Ishwar Chandra Vidyasagar (Bengali: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর Ishshor Chôndro Biddashagor 26 September 1820 – 29 July 1891), born Ishwar Chandra Bandopadhyay (Bengali: ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, Ishshor Chôndro Bôndopaddhae), was an Indian Bengali polymath and a key figure of the Bengal Renaissance. Vidyasagar was a philosopher, academic, educator, writer, translator, printer, publisher, entrepreneur, reformer, and philanthropist. His efforts to simplify and modernize Bengali prose were significant. He also rationalized and simplified the Bengali alphabet and type, which had remained unchanged since Charles Wilkins and Panchanan Karmakar had cut the first (wooden) Bengali type in 1780. He received the title "Vidyasagar" ("Ocean of learning" or "Ocean of knowledge") from the Calcutta Sanskrit College (where he graduated), due to his excellent performance in Sanskrit studies and philosophy. In Sanskrit, Vidya means knowledge or learning and Sagar means ocean or sea. This title was mainly given for his vast knowledge in all subjects which was compared to the vastness of the ocean
'আখ্যানমঞ্জরী' পড়া মানে শুধু বিদ্যাসাগরের লেখনী নয়, তাঁর চরিত্র, জীবনদর্শন, এবং নিঃশব্দ অথচ দৃঢ় অবস্থানকে অনুধাবন করা। পোশাক—ধুতি, চাদর, চটিজুতো—যেখানে অন্যদের কাছে ছিল দৈনন্দিনের অংশ, সেখানে বিদ্যাসাগরের কাছে তা হয়ে উঠেছিল আত্মপরিচয়ের প্রতীক। শহরের চটকদার সভ্যতার মধ্যে দাঁড়িয়ে তিনি নিজের সাধারণ জীবনধারাকে ত্যাগ করেননি; বরং তা আরও দৃঢ়ভাবে ধারণ করেছেন। একবার মাত্র হ্যালিডে সাহেবের অনুরোধে আধুনিক পোশাক পরে তিনি বুঝতে পারেন, তা তাঁর নয়। তিনি ছিলেন বাঙালির নিজস্বতার এমন এক কণ্ঠস্বর, যা কথা বলত চুপচাপ—কিন্তু প্রবল আত্মবিশ্বাসে।
বিদ্যাসাগরের অনমনীয়তা ছিল প্রতীকী প্রতিবাদ। সোসাইটিতে চটিজুতো খুলে ঢোকার নির্দেশ তাঁকে আহত করেছিল—তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল দৃপ্ত, ক্ষিপ্ত এবং আত্মসম্মানে পূর্ণ। এরপর তিনি আর ঐসব প্রতিষ্ঠানে যাননি। নিজের পথেই চলেছেন, সেই নির্ভার, নিজস্ব পোশাকে, যা তাঁকে গড়ে তুলেছিল।
বিশ্বসাহিত্যে, এমন বহু চরিত্র রয়েছে, যারা পোশাকের মধ্য দিয়ে আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি এবং প্রতিরোধ প্রকাশ করেছে। টলস্টয়ের War and Peace-এর পিউরুস্তিনী, রবীন্দ্রনাথের ইন্দ্রে, নাগীব মাহফুজের জাকা, বা এনগুগি ওয়া থিয়োঙ্গোর জেউল—প্রতিটি চরিত্রের বাহ্যিক রূপ ছিল তাদের অন্তরসত্তার প্রতিরূপ। তেমনি বিদ্যাসাগরের চটিজুতো ছিল তাঁর স্পর্ধিত আত্মমর্যাদার ছাপ। তাঁর ধুতি ছিল এক নীরব ঘোষণা—আমি কে, কোথা থেকে এসেছি, এবং কোথায় দাঁড়িয়ে আছি।
এইভাবে, আখ্যানমঞ্জরী শুধুমাত্র একটি আত্মজীবনচিত্র নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক দলিল। এটি আমাদের শেখায় যে পোশাক কখনো কখনো ভাষার চেয়েও উচ্চকণ্ঠ হতে পারে। বিদ্যাসাগরের এই জীবনবোধ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—নিজস্বতা টিকিয়ে রাখা কোনো পশ্চাদপদতা নয়; বরং তা হলো এক বুদ্ধিদীপ্ত এবং সুকৌশলী প্রতিরোধ।
His dress was his voice. And in its quietness, it roared.