বয়োবৃদ্ধ জীবনময় ঘোষ, একটা সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। বিলেতে পড়াশোনার ও জীবনযাপনের সুযোগ ও মিলেছে যার জীবনে। স্ত্রী গত হবার পর, এক সাহসিনী বিপ্লবী নারী অমলার আশ্রয়, ও তারপর তার সাথেই বাকী জীবনটা কাটিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত, কিন্তু বিয়ের বন্ধনে যেতে অনাগ্রহী।
জীবনবাবুর বৃদ্ধকালের অল্প কিছু দিনের ঘটনা আর ফাঁকে ফাঁকে তার পুরোনো জীবনের স্মৃতিচারণ এই নিয়েই সাজানো গল্পটা। তার প্রাক্তন স্ত্রী, তার প্রাক্তন প্রেমিকা, তার প্রাক্তনের মেয়ে-মেয়ে জামাই এই চরিত্রগুলিই ঘুরে ফিরে এসেছে এইটুকু ডায়েরীতে।ওহ হ্যাঁ, জাহাজের সেই নাতালিয়ার ঘটনাটাও উপভোগ করেছি।
বইটার প্রথম প্রকাশের সাল লেখা ১৯৮০, তার মানে বুদ্ধদেব বসুর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। আর তাই এই ডায়েরীতে (গল্পে) যে তাঁর নিজ জীবনের প্রতিফলন নেই এমনটা বলা মুশকিল। একটা পুরুষবৃদ্ধের জীবনে চাওয়া-পাওয়া আর আফসোসের জায়গাগুলো ভালোই এঁকেছেন তিনি। তাঁর গদ্য নিয়ে কিছু বলার মুরোদ নেই আমার। কিন্তু পাঠক হিসেবে কিছু চাওয়া থাকতেই পারে।
ডায়েরী হলেও এর একটা গল্প আছে। কিন্তু গল্পটা নেহায়েতই ছোট, কোনো পরিণতি নেই। শুধু এটাতেই আপত্তি। আরেকটু লেখা যেত।