Jump to ratings and reviews
Rate this book

ম্যানহাটানে মুনস্টোন

Rate this book

154 pages, Hardcover

5 people are currently reading
37 people want to read

About the author

Sujan DasGupta

28 books10 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
10 (6%)
4 stars
57 (38%)
3 stars
69 (46%)
2 stars
9 (6%)
1 star
3 (2%)
Displaying 1 - 16 of 16 reviews
Profile Image for Muhammad .
152 reviews12 followers
June 16, 2017
গোয়েন্দা গল্পগুলোর মূল আকর্ষণ কি গোয়েন্দা চরিত্রটি? নাকি কাহিনীর মারপ্যাঁচ? শার্লক হোমস, ফেলুদা, পোয়ারো কি ব্যোমকেশের পাল্লায় পড়ে খুব ঘোরালো কেইসকেও আর অত জটিল মনে হয় না! কি অনায়াসে সূত্রের সব জাল গুটিয়ে ভীষণ প্যাঁচালো রহস্যকেও এঁরা জলবৎ তরলং করে ছেড়েছেন! মনে আছে, বার-তের বছর বয়েসে প্রথম যখন শার্লক হোমস পড়তে বসলাম তার স্মৃতি। প্রথম গল্পটাই ছিলো ডয়েলের অন্যতম মাস্টারপিস, ‘দি সাইন অফ ফোর’। বাংলা অনুবাদে নামটা আরো মোক্ষম হয়ে উঠেছিলোঃ ‘চিহ্নচতুষ্টয়’। ‘চিহ্নচতুষ্টয়’ উপন্যাসে খুনের অকুস্থলে গিয়ে হোমস দেয়ালে রক্ত দিয়ে খুনীর লিখে যাওয়া বাণী পড়েই খুনীর উচ্চতা ঠিকঠাক বলে দিয়েছিলেন। যুক্তিটা ছিলো মানুষ দাঁড়িয়ে কিছু লিখতে গেলে তার চোখ বরাবর লেখে, তাই মাটি থেকে লেখার উচ্চতা যত, লেখকের উচ্চতাও মেরেকেটে ততখানিই। এটুকু পড়ে রীতিমতো মাথা ঘুরে পড়ে যাবার উপক্রম হয়েছিলো আমার! ঐ বয়েস পর্যন্ত সাত-আটটা ক্লাস পাস দিয়ে এসেছি, দিনের পর দিন ক্লাসরুমে বসে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বোর্ডে লিখতে দেখেছি, তবুও এ সহজ ব্যাপারটা চোখে পড়েনি কোনদিন? দেখা আর পর্যবেক্ষণের পার্থক্যটা সেই সেবারই প্রথম বুঝলাম।

তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ শক্তি কাজে লাগিয়ে বৈজ্ঞানিক উপায়ে রহস্যভেদ করা প্রথম গোয়েন্দাটি এডগার অ্যালান পো’র অবদান, সি অগাস্তে দুপ্যাঁ। হোমসের আবির্ভাব তারও প্রায় পঞ্চাশ বছর পর। দুপ্যাঁ’র ব্যাক্তিগত ব্যাপারে অত বিষদ কিছু জানা যায়না কারণ তাঁর উপস্থিতি মাত্র তিনটে গল্পে। অপরদিকে ছাপান্নটি গল্প আর চারটি উপন্যাসে হোমস আছেন স্বরূপে, ফলে দুনিয়াব্যাপী অজস্র মানুষ হোমসের রোমান্স জীবন, ধর্মীয় বিশ্বাস, কোকেনের নেশার অভ্যেস থেকে জন্মদিনটা (যা আমার নিজের জন্মদিনের একদিন আগে। অ্যাস্ট্রলজি-ফজিতে বিশ্বাস নেই, নিজের জন্মদিন বেছে নেবার ব্যাপারেও আমার কোনই হাত নেই, তবু ক্ষুরধার মগজের পৃথিবীবিখ্যাত অমন একজনের সাথে পিঠাপিঠি জন্মদিনের সুবাদে নিজেকেও অমন বুদ্ধিধর ভেবে কলার নাড়াতে মন্দ লাগেনা বটে!) অব্দি জেনে বসে আছেন। হোমস ঢ্যাঙা, সুপুরুষ এবং বলশালী এ ব্যাপারটি মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত। দুঁপ্যার ব্যাপারে অমন কোন ইঙ্গিত না থাকলেও শারীরিক গড়ন ও বয়েসের দিক দিয়ে হোমসের কাছাকাছি ধরণের কিছু হবেন এমন ধারণা করে নেবার পক্ষেই বোধহয় বেশীরভাগ মানুষ ভোট দেবেন (ব্যতিক্রম গ্রাফিক নভেলের শীর্ষ গুরু আল্যান মুর। তাঁর দুনিয়া কাঁপানো গ্রাফিক নভেল ‘দি লীগ অফ এক্সট্রাঅর্ডিনারী জেন্টেলমেন’-এ আল্যান কোয়ার্টারমেইন, ডোরিয়ান গ্রে, ইনভিজিবল ম্যান, ড. জেকিল (ওরফে মি. হাইড!), ড্রাকুলার স্ত্রী, ইত্যাদি একাই একশ চরিত্রের পাশে ছোট্ট করে উপস্থিত আছেন দুঁপ্যা। মুর দুঁপ্যাকে দেখেছেন অশীতিপর এক বৃদ্ধ হিসেবে)।



সুপুরুষ, তরুণ গোয়েন্দা চরিত্রের ধারণার অতি ব্যবহারে একঘেয়ে বোধ করেই হয়তো জি কে চেস্টারটন সৃষ্টি করলেন তাঁর গোয়েন্দা চরিত্র ফাদার ব্রাউন। মাঝ বয়েসী ছোটখাটো গড়নের ছাতা হাতে বগলে বাইবেল চেপে ঘুরে বেড়ানো ফাদার ব্রাউনকে চেস্টারটন রীতিমতো হোমসের উল্টোরথ বানিয়ে ছাড়লেন। ফাদার ব্রাউনের মস্তিষ্ক কতটা প্রখর কিংবা তা আদৌ হোমসের সমকক্ষ কী না সে বিচার কালের হাতেই ছেড়ে দেয়া যাক; সুপুরুষ, উশৃঙ্খল তরুণ না হয়েও যে গোয়েন্দা হওয়া চলে এটি অন্তত প্রমাণিত হলো চেস্টারটনের হাতে। এই ধারাতেই রহস্য সম্রাজ্ঞী ক্রিস্টিও ফাদার ব্রাউনের আবির্ভাবের বছর ছয়েক পরে নিয়ে এলেন তাঁর গোয়েন্দা চরিত্র বেলজিয়ান পুলিশ বাহিনীর সাবেক সদস্য এরকুল পোয়ারোকে। সহকারী হেস্টিংস এর মতে পোয়ারোর উচ্চতা পাঁচ ফুট চারের বেশী কোনমতেই হতে পারেনা। ডিম্বাকৃতির মাথার পোয়ারোর চুলও বিশেষ নেই (আধুনিক টিভি অ্যাডাপ্টেশনে অবশ্য পোয়ারোকে টেকো মাথাই দেখানো হয়), এমনকি, curtain গল্পে পোয়ারোকে স্বীকার করতে দেখা গেছে তাঁর মাথার চুল আর বিখ্যাত গোঁপ জোড়া, দুইই নাকী নকল! এছাড়া পোয়ারোর বিশাল বপু তো আছেই। পোয়ারো কিংবা ফাদার ব্রাউনের শারীরিক গড়নের এই বর্ণনাগুলোই বলে দেয় সুদর্শন যুবাপুরুষের ধারণাটিকে ভেঙ্গে দেয়াই চরিত্রগুলোর স্রষ্টাদের মূল উদ্দেশ্য ছিলো। লম্বা-বেঁটে, সাদা-কালো, সুন্দর-অসুন্দর এসব কিছুকে ছাপিয়ে মগজের শ্রেষ্ঠত্বের বিজ্ঞাপন করলেন চেস্টারটন-ক্রিস্টিরা। শারীরিক সৌন্দর্য্য মাপবার সামাজিক পাল্লায় যাঁরা ভীষণ পিছিয়ে, তাঁদের ঢালস্বরুপ হয়েই যেন এলেন ব্রাউন-পোয়ারোরা।

অনাকর্ষণীয় শারীরিক বৈশিষ্ট্যের গোয়েন্দা চরিত্র সৃষ্টি করে প্রচলিত একটি সামাজিক ধারণাকে ক্রিস্টি-চেস্টারটনরা ভেঙ্গে দিলেন বটে, কিন্তু অন্য আরেকটি বিচারে দুপ্যাঁ-হোমস-পোয়ারো-ব্রাউন-মিস মার্পল পঞ্চপাণ্ডব সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে; এঁরা প্রত্যেকেই gentlemen detective। অর্থাৎ কীনা স্বদবংশীয়, খানদানী (বিশেষত ব্রিটিশ) পরিবার থেকে উঠে আসা এই গোয়েন্দাগণ আগাগোড়া সাহেবী কেতায় চলাফেরায় অভ্যস্ত; বেশ একটা ‘বুর্জোয়া’ গন্ধ টের পাওয়া যায় এঁদের চলনে বলনে! বিপরীতে সরকারের টাকায় অন্ন ধ্বংস করে চলা পুলিশ বাহিনীর বোকা অফিসারেরা যাঁরা নতমস্তকে গোয়েন্দাপ্রবরের কাছে এসে সাহায্য মাঙ্গেন, তাঁরা যেন নিতান্তই ‘ওয়ার্কিং ক্লাস’ এর প্রতিনিধিত্ব করেন। Gentlemen Detective নিয়ে আগ্রহী হলে উইকিপিডিয়ার এই তথ্যবহুল চমৎকার নিবন্ধটিতেও চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন। ধান ভানতে শিবের গীত গেয়েই চলেছি, মূল আলোচনায় এখনো ঢুকতে পারলাম না!

ইওরোপীয় ঘরানার উচ্চবংশীয় গোয়েন্দা চরিত্রগুলোর বাহুল্যে ক্লান্ত বোধ করে আমেরিকান লেখকরা তাঁদের গোয়েন্দাসাহিত্যে নিয়ে এলেন ‘হার্ড বয়েল্ড’ চরিত্রগুলো। এই ঘরানার সবচেয়ে বিখ্যাত নামদু’টি সম্ভবত স্যাম স্পেইড (দ্যা মল্টিজ ফ্যাল্কন) ও ফিলিপ মারলো (দি বিগ স্লিপ)। ‘ক্যাসাব্ল্যাঙ্কা’ খ্যাত হামফ্রে বোগার্ট অভিনয় করেছেন দুটি ভূমিকাতেই, ১৯৪১ ও ১৯৪৬ সালে যথাক্রমে। হার্ড বয়েল্ড গোয়েন্দারা ঢের বাস্তবসম্মত এক পৃথিবীর প্রতিনিধিত্ব করেন যেখানে আইন কানুনেরও ফাঁক আছে; দুর্নীতি, নোংরামো আর বদমায়েশীর দিক দিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সাথে সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্রগুলোর আদপে তেমন কোন ফারাক নেই এইসব গল্পে। হার্ড বয়েল্ড ডিটেক্টিভ গল্পগুলো সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে মূলত সাহিত্যের ‘ন্যাচারালিজম’ আন্দোলনেরই একটি অংশ বলা চলে।

ক্রমশ বিবর্তনের মধ্য দিয়ে গোয়েন্দা সাহিত্য বাস্তবতার কাছাকাছি এসেছে, এসেছে সাধারণ্যের নাগালে। তবে বিদেশী এ সকল চরিত্রের তুলনায় আমাদের বাংলা সাহিত্যের গোয়েন্দাদের ঢের বেশী মানবিক ঠেকে। আমাদের ফেলুদা, ব্যোমকেশ, কর্নেল নিলাদ্রী শেখর বসু-এঁরা চিরাচরিত শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালী পরিবারগুলোরই প্রতিনিধিত্ব করেন। আভিজাত্যের আড়ম্বর নেই গল্পগুলোতে, নেই দৈবিক ক্ষমতার অতিকথন। বাড়ীতে জটায়ূ এলে যখন ফেলুদাদের বাড়ীর গৃহকর্মী শ্রীনাথ চা আর ডালমুট পরিবেশন করে অতিথিসৎকারের কাজে লেগে পড়েন, আমরা সাথে সাথে বুঝে যাই এ আমাদেরই গল্প। নিজের গোয়েন্দা চরিত্রটিকে সাধারণের কাতারে নামিয়ে আনতে শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায় তো ব্যোমকেশকে বিয়েই করিয়ে দিলেন সত্যবতীর সাথে। স্ত্রী-পুত্রের প্রতি ভালোবাসা-কর্তব্য ইত্যাদি গোয়েন্দাগিরির ক্ষেত্রে ব্যোমকেশের জন্য সীমাবদ্ধতা হতে পারে��ি। বিশ্বসাহিত্যে সংসারধর্মে ব্রতী ক’জন গোয়েন্দা এসেছেন তা আজ গবেষণার বিষয় হতে পারে, এ ব্যাপারটি আরো মহান হয়ে ওঠে হোমসের ভেতরকার প্রচ্ছন্ন নারীবিদ্বেষের রূপটি দেখতে পেলে।

বাঙালী গোয়েন্দাদের এ আলোচনায় আরো কয়েকটি চরিত্র আসতেই পারে। নারায়ণ স্যানাল এর চরিত্র সাবেক আইনজীবী প্রসন্নকুমার বাসু বা পি কে বাসু যিনি পনের বছর আগে (কাঁটা সিরিজের প্রথম উপন্যাস ‘নাগচম্পা’র প্রকাশকাল ১৯৬৯ এর প্রেক্ষিতে) অবসর নিয়ে নিয়েছেন। আটাত্তর বছর বয়েসী সাবেক উকিলের চিন্তাশক্তির ওপর ভরসা আর কে রাখতে যাবেন? কিন্তু রহস্য সমাধানে তাঁর অসামান্য নৈপুণ্য দেখিয়ে দেয় বুড়ো হাড়েও (পড়ুন মগজে) কি ভীষণ শক্তি ধরেন বাসুজি। মুশকিলটা হলো নারায়ণ স্যানাল দারুণ লেখেন বটে, কিন্তু তিনি প্রচুর বিদেশী গল্পের হুবহু বাংলা প্রতিচ্ছবি নিজের নামে বার করেছেন, যা তাঁর চরিত্রটিকে নিয়ে গলাবাজি করবার রাস্তা বন্ধ করে দেয়। কাঁটা সিরিজেরই ‘দর্পণে প্রতিবিম্বিত কাঁটা’ উপন্যাসটি ক্রিস্টির ‘ডেড ম্যান’স মিরর’ এর হুবহু নকল, তিনি সেটা ভূমিকাতে স্বীকারও করেছেন বটে, কিন্তু তাতে দোষ কাটা যায়না; ‘নাগচম্পা’তে পিকে বাসু’র চমৎকারিত্বে যাঁরা মুগ্ধ হয়েছেন তাঁদের জন্য বাসুকে পূর্বসুরী এরকুল পোয়ারোর রেখে যাওয়া সমাধানের পথে হাঁটতে দেখাটা ধাক্কা বিশেষ-ই। স্যানালের সবচেয়ে বিখ্যাত বই ‘বিশ্বাসঘাতক’-এর বড় অংশ মূলত অস্ট্রিয়ান বিজ্ঞানী রবার্ট ইয়ুঙ্ক এর ‘Brighter Than a Thousand Suns’ এর বাংলা অনুবাদ; এছাড়াও ফার্লে মোয়াটের বিখ্যাত বই ‘A Whale for the Killing’ এর ছায়ায় লিখেছেন ‘তিমি তিমিঙ্গিল’। মূল লেখকদের কৃতিত্বটি বরাবরই চেপে গেছেন স্যানাল। এসব কারণে পি কে বাসুর মতো চমৎকার একটি চরিত্রকেও বাতিল করে দিতে হয় পছন্দের তালিকা থেকে।

নীহাররঞ্জন গুপ্তের ‘কিরিটী রায়’ ও বিমল করের ‘কিকিরা’ দু’জনের মাঝেই সেই সাদাসিধে বাঙালীয়ানা ব্যাপারটি আছে, তবে কিরিটী ও কিকিরা তাঁদের পূর্বসুরীদের মতোন মোটেই উজ্জ্বল নন; ক্ষেত্রবিশেষে রহস্য সমাধানে তাঁরা গোয়েন্দাগিরিটা কোথায় করলেন, মগজটা কোথায় খেলালেন তা রীতিমত আতস কাঁচ নিয়ে খুঁজতে বসতে হয়। সুনীলের কাকাবাবুর চরিত্রায়ন যতটা শক্তিশালী, গল্পের মারপ্যাঁচ বেশীর ভাগ সময়ই তার অর্ধেকে এসে ঠেকেছে, কাকাবাবু নিজেকে অবশ্য অমন গোয়েন্দাও দাবী করেননি। মাসুদ রানা অবশ্য এখানে থাকছেন না। গোয়েন্দা বলতে মগজ খাটানো ক্ষুরধার বুদ্ধিধর মানুষদের যে গোত্রটি আমরা বুঝি, রানাকে বোধকরি সেখানে ফেলা যায়না। মগজের চেয়ে পেশীটাই বেশী খাটান রানা। এছাড়াও, আলোচ্য অন্যান্য বাঙালী গোয়েন্দারা কোথাও না কোথাও থেমেছেন, তাঁদের সমাধান করে যাওয়া কেইসের সংখ্যা সীমিত। অন্যদিকে ষাটের দশক থেকে আজ অব্দি একই বয়েস, ক্ষীপ্রতা ও পৌরুষ ধরে রাখা রানা হলিউডি পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র খাটিয়ে শত্রুর আস্তানা উড়িয়ে দিয়ে দুষ্টের দমন করেই চলেছেন; বিশ্বাস-অবিশ্বাসের সীমারেখাটা এইখানে এসেই বড্ড ঝাপসা হয়ে পড়ে।

একের পর এক মানবিক গুণসম্পন্ন গোয়েন্দাদের মিছিল আমাদের একটু একটু করে ‘কনভিন্স’ করে গোয়েন্দা হওয়াটা তবে অসম্ভব নয়! ফেলুদা-ব্যোমকেশরা সাধারণ পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেন বটে, একইসাথে তাঁরা সুদর্শন, লম্বা, কৃশকায় ও বেশভূষায় দারুণ রুচির অধিকারীও। নব্বই এর দশকে এসে বিশ্বাসযোগ্য বাঙালী এই গোয়েন্দাদের দলে যোগ দিলেন সুজন দাশগুপ্তের একেন্দ্র সেন। এই লেখার মূল উদ্দেশ্য আসলে একেন্দ্র সেনের বিজ্ঞাপন! আশ কথা পাশ কথার ফালতু বকওয়াজে একেন্দ্র সেনকে আনতে আনতে ইতোমধ্যে হাজারের ওপর শব্দ খর্চা হয়ে গেছে! অতসব সুদর্শন সুবেশী গোয়েন্দার ভীড়ে একেনবাবু রীতিমত একটি কাকতাড়ুয়া বিশেষ, যেন প্রহ্লাদকূলে দৈত্য। সুজন দাশগুপ্তের উত্তমপুরুষে লেখা একেনবাবুর আখ্যানসমূহের প্রথমটি ‘ম্যানহাটনে মুনস্টোন’। লেখকের সাথে একেনবাবুর প্রথম সাক্ষাৎটাই এক্কেবারে অচ্ছেদ্দা জাগিয়ে দেয় মনে। পরিচয় পর্বটা এখানে জুড়ে না দিলেই নয়!

"সাধারণত লোক দেখলে আমার বিতৃষ্ণা হয় না। কিন্তু মিস্টার সেনকে দেখে হল। উস্কোখুস্কো চুল ভর্তি বিশাল মাথা একটা ক্যাংলা শরীরের ওপর বসানো। গায়ে নোংরা সাদা সার্ট। ঘিয়ে রঙের কোটটা এমন কোঁচকানো যে মনে হয় দলামোচা করে কিছুক্ষণ আগে কেউ সেটার ওপর বসেছিল। প্যান্টের অবস্থাও তথৈবচ। আমেরিকায় আসছে লোকটা, কিন্তু জামাকাপড়ের ব্যাপারে এতটুকু হুঁশ নেই! গলার স্বরটাও অত্যন্ত ঘ্যানঘ্যানে, বিরক্তিকর। তারওপর কথার পিঠে 'স্যার' জোড়া। এয়ারপোর্ট থেকে পেরিয়ে সবে ভ্যানউইক এক্সপ্রেস ওয়েতে পড়েছি, মিস্টার সেন নিরবতা ভাঙলেন। মার্লবোরোর প্যাকেট খুলে একটা সিগারেট আমার নাকের সামনে নাচিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "চলবে স্যার?"

"আমি খাইনা।" সংক্ষিপ্ত জবাব দিলাম।

"ভালোই করেন স্যার, ভেরি ব্যাড হ্যাবিট। আমিও এবার ছাড়ব।" বলে সিগারেটটা ঠোঁটে লাগাতে যাচ্ছিলেন। কি ভেবে জানি নামিয়ে নিলেন।

"স্যার, আপনাকে একটা প্রশ্ন করি?"

"করুন।"

"সিগারেটের ধোঁয়া কি আপনাকে বদার করে?"

"ওয়েল, তা অবশ্য একটু করে।"

"তারমানে স্যার, আমি এখানে সিগারেট খেলে আপনি বদারড হবেন।"

"না, না, একটু আধটুতে কি আর অসুবিধা ,আপনি খান।"

"নো স্যার, আই ক্যান নট বদার ইউই। আচ্ছা, গাড়িটা কোথাও থামানো যায়না? আমি তাহলে টুক করে দুটো টান দিয়ে নিতে পারতুম।"

"না, এটা হাই ওয়ে। এমার্জেন্সি স্টপিং-এর জন্যে কোনও লেন না পাওয়া পর্যত থামার উপায় নেই।"

"আই সি"।

আমার খারাপ লাগলো। বললাম, "আপনি খান, এক-আধটা সিগারেটে কিছু এসে যায়না।"

"থ্যাঙ্ক ইউ স্যার, থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ। এটা আবার সময় মত না খেলে সাইনাসটা ট্রাবল দেয়।"

লোকটা উন্মাদ নাকি! সাইনাসের সাথে ধূমপানের সম্পর্ক কি? মরুক গে যাক!"


এহেন কথায় কথায় ‘স্যার’ আর ‘ম্যাডাম’ সম্বোধনে কথা বলা গেঁয়ো এই লোক গোয়েন্দাগিরি করবে ভাবতে আমাদের বয়েই গেছে। কিন্তু একেনবাবু ভাবালেন, এবং সম্মান জাগালেন মনে। কথা বলে বলে হাজারটা প্রশ্ন করে কানের পোকা নাড়িয়ে দেয়া বক্কেশ্বর একেনবাবুর পেটে অত প্যাঁচ আছে কে জানতো? তায় ভদ্রলোক চাকরী করেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে, আমেরিকায় আগমন ক্রিমিনোলজি নিয়ে পড়তে, ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে! এসবই অবশ্য গূঢ় কথা, ক্রমশ প্রকাশ্য। একেনবাবুর চমৎকারিত্ব বের হবার আগে লেখকের সাথে সাথে পাঠকেরও বেশ একটা ধৈর্যের পরীক্ষায় নামতে হয়, তাঁর এলোমেলো প্রশ্ন আর অদ্ভুত কর্মকাণ্ডের গুলিবর্ষণে।

গোয়েন্দা একেনবাবুর আখ্যানগুলো লেখা বেশ চটুল ভঙ্গিতে, বাংলা ভাষার কথ্য রূপটির সৌন্দর্য্যটাও যে অস্বীকার করা যায়না তা সুজন দাশগুপ্ত প্রমাণ করে ছাড়লেন। গল্পের কথক বাপী নিউইয়র্কে থাকেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টারী করেন। তাঁর সাথে থাকেন প্রমথ, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে রসায়ন শাস্ত্রে পিএইচডি লাভের সংগ্রামে আপাতত নিয়োজিত। এঁদের কাছেই একদিন কলকাতা থেকে উটকো অতিথি হিসেবে উড়ে এসে জুড়ে বসেন একেনবাবু। প্রমথ এবং বাপী কথা বলবার সময় প্রচুর ইংরেজী শব্দের ব্যবহার করেন, এমনকি প্রায়শয়ই যখন বাপী চতুর্থ দেয়াল ভেদ করে পাঠকের ঘরে উঁকি দেন, তখনও। এমনিতে বাংলা লেখার মাঝে বিদেশী ভাষার শব্দের ঘন ঘন ব্যবহারে প্রচণ্ড বিরক্ত হই এবং প্রবাসী বাঙালী বাংলায় কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করলে সেটা তৃতীয় বিশ্বের হতদরিদ্র দেশের এক প্রতিনিধির হঠাৎ জাতে ওঠার দায়ে উদ্ভূত ন্যাকামো হিসেবেই ধরে নেই, তবে সুজন দাসগুপ্তের ‘ক্যাজুয়াল’ ভঙ্গিতে লেখা বাংলা ইংরেজীর ম��শ্রণ এই লেখার বিশ্বাসযোগ্যতা বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে, সেইসাথে লেখকের দুর্দান্ত সেন্স অফ হিউমার তো আছেই। লেখালেখিটা যদি গাড়ী চালাবার মতোন হয়, পরিমিতিবোধটুকু হয় ব্রেক চাপার আন্দাজ। ঢাকার রাস্তায় লক্কড় ঝক্কড় লোকাল বাসগুলো চালান যে বাস ড্রাইভারেরা, কন্ডাকটররা যাঁদের সম্মান করে ‘ওস্তাদ’ ডাকেন, তাঁদের ব্রেকের আন্দাজটা অসামান্য। হাজারো গাড়ীর ভীড়ে কি করে অমন নির্ভীক চিত্তে ঝোড়ো গতিতে বাস চালিয়ে বেড়ান, অতটা নার্ভ কোত্থেকে পান সেটা সৃষ্টিজগতের অন্যতম এক রহস্য। কন্ডাক্টর এমনি এমনি যে তাঁকে ওস্তাদ মানেন না সে তো এখান থেকেই পরিষ্কার! একেনবাবুর গল্পগুলোর বয়ান হলো অনেকটা এমন; বাংলা-ইংরেজীর বিপজ্জনক মিশ্রণের ভেতরই সময়মতো ব্রেক করে করে গতিটাকে সামলে নেয়া। সুজন দাসগুপ্তের লেখা ঢাকাই বাস ড্রাইভারের সাথে তুলনা করছি বলে ক্ষেপে উঠবেন না! সাদা চামড়ার মানুষদের তথাকথিত সভ্য দেশে ঠিকঠাক নিয়ম কানুন মেনে তো গাড়ী সব্বাই হাঁকাতে পারে, আমেরিকা-ইওরোপে গাড়ী চালিয়ে ‘ওস্তাদ’ ডাক শুনে কে কবে কান দুটোকে ধন্য করেছে শুনি?

পুনশ্চঃ একেনবাবু সিরিজের তৃতীয় কিস্তি ‘ঢাকা রহস্য উন্মোচিত’’র প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। আমেরিকাতে চাকরি করতে এসে বাংলাদেশেরই এক তরুণের একেনবাবুর সাথে পরিচয় ঘটে এবং ঘটনাক্রমে কয়েক মাস আগে ঢাকায় তার আকস্মিকভাবে গত হওয়া বাবার মৃত্যুরহস্য ভেদ করতে একেনবাবু নেমে পড়েন। এই গল্পের দু’টি প্রত্যক্ষ বাংলাদেশী চরিত্র’র দ্বিতীয়টি তারেক। গল্পের শুরুতেই কথক বাপীদের বাসায় তারেক পদার্পণ করে আচমকা ঘোষণা করে ‘বুঝলেন বাপীদাদা, বাংলাভাষা আর সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখবে আমাদের বাংলাদেশ, আপনাদের পশ্চিমবঙ্গ নয়’! এপার-ওপার দু’বাংলারই ভাষা অভিন্ন হওয়ায় শিল্প-সংস্কৃতির ভিত্তিতে একধরণের খুনসুটিমূলক রেষারেষি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তারেকের যুক্তি ছিলো হিন্দী ও ইংরেজীর আধিক্যে বাংলা ভাষা পশ্চিমবঙ্গে পালাই পালাই করছে। ওপার বাংলার অসংখ্য বন্ধুর মুখেও আমি একই কথা শুনেছি। আমাদের চলচ্চিত্র কি হালের সাহিত্য ওপার বাংলার চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে আছে আজো, কিন্তু বাংলার চর্চাটা হয়তো তুলনামূলকভাবে এখানে কিছুটা বেশীই হয়। এতদসত্ত্বেও, যে কিসিমের লেখকরা বর্তমানে বাংলাদেশে লেখালেখি করছেন তাতে দু’বাংলার সাহিত্যের মশালের ভার আমাদের হাতে যদিবা আসে, তা ছেড়ে দেয়াটাই উত্তম হবেক।
Profile Image for Tiyas.
473 reviews126 followers
April 26, 2022
দিব্য জিনিস স্যার।

কবি বলেছেন, একটু থ্রিলে, জাস্ট চিলে -- একেন!

এই ভ্যাসভ্যাসে গরমে, তাই সই।
Profile Image for Shaid Zaman.
290 reviews48 followers
June 18, 2017
লেখকের 'এই বইয়ের নাম অন্য মলাটে ' বইটা পরেছিলাম গত বছর। মারাত্মক বিরক্ত হয়েছিলাম। তাই 'ম্যানহাটনে মুনস্টোন' পড়ার সময় একটু সন্দিহান ছিলাম। ডিসিশন ছিল খারাপ লাগলে আর পড়বো না।

কিন্তু বইটা ভাল ছিল। ধরে রাখতে পেরেছে। আরো ভাল লাগার মূল কারন চিরাচরিত গোয়েন্দা নায়কদের মতো একেনবাবু খুব স্মার্ট লুকিং না, একদম গোবেচারা টাইপ, যেটা সাধারনত পাওয়া যায় না। এখানে আবার আপনারা স্মার্ট লুকিং বলতে শুধুই সুন্দর দেখতে ভেবে নিয়েন না, সেটা বুঝাতে চাইলে আমি গুড লুকিং শব্দটা ব্যাবহার করতাম।

যাই হোক পছন্দ হয়ে গেছে গোয়েন্দা একেনবাবু কে। সেই সাথে বাপিদা ও প্রমথবাবুকেও।
Profile Image for Zohayer Mehtab.
44 reviews
September 30, 2024
ভিন্ন ধাঁচের গোয়েন্দা গল্প। লেখার ধারাবাহিকতা মনোমুগ্ধকর।
Profile Image for Farhan.
726 reviews12 followers
August 17, 2020
নাম শুনে যেরকম অবজ্ঞার ভাব জেগেছিল সেরকম না, চলে। বাংলা সাহিত্যের আরেকজন গোয়েন্দার সাথে পরিচয় হলো, সেটা বোনাস।
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 37 books1,867 followers
December 27, 2018
বাংলা গোয়েন্দা সাহিত্যে একেনবাবু অদ্বিতীয়। রাশভারী, সাজানো-গোছানো, বা ঝাঁ-চকচকে সব ব্যক্তিত্বের থেকে আলাদা এই কলম্বো-অনুপ্রাণিত গোয়েন্দার আত্মপ্রকাশ ঘটে এই কাহিনির মাধ্যমেই। রহস্যটি প্যাঁচালো। সেটা সমাধানের জন্য দরকারি সূত্রগুলোর প্রত্যেকটা একেনবাবু তথা লেখক আমাদের সঙ্গে শেয়ারও করেছেন। কিন্তু তবু যখন, একেবারে ক্লাসিকাল গোয়েন্দার মতো একটা বৈঠকে গল্পের সঙ্গে জড়িত সবক'জন মুখ্য চরিত্রকে বসিয়ে রহস্যের ওপর থেকে পর্দা তোলা হয়, যখন সবক'টা আলাদা টুকরো একসঙ্গে এসে ফুটিয়ে তোলে গোটা ছবিটা, তখন চমকে উঠতে হয়।
সলিড রহস্য। সহজ লেখা।
112 reviews
June 10, 2022
চমৎকার!গোয়েন্দা কাহিনী,আরেকটু স্পেসিফিক্যালি বললে,বাঙালি গোয়েন্দাদের প্রতি টান থাকলে অবশ্যপাঠ্য।
Profile Image for Adnan Shovon.
9 reviews2 followers
August 31, 2022
যদি জটায়ু গোয়েন্দা হতেন তাহলে বোধয় একেন বাবু এর মতোই হতেন।
Profile Image for Nur Mohammad Khan.
46 reviews6 followers
May 2, 2022
Sunday Suspense এ শুনলাম। লেখাগুলোকে জীবন্ত করে উপস্থাপন করেছে একেবারে। তবে দেহ না থাকলে প্রাণ দেবে কিসে?
দেহের স্রষ্টাও বেশ মুন্সিয়ায়ার পরিচয় দিয়েছেন তার বর্ণনাশৈলীতে। একমাত্র বর্ণনাভঙ্গির বদৌলতে অপরাধীকে আগেই শনাক্ত করে ফেলতে পারলেও, শেষ পর্যন্ত মনোযোগ ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।

আগামীকাল ঈদ। চারদিকে বাজি ফাটছে। তারমধ্যেও যথেষ্ট মনোযোগ ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে গল্পপাঠকদের কল্যাণে। ১৫ শতকে ছাপাখানা আবিষ্কৃত হওয়ার পর গল্পকথকদের বিলুপ্তি ঘটলেও, তারা যেন আবার সেই সোনালী যুগ ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে।

আর একেন বাবু তো আছেনই!
মারাত্মক বুদ্ধিমান, তবে বুদ্ধির তাপে চারপাশের মানুষকে ঝলসে দেন না। সামান্য আঁচে আরামের অনুভূতি পাওয়া যায়।
ঈদের ছুটিতে একেনবাবু কে পেয়ে গেলে মন্দ হতো না!
Profile Image for Sadat Muhit .
93 reviews1 follower
July 19, 2022
সুজন দাসগুপ্তের একেন বাবু সিরিজের একটা গোয়েন্দা গল্প।একেন বাবু দাপ্তরিক কাজে ম্যনহাটনে আসেন।এবং সেইদিন ই তার নিচের এপার্টমেন্টে একটা খুন হয়।খুনটা এত নিখুত হয় যে পুলিশ বলে দেয় এটা আত্মহত্যা এবং কেইস ক্লোসড।বাট একেন বাবু নিজে ইনভেস্টিগেশন চালিয়ে যান।যিনি খুন হউন তিনি হীরের ব্যবসা করেন,আর শুরুতে ভাবা হয় খুনটা হয় একটা মুনস্টন এর জন্য।একটা মামুলি মুনস্টন যার দাম মাত্র ৫-১০হাজার ডলার তার জন্য কি আদোও খুন হতে পারে?নাকি সেটা অন্যকিছু যেমন মুন রক? চাদে থাকা পাথর? জানতে হলে বইটা পড়তে হবে।
Profile Image for Owlseer.
221 reviews32 followers
March 16, 2023
মধ্যম মানের একটি গোয়েন্দা গল্প। কিন্তু গল্পটিতে একেনবাবুর চরিত্রটাই আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে। অতি সাধারণ চরিত্র তথাকথিত গোয়েন্দা ভাইভ নেই একেনবাবু চরিত্রটিতে। নিজেকে সবসময় অন্যের চেয়ে নগণ্য হিসেবে উপস্থাপন করেন যা তার কথায় কথায় ❝স্যার❞ বলা�� মাধ্যমেই বুঝা যায়। এটা কি তার মুদ্রাদোষ নাকি তিনি নিজেকে নগণ্য করার একটি কৌশল তাই কিন্তু লেখক গল্পে পরিষ্কার করলেন না......।
Profile Image for Suman.
86 reviews3 followers
December 11, 2021
Please read my review on another book of the same series, by same author here: https://www.goodreads.com/book/show/3... (ম্যানহাটানে ম্যানহান্ট).
I recommend to watch Eken Babu web series in OTT platform. I liked the series more than the print edition.
Profile Image for Ronaldo Das.
16 reviews
May 11, 2022
বাংলায় যে হটাৎ এরক্যুল পৈরো আর জটায়ুর একটা সংমিশ্রণে গোয়েন্দা পেয়ে যাবো, তা বোধয় কেউ এসে বললে চট করে বিশ্বাস করতে পারতাম না
Displaying 1 - 16 of 16 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.