মেট্রো স্টেশনে চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ার মুহূর্তে যে বৌদ্ধ সন্ন্যাসী হঠাৎ আবির্ভূত হন জয়ন্তর সামনে, পিছন ফিরে তাঁকে আর দেখতে পায় নে সে। কেন? এত দ্রুত কোথায় মিলিয়ে গেলেন তিনি? পাহাড়ে বেড়াতে এসে জয়ন্ত একের পর এক অদ্ভূত ঘটনার সম্মুখীন হতে থাকে, ফলে যেতে থাকে তার দেখা প্রতিটা দুঃস্বপ্ন। পাঞ্জাবের মেয়ে দামিনী জেদ ধরে বসে ঘর বাড়ি ছেড়ে এসে সে এই পাহাড়েই বাসা বাঁধতে চায়, সাহায্য চায় জয়ন্তর কাছে। দামিনীর এই অদ্ভূত জেদ কি কেবলই ছেলেমানুষি নাকি এর পিছনে লুকিয়ে আছে কোনো গভীর রহস্য? জয়ন্ত কি পারবে সেই রহস্যের সমাধান করতে? স্বপ্নে মাঝেমাঝেই দেখা দেন যে সন্ন্যাসী তাঁর দেখা কি সত্যিই পাবে সে? চোখের সামনে হঠাৎ হঠাৎ ভেসে ওঠা সোনার পাহাড়চুড়ার হদিশ কি সে পাবে? উত্তর পাওয়া যাবে স্বর্ণশিখর রহস্যে!
নামে রহস্য থাকলেই কি উপন্যাসটি "রহস্য উপন্যাস" হয়ে যায়? অধিকাংশ পাঠক এই প্রশ্নের উত্তরে "না" বলবেন। আমিও বলব, আলোচ্য উপন্যাসটি রহস্য, রোমাঞ্চ, গোয়েন্দা: এসব গোত্রভুক্ত নয়। সঙ্গে এও বলব, মাত্র ১১০ পাতার এই উপন্যাসটি তার শীর্ণ আয়তন, ফর্মুলাইক এবং ক্ষেত্রবিশেষে একঘেয়ে সংলাপ, ভীষণ রকম সিনেমা বা সিরিয়ালের ছকে সাজানো কাহিনি ও চরিত্র, এবং জোর করে মেলানো পরিসমাপ্তি সত্বেও শুরু করার পর শেষ না করে উঠতে পারিনি! অজস্র বানান ও ছাপার ভুলেও সেই আকর্ষণ পুরোপুরি বরবাদ হয়নি।
যদি বইটা হাতের কাছে থাকার সময় কাটানোর মতো একটা সন্ধ্যা বা রাত পান, তাহলে পড়ে ফেলুন, কারণ পড়তে খারাপ লাগবে না। বরং বেশ ফুরফুরেই ঠেকবে। যদি বইটা পড়ে ভয়াল-ভয়ংকর কিছুর আশা করে থাকেন, তাহলে বইটা পড়ার পরিকল্পনা কাটিয়ে দিন। এটা থ্রিলার নয়, বরং কিছুটা অতিপ্রাকৃত, আর কিছুটা রোমান্সের গন্ধলাগা এক উত্তরণের কাহিনি।