মচারীটিকে দিয়ে স্পাই ক্যামেরা লাগিয়ে নিচ্ছে রিসোর্টের প্রতিটি ঘরে ও বাথরুমে?
এখানে কি কোন ঘৃণ্য অপরাধ ঘটতে যাচ্ছে?
রিসোর্টের রিসিপ্সহনিস্ট ঝুমার ওপরে কি কেউ বিশেষভাবে প্রতিষোধ নিচ্ছে?
রিসোর্টে একটা ঘর যে হাই প্রোফাইল গেস্টের জন্য রাখা আছে সেই গেস্ট আসলে কে?
এইসব মাথায় ঘুরতে থাকে গোটে কাহিনী জুড়েই। পরে একে একে জিগস পাজলের মত জোড়া লাগতে থাকে সমস্ত ঘটনা ও চক্রান্ত।

গল্পটা ছিল খুব গতিময়। গল্পের চরিত্ররা এগিয়ে যাচ্ছে নিজেদের কাজকে লক্ষ করে।
রহস্য থাকলেও আরেকদিকে কাহিনী জুড়ে থাকে পুজোর আমেজ। “কিছু একটা হবে। কী যেন একটা ঘটছে”- মাথার পেছনে এই সুর বাজতে থাকে। অবিরত যেন পাঠককে মাথা খেলিয়ে যেতে হয়।
খুব কম সময়ে একনাগাড়ে পড়ে শেষ করার মত একটা উপন্যাস ‘যতিচিহ্ন’। যে গল্পে মাথা খাটিয়ে, হিসেব করে পড়তে হয় সেরকম গল্প আমি খুব ভালোবাসি। সেই সাথে আমি দ্বিতীয়বার কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা পড়লাম। এত ভালো লাগলো যে এবারে খুঁজে খুঁজে তার আরো কিছু উপন্যাস বের করার চেষ্টায় আছি।

Profile Image for Soumya.
8 reviews1 follower
April 24, 2022
বেশ অন্যরকম, অনেকগুলো গল্পের সমাপতন যেন মোহনায় মিশে যাওয়া নদীর মতই সাবলীলভাবে একে অপরের সাথে মিশে যায়, একাত্ম হয়। আবার দূরে সরে যেতে হলেও সেই গল্পগুলো যেন একে অপরের আত্মীয় হয়ে যায়।
6 reviews
April 6, 2025
বেশ ভালোলেগেছে! গল্পের শেষের দিকে কি হবে আন্দাজ করা খুব একটা কঠিন হবেনা |
Displaying 1 - 6 of 6 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.