Jump to ratings and reviews
Rate this book

কলকাতার রাজকাহিনী

Rate this book
KALKATAR RAJKAHINI
By Purnendu Patry


প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ – পূর্ণেন্দু পত্রী

অঙ্গসজ্জা- বিশ্বনাথ সাহা

যে কলকাতাকে আমরা অনেকদিন আগে পিছনে ফেলে এসেছি, তার ভিতর থেকে বেছে-নেওয়া ৭ টি চরিত্রকে নিয়ে এই বই। এঁদের মধ্যে ৬ জন হলেন রাজা। আর একজন হলেন রাজকুমার। পূর্ণেন্দু পত্রীর কলমে ইতিহাসের বাসি গল্প হয়ে উঠেছে ফুলের মতো তাজা। বাংলা শিসু-সাহিত্যের অল্প যে-ক’টি বইকে আমরা বলতে পারি –‘অপূর্ব’, এ-বই তাদের মধ্যে অন্যতম।

64 pages, Hardcover

First published November 1, 1979

65 people want to read

About the author

Purnendu Pattrea

73 books22 followers
Purnendu Patri (sometimes Anglicised as Purnendu Pattrea) was an Indian poet, writer, editor, artist, illustrator, and film director. He was best known for his poems and stories, particularly for his poetry collection Kathopokathan in Bengali, and for his experimentation with book cover design. He also was a researcher of the history of Kolkata.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
14 (34%)
4 stars
17 (41%)
3 stars
8 (19%)
2 stars
0 (0%)
1 star
2 (4%)
Displaying 1 - 15 of 15 reviews
Profile Image for Ësrât .
515 reviews85 followers
June 21, 2023
"রাজা"
দুশব্দের একটি ধ্বনি কিন্তু তার ওজনের মাপকাঠি কিন্তু একদমই আলাদা। আমাদের দেশে এখন হয়ত রাজা মহারাজার চল নেই তার পরিবর্তে আমলা মন্ত্রীবর্গ যাদের শতভাগ উদ্দেশ্য নিজেদের উদরপূর্তি আর জনগণের শোষন বৃত্তি, কিন্তু এই উপমহাদেশ পেয়েছে এমন কিছু সোনার সন্তানদের যারা শুধু নামে সাজে বা পরিচয়েই রাজা নয় তারা যথার্থ রূপে মানুষের রাজা, কাজের রাজা,এই ভূমিকে পূন‍্যভূমি থেকে কর্মভূমিতে রূপান্তরিত করে বিশ্বের দরবারে সমুজ্জ্বল করেছে বাংলার নাম.

আর এদের মধ্যে থেকেই ছয়জন রাজা যাদের একজন রাজকুমার আর বাকি পাঁচজন কে ইতিহাসের বাসি, ভুলে যাওয়া পাতা থেকে ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় শিশিরভেজা পথে কিংবা শিউলি তলায় কুড়ানো ফুলের সৌরভের মতো পূর্ণেন্দু পত্রী তুলে এনেছেন তাদের ,লেখাটা ছোটদের জন্য কিন্তু পড়ে আমার মনে হয়েছে এ সবার জন্য বিশেষ করে যারা ইতিহাস পছন্দ করে তাদের জন্য সুখপাঠ্য একটা লেখা।

কাকে রেখে কার কথাই বা বলি! রাজা নবকৃষ্ণ,যাকে নকুধর নিজ দায়িত্বে দিয়েছিলেন ইংরেজদের অধীনে চাকরী, শূন্য থেকে পূর্ণ হওয়া এক মানুষ , কলকাতার প্রথম রাজা যাকে ইংরেজরা দিয়েছিল ঝালর দেওয়া পালকিতে চলার দুর্লভ সন্মান,যার পর্যবেক্ষণ শক্তিজোরে ইংরেজরা সিরাজদ্দৌলার বিরুদ্ধে জয়লাভ করেছিলো কলকাতার যুদ্ধে

কিংবা রাজা রামমোহন রায় ভারতের নবজাগরণের প্রথম সূচনাকারী,চিরনিষ্টাবান পিতার বিরুদ্ধে যেয়ে যিনি ছেড়েছেন ঘর মাত্র ষোলো বছর বয়সে তাও ছাড়েননি নিজের একেশ্বরবাদ বিশ্বাস থেকে,আজীবন সহ‍্য করেছেন মায়ের কটুক্তি,মামলা পর্যন্ত লড়তে হয়েছে পৈতৃক সম্পত্তির জন্য মায়ের বিরুদ্ধে,বিজয়ীও হয়েছেন কিন্তু ঐ যে জননীর অত‍্যাচারের মাত্রা দিনকে দিন বেড়েই গেছে কমে একটুও হারার পরেও। পাড়াপড়শিদের অপমান নিজের কাজের জন্য তাও প্রতিষ্টা করলেন সতীদাহ রদ প্রথা, আত্মীয় সভার মত আরো অসংখ্য প্রতিষ্ঠান,যার জ্ঞানে বুদ্ধিতে বাগ্মীতায় মুগ্ধ হয়ে মাথা নত করেছেন শত্রু থেকে মিত্র, স্বদেশের থেকে বিদেশে মানুষ.

কিংবা তার বন্ধু দ্বারকানাথ ঠাকুর,যে আমাদের এই কাহিনীর একটিমাত্র রাজকুমার.যার জয়জয়কার আইন থেকে শুরু করে ব‍্যবসাক্ষেত্র বা ইংরেজ রাজসভায় ,লর্ড গভর্নর সবাই যার তীক্ষ্ম বিশ্লেষণ বোধে পঞ্চমুখ।ভারতের প্রথম ইউনিয়ন ব‍্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা যেখানেই হাত দিয়েছেন সোনা ফলেছে।বন্ধু রামমোহনের প্রভাবে জপ তপঃ ধ‍্যান উপাসনা ছাড়েননি বটে কিন্তু বহু ঈশ্বর পূজা থেকে বের হয়ে এসেছিলেন অনায়াসে, পরিনামে সুখকর হয়নি গার্হস্থ্য জীবন,স্ত্রী দিগম্বরী দেবী যার আদলে তখনকার দিনে গড়া হত জগদ্ধাত্রী মূর্তি , বাঁচিয়ে চলতেন তার ছোঁয়া সর্বদা। সবজায়গায় সোনা ফলানো এই মানুষটির সংসার জীবন হরপার্বতীর মতো হয়নি,আশ্রয় নিতে হয়েছিল বৈঠক খানায়। এতকিছু ও তার কর্মজীবন কে রুখে দাঁড়ায়নি,জীবন সায়াহ্নে বেরিয়েছেন বিশ্বভ্রমণে, পেয়েছন রানী ভিক্টোরিয়া থেকে ফ্রান্সের রাজা লুইয়ের সন্মান, পরিচিত হয়েছেন চার্লস ডিকেন্স,ম‍্যাকসমুলারের সাথে।বন্ধু রামমোহনের সমাধি স্টেপলস্টোন গ্ৰেভ থেকে আরনোসভেলে সরিয়ে তৈরি করেছেন স্মৃতিস্তম্ভ।জীবনে এত ঝড়ঝাপটার পরও মৃত্যুর পরেও যার চেহারার প্রশান্তি দেখে মনে হচ্ছিলো যেন তিনি বলছেন
"আমি সুখী, আমি তৃপ্ত".

ভারতের চিড়িয়াখানা গড়ে তোলা বা গরীব দুঃখীদের জন্য অকাতরে দান করা রাজা রাজেন্দ্র মল্লিক ,যার মার্বেল প‍্যালেস, চিড়িয়াখানা জগতখ‍্যাত।যার মৃত্যুর পর আরেক রাজা দিগ্বিজয়ী পন্ডিত রাজেন্দ্র লাল মিত্র বলেছিলেন;
কলিকাতার দরিদ্র লোকেরা পিতৃহারা হইল বলিলেও চলে".

আমাদের গল্পের আরেক রাজা সুখময় ,দাদু নকুধরের চোখের মনি , মাতুলালয়ের অগাধ সম্পদ যার চরিত্রে কোনো বিরুপ প্রভাব ফেলেনি বরং তিনি স্মরনীয় হয়ে রইলেন উলুবেড়িয়া থেকে পুরী সিংহদ্বার পর্যন্ত ২৮০ মাইলের"কটক রোড"তীর্থ যাত্রীদের দুর্দশা চিন্তা করে বানিয়েছেন যিনি ধর্মশালা,আরো নানা রাস্তা.

এই গল্পের শেষ রাজা সুবোধ চন্দ্র মল্লিক,শুরুতে যিনি চরম রাজভক্ত ছিলেন তিনিই পরে হলেন চরম রাজদ্রোহী। বঙ্গভঙ্গের সময় নিজ দায়িত্বে গড়ে তুললেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যা আজকের এ নবভারতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত।প্রতিষ্টা করেছিলেন বন্দেমাতরম পত্রিকা,যার জন্য খানা তল্লাশি , জেল জরিমানা, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত সবই সহ‍্য করেছেন কিন্তু মাথা নোয়াননি।জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রাজাই ছিলেন
এরকম আরো অজস্র ঘটনার ডালি দিয়ে সমৃদ্ধ এইসব সূর্য সন্তানদের জীবন ,যা লিখতে গেলে পাতার পর পাতা শেষ হয়ে যাবে কিন্তু তাদের বিজয়র্কীতি শেষ হবে না.

পূর্ণেন্দু পত্রীর এতদিন আমার কাছে একটি মাত্র পরিচয় ছিলো আর তা হলো; "কথোপকথনের"শুভঙ্কর আর নন্দিনীর কবি, কিন্তু আজকের পর থেকে গল্পকার পত্রী সাহেব বেশ ভালোই একটা জায়গা নিয়ে বসলেন মনে.
রেটিং:🌠🌠🌠🌠.৬০
1/11/2020
Profile Image for Adham Alif.
335 reviews81 followers
July 24, 2023
পূর্ণেন্দু পত্রীর সুলেখনীর প্রশংসা প্রথমেই করতে হচ্ছে।
রাজকাহিনীতে রাজাদের গল্প থাকবে এটাই তো স্বাভাবিক। তবে রাজা তো ছিলো অনেকেই। সবার গল্প তো বলা সম্ভব নয়। যারা নামের পাশাপাশি কাজেও রাজা ছিলো তাদের গল্পই মূলত উঠে এসেছে "কলকাতার রাজকাহিনী" তে। যারা কলকাতাকে আরেকটু বাসযোগ্য, আরেকটু চমৎকার করতে অবদান রেখেছেন।

৬ জন রাজা ও একজন রাজপুত্রের গল্পের মাঝে আমার সবচেয়ে পছন্দের অংশটা রাজা রামমোহন রায়কে নিয়ে। তার খাবারের গল্প চোখ কপালে উঠার মতোন। ভদ্রলোক নাকি একদিনে আস্ত পাঠা, ৫০ টা আম সাবার করে দিতেন! তবে কুসংস্কার দূরীকরণে তার অবদানের গল্পগুলো তার প্রতি শ্রদ্ধা আরো বাড়িয়ে দিল।
Profile Image for Chinmoy Biswas.
175 reviews66 followers
February 26, 2022
কলকাতা শহরে এক সময় অনেক রাজা ছিল। তবে সেটা রুপকথার বই যে রাজা থাকে সে রকম নয়। এসব রাজাদের ছিল না সোনার মুকুট কিংবা হাতীশাল,ঘোড়াশাল। কিন্তু তারা রাজা ছিলেন।

এরা শক্তিতে ও ছিলেন না তেমন শক্তিশালী। লেখকের ভাষায় তারা রাজা হয়েছেন মাথা খাটিয়ে। প্রত্যক রাজা অসম্ভব মেধাবী এবং প্রায় অনেকেই শূন্য থেকে হয়েছেন রাজা। কলকাতার প্রথম রাজা ছিলেন নবকৃষ্ণ।

লেখক পূর্ণেন্দু পত্রীর চমৎকার ভাষায় এরকম ৭ টা রাজার কথা "কলকাতার রাজকাহিনী " বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
Profile Image for Shotabdi.
820 reviews203 followers
June 27, 2020
ছোটদের জন্য লিখিত হলেও বড়রা পড়লেও মজা পাবেন। ইতিহাসের পাঁচ রাজা এবং রাজকুমারের গল্প, যাঁদের প্রত্যেকেরই ছিল সামাজিক এবং জাতীয় ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান।
ছোটদের জন্যই লেখা যেহেতু, বার বার পুত্রসন্তান কেন তৎকালীন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গ আশা করতেন, সেটা একটু ব্যাখ্যা করে দিলে ভালো হত। নয়তো ছেলেমেয়েরা খানিক বিভ্রান্ত হতে পারে বা আত্মশ্লাঘা অনুভব করতে পারে ছেলেশিশুরা।
ইতিহাস কখনো বাসি হয় না আসলে, তার প্রাচীন ঘ্রাণ গায়ে নিয়েই সবসময় চিরন্তন।
Profile Image for Farhan.
725 reviews12 followers
June 4, 2021
ইংরেজ দখলদারদের ধামাধরা একদল উপমহাদেশীয় বাটপার ব্যবসায়ী-জমিদারদের ইংরেজের চামচামি করে অশ্লীল পরিমাণে ধনরত্ন রোজগার করে সেই টাকাপয়সা উড়ানো আর গরু মেরে জুতা দানের মত কিছু দানখয়রাতের কাহিনী। এইসব ব্যাপারস্যাপার নিয়ে এমন মুগ্ধতাছড়ানো লেখা পড়ে শিশু-কিশোররা কি শিখবে সেইটা লেখকই ভাল বলতে পারতেন।
Profile Image for প্রিয়াক্ষী ঘোষ.
364 reviews34 followers
August 6, 2021
বইঃ কলকাতার রাজকাহিনী
লেখকঃ পূর্ণেন্দু পত্রী
প্রকাশনীঃ দে'জ পাবলিশার্স
প্রচ্ছদঃ পূর্ণেন্দু পত্রী
প্রথম প্রকাশঃ নভেম্বর ১৯৭৯
পৃষ্ঠাঃ ৬৪
মূল্যঃ ৬০ রুপি।




পূর্ণেন্দুশেখর পত্রী যিনি পূর্ণেন্দু পত্রী নামে পরিচিত। যাঁর ছন্মনাম সমুদ্রগুপ্ত।

তিনি একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, সাহিত্য গবেষক, কলকাতা গবেষক, চিত্র-পরিচালক ও প্রচ্ছদশিল্পী।

এখনের কলকাতা নয়, যে কলকাতাকে অনেক বছর আগে পিছনে ফেলে এসেছি আমরা সেই কলকাতা থেকে বেছে নেওয়া ৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়েই এই " কলকাতার রাজকাহিনী "।

রাজা নবকৃষ্ণ, রাজা রামমোহন রায়, রাজকুমার দ্বারকানাথ, রাজা রাজেন্দ্রলাল মল্লিক, রাজা সুখময়, রাজা সুবোধচন্দ্র, রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র।

এই ৭ জন রাজার মধ্যে একজন রাজকুমার। জন্মসূত্রে কেউ রাজ নন। কারো জন্মই রাজ পরিবারে নয় তবুও উনারা রাজা এবং রাজার মর্যাদা পেয়েছেন চলাফেরাও করেছেন রাজার মতই।ইতিহাসের অনেক পুরাতন গল্প পূর্ণেন্দু পত্রীর কলমে নতুন হয়ে ফুটে উঠেছে। এই ৭ জনের জীবনের কাহিনী লেখক তুলে ধরেছেন। কিছু জানা থাকলেও অনেক অজানা কাহিনী সামনে চলে এসেছে লেখকের লেখনীতে।

" কলকাতার রাজকাহিনী " মূলত ছোটদের বই। তবে সেকালের কলকাতা ও মহৎ এই ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানতে বইটা চমৎকার।
বাংলা শিশু-সাহিত্যে যে অল্প ক'টি বইকে আমরা বলতে পারি "অপূর্ব" এ-বই তাদের মধ্যে অন্যতম। আর বইটা ছোটদের জন্য হলেও অনেক বড়রাও এই ৭ জন সম্পর্কে অনেক কিছুই জানেন না যা এই বইটাতে আছে।
Profile Image for Payel Nusrat.
89 reviews17 followers
December 19, 2020
কিছু জিনিস সাময়িকভাবে হারালে উপলব্ধি করা যায় সে জিনিসটা কতটা প্রিয়।মাত্র ৬০ রূপি দিয়ে কলকাতার দে'জ থেকে ধাক্কাধাক্কি করে কেনা এই বইটার রিভিউ আরো পরে লেখার কথা, কলকাতা-গবেষক পূর্ণেন্দু পত্রীর কলকাতা বিষয়ক আরেকটি বই পড়ে শেষ করার পর।কিন্তু হঠাৎ কয়েকদিন ধরে বইটি খুঁজে পাচ্ছিলাম না,বিভিন্ন দোকানে তার অন্য বই দেখলে বা তার ব্যাপারে কোনো আলোচনা উঠলেই কেমন একটা ফাঁকা অনুভূতি হচ্ছিলো।কাল গভীর রাতে একদম আকস্মিকভাবেই বইটি নতুন কেনা বইয়ের স্তুপে পেয়ে গেলাম।

"কলকাতার রাজকাহিনী" আদি কলকাতার সাতজন ঘোষিত,অঘোষিত,নামে,কামে রাজাদের নিয়ে।পুরো বইটিই তুলে ধরার চেষ্টা করবো তাই একটু ধৈর্য্যসহকারে পড়তে হবে।

১.রাজা নবকৃষ্ণ-কলকাতার প্রথম রাজা।কটকের সুবেদারের দেওয়ান রামচরণের সর্বকনিষ্ঠ পুত্র নবকৃষ্ণ মেধা ও লিয়াজুর জোরে পেলেন লর্ড হেস্টিংসকে ফারসি শেখানোর চাকরি।ইংরেজদের কাছে সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে লেখা মীরজাফরের চিঠির অনুবাদ করে দিয়ে মুন্সীর চাকরি পাকা করে নিলেন,সিরাজের তাবুর রেকি করে খবর পাচার করলেন ইংরেজদের দরবারে যে সিরাজের বাহুবল আসলে অতটা ভীতিকর নয়।শুরু হলো পলাশীর যুদ্ধ।সিরাজের গুপ্তধনের ভাগ নিয়ে সর্বপ্রথম কলকাতায় বিশালাকারে দুর্গাপুজো উদযাপন করলেন নবমুন্সী।লর্ড ক্লাইভের কাছের লোক তখন নবকৃষ্ণ,হয়ে গেলেন মুন্সী থেকে রাজা।ক্লাইভ নবমুন্সীর জন্য দিল্লীর বাদশাহের কাছ থেকে রাজাবাহাদুর উপাধি চেয়ে এনেছেন।

২.রাজা রামমোহন-তুমুল মেধাবী ও শিক্ষিত রামমোহন প্রথম থেকেই নিজ পরিবারের গোঁড়ামির প্রতি বিদ্রোহী,যার ফলে পিতা দ্বারা কৈশোরেই আপন আলয় থেকে ত্যাজ্য হলেন।প্রথমেই কলকাতায় এসে ১৮১৯ সালে গড়লেন নিরাকার ঈশ্বরবাদী "আত্মীয় সভা",১৮২৮ সালে গড়লেন ব্রাক্ষ্মসমাজ,১৮২৯ সালে বন্ধ করলেন সতীদাহ,দিল্লির বাদশা থেকে পেলেন " রাজা" উপাধি,বিলেত-ফ্রান্স ঘুরে কুড়ুলেন সেখানকার রাজাদের সম্মান।১৮৩৩ সালে বিলেতেই টিটেনাস রোগে মৃত্যুবরণ করেন।

৩.প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর-অল্প বয়সে পিতৃহারা হয়ে জীবনের তাগিদে ব্যবসা,বিদেশী ভাষা,ওকালতিসহ অনেক বিষয়ে স্বশিক্ষিত হওয়ায় দ্বারকানাথ হয়ে ওঠেন বিভিন্ন রাজরাজড়াদের পরামর্শক,দেওয়ান এবং প্রতিষ্ঠা করলেন কলকাতার বাঙালিদের প্রথম ব্যাংক-Union Bank,শিল্প বিপ্লবের হাওয়া টের পেয়ে গড়ে তুললেন "কার-টেগোর কোম্পানি" নামে নীল,জাহাজ মেরামত,চিনি,কয়লা,রেশমের ব্যবসা।রামমোহনের সাথে বন্ধুত্ব করে ব্রাক্ষ্ম হলেন।সতীদাহ,বিধবা-বিবাহ,হিন্দু কলেজ,মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা,ছাত্রদের শব-ব্যবচ্ছেদ করে শল্যচিকিৎসা শেখার উৎসাহদাতা,ল্যান্ড-হোল্ডারস সোসাইটি,ব্রিটিশ-ইন্ডিয়া সোসাইটি প্রতিষ্ঠা সমাজের কোন অগ্রগতিতে পাথেয় হননি তিনি?

৪.রাজা রাজেন্দ্রনাথ মল্লিক-পাথুরেঘাটার বিখ্যাত দানশীল মল্লিক পরিবারের নীলমণি মল্লিক (যার নামে হাওড়া ব্রীজের নিচে গঙ্গার একটি ঘাট আছে) এর দত্তক সন্তান রাজেন্দ্র।কলকাতার চোখধাঁধানো মার্বেল প্যালেস বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা,কলকাতায় পশুশালার জনক।মল্লিকবংশের আদর্শে তার বাড়িকে করে তোলেন দরিদ্রদের স্বর্গ ও অন্নশালা,দুর্ভিক্ষ-পীড়িতের হাসপাতাল বানানোর জন্য ছেড়ে দিলেন নিজের বাগানবাড়ি,তাই ভারত সরকার উপাধি দেয় "রায় বাহাদুর"।

৫.রাজা সুখময়-কলকাতার ধনকুবের ব্যবসায়ী নকু ধরের নাতি সুখময়।ইংরেজরা নকু ধরকে রাজা উপাধি দিতে চাইলে তিনি সেটি তার একমাত্র নাতি সুখময়কে দেয়ার অনুরোধ করেন।সেই থেকে সুখময় রাজা।তবে শুধু নেপোটিজমের জোরে নয়,সুখময়ের রাজা হওয়ার পেছনে তার দান-দাক্ষিণ্যের যথেষ্ট অবদান ছিলো,তার সবচেয়ে বড় কাজ ছিলো উলুবেড়িয়া থেকে পুরীর সিংহদ্বার পর্যন্ত ২৮০ মাইল রাস্তা তৈরি করে দেয়া,সাথে রাস্তার দুধারে অগুনতি ধর্মশালা ও কূপ খনন,নদীর উপর অসংখ্য ব্রীজ তৈরি।তিনি ছিলেন বেঙ্গল ব্যাংকের প্রথম বাঙালি ডিরেক্টর।

৬.রাজা সুবোধচন্দ্র-দেশপ্রেমিক প্রতিবাদী প্রগতিশীল বনেদি বাপ-কাকার উত্তরসূরী সুবোধচন্দ্র।স্বদেশী আন্দোলনে যখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার কথা মাত্র বলা হচ্ছে তখনই বিনা বাক্যব্যয়ে এক লক্ষ টাকা দান করে প্রতিষ্ঠার ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপান্তর করতে সাহায্য করেন সুবোধ,তাই ব্রিটিশ সরকার নয়,বরং দেশের মানুষ তাকে ভালোবেসে উপাধি দেয় " রাজা সুবোধচন্দ্র"।

৭.রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র-বাপ-ঠাকুর্দার ঐশ্বর্য গেল ইংরেজের হাতে,মেডিকেল কলেজের ছাত্রত্ব বাতিল হলো,পরিবারের গোঁড়ামির জন্য বিলেতের মেডিকেল বৃত্তি পেয়েও যেতে পারলেন না-কিন্তু কোনো হতাশাই কোনোদিন রাজেন্দ্রকে ভাঙতে পারেনি,একটা বিষয় শেষ করে অন্য বিষয়ে জ্ঞানার্জনে লেগে পড়তেন।এভাবেই একদিন হয়ে গেলেন বাংলার এশিয়াটিক সোসাইটির অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ও লাইব্রেরিয়ান,সোসাইটির উন্নতি সাধন করতে করতে একসময় হয়ে গেলেন এই প্রতিষ্ঠানের প্রথম ভারতীয় সভাপতি।স্কুল বুক সোসাইটি ও ভার্নাকুলার লিটারেচার সোসাইটির হয়ে রচনা করলেন অসংখ্য গবেষণাগ্রন্থ,মানচিত্র ও এক বিস্ময়কর ahead of its time মাসিক-পত্র,প্রথম বাঙ্লা সচিত্র মাসিক-পত্র "বিবিধার্থ সঙ্গ্রহ"," রহস্য সন্দর্ভ" মাসিক-পত্র,গড়ে তুললেন "society for the promotion of industrial art". রবীন্দ্রনাথ তাকে উপাধি দেন " সব্যসাচী" এবং তার "The sanskrit buddhist literature of Nepal" বইটি ছিলো কবিগুরুর নিত্যসঙ্গী যেখান থেকে তিনি অনেকগুলো রচনার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।
Profile Image for Monisha Mohtarema.
86 reviews2 followers
August 22, 2024
' রাজা ' শব্দটি শুনলে আমাদের মনে প্রথমে যে দৃশ্যপটটি ফুটে তা হলো— রাজা মানেই এক দক্ষ শাসক,যার রয়েছে অগাধ ধন-সম্পদ,হাতিশালে হাতি,ঘোড়াশালে ঘোড়া!রাজার রয়েছে একটি পুত্র কিংবা কন্যা, যার বিয়ে হয় অনেক ধুমধাম করে।আমার মনে তো এসব ই আসে। কিন্তু পূর্ণেন্দু পাত্রী কলকাতার রাজ কাহিনী বইয়ে বলেছেন একটু আলাদা ধরনের রাজাদের কথা।যারা কিনা ছিলেন সমাজ সংস্কারের ধারক ও বাহক।অনেকদিন আগের পিছনে ফেলে আসা কলকাতার পাঁচ জন রাজা ও একজন রাজকুমার এই ছয়টি চরিত্রকে নিয়ে রচিত হয়েছে এই বইটি।এই বইয়ের ঐতিহাসিক চরিত্র যারা তারা হলেন—

•রাজা নবকৃষ্ণ দেব
•রাজা রামমোহন রায়
•রাজকুমার দ্বারকানাথ
•রাজা রাজেন্দ্রলাল
•রাজা সুখময়
•রাজা সুবোধচন্দ্র মল্লিক

এই রাজাদের মধ্যে অনেক বেশ ক'জন রাজাকে আমরা জানি ও চিনি।কিন্তু রাজা নবকৃষ্ণ দেব সম্পর্কে হয়তো অনেকেই জানে না। যার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে পরাজিত হয়েছিলেন সিরাজুদ্দৌলা। আমরা এখনো মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে মীর জাফরকে মনে রাখলেও, নবকৃষ্ণ ছিলেন সেই ষড়যন্ত্রের মূল প্রতিনিধি। কীভাবে তিনি ষড়যন্ত্র করলেন, সেটাই সংক্ষেপে বলছি।নবকৃষ্ণ শৈশবে পড়ালেখায় ভালো ছিলেন। অল্প বয়সে বাবা মারা যান। মায়ের কাছে ইংরেজি ও ফারসি ভাষা শেখেন। পরে রপ্ত করেন আরবি ভাষা। এই গুনের কারণে ইংরেজদের নজরে পড়লেন। চাকরি পেলেনে ইংরেজদের দপ্তরে। দায়িত্ব, লর্ড হেস্টিংসকে ফারসি শেখাতে হবে। হেস্টিংস তখন সামান্য কেরানি মাত্র। নবকৃষ্ণ চাকরি শুরু করলেন। কিন্তু ইংরেজদের সঙ্গে তখন নবাব সিরাজের দ্বন্দ। তাই মাঝেমধ্যে হেস্টিংসকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে হয়। সঙ্গী হিসেবে সঙ্গে সঙ্গে যান নবকৃষ্ণ। 

একদিন মীরজাফরদের থেকে চিঠি এলো। চিঠিতে সিরাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে লেখা থাকতে পারে। কিন্তু চিঠির ভাষা তো সাহেবরা বোঝেন না। তবে রাজদরবারে এ চিঠির পড়ার মতো একজন মুন্সি আছেন। কিন্তু তাঁকে দিয়ে চিঠি পড়ানো হলো না। কারণ তাঁকে অন্যরা বিশ্বাস করে না। তাহলে চিঠি পড়ে দেবে কে?ডাক পড়লো নবকৃষ্ণের। তিনি গেলেন এবং চিঠি পড়লেন। সহজেই ক্লাইভের নজরে পড়লেন তিনি। পরের দিন থেকে ৬০ টাকা বেতনে মুন্সির চাকরি পাকা হলো। সিরাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিকল্পনা করছে ক্লাইভ। সাহায্য করবে নবকৃষ্ণ। নশুরু হলো পলাশির যুদ্ধ। পরাজিত হলেন সিরাজ। সবাই গেল সিরাজের ভান্ডার লুট করতে। কিন্তু সেখানে তেমন কিছু পাওয়া গেল না। মোটে কোটি দুই টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে ইংরেজরা ফিরে গেল। কিন্তু আসল রাজকোষের খবর জানা আছে মীর জাফরের। তিন সঙ্গীকে নিয়ে সেই রাজকোষ লুট করলেন। পেলেন ৮ কোটি টাকা। ভাগ করে নিলেন চারজন। সেই ভাগিদারদের একজন নবকৃষ্ণ।

শুরু হলো পলাশির যুদ্ধ। পরাজিত হলেন সিরাজ। সবাই গেল সিরাজের ভান্ডার লুট করতে। কিন্তু সেখানে তেমন কিছু পাওয়া গেল না। মোটে কোটি দুই টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে ইংরেজরা ফিরে গেল। কিন্তু আসল রাজকোষের খবর জানা আছে মীর জাফরের। তিন সঙ্গীকে নিয়ে সেই রাজকোষ লুট করলেন। পেলেন ৮ কোটি টাকা। ভাগ করে নিলেন চারজন। সেই ভাগিদারদের একজন নবকৃষ্ণ। 

টাকা নিয়ে ফিরে এলেন নিজ গ্রামে। এতদিনে সংসারের অভাব ঘুচেছে। লুটের টাকা দিয়ে কলকাতার শোভাবাজারে গড়লেন বিশাল রাজপ্রাসাদ। শুরু করলেন বিশাল কলেবরে দূর্গা পূজো। টানা ১৫ দিনের সেই আয়োজনে খরচ হলো লাখ লাখ টাকা। সেই প্রথম কলকাতাবাসী এরকম দূর্গা পূজা দেখল।  সয়ং লর্ড ক্লাইভ দলবল নিয়ে রাজবাড়িতে গিয়েছিলেন পূজো দেখতে। 

সিরাজকে পরাজিত করে নিজ দেশে ফিরে গিয়েছেল ক্লাইভ। ৫ বছর পরে তিনি আবার ফিরে এলেন। তার সঙ্গে আবার যোগ দিলেন নবকৃষ্ণ। একটু একটু করে নিজের কাঁধে দায়িত্ব নিতে শুরু করলো নবকৃষ্ণ। একসময় রাজা হলেন। রাজা থেকে মহারাজা। তারপর রাজা রায়বাহাদুর। কত্ত কী! 

বইটা ছোটোদের নিয়ে লেখা হলেও।এই বইয়ের পাঠক হতে পারেন ছোট বড় সকলেই। এইতো..
Profile Image for Arif  Raihan Opu.
213 reviews7 followers
July 1, 2021
"রাজা" শব্দটির সাথে আমরা সবাই পরিচিত। কিন্তু এই শব্দটা আমাদের মনের ভেতর একটা চিত্র তৈরি করে থাকে। বিশাল রাজ প্রাসাদ, হীরে জহরত, দাস দাসী, সৈন্য সামন্ত, সহ বিশাল এক রাজ্যের ছবি ভেসে ওঠে৷ কিন্তু রাজা শুরু নামের বা এসব কিছু দিয়ে হয় না। কেউ কেউ হন মানুষের রাজা, কাজের রাজা। এই বাংলায় এমন কয়েকজন রাজার আগমন ঘটেছিল। তারাই এই ভূমিকে পরিণত করেছিল কর্মভূমিতে।
.
পূর্ণেন্দু পত্রী এর লেখা "কলকাতার রাজকাহিনী" বইতে উঠে এসেছে এমন ৭ জন রাজার নাম। যাদের হয়ত বিশাল রাজ প্রাসাদ ছিল না। কিন্তু তারা হয়েছেন মানুষের রাজা। সবার কাছে তাদের কাজের মধ্য দিয়ে হয়েছে তাদের প্রিয়। তারা হয়ত রূপকাথার রাজা ছিলেন না। কিন্তু বাস্তবে মানুষের কাছে তারাই ছিলেন রাজা।
.
তবে এই সাত জনের মধ্যে জন রাজা এবং একজন ছিলেন রাজকুমার। এখানে সবার কথাই উঠে এসেছে তারা কিভাবে রাজা হয়েছেন। এই যেমন ধরুন, রাজা নবকষ্ণ শুন্য থেকে উঠে এসে রাজা হয়েছেন। ইংরেজদের অধীনে চাকরী করে উঠে এসেছেন উচ্চ পর্যায়ে। পেয়েছেন রাজার মর্যাদা, পেয়েছেন ঝালর দেয়া পালকিতে চড়ার অধিকার।
.
আবার বলা যায় রাজা রামমোহন রায় কে নিয়ে। আমার ব্যক্তিগত ভাবে এই বইয়ের সবচেয়ে প্রিয় রাজা। যিনি তারা পিতার বিরুদ্ধে ১৬ বছর বয়েছে ঘর ছাড়া হয়েছে। সমাজ সংস্কারে যার ভূমিকার কথা মানুষ সারাজীবন মনে রাখবে। বিশেষ ভাবে সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়ী হয়েছেন এর জন্যও তাকে মানুষ মনে রাখবে।
.
এই দিকে রায় সাহেব এর বন্ধু দ্বারকানাথ এর কথা না বললেই নয়। তিনি এই রাজাদের মধ্যে এক মাত্র রাজ কুমার। যিনি গরিব দুঃখীদের মাঝে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি বিভিন্ন দেশ ঘুরে পেয়েছেন সম্মান। রানী ভিক্টোরিয়া থেকে ফ্রান্স এর রাজা লুই, পরিচিত হয়েছে বিখ্যাত লেখক চার্লস ডিকেন্স এর সাথে। তার মৃত্যুর পর পন্ডিত রাজন্দ্র লাল মিত্র বলেছিলেন যে "কলিকাতার দরিদ্র লোকেরা পিতৃহারা হইল বলিলেও চলিবে"।
.
এছাড়া এই রাজাদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য ছিলেন, রাজা সুখময়, রাজা সুবোধচন্দ্র, রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র। এনারা সবাই তারা নিজ নিজ জায়গাতে এনাদের গুন ও বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে নিজেদেএ প্রতিষ্ঠা করেছেন। সবার নিজের একটা আলাদা চিন্তা ধারা তাদেরকে মানুষের মাঝে অমর করে দিয়েছে।
.
বইটি খুব ছোট আকারে লেখা। মুলত ছোটদের জন্য বইটি লেখা হয়েছে। তবে কলকাতার রাজাদের সম্পর্কে জানা জন্য একে বারে খারাপও নয়।
Profile Image for Saurav.
155 reviews19 followers
August 15, 2021
কলকাতার ইতিহাস জড়ানো পাতায় পাতায়, বেশ লাগলো পড়তে। কিছু কিছু চরিত্রের সাথে পরিচয় ছিল আগেই, কিছু জনের সাথে নতুন পরিচয় হলো। বইটা প্রধানত ছোটদের জন্য লেখা তাই লেখার ধরন অন্যরকম। A soft introduction, without delving too much into details. হঠাৎ করেই শুরু, হঠাৎ করেই শেষ - বইটাকে ঠিক কোন শ্রেণীর সাহিত্য বলবো জানি না, তবে পড়ে সবার ভালোই লাগবে আশা করি।
61 reviews19 followers
January 9, 2022
ইতিহাস এবং বর্তমানের সেতু হল বই। রাজ���হিনী লেখকের অত্যন্ত একটা সৎ প্রচেষ্টা যা তিনি সুচারু ভাবে পালন করেছেন। বর্তমান শিশু কিশোরদের নিজেদের বর্তমান শহরের সাথে অতীত শহরের সুন্দর সেতু এই বই।
রাজ পরিবারে না জন্মেও কিভাবে পাঁচজন রাজা হন এবং একজন রাজপুত্র হন তার গল্প । খুব মার্জিত এবং ছোটোদের পড়ার যোগ্য করে লেখা যা বড়দেরও মন জয় করে।
সময় করে পড়ে ফেল্লে ভালই লাগবে।
4 reviews2 followers
February 23, 2021
সহজ ও সারল্যে ভরা বাংলার রাজাদের গল্প। রুপকথা থেকে যোজন যোজন দূর হয়েও যারা নিজেরাই তৈরী করেছেন নতুন ইতিহাস।
Profile Image for Sharmin Sultana  Shamoly.
89 reviews24 followers
August 20, 2022
উপনিবেশায়ন প্রক্রিয়া জানা না থাকলে বইটা ভালো লাগবে। ইংরেজ উপনিবেশবাদীদের সহায়করা চিত্রিত হয়েছে পরম শ্রদ্ধায়।
Profile Image for Gain Manik.
352 reviews4 followers
December 3, 2025
বাহ্ বাহ্। অনবদ্য। সংক্ষিপ্ত কলেবরে অনেক অজানা কথা!
Profile Image for Nahid Hasan.
133 reviews20 followers
May 31, 2018
আমরা মোটামুটি যেসব ইতিহাস স্কুল-কলেজ থেকে আত্মস্থ করি তা মূলত রাজনৈতিক ইতিহাস। সেসব ইতিহাসে থাকে পক্ষ-বিপক্ষের সূক্ষ্ম ছাপ। ইতিহাস একেক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে একেকরকম লাগে। “কলকাতার রাজকাহিনী” যে ধারার বই সেটি সরাসরি ইতিহাসের বই নয়, বিখ্যাত কয়েকজন বাঙালি রাজা আর রাজপুত্রদের জীবন কাহিনী। এই বইয়ে উল্লেখ আছে তাঁদের জীবনকথা সংক্ষিপ্তভাবে, আছে তাঁদের বিপুল ধনসম্পদের বর্ণনা, যা আমাদের ধারণা দেয় কি পরিমাণ সম্পদশালী ছিলো এই বাংলার মানুষ ইংরেজরা আসার আগে থেকেই। এই বই ভাবিয়ে তোলে, অর্থ দরকারি কিন্তু মানবসেবা আরও বড় কিছু। সেবার মাঝেই আছে আত্মতৃপ্তি। সমাজ সংস্কার এক জিনিশ আর আত্মসংস্কার আর নিজের পরিবারকে সংস্কার করা আলাদা ব্যাপার। দশজনে মিলে কারও নামে তোপধ্বনি দিতে পারে, কিন্তু সেই “কারও”রি নিজ পরিবারেই জায়গা হয়না। কেউ একা একাই যদি এগুতে চায় তাহলে সে হয়ত ধনেশ্বর হতে পারবে, কিন্তু মানবেশ্বর হতে পারবেনা।
Displaying 1 - 15 of 15 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.