Kalpobiggan Samagra is a popular science fiction of Premendra Mitra in Bangla. Premendra Mitra was popular Bengali Author, Poet, Thriller and Short Story Writer. He was born in 1904 and died in 1988. His first poem is Prothoma published in 1932. His spouse was Beena Mitra. His popular books are Kuhoker Deshe, Paank, Kuasha, Michhil, Kalpobiggan Samagra etc. Download Premendra Mitra Science and Bangla Books and Read Kalpobiggan Samagra by Premendra Mitra.
Premendra Mitra (Bangla: প্রেমেন্দ্র মিত্র) was a renowned Bengali poet, novelist, short story writer and film director. He was also an author of Bengali science fiction and thrillers.
His short stories were well-structured and innovative, and encompassed the diverse to the divergent in urban Indian society. The themes of poverty, degradation, caste, the intermittent conflict between religion and rationality and themes of the rural-urban divide are a thematically occurring refrain in much of his work. He experimented with the stylistic nuances of Bengali prose and tried to offer alternative linguistic parameters to the high-class elite prosaic Bengali language. It was basically an effort to make the Bengali literature free from softness, excessive romance and use of old style of writing which were prevalent in older writings.
বাংলা সাহিত্যে কল্পবিজ্ঞানের শুরু কার হাতে? ‘সেরা কল্পবিজ্ঞান’ সম্পাদনা করতে গিয়ে অনীশ দেব লিখেছেন, “কল্পবিজ্ঞান কাহিনিতে বিজ্ঞানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণী ভূমিকা থাকবে। ... এই মৌলিক শর্তটি প্রয়োগ করে বাংলাভাষায় কল্পবিজ্ঞানের সূচনা ১৮৯৬ সালে, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর কলমে। কুন্তলীন পুরস্কার প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে তাঁর ‘নিরুদ্দেশের কাহিনি’ গল্পটি। এর পঁচিশ বছর পরে ‘অব্যক্ত’ গ্রন্থ প্রকাশের সময়ে জগদীশচন্দ্র গল্পটিকে পরিমার্জনা করেন। নাম দেন ‘পলাতক তুফান’। ... বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র এই গল্পে কল্পবিজ্ঞানের নিয়ম মেনে ‘সারফেস টেনশান’ বা ‘পৃষ্ঠটান’ তত্ত্বের প্রয়োগ করেছিলেন।” ওই বইয়ে কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যে পরবর্তী পর্যায়ের কথা বলতে গিয়ে অনীশ দেব ১৯৬৩ থেকে অদ্রীশ বর্ধন-এর সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘আশ্চর্য!’ পত্রিকার কথায় এসেছেন। তার মাঝখানের এই সময়টাতে কিন্তু বাংলায় কল্পবিজ্ঞান সাহিত্য থেমে থাকেনি। সমকালীন বিজ্ঞানচর্চার নানা দিক ও জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে লেখা হয়েছে নানা রোমাঞ্চকর কাহিনি, এবং আরও অনেক কিছু। এই ধরনের রচনা যাঁদের হাতে একইসঙ্গে সুখপাঠ্য অথচ তথ্যানুগ হত তাঁদের অন্যতম হলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র। ছোটোগল্প ও কবিতায় যুগান্তর আনা, ‘ঘনাদা’-র মতো চরিত্রসৃজন ও তার ‘টল টেলস্’-এর মাধ্যমে ইতিহাস থেকে বিজ্ঞানের নানা তথ্য পরিবেশন করা, এমনকি চলচ্চিত্র নির্মাণে আধুনিকতার প্রসারে নিজস্ব অবদানের সৌজন্যে প্রেমেন্দ্র মিত্র বাংলায় আক্ষরিক অর্থেই অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। কিন্তু কল্পবিজ্ঞানের জগতে তাঁর নিজস্ব অবদান পাঠকের সামনে আলোচ্য সংকলনটির মাধ্যমে সুমুদ্রিত আকারে ফিরিয়ে আনার জন্য দে’জ পাবলিশিং আমাদের কাছে ধন্যবাদার্হ হয়ে থাকবেন। আমাদের সৌভাগ্য যে বইটির সম্পাদনা করেছেন প্রেমেন্দ্র সাহিত্যে বিশেষজ্ঞ এবং ডকুমেন্টেশনের ক্ষেত্রে অক্লান্ত কর্মী সুরজিৎ দাশগুপ্ত। মানুষটির সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচয়ের সুবাদে জানি, ঠিক কতটা পরিশ্রম করে তিনি এর আগে আনন্দ থেকে ‘ঘনাদা সমগ্র’ এবং আইনি দশচক্রে ভূতায়িত ‘পরাশর সমগ্র’ সম্পাদনা করেছিলেন। তাঁর সযত্ন শ্রমের চিহ্ন শুধু ‘সম্পাদকীয়’-তেই ধরা পড়েনি। মূল পাঠ উদ্ধার, প্রথম প্রকাশের সময় লেখায় প্রবিষ্ট অনিচ্ছাকৃত টাইপো-র পরিমার্জনা, গ্রন্থসূত্র প্রদান ইত্যাদির মাধ্যমে শ্রী দাশগুপ্ত যে বইটি আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন, সেটি মডেল হিসেবে বিবেচনাযোগ্য। ঠিক কী-কী লেখা আছে এই বইয়ে? সূচিপত্রটি তুলে দেওয়া যাক। ছোটোগল্প - কালাপানির অতলে - দুঃস্বপ্নের দ্বীপ - যুদ্ধ কেন থামল - মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী - হিমালয়ের চূড়ায় - আকাশের আতঙ্ক - অবিশ্বাস্য - লাইট হাউসে - পৃথিবীর শত্রু - মহাকাশের অতিথি - শমনের রং সাদা এই গল্পগুলো অ্যাডভেঞ্চার, রহস্য ও রোমাঞ্চের আদর্শ ককটেল বললেও কম হয়। শুধু টানটান গল্প নয়, সেই সময়ে মানুষ বিজ্ঞানের প্রয়োগ তথা অপপ্রয়োগের যে দিকগুলো নিয়ে ভয় পেত, তার অনেকগুলোই ফুটে উঠেছে এই গল্পগুলোতে। বইটা নতুন করে পড়তে গিয়ে এটাই মনে হল যে এমন খাঁটি বাংলা কল্পবিজ্ঞান কাহিনির একটা ঘরানা থাকা সত্বেও সেটা পরে লোপ পেল কেন? বড়োগল্প ও উপন্যাস - পিঁপড়ে পুরাণ - পাতালে পাঁচ বছর - ময়দানবের দ্বীপ - শুক্রে যারা গিয়েছিল - মনুদ্বাদশ - সূর্য যেখানে নীল এই লেখাগুলোর মধ্যে ‘পিঁপড়ে পুরাণ’-কে হলিউডি ক্রিয়েচার ফিচার-এর সঙ্গে তুলনা করা গেলেও বাকি লেখাগুলো একদম আলাদা। সেগুলোতে যেমন আছে সাহস, উপস্থিত বুদ্ধি ও মানবিকতা সম্বল করে বাঙালি নায়ক বা নায়কদের অভিযানের কাহিনি, তেমনই আছে ‘মনুদ্বাদশ’-এর অবিশ্বাস্য পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপ্টিক অথচ ১০০% দেশি ভুবন-নির্মাণ। আবারও সেই হাহাকারই মনে জাগে যে কেন এই ধারায় সাহিত্যচর্চা পরবর্তী প্রজন্মের সাহিত্যিকদের তথা প্রকাশকদের আকৃষ্ট করল না? পরিশিষ্ট ক. সবুজ মানুষ খ. সাগর রহস্য এই দুটো লেখার মধ্যে প্রথমটা, মানে ‘সবুজ মানুষ’ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রায় মিথোচিত সম্মান পায়। ‘বেতার জগৎ’ পত্রিকায় প্রকাশিত এবং আকাশবাণী-র সাহিত্য বাসরে সম্প্রসারিত এই লেখাটি আদতে সেই সময়ের চারজন কিংবদন্তি-প্রতিম লেখকের ‘চার-ইয়ারি’ প্রয়াস। এতে প্রেমেন্দ্র মিত্র-র সঙ্গে লিখেছিলেন অদ্রীশ বর্ধন, দিলীপ রায়চৌধুরী, এবং সত্যজিৎ রায়। পুরো লেখাটি এই বইয়ে স্থান পাওয়ায় আমাদের সুবিধা হল। সত্যজিতের ‘গল্প ১০১’-এ তাঁর লেখা অংশটি থাকলেও সৃষ্টিসুখ থেকে প্রকাশিত ‘দিলীপ রায়চৌধুরী রচনা সমগ্র’-তে দিলীপ রায়চৌধুরী-র লেখা অংশটা ছিল না। দ্বিতীয় লেখাটা সমুদ্রতল তথা সেখানকার বিচিত্র জীববৈচিত্র্য নিয়ে লেখা কিছু সুখপাঠ্য অথচ তথ্যনিষ্ঠ ফিচারের সমাহার। হয়তো কল্পবিজ্ঞান নয়, তবু এই মূল্যবান লেখাগুলো এই বইয়ে সংকলিত করে সম্পাদক ও প্রকাশক আমাদের সুবিধা করে দিলেন। রঞ্জন দত্ত-কৃত প্রচ্ছদ ও অলংকরণ আকর্ষণীয় হলেও বইটিতে বেশ কিছু মুদ্রণ প্রমাদ আছে, যার একটি সূচিপত্রেই চক্ষুশূল হয়ে বিরাজমান। এছাড়া বইটা নিয়ে আমার একটিই কথা বলার আছে। আপনি কল্পবিজ্ঞান অনুরাগী হোন বা না-হোন, যদি রোমাঞ্চকর কাহিনি বা অভিযান পড়তে ভালোবাসেন, তাহলে এই বইটি আপনার কাছে অবশ্যপাঠ্য। শুভেচ্ছা রইল।