এই উপন্যাস বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে নিয়ে। মহালয়ার ভোরে শুরু হয়ে বিসর্জনের রাতে শেষ হয়েছে লাহিড়ী পরিবারের কাহিনি। প্রেম ও প্রতিহিংসা, ভালোবাসা ও ঘৃণা, অপত্যস্নেহ ও অসহায়তা একে অপরের হাত ধরে ঘোরাঘুরি করেছে উপন্যাসের পাতায় পাতায়।
ইন্দ্রনীল সান্যালের জন্ম হাওড়ার বালিতে, ১৯৬৬ সালে। নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ থেকে এম বি বি এস। প্যাথলজিতে এম ডি, পিজি হাসপাতাল থেকে।সরকারি চাকরির সূত্রে কাজ করেছেন সুন্দরবনের প্রত্যন্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে মহাকরণের ডিসপেনসারিতে, লালবাজার সেন্ট্রাল লকআপ থেকে গঙ্গাসাগর মেলার হেল্থ ক্যাম্পে।বর্তমানে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত।প্রথম প্রকাশিত গল্প ২০০৪ সালে ‘উনিশকুড়ি’ পত্রিকায়।শখ: বই পড়া, ফেসবুকে ফার্মভিল এবং হ্যাপি অ্যাকোয়ারিয়াম খেলা, সুদোকু সমাধান।
কিছু-কিছু বই শুরু করার আগে দশবার ভাবা উচিত— আমাকে কি এর মধ্যে কোথাও যেতে হবে? কেউ কি আসবে কোনো কাজ নিয়ে? ফোন বা মেসেঞ্জারে কেউ কি বাধ্য করবে অন্য কাউকে বা কিছুকে সময় দিতে? যেমন আলোচ্য বইটি। নিতান্ত সহজভাবে পাতা উলটে বইটা পড়া শুরু করেছিলাম। কাহিনি শুরু হল মহালয়ার বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভোর দিয়ে। আমাকেও গল্পটা একেবারে টেনে নিল— যেভাবে প্রতি বছর ওই কণ্ঠ ও স্তোত্র-সুর-গান টেনে নেয় নিজের উষ্ণ আশ্রয়ে। এই কাহিনি এক ভেঙেচুরে যাওয়া পরিবারের সদস্যদের পুজো উপলক্ষ্যে একত্র হওয়া নিয়ে। কিন্তু সাজানো বাগানেও থাকে কীট, থাকে সাপ। আলো ও শব্দে ভরা পরিবেশে ভালোর পাশেই থাকে মন্দ, প্রেমের অমৃতে মিশে থাকে প্রতিহিংসার গরল। আর সবকিছু ছাপিয়ে ওঠে মহালয়া থেকে বিজয়া অবধি দশটা দিনে প্রাণপণে বেঁচে উঠতে চাওয়া বাঙালিয়ানা— যা অনেক হারিয়েও কোথায় যেন ধিকিধিকি জ্বলতে থাকে তুষের আগুনের মতো। একের পর এক অধ্যায় পেরোল। চালচিত্র আমাকে ডুবিয়ে দিল চরিত্র আর তাদের আচরণ, কর্তা ও কর্মের বর্ণাঢ্য প্রবাহে। কেটে গেল সময়। কাজ এলে দাঁত খিঁচোলাম। ফোন এলে তেতো গলায় "একটু পরে কথা বলছি" বলে কেটে দিলাম। তারপর আবার ডুব দিলাম এক আশ্চর্য পুজোয়, যেখানে একটি সংসারের ঠাকুরদালান ভরে উঠছে তার সন্তানদের আগমনে। সেখানে আছে রূপের ঝলক, আছে হিংস্রতা, আছে মোহ, বিরাগ, ঈর্ষা। আছে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, পাপ, প্রায়শ্চিত্ত। চেনা চরিত্রদের সহজ, ছক-বন্দি আচরণের মধ্য দিয়েই এক আশ্চর্য দুর্গাপুজোর মধ্যে পাঠককে ডুবিয়ে দিয়েছে এই উপন্যাস। তাতে ঢাকের বাদ্যি আর ধুনোর গন্ধ ঢাকা পড়েছে চিৎকার ও রক্তে। আবার তারই বিসর্জনোত্তর শূন্য অঙ্গন মুহূর্তের জন্য যেন ঝলসে উঠেছে এক... না একাধিক নতুন দুর্গার উদয়ে! এর বেশি কিছু লিখব না। লেখা উচিত হবে না। ইনফ্যাক্ট লিখতে পারবও না বোধহয়। এতগুলো আবেগের জায়গা একসঙ্গে ছুঁয়ে গেছে এই উপন্যাস যে...! সম্ভব হলে বইটা পড়বেন, প্লিজ। আমার বিশ্বাস, আপনাদের ভালো লাগবে। লাগবেই!
দুর্গাপুজোকে ভিত্তি করে এমন পারিবারিক চিত্ররূপী বর্ণনা এর আগে চোখে পড়েনি। ইন্দ্রনীল বাবুর উপন্যাসে সমাজের কোনো না কোনো পটভূমির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা থাকে তবে মানবমনের ভিন্ন সম্পর্কগত চরিত্রের সমকালীন প্রদর্শন ওঁর রচনাতে আলাদা মাত্রা এনে দেয়। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত ঘটনাক্রম এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়। মূল ঘটনাটি এক অসহায় বাবা-মায়ের আন্তর যন্ত্রণাকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে, শেষ হয়েছে আত্মহননে যা মুক্তিরই আরেক ব্যাখ্যা প্রদান করে। প্রেম-প্রতিশোধ-হিংসার যাত্রাপথ যে কতটা ভয়ানক তারই সূত্র খুঁজে পেলাম উপন্যাসটিতে। পড়ুন আর জানার চেষ্টা করুন মনের অন্ধকারময় গলিঘুঁজিগুলো।
ইন্দ্রনীল সান্যাল এই সময়ের অগ্রগণ্য গল্প-বলিয়েদের একজন এবং আমার সবিশেষ প্রিয়। লেখকের 'কুন্দন' উপন্যাস আমার প্রথম পাঠ এবং দীর্ঘদিন পরেও কে এল সায়গলের জীবন আধারিত সেই উপন্যাসের মায়াজাল কেটে আমি পাঠক হিসেবে বেরোতে পারিনি। তাই মেডিক্যাল থ্রিলারের বাইরে লেখক যখন অন্য জঁরের বিশেষ করে সামাজিক বা প্রেমের উপন্যাসের জন্য কলম ধরেন, তখন এক আলাদা প্রত্যাশা কাজ করে।
'চালচিত্র' পড়ে সেই প্রত্যাশা আমার পূর্ণ হয়েছে। বাঙালির বিগেস্ট কার্নিভাল, দুর্গাপূজা নিয়ে এক সুন্দর সামাজিক উপন্যাস চালচিত্র। মহালয়ার ভোরে শুরু হয়ে বিসর্জনের রাতে শেষ হয়েছে লাহিড়ী পরিবারের কাহিনি। বার্ধক্যে, জীবনের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ঋতবান এবং বীণাপানি, লাহিড়ী দম্পতি পুজোর সময় কলকাতায় সপরিবারে একত্রিত হন তার প্রবাসী তিন সন্তানের সঙ্গে, বড় মেয়ে ঋতু , মেজো মেয়ে ঋদ্ধি ও ছোট ছেলে ঋত্বিকের সঙ্গে। এবং পাঠক পরিচিত হন সন্তানসম কিন্তু আশ্রিত সঞ্জয় চরিত্রটির সঙ্গে, যার জীবন জড়িয়ে আছে এই বৃদ্ধ দম্পতির সঙ্গে এক ট্র্যাজিক কাহিনির মাধ্যমে। সঞ্জয় মূলতঃ এই কাহিনির কথক এবং বৃদ্ধ দম্পতির 'অন্ধের যষ্টি'।
মূল কাহিনির সমান্তরালে চলে অন্য এক কাহিনি। আবাসন সংলগ্ন পাড়ার ক্লাব 'ডিক্সন রোডিজ' এবং তার পাঁচ সদস্য, সঞ্জয়ের বন্ধুরা মিলে করে প্রথম দুর্গাপূজোর আয়োজন। পুজোর আবহে আক্ষরিক অর্থেই সকল চরিত্র চাইতে এবং না চাইতেও জড়িয়ে পড়ে আস্তে আস্তে।
টক-ঝাল-মিষ্টি প্রেম, ভালোবাসা, প্রতিহিংসা ও ঘৃণা, অপত্যস্নেহ ও অসহায়তা একে অপরের হাত ধরে ঘোরাঘুরি করে উপন্যাসের পাতায় পাতায়। এবং লেখক তা ভীষণ সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, প্রতিটি চরিত্রের নিজস্ব জীবন ও কাহিনি উপন্যাসের শেষে যেন এক বৃত্ত সম্পূর্ণ করে।
উপন্যাসটি পড়ে ভালো লাগার কারণ অনেক, প্রথমতঃ কাহিনি গতিময়, ঝরঝরে। পুজোর মধ্যে এক ক্ষয়িষ্ণু পরিবারতন্ত্রকে একজোট করার যে চেষ্টা বা বেশ কিছু হারিয়ে যাওয়া বাঙালি মূল্যবোধ বা নস্টালজিয়া, তা ইন্দ্রনীল সান্যাল ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।
দ্বিতীয়, প্রতিটি চরিত্র এবং তার নিজস্ব কাহিনি গড়ে ওঠার যে ভিত, তা ব্যক্তিগতভাবে আমার বেশ প্রাসঙ্গিক লেগেছে। বড় মেয়ের বিদেশে থাকার ফলে যে এন আর আই স্ট্যাটাস এবং চিন্তাভাবনা, মেজ মেয়ের রাজস্থানে এক অবাঙালি জাঠ পরিবারে বিয়ের পর যে প্রতিনিয়ত নিঃশব্দ আপোস বা মানিয়ে নেওয়া, তা কোথাও গিয়ে অবাস্তব লাগেনি।
তৃতীয়, একটি পাড়ার পুজোর প্রথম হাতেখড়িতে যে আন্তরিক পরিবেশ গড়ে ওঠা দরকার, লেখক তা ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম। প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে মহালয়ার গান, স্তোত্র, বা 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' থেকে দুর্গাপূজোর প্রাসঙ্গিক অংশের ব্যবহার উপন্যাসটিকে আরো আকষর্ণীয় করে তুলেছে। এর সঙ্গে সঙ্গে কুমোরটুলি, ধুনুচি নাচ, মায়ের পূজার প্রতিটি উপাচার এবং দুর্গাপূজা সম্পর্কিত কিছু সুন্দর তথ্য বিভিন্ন চরিত্রের কথোপকথনের মাধ্যমেও লেখক পাঠকের জন্য পরিবেশন করেছেন অত্যন্ত সাবলীলভাবে। ইলিনা এবং সঞ্জয় চরিত্রটির মধ্যে এক দুষ্টু-মিষ্টি খুনসুটি ভরা যে প্রেম এবং বন্ধুত্বের কাহিনি লেখক তা সুন্দরভাবে মূল কাহিনির সঙ্গে যেন এক সুতোয় গেঁথে দিয়েছেন।
কিছু প্রশ্ন বা অপছন্দের জায়গা ব্যক্তিগতভাবে থেকে যায়। বেশ কিছু পরিস্থিতিতে সঞ্জয় চরিত্রটির ভূমিকা আমার পছন্দ হয়নি, একটু প্রতিবাদ বা বিরোধিতা করা আশা করেছিলাম, যদিও তা সম্পূর্ণভাবেই লেখকের ভাবনাচিন্তা এবং সৃষ্টির স্বাধীনতা। আবার জাঠ কালচারে কিছুটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার আভাস দিতে গিয়ে ঋদ্ধির স্বামীর চরিত্রটি লেখক অত্যন্ত চড়া দাগে দাগিয়ে ফেলেছেন মনে হয়েছে। বেশ কিছু কথোপকথন এবং সিকোয়েন্স আমার অত্যন্ত রিগ্রেসিভ লেগেছে। অন্তিমে বিসর্জনের আবহেই বিষাদের ছোঁয়ায় যে ক্লাইম্যাক্সের মাধ্যমে লেখক কাহিনিটি শেষ করতে চেয়েছেন, আমার তা একটু অতিরিক্ত মনে হয়েছে, তবে সত্যিই এই 'মনে হওয়া' পাঠক থেকে পাঠক আপেক্ষিকভাবে বদলায়।
দে'জ পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত উপন্যাসটি সুমুদ্রিত। শিল্পী রঞ্জন দত্তের করা প্রচ্ছদটিও অপূর্ব।
ইন্দ্রনীল সান্যালের চালচিত্র উপন্যাসটি শুরু হয় মহালয়ার প্রভাতে, শেষ হয় বিজয়ার সন্ধ্যায়। লেখক এই উপন্যাসে নির্মাণ করেছেন এক ক্ষয়িষ্ণু যৌথ পরিবারের ছায়াচিত্র, যেখানে চরিত্রগুলো কেবল মানুষ নয়—তারা সময়, তারা শোক, তারা স্মৃতি, তারা সম্পর্কের বিবর্ণ ক্যানভাসে ছড়িয়ে থাকা রঙচটা প্রতিচ্ছবি।
ডিক্সন রোডের একটি পুরনো বাড়ি, যার ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসেছে “কৈলাশ এপার্টমেন্ট”—এই ফ্ল্যাটবাড়িই যেন কাহিনির এক নীরব চরিত্র। তার অলিন্দে বাস করছেন লাহিড়ী দম্পতি—ঋতবান ও বীণাপাণি, বয়স ও বিষাদের ভারে নুয়ে পড়া দুটি জীবন। তাদের সন্তানেরা দূরে থাকলেও পুজোর সময় ঠিক ফিরে আসে—তবে শুধু প্রথা রক্ষার দায়ে, ভালোবাসার টানে নয়।
তাঁদের সংসারে বাস করে সঞ্জয়—যে এই উপন্যাসের বর্ণনাকার, কিন্তু একইসঙ্গে এক গভীর অন্তঃস্রোতের বাহকও। সে পরিচারক, সে সঙ্গী, সে নিরীহ, আবার সে এক অনুচ্চারিত অস্থিরতা। এবং সেই অচেনা বাঙালি ‘বিদেশিনী’—তার আগমন যেন জলছবিতে আচমকা জলরঙের ছিটে, যা ধুয়ে দেয় জমে থাকা পুরোনো রেখাগুলো।
এখানে পরিবারের পুনর্মিলন ঘটলেও, মিলনের আড়ালে জমে থাকে অপরাধবোধ, অভিমান, হিংসা, অনুশোচনা। আলোয় ভরা ঠাকুরদালানের পাশে থাকে সম্পর্কের অন্ধকার অলিন্দ। সাজানো পুজোর প্যান্ডেলের ভিতর লুকিয়ে থাকে প্রতিহিংসার ছায়া, দীর্ঘদিনের অনাদরের গ্লানি, এবং কিছু না বলা কথা।
এই উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্র একেকটি প্রতিমা, কেউ মৃণ্ময়, কেউ চিন্ময়। তারা কেউ ধ্বংস করে, কেউ রক্ষা করে, কেউ শুধু নির্বাক দর্শক হয়ে থেকে যায়। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠায় ফুটে উঠেছে প্রেম, প্রলোভন, প্রতারণা, পরিতাপ—আর সেই সবকিছুর ওপর ছড়িয়ে আছে ঢাকের বাদ্যি আর ধুনোর ধোঁয়ার মতো এক দুর্বোধ্য আবেশ।
লেখকের সবচেয়ে প্রশংসনীয় দিক হলো, তিনি পুজোর আবহটিকে কেবলমাত্র সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট হিসেবে ব্যবহার করেননি। বরং পুজো এখানে প্রতীক হয়ে উঠেছে জীবন ও মৃত্যুর, মিলন ও বিচ্ছেদের, আবেগ ও শূন্যতার এক সূক্ষ্ম প্রতিচ্ছবি হিসেবে।
উপন্যাসের শেষ প্রান্তে গিয়ে পাঠকের মনে হয়—পুজোর দিন ফুরিয়ে গেছে, প্রতিমা বিসর্জিত, কিন্তু চরিত্রগুলোর ভিতর দিয়ে জেগে উঠেছে এক নতুন দুর্গা, এক বা একাধিক। তারা এসেছে ধ্বংসের পর আশার প্রদীপ জ্বালাতে।
অতএব, ‘চালচিত্র’ শুধু একটি উপন্যাস নয়—এ যেন এক সম্পূর্ণ জীবনপট, এক সাধারণ অথচ রহস্যে মোড়া সংসারের রূপক। সম্ভব হলে অবশ্যই পড়ুন।
📖পুজোর আগে বেশ সুন্দর এই উপন্যাস টি পড়েছিলাম যা আবর্তিত হয়েছে এই দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করেই। এই উপন্যাস শুরু হয় মহালয়ার দিন, রেডিওতে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠ দিয়ে। আর শেষ হয় বিসর্জনের রাতে। ইন্দ্রনীল সান্যাল এক দুর্গাপুজোকে ঘিরে এঁকেছেন লাহিড়ী পরিবারের সুখ-দুঃখ, ভালোবাসা, অপরাধবোধ আর সম্পর্কের জটিল আবেগের ক্যানভাস।
🏠কৈলাশ অ্যাপার্টমেন্ট এ থাকে দুই অসহায় প্রৌঢ় লাহিড়ী দম্পতি। তাদের তিন সন্তান(দুই মেয়ে এক ছেলে) থাকে বাইরে- সুইজারল্যান্ড, রাজস্থান ও সুন্দরবন এ। লাহিড়ী দম্পতির দেখাশোনা করে কেয়ার টেকার সঞ্জয়, সে এই গল্পেরও গল্পকার। এই পরিবারের সবাই দুর্গাপুজোকে ঘিরে একত্রিত হয় এই কৈলাস এপার্টমেন্টে। তার সাথে থাকে সঞ্জয় ও পাড়ার বন্ধুদের মিলে করা সেই পাড়ার প্রথম দুর্গাপুজো। এই বই পড়তে পড়তে বাঙালিয়ানায় হারিয়ে গেছি, মিসে গেছি বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর সাথে। পাঠক হিসাবে ডুবে গিয়েছিলাম এই উপন্যাসের মধ্যে। তাছাড়া পুজোর এই গল্প বাদে লেখক সমান্তরাল ভাবে অতীতের একটা গল্প বলেছেন, যেটার সমাপ্তিও হয় দশমীর দিন মায়ের বিসর্জনের মতো।
✨যা ভালো লেগেছে- 🔹লেখকের গল্প বলার ধরন, সহজ সরল ভাষার জন্য গল্পটি গতিময়, যা পড়তে বেশ লাগে। 🔹বাঙালির দুর্গাপুজো নিয়ে খুঁটিনাটি তথ্য যেমন- সন্ধিপুজো, নবপত্রিকা ইত্যাদি লেখক গল্পের সাথে মিশিয়ে পাঠকদের কাছে পরিবেশন করেছেন। 🔹একটা পাড়ার পুজোর পরিবেশ যেভাবে লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন, মনে হচ্ছিল আমি যেন ওই পুজোর একটা অংশ। 🔹প্রতিটি চরিত্র খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। প্রতিটি চরিত্রের নিজস্ব গভীরতা আছে।
🔍কিছু খুঁত যা চোখে পড়ল- 🔸টাইমলাইনের গন্ডগোল মনে হয়েছে, মহালয়া থেকে গল্প হুট করে দ্বিতীয়া তে চলে গেলো। 🔸কিছু মুদ্রণ ভুল চোখে পড়েছে।
📚পুজোর আগে বা পুজোর পরে পড়ার জন্য এক দারুণ উপন্যাস। অবশ্যই পড়ুন। 🌼