দুনিয়া এক রহস্যঘেরা জায়গা। এখানে মানুষ আসে। শৈশব, কৈশোর আর তারুণ্যের সিড়ি বেয়ে বার্ধক্যে পৌঁছে। তারপর হঠাৎ একদিন চলে যায়। এই স্বল্পতম সময়ে দুনিয়াবি সফলতার সিঁড়ি বেয়ে উপারে উঠার জন্য মানুষের কি নিরন্তর চেষ্টা। অথচ সে জানে না উপরে উঠতে গিয়ে সে কতটা নিচে নেমে যাচ্ছে।
দুনিয়ার সাথে আমাদের সত্যিকার সম্পর্ক কী? দুনিয়ার ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হওয়া উচিত? প্রকৃত সফলতা কিসে? নবী রাসূলদের জীবন ও বক্তব্য থেকে এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে পড়ুন ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) রচিত এক কালজয়ী গ্রন্থ 'কিতাব যুহুদের' অনুবাদ এই 'রাসূলের চোখে দুনিয়া'
Aḥmad bin Muḥammad bin Ḥanbal Abū ʿAbd Allāh al-Shaybānī (Arabic: احمد بن محمد بن حنبل ابو عبد الله الشيباني; 780–855 CE/164–241 AH), often referred to as Aḥmad ibn Ḥanbal or Ibn Ḥanbal ( أحمد ابن حنبل) for short, or reverentially as Imam Aḥmad by Sunni Muslims, was an Arab Muslim jurist, theologian, ascetic, and hadith traditionist. An enormously influential and vigorous scholar during his lifetime,[9] Ibn Hanbal went on to become "one of the most venerated"[10] and celebrated personalities in the tradition of Sunni Islam, within which he was often referred to by such reverent epithets as True Shaykh of Islam,[11] Proof of the Faith,[11] and Seal of the Mujtahid Imams.[11] He has been retrospectively described as "the most significant exponent of the traditionalist approach in Sunni Islam,"[12] with his "profound influence affecting almost every area of" orthodox Sunni thought.[12] One of the foremost classical proponents of the importance of using hadith literature to govern Islamic law and life, Ibn Hanbal is famous for compiling one of the most important Sunni hadith collections, the celebrated Musnad,[13] an enormous compendium of prophetic traditions that has continued to wield considerable influence in the field of hadith studies up to the present time.[9] Additionally, Ibn Hanbal is also honored as the founder of the Hanbali school of Sunni jurisprudence, which is one of the four major orthodox legal schools of Sunni Islam.[9]
Having studied fiqh and hadith under many teachers during his youth,[14] Ibn Hanbal became famous in his later life for the crucial role he played in the Mihna, the inquisition instituted by the Abbasid Caliphate al-Ma'mun towards the end of his reign, in which the ruler gave official state support to the Mutazilite dogma of the Quran being created, a view that contradicted the orthodox doctrine of the Quran being the eternal, uncreated Word of God.[9] Suffering physical persecution under the caliph for his unflinching adherence to the traditional doctrine, Ibn Hanbal's fortitude in this particular event only bolstered his "resounding reputation"[9] in the annals of Islamic history.
Throughout Islamic history, Ibn Hanbal was venerated as an exemplary figure in all the traditional schools of Sunni thought,[9] both by the exoteric ulema and by the mystics, with the latter often designating him as a saint in their hagiographies.[15] The fourteenth-century hadith master al-Dhahabi referred to Ibn Hanbal as "the true Shaykh of Islām and leader of the Muslims in his time, the ḥadīth master and Proof of the Religion."[11]
In the modern era, Ibn Hanbal's name has become controversial in certain quarters of the Islamic world. This is due to the influence some[who?] believe he had upon the Hanbali reform movement known as Wahhabism, which cites him as a principal influence along with the thirteenth-century Hanbali reformer Ibn Taymiyyah. However it has been argued by certain scholars that Ibn Hanbal's own beliefs actually played "no real part in the establishment of the central doctrines of Wahhabism,"[16] as there is evidence, according to the same authors, that "the older Hanbalite authorities had doctrinal concerns very different from those of the Wahhabis,"[16] rich as medieval Hanbali literature is in references to saints, grave visitation, miracles, and relics.[17] In this connection, scholars have cited Ibn Hanbal's own support for the use of relics as simply one of several important points upon which the theologian's opinions diverged from those of Wahhabism.[8]
সম্পদ আর যশের পেছনে ছুটে চলা কোন মানুষ এই বইয়ের সংস্পর্শে আসলে ধাক্কা খাবে। অন্তত একবার হলেও সে চিন্তা করবে, ক্ষণস্থায়ী এই পৃথিবীর এ সকল লোভ, লালসা, সম্পদের নেশা- এসবের আসলে মূল্য কতটুকু? কিসের পেছনে ছুটে চলছি আমরা? মোহ আর দুনিয়াপ্রীতির লাগাম টেনে ধরতে চাইলে ‘রাসূলের (সা) চোখে দুনিয়া’ নি:সন্দেহে উপকারী বন্ধু বলেই প্রমাণিত হবে। আমাদের আসল লক্ষ্য পরকালকে উপেক্ষা করে অল্প সময়ের পৃথিবীর পেছনে ছুটছি আমরা। অথচ রাসূল (সা) আমাদের শিখিয়েছে এই দুনিয়াকে উপেক্ষা করে পরকালকে গুরুত্ব দেবার জন্য।
বাংলায় বইটি যারা উপস্থাপন করেছেন খুব পরিশ্রম করেছেন। নইলে এতো আগের এমন একটি মহামূল্যবান বইকে এতোটা সাবলীল ভাবে আমরা পেতাম না। বইটি পড়ে যে কেউ সহজেই রাসূলের (সা) দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী নিজের জীবনকে গড়ে নিতে পারবে। বেশ কিছু চমৎকার দো’য়া রয়েছে। কিছু বইকে প্রতি বছর একবার করে পড়ার একটা নিজস্ব তালিকা রয়েছে আমার ব্যক্তিগত। ‘কিতাবুয যুহদ’ কে সেই তালিকাতে রাখাই যায়।
নাবিহা মামণি, তুমি এখনো খুব ছোটো। যখন বড় হবে দুনিয়াটাকে কিভাবে দেখবে জানি না, তবে চেষ্টা করবে তোমার পূর্ববর্তী পূণ্যবান ও পূণ্যবতীদের মতো দেখতে। ওদের চোখে দেখতে। ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহিমাল্লাহু), কে জানো? একজন গ্রেট স্কলার। পৃথিবীর ইতিহাসে হাতেগোণা যে ক’জন মানুষ শিক্ষা, সংস্কার, সাহিত্য, আইন, ধর্ম ও হাদীস শাস্ত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন, তাদের মধ্য একজন। কিতাবুয যুহদ—তাঁরই অসাধারণ রচনা। দুনিয়াবিমুখ জিন্দেগীর অনন্য সংকলন। তাঁর ‘কিতাবুয যুহদ’ গ্রন্থটিকে বাংলা ভাষাভাষী পাঠকের জন্য ‘মাকতাবাতুল বায়ান’ অনুবাদ করেছে তিনটি ধাপে। রাসূলের চোখে দুনিয়া, সাহাবীদের চোখে দুনিয়া ও তাবেয়ীদের চোখে দুনিয়া। আমরা আজ গল্প করবো ‘রাসূলের চোখে দুনিয়া’ নিয়ে, অনুবাদ করেছেন জিয়াউর রহমান মুন্সী—মহান আল্লাহ অনুবাদকের কল্যাণ করুন। অনুবাদকের উপর অনন্ত রহমত বর্ষণ করুন।
মামণি, কখনোই দুনিয়াটাকে রঙিন-চকচকে-মোহগ্রস্থের চোখে দেখবে না। দেখবে রাসূলের চোখে। ‘সিরাতুল মুস্তাক্বিম’-এর পথে হেঁটেছেন যারা, তাদের চোখে। বইটি তুমি অবশ্যই পড়বে, তোমার কান্না পাবে। তোমার ভাবনা খেলবে। পৃথিবীকে অন্য চোখে দেখতে শিখবে। তোমার বিশ্বাস সুদৃঢ় হবে। তোমার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হবে সুস্থির। নাজাত লাভের সহজতম উপায় শেখাতে আল্লাহর রাসূল তোমাকে বলবেন- “তোমার জিহ্বাকে আটকে রাখো, ঘরে যা কিছু আছে তাতেই সন্তুষ্ট থাকো, আর নিজের ভুল স্মরণ করে কাঁদো।” হাদীস নং-৮০, পৃষ্ঠা-৪২; দ্বিতীয় সংস্করণ—অক্টোবর, ২০১৭ হ্যাঁ মামণি, নিজের ভুল স্মরণ করবে বেশি বেশি। দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতম মানুষটি সর্বোচ্চ নিষ্কলুষ হওয়ার পরও, মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন। তুমিও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে। পানাহ চাইবে।
বইটি তোমাকে অনেক কিছু শেখাবে। এটা তোমার অবশ্য-পাঠ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত করে দিলাম। প্রাচুর্য কিভাবে জাহান্নামের পথে ডাকে, প্রবৃত্তি দমিয়ে রাখার পুরষ্কার, অভুক্ত আর অনাহার কেমন হয়ে উঠে ব্যক্তিত্বের রাজতিলক, সাদাসিধে চালচলন, মধ্যরাতে সালাত ও সিজদার মাহাত্ম্য; জানবে সব। রাসূলের জিন্দেগী-দর্শন-দুনিয়াবিমুখতা স্পষ্ট হবে তোমার সামনে। টপটপ করে চোখের জল গড়িয়ে পড়বে তোমার। বৃষ্টি যেমন প্রতিটি ফোঁটায় ফসল ফলায় যমীনে, ঠিক তেমনি তোমার চোখের প্রতিটি ফোঁটা অন্তরে শুদ্ধতার আবাদ করবে। পবিত্রতার ফলন হবে। তুমি হয়ে উঠবে দুনিয়াবিমুখ ও আল্লাহমুখী একজন।
তুমি অনেক রাসূলকে পাবে এখানে। দাউদ আলাইহিস সালাম-এর কামনা ও প্রার্থনা ঢেউ তুলবে তোমার মনে। “হে আল্লাহ! আমাকে এতটা দারিদ্র্যে নিপতিত করো না—যার ফলে আমি তোমাকে ভুলে যাবো; আবার এতটা প্রাচুর্য দিয়ো না—যার ফলে আমি সীমালঙ্গন করবো।” হাদীস নং-৩৩৭, পৃষ্ঠা-১৫৬; দ্বিতীয় সংস্করণ—অক্টোবর, ২০১৭ মহান আল্লাহ দাউদ আলাইহিস সালাম-কে কৃতজ্ঞ হতে বললে দাউদ আলাইহিস সালাম কি বলেছিলেন জানো? “রব আমার! আমি কীভাবে তোমার শুকরিয়া আদায় করে শেষ করবো? তুমিই আমাকে অজস্র অনুগ্রহ দিয়ে যাচ্ছো, তুমিই অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সামর্থ্য দিচ্ছো, আবার তুমিই আমাকে একের পর এক নতুন অনুগ্রহ দিয়ে চলেছো। হে আমার রব! অনুগ্রহরাজি (আসে) তোমার নিকট থেকে, আবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সামর্থ্যও তোমার দেওয়া! তাহলে আমি কীভাবে তোমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শেষ করবো?” হাদীস নং-৩২৯, পৃষ্ঠা-১৫৩; দ্বিতীয় সংস্করণ—অক্টোবর, ২০১৭ মা-রে! আল্লাহর অনুগ্রহ এমন যে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শেষ করা যাবে না। এমনকি শেষ বিচার দিবসেও তাঁর করুণা ছাড়া কোনো উপায় নেই। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- “আমিও আমলের ভিত্তিতে নাজাতে যেতে পারবো না। যতক্ষণ না আল্লাহ আমাকে তাঁর করুণা দিয়ে আচ্ছাদিত করে দেবেন।” হাদীস নং-২২৫, পৃষ্ঠা-১০০; দ্বিতীয় সংস্করণ—অক্টোবর, ২০১৭
বইটি পড়লে তুমি বুঝবে আল্লাহর করুণা ও অনুগ্রহ কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে তা পাওয়া যায়। বইটি থেকে আরো একটি ঘটনা উল্লেখ করি। একবার উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দেখে কেঁদে ফেলেন। তিনি দেখলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শক্ত বিছানায় শুয়ে পিঠে দাগ ফেলে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, উমার! কাঁদছো কেনো? উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন- আল্লাহর শপথ! আমি শুধু এই কারণেই কাঁদছি যে আমি জানি, আপনি (পারস্য সম্রাট) খসরু ও (রোমান সম্রাট) সিজারের তুলনায় আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত। তারা দুনিয়ার প্রাচুর্যে ডুবে আছে, আর আপনি আল্লাহর রাসূল হয়েও যে অবস্থায় আছেন তা তো নিজের চোখেই দেখতে পাচ্ছি! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও—তাদের জন্য দুনিয়া, আর আমাদের জন্য আখিরাত? হাদীস নং-২৩৪, পৃষ্ঠা-১০৩; দ্বিতীয় সংস্করণ—অক্টোবর, ২০১৭ এই বোধ যদি অন্তরে ধারণ করতে পারো, জীবন-দর্শন পছন্দে তোমার বেগ পেতে হবে না মোটেও। দুনিয়ার চাকচিক্য আর তোমার মধ্যে প্রভাব ফেলবে না। অহঙ্কার-কঠিন-বিলাসপূর্ণ জীবনের বদলে তুমি বেছে নেবে বিনয় ও নম্রতার সাদামাটা জিন্দেগী।
একদিন বইখানি পড়ে আমাকে তোমার অনুভূতি জানাবে এবং তোমার চোখে-মুখে থাকবে মুগ্ধতার বিশুদ্ধ উচ্ছ্বাস, সেই প্রত্যাশায়- তোমার মামা
পার্থিব এই জীবন আর নশ্বর এই পৃথিবী সম্পর্কে, সমস্ত সৃষ্টি জগতের সৃষ্টিকর্তার প্রেরিত বার্তাবাহকদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই লিখা অসাধারণ এই বইটি।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের কোন্ উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন?? কোন্ কাজগুলোর মাধ্যমে আমরা আমাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য পূর্ণ করতে পারবো?? সহজ ভাষায় কিভাবে জীবনযাপন করলে আমাদের এই জীবনটা আমাদের সৃষ্টিকর্তার দৃষ্টিতে সফল হবে আর কিভাবে বিফল হবে এই বিষয়টিই আমার কাছে মনে হয়েছে এই বইটির মূল বক্তব্য।
আমরা যারা জেনারেল পড়ুয়া, আমাদের বেশিরভাগেরই যে পরিবেশে বেড়ে ওঠা তা দুনিয়া কেন্দ্রিক। দ্বীন বলতে হুজুরের কাছে বড়জোর ১ ঘন্টা পড়া, জুম্মার নামায আর রমজানের রোজা। আর কোনো সময় নেই দ্বীনের জন্য। বাকি পুরোটা সময় জূড়ে স্কুল,স্যারের বাসা,খেলাধুলা ইত্যাদি।জীবনে সফল হওয়া মানে বড় হয়ে অনেক টাকা রোজগার করতে পারা,বাড়ি,গাড়ি ইত্যাদি ইত্যাদি। আর তা না করতে পারলে জীবন পুরোটাই বৃথা। এটাই আমাদের সমাজ থেকে শিক্ষা।
কিন্তু না, বাস্তবতা তো ভিন্ন, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন তিনি তো আমাদের থেকে ভিন্ন কিছুই চাচ্ছেন। তিনি তো চাচ্ছেন আমরা যেন তার ইবাদাতেই পুরোটা জীবন ব্যয় করে দেই এতে যদি আমাদের দুনিয়াবি কোনো সম্পদ অর্জন না হয় না হোক। উনার কেবল চাওয়া একনিষ্ঠতার সাথে উনার ইবাদাত করে যাওয়া।
আর দুনিয়ার যে সকল ভোগ-লালসার বস্তু মানুষ তার সফলতার প্রতিক বানিয়ে নিয়েছে তা তো তিনি শুধুই পরিক্ষার জন্যে সৃষ্টি করেছেন। পরিক্ষা করে দেখতে যে আমরা কি এগুলোর অর্জনে মত্য হয়ে তাঁকে ভুলে যাই নাকি এগুলো সবকিছু উপেক্ষা করে তাঁরই ইবাদাত করতে থাকি। ইবাদাত করতে থাকি তাঁরই নির্দেশ পালন করতে, তাঁরই প্রতিশ্রুত ক্ষমা,সন্তুষ্টি ও জান্নাতের আশায়।
বইটি আমাদের জানিয়ে দেবে আল্লাহর নবীগণ পার্থিব এ জীবন সম্পর্কে কী ধারণা রাখতেন। সাথে সাথে নবীদের অনেকে অনেক মূল্যবান উপদেশও আছে বইটিতে। যা একজনের জীবন পরিবর্তন করতে ও আল্লাহর সন্তুষ্টি মাফিক চলতে সাহায্য করবে বলে আমার বিশ্বাস।
আল্লাহ তায়ালা মৌলিক বইটি ও তার অনুবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে উত্তম প্রতিদান দিন। আর ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহিমাহুল্লাহ-কে জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা দান করুন। আমীন।
ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিস সালাম) কে জিজ্ঞেস করা হলো, "আপনি কি নিজের জন্য কোনো ঘর বানাবেন না?" তিনি বললেন, "বাঁধ-ভাংগা প্লাবনের মুখে আমার জন্য একটি ঘর বানাও।"
নাবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,"এ দুনিয়ার সাথে আমার কি সম্পর্ক? এ দুনিয়ার সাথে আমার দৃষ্টান্ত হলো নিছক এমন এক আশ্বারোহীর ন্যায় যে প্রচন্ড গরমের একদিন ভ্রমণে বের হয়ে দিনের কিছুক্ষণ একটি গাছের নিচে ছায়া গ্রহণ করলো, তারপর বিশ্রাম নিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো।"
আল্লাহ আহমেদ ইবন হাম্বল রাহিমাহুল্লাহ কে জান্নাত দান করুক। তার লেখা কিতাবুয যুহদ বইয়ের কিছু অংশের অনুবাদ এইটা। যেসব রাসূলরা পৃথিবীতে এসেছিলেন তাদের কথা বার্তা আর জীবন যাপন কেমন ছিল তার বেশ ভালো একটি চিত্র পাওয়া যাবে এই বইটি থেকে। সব গুলো বর্ননা লেখন হাদিস থেকে দিয়েছেন। আহমেদ রহিমাহুল্লাহ ৭৮০ থেকে ৮৫৫ সাল সময়কালে ছিলেন। সেই সময়ে এরকম চমৎকার বই লেখার জন্য লেখকের জন্য অনেক দুয়া রইল।
আজ কোভিডের আতংকে কোন নারী আর রাস্তায় দেহ প্রদর্শন করছে না। যৌন কর্মী গুলো আজ রাস্তায় দাড়িয়ে পুরুষদের আহবান করছে না কাছে আসতে। আজ ব্যাংক ঋণ প্রদানের উৎসুক হয়ে কর্মী নিয়োগ করছে না। শাসক গুলো আজ তাদের দাপটতা দেখাতে দাম্ভিকতা নিয়ে হাটছে না। এত এত আল্লাহর অবাধ্য, আল্লাহর বিরুদ্ধ অবস্থান শুধু নিজেকে সন্তুষ্টি রাখা, মনের খায়েশ গুলো পুরোন করা, দুনিয়ার উপর কতৃত্যের জন্যই তো!
অথচ আল্লাহর কাছে এই দুনিয়ার থেকে কত কত উত্তম কিছু রয়েছে এবং সেগুলো প্রাপ্তির ওয়াদাও। তার সেই উত্তম জান্নাত প্রাপ্যদের দেখানো পথ অনুসরণে রয়েছে প্রকৃত প্রাপ্তি।
যারা এই পথ দেখিয়েছে তারা হচ্ছে নবী-আম্বিয়া (আঃ)। যাদের মধ্যে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছে মোহাম্মদ (সাঃ)। তিনিই আমাদের আদর্শ আর তার চোখে এই দুনিয়াকে দেখতে প্রিয় শাইখ আহমদ ইবনে হাম্বাল (রহঃ) এর রাসুলের চোখে দুনিয়া।
দুনিয়া সম্পর্কে আমাদের সবারই মতাদর্শ আছে। ঠিক তেমনি যুগে যুগে আশা রাসূলরাও দুনিয়া সম্পর্কে অনেক মত দিয়েছেন। নিজেরা নিজেদের জীবন যাপন এর মাধ্যমে দুনিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাদের সাধারণ জীবন যাপন ও দুনিয়া সম্পর্কে নানা উক্তি নিয়েই বইটি লেখা।
বইটার বাংলা নাম থেকে বইটার বিষয়বস্তু সম্পর্কে যতটা না স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় এর মূল নাম থেকে তার চেয়ে বেশি পাওয়া যায়। বইটার মূল নাম কিতাবুয যুহ্দ যার শাব্দিক অর্থ দুনিয়া বিরাগ সম্পর্কিত বই। মূল নাম দুনিয়া বিরাগের বই আর অনুবাদকৃত নাম রাসূলের চোখে দুনিয়া এক করলে যা পাওয়া যায় সেটাই বইটার আলোচ্য বিষয়। নবী-রাসূলগণ দুনিয়াকে যেভাবে দেখেছেন তথা দুনিয়াকে উপেক্ষা করে আখিরাতের দিকে এগিয়ে গিয়েছেন সেটাই তুলে ধরেছে বইটা। দ্বিতীয় হিজরিতে রচিত এই বইটা মূলত মুহাম্মদ (স.) এবং কতিপয় নবী-রাসূলের দুনিয়া সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্��ি কিছু হাদিসের মাধ্যমে ,নির্দিষ্ট করে বললে ৪৩৮ টি হাদিসের মাধ্যমে তুলে ধরেছে।
লেখক সম্পর্কে দুটো কথা বলে নেওয়া ভালো। প্রথম কথা হলো লেখক হলেন সুন্নি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মাজহাব ‘ হাম্বালি মাজহাব'র প্রতিষ্ঠাতা। আর দ্বিতীয় কথাটা হলো বইটা সহিহ সিত্তারও আগে রচিত এবং ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম এবং ইমাম আবু দাউদ তাঁর সরাসরি ছাত্র ছিলেন।
পুরো বইতে নবী-রাসূলগণের বক্তব্যে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়িত্ব, আখিরাতের জীবনের জন্য প্রস্তুতির তাগিদের কথা উঠে এসেছে। প্রকাশক সাহেব ভূমিকায় যেমনটা বলেছেন যে বর্তমানের এই দুনিয়াসর্বস্ব ���ুগে এমন বই মুসলমানদের জন্য চপেটাঘাত স্বরূপ ; বইটা পড়তে গিয়ে বারবার বক্তব্যটার সত্যতা অনুভব করেছি। ধর্মের যে অন্যতম মূল বক্তব্য ‘ দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত্র’ সেটা থেকে যে আমরা বর্তমান যুগের মানুষেরা কতটা দূরে সরে এসেছি সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে বইটা।
নাম দেখে ভেবেছিলাম বইটা মুহাম্মদ (স.) এর জীবন সম্পর্কিত চিন্তাভাবনা নিয়ে লেখা বিশ্লেষণমূলক বই। কিন্তু পরে আবিস্কার করলাম যে যদিও বইটার অর্ধেক মুহাম্মদ (স.) এর চিন্তা সম্পর্কিত কিন্তু বাকি অর্ধেক অন্যান্য নবী-রাসূলগণের সাথে সম্পর্কিত। এই কনফিউশান এড়াতে অনুবাদকের উচিত বইটার নাম পরিবর্তন করা ; নবী-রাসূলগণের চোখে দুনিয়া বা এমন কিছু হলেই ভালো হবে মনে হয়।
মোটের উপর, যদি আপনি দুনিয়া প্রীতি কিছুটা কমিয়ে পরের জীবনের দিকে একটু এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা খুঁজতে থাকেন, তাহলে এই বইটা আপনার জন্য!
সে তোমাকে ছুঁড়ে ফেলবে, আছড়ে ফেলবে। বারবার আঘাতে জর্জরিত করবে। তুমি দুনিয়ার পিছে যতই ছুটে চলবে, গন্তব্য ততই দূরে মনে হবে! হাত বাড়িয়ে যতবার ছুঁতে যাবে, ততবারই হাত গলে বেরিয়ে যাবে! দুনিয়ার বাহিরের চাকচিক্য তোমাকে যতই আকর্ষণ করুক না কেন, ভেতরটা বরাবরই অন্তঃসারশূন্য থেকে যাবে! হ্যাঁ, এটাই দুনিয়া!
.
তোমার আগেও তো কতশত মানুষ দুনিয়াকে পেতে চেয়েছিল, সুখ-শান্তির খোঁজে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল দুনিয়ার পায়ে! তবুও দুনিয়া তাদেরকে সেই সুখ দিতে পারেনি, দিতে পারেনি অন্তরের প্রশান্তি।
.
তারা কী পেয়েছে জানো? পরিণামে তারা পেয়েছে একরাশ হতাশা, পেয়েছে দুনিয়াকে না পাওয়ার আক্ষেপ। মরীচিকার পিছে ছুটে ছুটে ক্রমশ জীবন প্রদীপও নিভে গেছে তাদের। অতঃপর সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে গড়েছে আবাস। বড়ই অন্ধকার সেই ঘর, একদম নিকষ কালো। অথচ একটু চিন্তে করলেই তারা ঘরটি করতে পারত আলোকিত। ভরে দিতে পারত জান্নাতি সুবাসে! হায়, তারা যদি সামান্য একটু চিন্তা করত...
.
আর তারা কী হারিয়েছে, সেটা শুনতে চাও? তবে শোনো!
এই ইদুর দৌড়ে তারা নিজেদের অন্তরটাকেই হারিয়ে ফেলেছে। তাদের জীবন ছিল নির্বিকার জীবন। এই জীবনে স্থান নেই অন্তরের, স্থান নেই আবেগ-অনুভূতির, স্থান নেই ভালোবাসার। এর সবটুকু জুড়েই কেবল যান্ত্রিকতা আর যান্ত্রিকতা। মোহনীয় আবরণে মোড়া যে জীবনের ভেতরটা একেবারেই খালি। এ জীবনে কোনো সুখ নেই, কোনো শান্তি নেই।
তাদের হাসিগুলোও কেমন শূন্যতায় ভরা।
মুখে হাসি, ভেতরে গ্লানি। তারা দুনিয়ার খোঁজে দিশেহারা...
.
তারা দুনিয়ার পিছে যত ছুটেছে, তাদের রব থেকে ততই দূরে সরে গেছে।
এটাই দুনিয়ার নিয়ম, এটাই দুনিয়ার নীতি। যে দুনিয়ার পেছনে ছুটে চলে, সে দুনিয়া পায় না। আর যে দুনিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, দুনিয়া তার কাছেই ধরা দেয়...
বইটির নাম "রাসূলের চোখে দুনিয়া" হলেও এখানে রাসুল (সাল্লেল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এর জীবনের কথার পাশাপাশি অন্যান্য কিছু বিখ্যাত নবী-রাসুল (আঃ)এর কথাও স্থান পেয়েছে, প্রকাশ পেয়েছে তাদের দুনিয়া দেখার দৃষ্টিভঙ্গি। এসকল নবী-রাসুল (আঃ)এর বানীই প্রমান করে কত বড় হৃদয় আর চিন্তার খোরাক দিয়ে আল্লাহ তাদের তৈরি করেছিলেন, যার কিঞ্চিৎও যদি আমরা মেনে চলতাম তাহলে পৃথিবীটা অন্যরকম হতে পারতো। একদিন সৃষ্টিজগতের অধিপতির বিচারের সামনে দাঁড়াবই জেনেও আমাদের ভাবনাগুলো যেন অতিরিক্ত পার্থিবমুখর, নষ্ট জলে ডোবা পৃথিবী জেনেও অপেক্ষমাণ ঈমান তরীকে আমরা কেন যেন করছি বর্জন। চেতনাহীন হৃদয়কে তাই জাগাতেই যেন এই স্মরণিকা "রাসূলের চোখে দুনিয়া"। বইটি ইনশাআল্লাহ আমাদের দুনিয়া দেখার দৃষ্টিতে বদল আনবে এই প্রত্যাশায়...।
Mashallah. Imam Ahmed Ibn Hambol Ra., one of the sacred imam of the top four imam . Imam Bhukhari, Imam Muslim and other great imams were his students.
This is a transition of a part of his book, Kitabus Juhd. Nice book.