Jump to ratings and reviews
Rate this book

রক্তের দাগ মুছে রবীন্দ্রপাঠ

Rate this book
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে ফরহাদ মজহারের নিবন্ধের সংকলন।

72 pages, Unknown Binding

Published February 1, 2008

20 people want to read

About the author

Farhad Mazhar

36 books20 followers
Farhad Mazhar (ফরহাদ মজহার) is a Bangladeshi writer, columnist, poet, social and human rights activist, and environmentalist.
He graduated with honours in pharmacy from the University of Dhaka in 1967 and worked as a pharmacist in New York in the seventies and eighties. Mazhar also studied political economy in New School of Social Research. He is the founding member and managing director of UBINIG (Policy Research for Development Alternative) a policy research and advocacy group in Bangladesh working as an integral part of the community with the grassroots people to strengthen common resistance against the dominant processes of globalisation as well as creating space for strategic negotiations whenever possible.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
0 (0%)
4 stars
4 (66%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
1 (16%)
1 star
1 (16%)
Displaying 1 - 2 of 2 reviews
Profile Image for Arnab Paul.
62 reviews119 followers
July 5, 2017
Apart from his political promiscuity, I liked his prose very much.
ব্যক্তি ফরহাদ মজহার এখানে টানছিনা,তাতে আগেই জাজমেন্টাল হবার সম্ভাবনা থাকে। এখানে একজন রবীন্দ্র-আলোচক হিসেবে দেখাই উদ্দেশ্য।

মোট ছয়টি নিবন্ধ,আকারে খুব বড় নয় কোনটিই। রবীন্দ্রনাথ আমাদেরই বয়েসী কেউ হবেন এবং ঠাকুরকে টপকে যাওয়া গেল না এই দুটো নিবন্ধে রবিঠাকুরের বিশেষত্ব, মহত্ত্ব ও সুতীক্ষ্ণ নিরপেক্ষ বিশ্লেষণী ক্ষমতার কথা বলেছেন লেখক। ইংরেজি ভাষার অনুসরণে যে বাংলা গদ্যরচনার শুরু হয় তাতে সংস্কৃত পণ্ডিতদের আধিপত্যের প্রভাবে প্রাকৃতজনের সাথে বাংলা ভাষার সংশ্লিষ্টতা কমই থাকে। সেটি রবিঠাকুর অনুভব করে যে সাহিত্যরচনায় ব্রতী হন তাতে শব্দচয়ন সংক্রান্ত সাম্প্রদায়িকতা ছিলোনা।জনজীবনে ব্যবহৃত সংস্কৃত-আরবি-ফারসি শব্দের ব্যবহার সাহিত্যে চললেই সেটা সমাজকে প্রতিফলিত করবে রবি সেটাই নানান প্রবন্ধে বলেছেন।দ্বিতীয় নিবন্ধটি প্রথমটির ফেলে আসা খেই থেকে।সেখানে যোগ হয়েছে ত্রিশ দশকের আধুনিক কবিদের ব্যাপারে মন্তব্য। বিশেষত সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কেতাবী,অপ্রচলিত শব্দে সাহিত্যচর্চার এলিটিজমের সমালোচনা।


ত্রিশ দশক সম্পর্কে তার বাণী,
"... তেরছা বাক্যগঠন আর শব্দ বানানোর মিস্তিরিগিরি হয়েছে, সেটা ভালো কাজ। কিন্তু তাঁরা যখন গদ্য লিখতে চেষ্টা করেছেন, সেটা স্রেফ গদ্যই হয়েছে, গদ্যের ভেতরে এমন কোন শাঁস ছিলনা যা বুদ্ধিকে নাড়া দেয়,ভাবায়। বুদ্ধদেব বসু আর সুধীন দত্তের গদ্য পড়লেই সেটা টের পাওয়া যাবে।"
সুধীন দত্তের ব্যাপারে মন্তব্য নেই, পড়া হয়নি বেশি। কিন্তু বুদ্ধদেব বসু! সিরিয়াসলি?
তৃতীয় প্রবন্ধ, রক্তের দাগ মুছে রবীন্দ্রপাঠ। শুরুটি চমৎকার, কীভাবে বাংলাদেশ, বাংলা শব্দটি তৈরি ও প্রচলিত হল ঠাকুরের হাত ধরে সে গল্প উঠে এসেছে। বাঙ্গালা থেকে, কাব্য মাত্রাগত সুবিধা মেলাতে ছেঁচে লেখা হল বাংলা।কবির নিজের ভাষায়,
ঝিঙা না ভাজিয়া ভাজিলে ঝিঙ্গা
ছন্দ তখনি ফুঁকিবে শিঙ্গা
-এই হল ছন্দ ব্যবসায়ী কবির কৈফিয়ত।
পরের অংশে আমাদের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে আমার সোনার বাংলা গৃহীত হবার কথা।বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে কেন কবিগুরুর এই গানটাই নির্ধারিত হল তার পেছনের রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত লেখক খোঁজার চেষ্টা করেছে, বিকল্প অন্য কিছু কেন হয়ে উঠল না সে কথাও বলছেন। আমার সোনার বাংলার চাইতে ভালো গান সম্ভব নয় সেকথা বলছিনা,কিন্তু গানটা এতোটাই ভালো আর প্রাসঙ্গিক যে অন্য গান আসার প্রশ্নও খুব আসছেনা। লেখক হয়তো স্রেফ মুক্তিযুদ্ধকে ইঙ্গিত করে কোন বাঙলা গান কামনা করছেন,'পুরনো দেশবন্দনামূলক আকুল গান' এর পরিবর্তে। কিন্তু বাংলাদেশকে তুলে ধরতে হলে হাজার বছরের লিগেসিকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে এমনটা তো নয়।
এর পরের অংশটি গোলমেলে। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের তুলনা। কীভাবে নজরুল একসাথে শ্যামাসঙ্গীত ও ইসলামী নাত লিখে বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ব্যাপারটি ধারণ করলেন সে উদাহরণ এলো, সেই সাথে এলো রবির ব্যর্থতার কথা।
"রবীন্দ্রনাথ সম্প্রদায় ও ঐতিহ্যগত দ্বন্দ্বে ভোগেননি।নিজের হিন্দুত্ব সম্বন্ধে তাঁর কোন সন্দেহ ছিলোনা,নিজেকে তিনি হিন্দু হিসেবেই জেনেছেন...".(পৃষ্ঠা ৪০)
এই একই কথা ঘুরেফিরে এসেছে রবীন্দ্রনাথের আত্মপরিচয় প্রবন্ধেও।ওখানে রবি ব্রাহ্ম হয়েও ছিলেন তারচে' দুকাঠি সরেস হিন্দু, সেকথা ঘুরেফিরে এসেছে। এতো বিশ্লেষণাত্মক বইয়ের সবচে' দুর্বল অংশ লাগলো এটাই। হিন্দুধর্ম নিয়ে আলাদা কোন রতিসুখে রবীন্দ্রনাথ ভোগেননি সেটা বোঝার জন্য খুব বেশি রবিঠাকুর পড়তে হয়না, গীতাঞ্জলিই যথেষ্ট।গদ্য উপন্যাসে মুসলিম চরিত্র,তাঁদের কথা কম এসেছে এটা সত্যি, সেটা তাঁর সাহিত্যিক সীমাবদ্ধতা বলা যেতে পারে, কিন্তু বিরূপতা কখনোই নয়। রবীন্দ্রনাথ নজরুলের মতো আলাদা করে আল্লাহ,খোদা, ঠাকুর,ঈশ্বর বলে গান রচনা করেননি। কিন্তু তাঁর সকল সাধনার মূলে একেশ্বরবাদ কাজ করেছে, যা ব্রাহ্মধর্মের মূল পিলার।আর ব্রাহ্মধর্মের মূল ভিত্তি বেদ,উপনিষদ, সেই সাথে কোরান এবং বাইবেল। রবির দর্শন না বোঝার চেষ্টা করে সাধনা পদ্ধতির আলোচনা করার মানে হয়না।ব্রাহ্মধর্মের জৌলুশ এখন কমে গেলেও তখনকার অবস্থা ছিল পুরোই ভিন্ন, হিন্দুধর্মজাত এবং বর্তমান সময়ের কথা বললে Infused হলেও তখনকার আইন বলে স্বাতন্ত্রের কথা,
১৮৭২ : বিবাহ-সংক্রান্ত বিলটি বাহ্যিকভাবে ব্রাহ্মদের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ না করে ‘১৮৭২ সালের বিশেষ বিবাহ আইন (আইন তিন)’ হিসেবে পাস করা হয়। এই আইনে বলা হয় যে, এই আইনে বিয়ে করতে হলে ‘আমি হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান বা ইহুদি নই’ বলে ঘোষণা করা বাধ্যতামূলক। এর মাধ্যমে এটি একমাত্র ব্রাহ্মদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য করা হয়। (উইকি-ব্রাহ্মধর্ম)
"নিজের হিন্দুত্ব নিয়ে তাঁকে বিচলিত হয়নি।নিজের সম্প্রদায়গত পরিচয় ও ঐতিহ্যের বাইরে কিম্বা বেদ উপনিষদের বাইরে অন্য কোন ধর্মসম্প্রদায়,সংস্কৃতি বা ঐতিহ্যের খোঁজখবর করার তাগিদ তাঁর মধ্যে প্রবল ছিলনা, এতই দৃঢ়মূল ছিল তাঁর কাছে নিজের সম্প্রদায়গত পরিচয়।"(পৃষ্ঠা ৪১)
অথচ প্রথম প্রবন্ধে ধর্মীয় সংস্কৃতির অপরিত্যাজ্য ব্যাপারগুলোর কথা এলো। ধর্মীয় পরিমণ্ডল, সাংস্কৃতিক ঘ্রাণ পরিত্যাগ করা কি অসাম্প্রদায়িক হবার কোন শর্ত?
"কিন্তু রবীন্দ্রনাথ স্পষ্টতই উচ্চবর্ণের হিন্দু ব্রাহ্মণকে আর নিম্নবর্ণসহ সাধারণ হিন্দুকে এক করে দেখেননি, আলাদা করে দেখেছেন।কারণ প্রাকৃত বাংলায় যারা কথা বলে তারা সাধারণ মানুষ-- হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান এবং অন্যান্য।..." (পৃষ্ঠা ১৯)
ব্যাপারটা স্ববিরোধী হয়ে গেলোনা?
ফরহাদ মজহার পড়ার আগ্রহ জাগলো আরো। কথাটি কেউ কেউ বোঝার চেষ্টা করেননা;
"আমি অবশ্য তাঁদের বোঝাতে পারব না যে সব লোক যদি আমার লিখার সাথে একমতই হবে তাহলে সেটা আর আমার কষ্ট করে লেখার দরকার কি? আমি লিখি কেন? লিখি একারণে যে সমাজে যে প্রধান মত তার সাথে আমি একমত হতে পারিনা"
Profile Image for ANSM (themuslimbooknerd).
27 reviews8 followers
April 12, 2021
একটি নিবন্ধ সঙ্কলন হিসেবে শুরুর দিকে এমন একটা পেজ-টার্নার ছিল যে, আমি আসলেই এক কথায় মুগ্ধ। ছোটাবেলায় 'নামকরণের সার্থকতা' ব্যাখ্যা করতে বললে মাথা আউলে যেত, এই বইয়ের ক্ষেত্রে তা আর বলার অপপেক্ষা রাখে না। সাতটি নিবন্ধের মধ্যে 'রক্তের দাগ মুছে রবীন্দ্রপাঠ' প্রবন্ধটিই ছিল মনে দাগ কাটার মত। এরপরের প্রবন্ধগুলো সেই পর্যায়ে অর্থপূণতা মনে হল কেমন যেন ঝিমিয়ে পড়েছে, যা আবার শেষ নিবন্ধে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। তো শেষ ভালো যার সব ভালো?
Displaying 1 - 2 of 2 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.