#সাহিত্যপ্রেমী
#পাঠপ্রতিক্রিয়া
#books_with_amir
"যে জন্মদাতা পিতাকে আপনি দেখেছেন সেই পিতা নই মাই ডিয়ার সন! আমি সেই পিতা যাকে কখনো দেখা যায় না! আমি বিশ্বপিতা। অথবা বলতে পারো দুনিয়ার সবচেয়ে বড়ো বিজ্ঞানী। এই বিশ্ব, বিশ্বের তুচ্ছতম প্রাণী থেকে শুরু করে শ্রেষ্ঠতম জীবও আমারই সৃষ্টি। আমি এই ব্রহ্মান্ডের স্রষ্টা। সবার পিতা। "✝️❤
✝️বই - একদিনের ঈশ্বর
✝️লেখিকা - সায়ন্তনী পূততুন্ড
✝️মুদ্রিত মূল্য - ২০০
✝️প্রকাশনী - আনন্দ
প্রিয় লেখিকার নামের সাথে নতুন করে আর কি পরিচয় করাব🌝জনপ্রিয় অধীরাজ সিরিজের স্রষ্টা। শেষ করলাম ওনারই লেখা একটা সাইন্স ফিকশন "একদিনের ঈশ্বর "।
🍁উপন্যাসটি হলো ২০১৬ থেকে ২০৪৬ এই ৩০ বছরের একটা টাইম ট্রাভেল এর গল্প।
বিজ্ঞানী ড. রবিনসন ২০১৬ সালে আবিষ্কার করলেন ভবিষ্যত দেখার যন্ত্র। আর সেই যন্ত্র দিয়েই নিজের ৩০ বছর পরের ভবিষ্যত দেখতে পেলেন। তাঁর যন্ত্রের স্ক্রিনে ফুটে উঠেছে কয়েকটা শব্দ,
✴️"Murdered by the nearest and dearest one on 26 December, 2046"✴️
এর পরেই বিজ্ঞানীর মাথায় চাপল তিনি নিজের ভবিষ্যতই পরিবর্তন করে দেবেন, ভবিষ্যতে গিয়ে ধ্বংস করে দেবেন তাঁর মৃত্যুর কারনকে।
এক অচেনা অজানা বন্ধুর সাহায্য নিয়ে তিনি টাইম ট্রাভেল করে চলে গেলেন ২০৪৬ সালের পৃথিবীতে। আর সেই ৩০ বছরের নিজের পরিবর্তন, নিজের নৃশংসতা, অহংকার ইত্যাদি দেখে শিউরে ওঠেন নিজেই। তিনি নিজেকে ঈশ্বর দাবি করে বসেছেন ২০৪৬ সালে।
✝️তিনি কি পারবেন নিজের খুন হবার কারণ কে আটকাতে?
✝️"নেয়ারেস্ট এন্ড ডিয়ারেস্ট ওয়ান " সেটাই বা কোন ব্যক্তি বা অন্য কিছু ?
✝️এই ৩০ বছরে নিজের কি কি পরিবর্তন তিনি দেখলেন? যে শিউরে উঠতে হলো।
টুইস্ট আছে একদম শেষে, আর তীব্র রহস্যও। ৩০ বছর আগের রবিনসন আর ৩০ বছর পরের রবিনসন (নাম বদলে হয়েছে রবি -রেক্স ) যখন নিজেদের মুখোমুখি হলেন, রবি রেক্স ঘোষণা করলেন এই ২০৪৬ সালেও টাইম মেশিন আবিষ্কারই হয়নি।
✝️তাহলে বিজ্ঞানী রবিনসন কিভাবে ২০১৬ র অতীত থেকে ভবিষ্যতে পাড়ি দিতে পারেন?
🫡এরকম কনসেপ্ট এ লেখা আগে কখনো পড়িনি। সাইন্স ফিকশন তাঁর সাথে সংযোগ হয়েছে ঈশ্বর ভাবনা। বিজ্ঞানের সাথে ঈশ্বরের যোগ ঘটিয়ে ফিকশন কাহিনী এটাই প্রথম পড়লাম। সাইন্স ফিকশন বরাবর আমার ভীষণ প্ৰিয়। এই বইটিও পড়ে খুব ভালো লেগেছে।
❤️উপন্যাস টি পড়ার সময়ে বার বার নিজের জীবন টাকে উপভোগ করতে হবে এটাই বুঝতে পেরেছি।
❤️জীবন একটাই, আর সেটা কে নিয়ে সর্বদা বর্তমানে বেঁচে থাকতে হবে। মান, সন্মান, খ্যাতি, অর্থ এই সবের ভাবনা ছেড়ে যদি নিজের জীবনের দিকে যদি একটু মন দেওয়া যায়। এই প্রসঙ্গে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের একটি কবিতা মনে পড়ছে "লোকটা জানলোই না " যারা পড়ছেন কবিতাটি , তারা বুঝতে পারবেন কেন বললাম।
❤️যখন মৃত্যু বলে কিছু থাকবে না, তখনি বরং বড়ো অসহায় মনে হবে, মৃত্যুর জন্য ছট ফট করতে থাকবে, তাও মৃত্যু হবে না। একটু ভুল বলা হলো। মৃত্যু হবে, কিন্তু তাঁর জায়গায় ফিরে আসবে সেই ব্যক্তির জীন থেকে বানানো নতুন একটি ক্লোন। অবিকল তাঁর মতোই। যদিও এটা কল্পকাহিনী, তবুও এটা খুব একটা অসম্ভব নয়, ভবিষ্যতের জন্য। যখন বর্তমানেই টেস্ট টিউব বেবি চলে এসেছে।
এর বেশি আর বলব না। আমার প্রতিক্রিয়া বললাম, আপনিও পড়ুন, রহস্য + বিজ্ঞান মনস্ক + ঈশ্বর ভাবনা +... সব কিছুর স্বাদ পাবেন এখানে। ভালো লাগবেই। শেষের টুইস্ট টা মারাত্মক ❤✝️
এই ধরনের আরও রিভিউ পেতে এবং নিত্য নতুন বই সম্পর্কিত তথ্য পেতে like, follow..করে সাপোর্ট করতে পারেন আমার ফেসবুক পেজ Books With Amir কে❤️। সকলে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এবং অতি অবশ্যই সাহিত্যে থাকুন ❤। ধন্যবাদ🙏