বিজ্ঞানী রবিনসন একদিন তৈরি করে ফেলেন ভবিষ্যৎ দেখতে পাওয়ার এক যন্ত্র। সেই যন্ত্রে নিজের ভবিষ্যৎ দেখতে গিয়ে খুব আপন কারও হাতে নিজের মৃত্যু দেখতে পান রিনি। কিন্তু কে মারবে তাঁকে? কেনই বা মারবে? টাইম ট্র্যাভেল করে বিজ্ঞানী পৌঁছন ত্রিশ বছর পরের পৃথিবীতে। ছায়াসঙ্গী হয়ে ঘুরতে থাকেন নিজের ভবিষ্যৎ সত্তার পাশে-পাশেই। আগামী সেই ত্রিশ বছরে নিজের পরিবর্তন, নিজের নৃশংসতা দেখে রবিনসন শিরে ওঠেন নিজেই। কিন্তু বিজ্ঞানী কি শেষমেশ পারেন নিজের খুন হওয়া আটকাতে? কে মারতে চেয়েছিল তাঁকে? কী হয় তাঁর যন্ত্রের ভবিষ্যৎ?
সায়ন্তনীর গড়িয়ায় বাস। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ও কলকাতা ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির শখ। কবিতা ও গদ্য দুইই চর্চার বস্তু।ক্লাস সেভেনে প্রথম প্রকাশ সংবাদ প্রতিদিনের শনিবাসরীয় পাতায়'চশমা' ছোট গল্প। তারপর প্রতিদিন, বর্তমান, সুখী গৃহকোণ, আর ছোটদের পত্রিকা সাহানা আর বাংলা দেশের পত্রিকা ভোরের কাগজে লাগাতার লিখে যাওয়া।
২০১৬ সালের কোনো একদিন প্রতিভাধর, গোটা বিশ্ব, বিশেষত ঈশ্বরের ওপর চটে থাকা বিজ্ঞানী রবিনসন আবিষ্কার করে ফেললেন ফিউচারোস্কোপ নামের এক যন্ত্র। ভবিষ্যৎকে নির্ভুলভাবে জানতে পারার সেই যন্ত্রের প্রোটোটাইপ নিয়ে আরো সাহায্যের আশায় দরজায়-দরজায় ঘুরে যখন রবিনসন ক্লান্ত, তখন একদিন বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী রবিনস এলেন তাঁর কাছে। রবিনস জানালেন, ডেমনস্ট্রেশন দেখে সন্তুষ্ট হলে তিনি ও তাঁর প্রতিষ্ঠান রবিনসনের পাশে দাঁড়াবেন যাতে ফিউচারোস্কোপ ও রবিনসনের ফিউচার উজ্জ্বল হয়। তারপর কী হল? এগিয়ে আসা যাক তিরিশ বছর। কলকাতা এখন এক অদ্ভুত শহর। তার নাম হাইটেক সিটি। রোবট ও যন্ত্রপাতিরর ঝাঁক সেই শহরকে করেছে মসৃণ, সম্পন্ন, ঝাঁ-চকচকে। সেই শহরের দোর্দণ্ডপ্রতাপ শাসক রবি-রেক্স। কড়া নিরাপত্তার আড়ালে রবি-রেক্সের শাসনে শহর আজ যাবতীয় নোংরা, অস্বাস্থ্যকর, এবং কুরূপ ব্যক্তি ও বস্তুর থেকে মুক্ত। কিন্তু রবি-রেক্স নিরাপদ নন। কেউ তাঁকে মারতে চায়! কে সেই আততায়ী?
প্রায় দু'বছর আগে শারদীয়ার পাতায় আত্মপ্রকাশ করামাত্র এই উপন্যাস সোশ্যাল মিডিয়ায় হিংস্রভাবে আক্রান্ত হয়েছিল। সেই সমালোচকেরা, এবং জঁর ফিকশনের অনুরাগী পাঠকেরা এই গল্পকে কল্পবিজ্ঞান বা পাল্প থ্রিলার হিসেবে মেনে নেননি। তার কারণটাও সহজবোধ্য: কাহিনিতে বর্ণিত একটি প্রযুক্তিরও উৎপত্তিগত ব্যাখ্যা দেননি লেখক, অথচ পদার্থবিদ্যার নিয়মগুলো নিয়ে তিনি প্রায় ছেলেখেলা করেছেন। কিন্তু একটি ব্যর্থ কল্পবিজ্ঞান হিসেবেই কি এটি রচিত? উপন্যাসটা পড়তে গিয়ে আমার মনে হল, হাইনলাইনের দুটি অমর সৃষ্টি "লাইফলাইন" এবং "-অল ইউ জম্বিজ-" থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে রচিত এই কাহিনিতে কল্পবিজ্ঞানের ট্রোপগুলো আসলে রোবটের চোখে জলের মতোই হাস্যকর ও প্রক্ষিপ্ত। এই কাহিনি আসলে অভিমান, অপমান, ও দারিদ্র্যে বেঁকেচুরে যাওয়া প্রতিভার সঙ্গে লোভ আর ক্ষমতার মেলবন্ধনের এক পরিণতি ফুটিয়ে তুলতে চায় কল্পবিজ্ঞানের মোড়কে। লেখকের সেই প্রয়াস কি সফল হয়েছে? আবেগ, কবিত্ব, এবং সেনসেশনালিজমের চড়া রঙ ও রূপ দিয়ে গড়া এই উপন্যাস সবার ভালো লাগবে না, লাগার কথাও নয়। তবে অনাগত ভবিষ্যতের যে অযুত-নিযুত সম্ভাবনা নিজেদের গর্ভে নিয়ে আমরা নিজেদের ভাসিয়ে দিই এই ধাবমান কালে, উপন্যাসের আড়ালে তার ক'টি ঢেউয়ে পা ডোবাতে বোধহয় একেবারে খারাপও লাগবে না। যতটা সমালোচিত হয়েছিল এই উপন্যাস, ততটা খারাপ এটি নয়। তাই, পড়ে দেখতেই পারেন। একদিনও লাগবে না বইটা পড়তে। সেটুকু সময় তো দেওয়াই যায়, তাই না?
"যে জন্মদাতা পিতাকে আপনি দেখেছেন সেই পিতা নই মাই ডিয়ার সন! আমি সেই পিতা যাকে কখনো দেখা যায় না! আমি বিশ্বপিতা। অথবা বলতে পারো দুনিয়ার সবচেয়ে বড়ো বিজ্ঞানী। এই বিশ্ব, বিশ্বের তুচ্ছতম প্রাণী থেকে শুরু করে শ্রেষ্ঠতম জীবও আমারই সৃষ্টি। আমি এই ব্রহ্মান্ডের স্রষ্টা। সবার পিতা। "✝️❤
প্রিয় লেখিকার নামের সাথে নতুন করে আর কি পরিচয় করাব🌝জনপ্রিয় অধীরাজ সিরিজের স্রষ্টা। শেষ করলাম ওনারই লেখা একটা সাইন্স ফিকশন "একদিনের ঈশ্বর "।
🍁উপন্যাসটি হলো ২০১৬ থেকে ২০৪৬ এই ৩০ বছরের একটা টাইম ট্রাভেল এর গল্প।
বিজ্ঞানী ড. রবিনসন ২০১৬ সালে আবিষ্কার করলেন ভবিষ্যত দেখার যন্ত্র। আর সেই যন্ত্র দিয়েই নিজের ৩০ বছর পরের ভবিষ্যত দেখতে পেলেন। তাঁর যন্ত্রের স্ক্রিনে ফুটে উঠেছে কয়েকটা শব্দ,
✴️"Murdered by the nearest and dearest one on 26 December, 2046"✴️
এর পরেই বিজ্ঞানীর মাথায় চাপল তিনি নিজের ভবিষ্যতই পরিবর্তন করে দেবেন, ভবিষ্যতে গিয়ে ধ্বংস করে দেবেন তাঁর মৃত্যুর কারনকে।
এক অচেনা অজানা বন্ধুর সাহায্য নিয়ে তিনি টাইম ট্রাভেল করে চলে গেলেন ২০৪৬ সালের পৃথিবীতে। আর সেই ৩০ বছরের নিজের পরিবর্তন, নিজের নৃশংসতা, অহংকার ইত্যাদি দেখে শিউরে ওঠেন নিজেই। তিনি নিজেকে ঈশ্বর দাবি করে বসেছেন ২০৪৬ সালে।
✝️তিনি কি পারবেন নিজের খুন হবার কারণ কে আটকাতে?
✝️"নেয়ারেস্ট এন্ড ডিয়ারেস্ট ওয়ান " সেটাই বা কোন ব্যক্তি বা অন্য কিছু ?
✝️এই ৩০ বছরে নিজের কি কি পরিবর্তন তিনি দেখলেন? যে শিউরে উঠতে হলো।
টুইস্ট আছে একদম শেষে, আর তীব্র রহস্যও। ৩০ বছর আগের রবিনসন আর ৩০ বছর পরের রবিনসন (নাম বদলে হয়েছে রবি -রেক্স ) যখন নিজেদের মুখোমুখি হলেন, রবি রেক্স ঘোষণা করলেন এই ২০৪৬ সালেও টাইম মেশিন আবিষ্কারই হয়নি।
✝️তাহলে বিজ্ঞানী রবিনসন কিভাবে ২০১৬ র অতীত থেকে ভবিষ্যতে পাড়ি দিতে পারেন?
🫡এরকম কনসেপ্ট এ লেখা আগে কখনো পড়িনি। সাইন্স ফিকশন তাঁর সাথে সংযোগ হয়েছে ঈশ্বর ভাবনা। বিজ্ঞানের সাথে ঈশ্বরের যোগ ঘটিয়ে ফিকশন কাহিনী এটাই প্রথম পড়লাম। সাইন্স ফিকশন বরাবর আমার ভীষণ প্ৰিয়। এই বইটিও পড়ে খুব ভালো লেগেছে।
❤️উপন্যাস টি পড়ার সময়ে বার বার নিজের জীবন টাকে উপভোগ করতে হবে এটাই বুঝতে পেরেছি।
❤️জীবন একটাই, আর সেটা কে নিয়ে সর্বদা বর্তমানে বেঁচে থাকতে হবে। মান, সন্মান, খ্যাতি, অর্থ এই সবের ভাবনা ছেড়ে যদি নিজের জীবনের দিকে যদি একটু মন দেওয়া যায়। এই প্রসঙ্গে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের একটি কবিতা মনে পড়ছে "লোকটা জানলোই না " যারা পড়ছেন কবিতাটি , তারা বুঝতে পারবেন কেন বললাম।
❤️যখন মৃত্যু বলে কিছু থাকবে না, তখনি বরং বড়ো অসহায় মনে হবে, মৃত্যুর জন্য ছট ফট করতে থাকবে, তাও মৃত্যু হবে না। একটু ভুল বলা হলো। মৃত্যু হবে, কিন্তু তাঁর জায়গায় ফিরে আসবে সেই ব্যক্তির জীন থেকে বানানো নতুন একটি ক্লোন। অবিকল তাঁর মতোই। যদিও এটা কল্পকাহিনী, তবুও এটা খুব একটা অসম্ভব নয়, ভবিষ্যতের জন্য। যখন বর্তমানেই টেস্ট টিউব বেবি চলে এসেছে।
এর বেশি আর বলব না। আমার প্রতিক্রিয়া বললাম, আপনিও পড়ুন, রহস্য + বিজ্ঞান মনস্ক + ঈশ্বর ভাবনা +... সব কিছুর স্বাদ পাবেন এখানে। ভালো লাগবেই। শেষের টুইস্ট টা মারাত্মক ❤✝️
এই ধরনের আরও রিভিউ পেতে এবং নিত্য নতুন বই সম্পর্কিত তথ্য পেতে like, follow..করে সাপোর্ট করতে পারেন আমার ফেসবুক পেজ Books With Amir কে❤️। সকলে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এবং অতি অবশ্যই সাহিত্যে থাকুন ❤। ধন্যবাদ🙏