Buddhadeva Bose (also spelt Buddhadeb Bosu) (Bengali: বুদ্ধদেব বসু) was a major Bengali writer of the 20th century. Frequently referred to as a poet, he was a versatile writer who wrote novels, short stories, plays and essays in addition to poetry. He was an influential critic and editor of his time. He is recognized as one of the five poets who moved to introduce modernity into Bengali poetry. It has been said that since Tagore, perhaps, there has been no greater talent in Bengali literature. His wife Protiva Bose was also a writer.
Buddhadeva Bose received the Sahitya Akademi Award in 1967 for his verse play Tapaswi O Tarangini, received the Rabindra Puraskar in 1974 for Swagato Biday(poetry) and was honoured with a Padma Bhushan in 1970.
বুদ্ধদেবের তিন পর্বের স্মৃতিকথায় এই পর্বটাই সবচেয়ে আকর্ষণীয়--প্রায় ৯০ বছর আগের ঢাকা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর অনেকটা জুড়ে ছিল বলেই বোধহয়। আজকের মানুষের-চাপে-পিষ্ট ধুঁকতে থাকা ঢাকায় বসে পড়ি রূপকথার মতো মফস্বলী ঢাকার কথা। সেগুনবাগিচার দিকে নাকি সুবিস্তীর্ণ সেগুনবাগান ছিল, নীলক্ষেতের পর ছিল দিগন্তবিস্তৃত সবুজ মাঠ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল সুপরিসর, সত্যিকার অর্থেই 'জমকালো এক জ্ঞানপীঠ': ভেতরে বাইরে জামকালো এক ব্যাপার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। নিখিল বাংলার একমাত্র উদ্যান-নগরে পনেরো-কুড়িটি অট্টালিকা নিয়ে ছড়িয়ে আছে তার কলেজ বাড়ি, ল্যাবরেটরি, ছাত্রাবাস – ফাঁকে ফাঁকে সবুজ মাঠ বিস্তীর্ণ। ইংলন্ডদেশীয় পল্লী কুটিরের মতো ঢালু ছাদের এক একটি দোতালা বাড়ি-নয়নহরণ, বাগান সম্পন্ন: সেখানে কর্মস্থলের অতি সন্নিকটে বাস করেন আমাদের প্রধান অধ্যাপকেরা; অন্যদের জন্যেও নীলখেতে ব্যবস্থা অতি সুন্দর। স্থাপত্যের কোন একঘেয়েমি নেই, সরণি ও উদ্যান রচনায় নয়া দিল্লির জ্যামিতিক দুঃস্বপ্ন স্থান পায়নি। বিজ্ঞান ভবনগুলি আরক্তিম ও তুর্কি শৈলীতে অলংকৃত। অন্যান্য বিভাগ স্থান পেয়েছে একটি বহুপক্ষযুক্ত দীর্ঘকার সাদা দোতালার একতালায়- সরকারী সেক্রেটারিয়েট হবার জন্য তৈরি হয়েছিল বাড়িটি। সর্বত্র প্রচুর স্থান, ঘেঁষাঘেষি ঠেলাঠেলির কোন কথাই উঠে না।
পড়ি; মানবচাপে পিষ্ট, শব্দদূষণে কলুষিত বাস্তবের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে সেই কল্পনার বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্প পড়ি আর ঠোঁটের কোণে কষ্টেসৃষ্টে ফুটে উঠে করুণার হাসি।
'শেষ হইতেই শুরু ' তা শুধু গ্রিক পুরাণের ফিনিক্স পক্ষীর ক্ষেত্রেই খাটে না। বুদ্ধদেব বসুও এই নিয়মের বাইরে নন। 'আমার ছেলেবেলা' যেখান থেকে সমাপ্ত, ঠিক সেই সময় থেকেই যাত্রা শুরু 'আমার যৌবন' বইয়ের ;বলছিলাম বুদ্ধদেব বসুর আত্মজীবনীর কথা। তিনখণ্ডের আত্মকথার দুসরা ভাগ এই বই। আয়তনে ১ শ ২৪ পাতা। অথচ কাল গুণতে বসলে বোঝা যাবে বেশ কিছু বছরের কথা মেরেকেটে লিখে দিয়েছেন বুদ্ধদেব বসু। আছে আজ থেকে আশি বছর আগেকার ঢাকার কথা, ঢাবির ছবি, কলকাতাবাস আর সেথায় নিজের সাহিত্য সংগ্রামের অম্ল-মধুর নানা অভিজ্ঞতা।
১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্য বিভাগে ভর্তি হন। এখনকার ঢাকাবাসীর কাছে অকল্পনীয় সেই ঢাকা। আট দশক পূর্বেকার ঢাকার পরিবেশ, প্রতিবেশের যে বর্ণনা বুদ্ধদেব দিয়েছেন তা ঈর্ষণীয়। বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার দরুণ ছিমছাম ঢাকা এর বছর দশক পেল বিশ্ববিদ্যালয়। আমলাদের জন্য নতুন ঢাকায় নির্মিত হয়েছিল দৃষ্টিনন্দন বাড়িঘর। রমনা তো সৌন্দর্যের দেবীর স্থানীয় অবতারের রূপ নিয়েছিল। আজকের ইটপাথরের ভিড় আর জনারণ্যের নীলক্ষেত তখন আদতেই ক্ষেত! শুধু মাঠ। তারই মাঝে মেঠোপথ। এই রাস্তা গিয়ে মিশেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।
নবীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষকদের আন্তরিকতার কথা লিখেছেন বসু। একইসাথে স্মরণ করেছেন রমেশচন্দ্র মজুদার, সত্যন্দ্রনাথ বসু আর মোহিতলাল মজুমদারের মতো শিক্ষকদের সাদামাটা জীবনযাপনের চিত্র। নিজের শিক্ষা জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মোহগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। মনে হচ্ছিল অতীত নয়, চলমান বর্তমানকেই পৃষ্ঠাবন্দির কৌশল এঁটেছেন বুদ্ধদেব । সেই সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় আর এখনকার বিদ্যায়তনের প্রভেদটা আবিষ্কার করে দুঃখ পেতে পারেন। আবার, প্রাচ্যের রহস্য নগরী ঢাকার আশি বছর আগেকার পরিবেশের আদ্যপান্ত বয়ান নেই। যা আছে তা অত্যন্ত উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরা। অনেকটা চিত্ররূপময়।
তুখোড় মেধাবী ছাত্র যা বোঝায় বুদ্ধদেব ছিলেন তাই৷পরীক্ষার দারুণ ফলাফলের জন্য বৃত্তি পেতেন। প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায়ও তাঁকে কে পায়! টাকা আসতো হাতে। দুই,চারজন উৎসাহী বন্ধু মিলে বৃত্তির সেই টাকায় বের করতেন 'প্রগতি' নামের সাহিত্যসাময়িকী। এই সাময়িকীর কথা অনেকবার লিখেছেন। মনে হয়েছে, আলাদা এক মায়া ছিল 'প্রগতি'র প্রতি৷ এঁর-ওঁর লেখা আদায়, নিজেরা লিখে, প্রয়োজনে ছদ্মনামে লিখেও পাতা ভরিয়েছেন। সাময়িকী চালু রেখেছেন।বৃত্তির টাকা তো অফুরন্ত নয়। শেষ হলো একসময়। বন্ধ হয়ে গেল 'প্রগতি'।
ঢাবির ছাত্র তখনো। ঢাকায় এসেছেন কাজী নজরুল। নজরুলের সেই আগমন এবং গানে, কবিতায় ঢাবি জয়ের স্মৃতি যেন অমলিন বুদ্ধদেবের স্মৃতিপটে। ঢাবির তৎকালীন সাহিত্য সম্পাদক বসুর ভাষায়,
" সেই প্রথম দেখলাম নজরুলকে, অন্য অনেক অসংখ্যের মতো দেখামাত্রই প্রেমে প'ড়ে গেলাম।... কন্ঠে তার হাসি, কন্ঠে তার গান, প্রাণে তার অফুরান আনন্দ - সবমিলিয়ে মনোলুন্ঠনকারী একটি মানুষ তার। "
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবস্থায়ও হলের জন্য নাটক লিখেছেন। মঞ্চস্থ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া বসু তখনই প্রশংসা কুড়িয়েছেন নিজের সাহিত্যচর্চার জন্য। "অবন্ধু" সহপাঠীদের টিটকারিও সহ্য করেছেন কাব্যদেবীর আরাধনার জন্য।
আগেই বলেছি, তুখোড় মেধাবী ছাত্র ছিলেন বুদ্ধদেব। নিজে তা দাবি করেননি। পারতপক্ষে এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন। আ্যকাডেমিক জীবনের আলাপ কম। যেটুকু ছিল তাতেই বুঝেছি ইংরেজি সাহিত্যের জ্ঞানের ভিতটি নিছক খেলো নয়; বরং অনেক বেশি শক্তপোক্ত ছিল।
চল্লিশের আগেই পাকাপাকিভাবে কলকাতায় চলে এলেন। কলকাতার সাহিত্যে জগতে আনকোরা নন বুদ্ধদেব। 'কল্লোল' সাহিত্যগোষ্ঠীর অন্যতম পাণ্ডা তিনি। সেইসব অতীতের আমসত্ত্ব পাঠককে খেতে বাধ্য করেননি বুদ্ধদেব বসু। অথচ এমন একটি সাদামাটাভাব নিয়ে এগিয়েছেন যেন পাঠক স্ব-ইচ্ছায় পড়তে থাকে। একটুও বিরতি কিংবা বিরক্ত না হয়ে৷ এখানেই নিজের জাদু দেখিয়েছেন বুদ্ধদেব বসু।
সাহিত্যচর্চায় সাহিত্যিক তৃপ্ত হতে পারেন। তাঁর মন শান্তি খুঁজে পেতে পারে। কিন্তু নগদ নারায়ণ না থাকলে পেট শান্ত হবে না। হয়নি বুদ্ধদেব বসুরও। কলকাতায় এসে বিপাকে পড়লেন। অবস্থা এমনও হয়েছে, প্রকাশককে গিয়ে অনুরোধ করেছেন, দশটি টাকা দিন। 'মৌচাকে' গল্প লিখে শোধ দেবো।
চাকরি হচ্ছিল না। তখন টাকার জন্য লিখেছেন অনবরত। অশ্লীলতার দায়ে লালবাজারে গিয়ে মীমাংসা করতে হয়েছে পুলিশের সাথে৷ এরইমধ্যে ঢাকার মেয়ে প্রতিভা সোমের সাথে আলাপ। কন্ঠশিল্পী প্রতিভার প্রতিভা বেশি বৈ কম ছিল না। বিয়ে হয়ে গেল। কলেজে অধ্যাপনাও জুটলো। আলাপ হল হুমায়ুন কবিরের সাথে। তাঁর কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেছেন৷
কবিতা লিখেছেন, গল্প, প্রবন্ধও বাদ যায়নি। সংসার বেড়েছে৷ বাধ্য হয়ে কলম ধরতে হয়েছে। আড্ডার জগৎ সঙ্কুচিত হয়েছে কালের পরিক্রমায়। সেইসাথে সমাপ্ত হয়েছে আত্মজীবনীর দ্বিতীয় পর্ব 'আমার যৌবন '।
শুধু যে নিজের যৌবনের স্বর্ণযুগকেই উপজীব্য করেছেন বুদ্ধদেব তা নয়। তবুও এই নামকরণ কেন তা নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে মনে তা অভিযোগ বললে অতিকথন হবে না। নিজেদের কালের কথা লিখতে গিয়ে অনেকেই সুর হারিয়ে ফেলেন। তালে হয়ে যান বেতাল। কিন্তু বুদ্ধদেব বসু সেই বেখেয়ালের দলেই নন। ভিনদলের মানুষ তিনি। ঝকঝকে তাঁর বর্ণন ক্ষমতা। অতীতের কথাকে কিভাবে বর্তমানের সাথে সাযুজ্যপূর্ণ করে সাজাতে হয় তা বিলক্ষণ জানেন৷ এই আত্মজীবনীর বড় দিক সাহিত্যিক বসুর যাপিত সময়ের সাক্ষ্য দেয় পরিষ্কারভাবে। আবার, এই বইয়ের সবচেয়ে মন্দ দিকও হলো সাহিত্যিক জীবনকে বড় করে দেখতে গিয়ে, ক্ষীণদৃষ্টির পরিচয় দিয়েছেন সাহিত্যবহির্ভূত জীবনকে অম্লান বদনে অনুল্লেখ্য রেখে।
*আমার ছেলেবেলা* এর তুলনায় এটি একটু বেশিই ভাল লাগলো। যদিও সাইজে ছোট বলা চলে কিন্তু লিখে গেছেন অনেক দিনের অনেক মানুষের অনেক কথা। আজকের দিনে ভাবা যায় না এমন ঢাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা সাহিত্য ও কলকাতার কথা, নিজের জীবনের কথা লিখে গেছেন সুন্দর সাবলীল ভাষায়।
চমৎকার সুখপাঠ্য। লেখকের ঢাকার জীবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ের কথাগুলো পড়তে বেশি ভালো লেগেছে। কোলকাতা বাসের সময়গুলোর বিবরণও ভালো ছিলো তবে এর ব্যপ্তী আরেকটু হলে ভালো লাগতো। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে লেখা তাই হয়তো স্বল্প পরিসরে লেখা। আফসোস লাগে বুদ্ধদেব বসু উনার আত্মজীবনী আগে কেন লিখতে বসলেন না!