Shamsur Rahman (Bengali: শামসুর রাহমান) was a Bangladeshi poet, columnist and journalist. Rahman, who emerged in the latter half of the 20th century, wrote more than sixty books of poetry and is considered a key figure in Bengali literature. He was regarded the unofficial poet laureate of Bangladesh. Major themes in his poetry and writings include liberal humanism, human relations, romanticised rebellion of youth, the emergence of and consequent events in Bangladesh, and opposition to religious fundamentalism.
প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে ৩৯ টি কবিতার সমন্বয়ে লেখা। বিস্তৃত মাঠের ধূ ধূ প্রান্তর ঘেষা কলমি লতার ফুটে থাকা সৌন্দর্যের মত কবিতা গুলো স্তবক মনে রয়েছে গেঁথে।
আমার ভালো লাগা স্মৃতির মতো করে বারবার মনে করতে ইচ্ছে করে, কবি কেন মৃত্যুর দরজায় দাঁড়িয়ে তার প্রিয়তমাকে আহবান করেছে তার দরজায় কড়া নাড়তে?
বইটিতে ভালবাসা, যুদ্ধ, দলিত সমাজের নানাদিক ফুঁটিয়ে তুলেছেন শামসুর রাহমান। ভাবিনি শুধুই পৃথিবীর বহু জলে রেখা এঁকে চোখের অতল হ্রদের আভায় ধূপছায়া মেখে, গোধূলির রঙে একদিন শেষে খুঁজে নিতে হবে ঘাসের শয্যা। ছন্দ আর মিলনে কথা বানানোর বিচিত্র ব্যবস্থা কবি করেছেন সুনিপুণতা দিয়ে।
তার দরাজ বুকে ছিল প্রেমিকার আটকে থাকা চুল। শিশিরের জলে স্নান করা কৃষকের চামড়ায় লালিত সূর্য ছিল কবির প্রতিটি শব্দে। মন কি জানতো আমার সৌন্দর্যের বির্বণ দুপুরে রেখা মুছে দিয়ে চলে যাবে কবির শব্দ বহুদূরে?
জানি কি করে সমলোচনা করব! কিছু জায়গা যেন বাঁক নিয়েছিল মরুভূমিতে। আমি তৃর্ষাত কাঁক হয়ে খুঁজেছি একটু আশ্রয়, কবি ফিরবে তো নতুন কবিতায় নতুন শব্দ নিয়ে? অসাধারণ যা ছিল! একবাক্যে নান্দনিক ছোঁয়া ।
প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে - শামসুর রাহমান ঢাকা প্রকাশনী মূল্য ২০০ টাকা
বইটির প্রচ্ছদ আমাকে কবিতাগুলো পড়ার আগে এক আধো অন্ধকার পরিবেশ তৈরী করে দেয়। মনে হতে থাকে মাঝখানের লাল মুখটাই আমার চোখ থেকে লাল রক্তের মতো ঘন তরল প্রবাহের জন্য দায়ী— অশ্রু নয় সেটা। আর উপরে বসা বেনামি পাখিটা দেখছে একটা খাঁচায় পাখি যেখানে ধুকে ধুকে মরে যেতে থাকে সেখানে মানুষ বেঁচে থাকার জন্য কত মুখ-চেহারা-মুখোশই না বানায় জীবন নামক পাখিটার উড়ে যাওয়া ঠেকাতে— মানুষও খাঁচায়, সাথে পাখিও খাঁচায়।
আধুনিক কবিতার জগতে শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে ১৯৬০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। অসাধারণ সব কবিতা দিয়ে শুরু হয় বইটি। বইয়ের নামে লেখা প্রথম কবিতাই শকুনের স্মৃতি থেকে বের হয়ে আসা মরণ চিৎকারের মতো কানে বেজে উঠে। চিৎকারের অনুরণন সাথে নিয়ে রুপালি স্নান নিতে যাই। মন রিক্ত হয়ে উঠে। তবে পালানোর কায়দা নেই। পরের কবিতাগুলোও বেঁধে রাখবে প্রথম গান রচিত হয়ে না যাওয়ার পযন্ত।
সামনে এগোতে এগোতে বুঝতে পারি, খাঁচায় এক গোপন ফাঁক আছে— সেখান থেকে গলে পড়ে ভালোবাসার তৈলরং— ভেঙে পড়ে শহরের কোলাহল। কবিতায় কোনো না কোনো ভাগে শহরের বিষণ্ণতা ধরা পড়ে আমার চোখে। বুঝতে পারি, জীবন দাশ নির্জনতাকে ফুটিয়েছেন আর শামসুর রাহমান শহরের ব্যস্ততা-বিপন্নতাকে।
গ্রামের বাড়িতে যে অংশে ছবি তুলতে যাই সেখানেও টের পাই দ্বিতীয় মৃত্যুর মতো অন্ধকার ছেঁকে ধরছে আমাকে। পরিত্যক্ত ঘর— শুকনো পাতার সমাধিস্থল— গাছেরা এখানে প্রেতাত্মার মতো দাঁড়িয়ে আছে; নিশ্চল, ভয়ার্ত অঙ্গভঙ্গি নিয়ে। তিনি অ্যাপোলোকে জিজ্ঞেস করছেন, " তোমার হাসির সোনালি ঝরনা শিশু পৃথিবীর ধূসর পাহাড়ে এখনো লুপ্ত? "।
অ্যাপোলোর কাছে আকুতি, কোথায় ঝলমলে রোদ, শুধুই চারিদিকে ছায়া-নীল দুঃখ-হরিণের গাঢ় কান্না। কবিতা হাহাকার করে উঠে মনে হয়। আমি শব্দের জটিল গোলকধাঁধা পার করে শেষ সীমানায় যাই। বুঝার নিষ্ফল চেষ্টা করি— খাঁচার বাহিরে 'তুমি' নেই, 'তুমি' ক্লান্ত, 'তুমি' কুয়াশা, 'তুমি' গোলাপের বাগানে, কবি তুমিহীন ব্যথাদীর্ণ ঘরে একা।
এই সুন্দর কবিতাগুলোর লেখক শামসুর রাহমানের জন্মদিন ২৩শে অক্টোবর গেল। সময় নিয়ে ফেললাম অনেক। যতটুকু পারি, ক্ষুদ্র মস্তিস্ক দিয়ে উপলব্ধি করার চেষ্টা করলাম। তার বন্দি শিবিরে যাওয়ার অপেক্ষায় আছি আমি এখন। কখন যে ডাক পড়বে ঠিক নেই।