খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করলেন রেভারেন্ড কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জি। একই সময়ে মধুসূদন দত্ত ‘মাইকেল’ হলেন তবে ধর্ম সম্পর্কে তাঁর ধারণা ভিন্ন। ওদিকে ব্রাহ্ম সমাজের আন্দোলন জোরদার হচ্ছে। জীবনের এক সংকটময় মুহূর্তে যুবক রবীন্দ্রনাথ ‘মৃত্যুর’ নতুন পাঠ পেলেন পিতৃদেবের কাছ থেকে। ধর্মান্তর কী? কোনও বাহ্যিক প্রক্রিয়া না অন্তর্মুখী বিকাশের এক স্তর। পাণ্ডিত্য নয় অথচ ধর্মের ব্যাখ্যা দিলেন ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব।
অভিজিৎ চৌধুরীর জন্ম ১ সেপ্টেম্বর ১৯৬৩, মধ্য কলকাতায়। ইংরেজি সাহিত্যে এম এ। পি জি ডি পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট। ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস(এক্সিকিউটিভ)। বর্তমানে তেহট্ট, নদীয়ার বিডিও।প্রকাশিত উপন্যাস ‘মন্থরা’, ‘সমাগত মধুমাস’(১ম ও ২য় খণ্ড), ‘ধর্মান্তর’, ‘ধর্মে আছি জিরাফে নেই’ ইত্যাদি। ছোটগল্পের বই ‘দশটি গল্প’। পেয়েছেন মদনমোহন তর্কালংকার সম্মাননা ২০১৭। ‘মন্থরা’ উপন্যাসটি ওড়িয়া ভাষায় অনূদিত।
কাহিনী শুরু হয় রেভারেন্ড কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে যিনি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হোন। সময়টা উনবিংশ শতাব্দী; যখন বড় পরিসরে নিম্ন শ্রেণীর হিন্দুরা আর্থসামাজিক কারনে তো খ্রিষ্টান হচ্ছেই পাশাপাশি উচ্চশ্রেণীর হিন্দুরাও ধর্মান্তরিত হচ্ছে। কেউ কেউ বিলাত যাবার জন্য যেমন মধুসূদন দত্ত, কেউ কেউ ডিরোজিওর থেকে প্রথাগত নিয়ম ভাঙতে কিংবা কেউ কেউ শুধু দু-বেলা অন্নের নিশ্চয়তা পেয়ে। ব্রাহ্মসমাজের উৎপত্তি এবং ব্যর্থতা, হিন্দু সমাজে বিবেকানন্দ আর রামকৃষ্ণের আবির্ভাব সব মিলিয়ে বেশ জটিল ও ইতিহাসের মোড় ঘোরানো সময়। সুনীলের পর ওই সময়টা নিয়ে অনেকেই লিখা শুরু করছেন। বাংলায় একটা নবজাগরণ ঘটতে গিয়েও ঘটলোনা কিন্তু ওই সময়টা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
লেখকের গদ্য বেশ ঝরঝরে, পড়তে ভালো লেগেছে। চরিত্রগুলোর সাথে কানেক্ট করা যায় নিজেকে। আরো বড় পরিসরে বই আকারে বের হয়েছে কিনা জানিনা, হলে বেশ হতো।