প্রকৃতি দেনা রাখতে পছন্দ করে না। তাইতো সময় হলে পাওনা সুদসমেত ফেরত দিয়ে দেয়।
❝স্যার, আমার ওয়াইফ একজন পিশাচ!❞
অদ্ভুত এই কথা শুনে যারপরনাই বিরক্ত হন খ্যাতনামা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ফোরকান উদ্দিন। আধুনিক যুগেও যে মানুষ এমন কল্পকাহিনি বিশ্বাস করে দেখেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায় ওনার। মফস্বল থেকে আসা রুক্ষ মানুষটিকে বারবার ফেরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। ফজলুল করিম যে পরিমাণ এমাউন্ট দেওয়ার কথা বলেন যে নড়েচড়ে বসতে হয় তবে শর্ত হলো একদিনের বেশি সময় দিবেন না। রাজি হওয়ার আরও একটা কারণ হলো ফোরকান সাহেবের বড় ভাইয়ের বিশেষ আদেশ যেনো সাহায্য করা হয়। কেসের কারণে গ্রামে যেতে হবে ভেবে বিরক্তই হন ফোরকান সাহেব। বিয়ের পর যে গ্রাম ছেড়েছেন আর ওমুখো হননি। শহুরে জীবনে বেশ সুখেই আছেন। করিম সাহেবের অনুরোধে সেদিনই রওনা হতে হয়। ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে জানলে কি আর ফোরকান উদ্দিন দুঃসাহস দেখাতেন?
কাহিনীর শুরুতে ঘটনা এগিয়েছে খুবই ধীরগতিতে। চরিত্রগুলোর আবির্ভাব হয়েছে একের পর এক তবে ফোরকান উদ্দিন অধিকাংশ জায়গা দখল করে রেখেছে। হুমায়ুন আহমেদের "কুটু মিয়া"- এর ভাইব পেয়েছি গল্পে। বিভিন্ন সুস্বাদু খাবারের বর্ণনা সাথে টুকিটাকি রেসিপি। তবে মেজাজ খারাপ হয়েছে যখন বিরিয়ানিকে শুকনা ভাতের সাথে তুলনা করা হয়েছে। বিরিয়ানি লাভার আমি তবে একদিন ভাত না খেলে অস্থির হয়ে যাই তাই বলে বিরিয়ানিকে শুকনা ভাত হিসেবে মেনে নিতে পারবো না। গ্রামের প্রকৃতির একটা মোটামুটি চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে বইয়ে যা ভালো লেগেছে।
হরর বই পড়লে ভয়ে কাঁপা-কাঁপি করবো এমনটা আশা করি না তবে ভৌতিক এলিমেন্ট যথেষ্ট পরিমাণে না হলে জমে না। আর বইটা মারা খেয়েছে এই জায়গাতেই। শেষের অংশ বাদে বইয়ে বাকি যে ভৌতিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে মনেই হয়নি যে অতিপ্রাকৃত কিছু পড়ছি। রগরগে বর্ণনা আছে বেশকিছু জায়গায়। অনেকসময় তো গা গুলিয়ে উঠেছে পড়ার সময়। এন্টাগনিস্ট যেভাবে ফোকাস পেয়েছে সেই তুলনায় প্রোটাগনিস্ট আড়ালেই থেকে গেছে অনেকটা। পিশাচ নিয়ে ছোট থেকেই গল্প শোনা ও পড়া হয়েছে কিন্তু এই বইয়ের পিশাচের আগমন ও প্রস্থান নিয়ে যা বলা হয়েছে... কেয়ামত চলে আসছে এমন। চরম এক প্রতিশোধের গল্প সাথে জটিল কিছু সম্পর্কের টানাপোড়েন। আনিস উদ্দিনের ওপর প্রচন্ড মেজাজ খারাপ হয়েছে। অদ্ভুত ভালোবাসা, অপরাধবোধ ও আত্মসম্মানের মিশেল এক চরিত্র। সমাপ্তি আমার জন্য বড় একটা টুইস্ট ছিল। আশা করেছিলাম অতৃপ্ত ছায়ারীরী চলে যাবে সব হিসাব চুকিয়ে। তবে যাইহোক, ওভারঅল প্রতিক্রিয়া মোটামুটি।
বই: ছায়ারীরী লেখক: রুমানা বৈশাখী জনরা: অতিপ্রাকৃত প্রচ্ছদ: মশিউর রহমান প্রকাশনী: বিদ্যাপ্রকাশ প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০১৬ পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১২ মুদ্রিত মূল্য: ১৭৫/-
টাইম পাস করার জন্য ভালো। কিন্তু আহামরি কিছু না। বিশেষ করে হরর এলিমেন্টের চেয়ে রগরগে বর্ণনাই আমার কাছে বেশি মনে হয়েছে, কারন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঘটনার প্রেক্ষাপটগুলো ছিল অপ্রয়োজনীয়। আর ফোরকানুদ্দীনের ক্যারেক্টারটা আমার কাছে আজব লেগেছে। তার ক্যারেক্টারটাকে আরো ভালো করে এক্সিকিউট করা যেতো। একমাত্র ফজলুল করিম ছাড়া আর কোন চরিত্রেরই পুরোপুরি বিকাশ হয়নি। যেন উপন্যাসের প্রয়োজনেই তাদের সৃষ্টি। কে, কেন, কোথা থেকে কীভাবে কি করছে সবই অস্পষ্ট। আর সবচেয়ে ফালতু হচ্ছে এটা একটা পিশাচের কাহিনী, ধরা যাক ছায়া পিশাচের কাহিনী। কিন্তু কস্মিনকালে কেউ শুনেছে যে ভূমিকম্পের সময়ে একইসাথে নদী ভাঙে কিংবা অগ্নিকান্ড হয় কিংবা ঝড় হয়! যত স্পেশাল ভূমিকম্পই হোক এ তো আর কেয়ামত না!
যাই হোক, এই উপন্যাস বড়জোর এক বার পড়া যায়। এবং পড়ার সময় মনে হয় কখন শেষ হবে, কখন শেষ হবে। আমি রুমানা বৈশাখী আপুর হরর বই পছন্দ করি কিন্তু আমার মনে হয় আপুর বোঝা উচিৎ যে তার বইয়ের কাহিনীগুলো একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছে, তাড়াহুড়োর ছাপ সবখানে। আশা করি ভবিষ্যতে আপুর একটা গা ছমছমে হরর পাবো।
লেখিকার প্রথম সন্ধান পাই ফেসবুকে,অবশ্য লেখক পরিচয়ে নয়,একজন বিড়ালপ্রেমী/এনিমেল লাভার হিসেবে।ক্রমে ক্রমে জানতে পারি তিনি বহুমুখী গুণের অধিকারী।খাদ্যরসিক,কুক হিসেবেও দারুণ,ব্যবসা সামলান,চাকুরী সামলান,সংসার সামলান, সাথে অনেক অনেক বেড়াল ও! কলম হাতেও যে দারুণ সাবলীল তা জেনে বেশ চমৎকৃত হয়েছি। সেই সূত্র ধরেই আগ্রহভরে ছায়ারীরী পড়লাম।
ফোরকান সাহেব একজন মনোচিকিৎসক।একদিন এক লোক এসে দাবী করলো,তার স্ত্রী নাকি পিশাচ।ফোরকান সাহেবকে তার স্ত্রীর চিকিৎসা করতেই হবে এবং এর জন্যে তাকে যেতে হবে বিনয়পুরে।সেখানে যেয়েই ফোরকান সাহেব জড়িয়ে পড়ে এক রহস্যের ছায়ায়।
লেখা তরতর করে এগিয়েছে,হঠাৎ হঠাৎ মনে হয়েছে মিসির আলী পড়ছি।ভেবেছিলাম যুক্তিনির্ভর কিছু দিয়ে শেষ হবে,কিন্তু আসলে গল্পটি অতিপ্রাকৃতিক। সব মিলিয়ে ভালোই লেগেছে।
চমৎকার। বইটির শেষ অব্দি আমাকে ধরে রেখেছিল। ভালো মানুষের আড়ালে কত জঘন্য রুপ লুকিয়ে থাকে। লেখিকার উপস্থাপন, গল্পের গতি বিন্দুমাত্র বিরক্তির রাশ আনে নি। পরিসমাপ্তি চমৎকার। ভালবাসা অনেক প্রলয়কে সত্যিই থামিয়ে দেয়। লেখিকার জন্যে অনেক অনেক শুভকামনা।
লেখিকার পড়া প্রথম বই। ঝরঝরে লেখা। স্থুল আবেগ বিবর্জিত, নৈসর্গিক বর্ণনা নাই। গল্প তরতর করে এগিয়ে গেছে। হরর যদিও পছন্দ করি না, এটা পড়েছি। সহজপাচ্য, পড়তে আরাম লাগে। দুয়েকটা এদিকসেদিক বাদ দিলে হরর থ্রিলার হিসেবে ভালোই লাগছে। সায়মা মেয়েটারে কি গ্রাম্য ভাষায় "ভূতে ধরছিলো"?
পড়েছিলাম বছরখানেক আগে, এইমাত্র সামনে পড়ল। রুমানা বৈশাখীর যে মেয়েটি ভাত বেশি খেত পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম। এরপরেই এটা পড়ি (সম্ভবত)। লেখার ধরণ অনেকটাই হুমায়ূনীয় লেগেছে। তবে সাসপেন্স ভালো ছিল।