"যে জাতির ইতিহাস নাই তাহার ভবিষ্যৎ নাই"—মনের গভীরে লালন করা এই বিশ্বাস থেকে লেখক শিশির বিশ্বাস মনে করেন অতীতের ইতিহাস অন্বেষণে। আমাদের অতীত কথার সন্ধানে ইতিহাসবিদরা ঘেঁটে চলেছেন ধুলো-মাটি, প্রাচীন সিলমোহর, লিপি, মুদ্রা, আর ছেঁড়া পুথির পাতা—আর সেগুলোই সাজিয়েছেন লেখক তাঁর এই "মৃন্ময়ী মন্দিরের তোপদার" বইতে। এছাড়াও ইতিহাসে যাদের কথা লেখা হয়নি অর্থাৎ যা অনুচ্চারিত রয়ে গেছে—যেমন যাঁদের চেষ্টায় বিষ্ণুপুর মারাঠা সেনাপতি ভাস্কর পন্ডিতের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল তাদের না লেখা ইতিহাস, রাজা-উজির থেকে শুরু করে হারিয়ে যাওয়া আপামর সাধারণ মানুষের রোজকার জীবনের কথা নিয়ে লেখা 'মহেঞ্জোদারোর মানুষ', 'রাজপ্রহরী', 'শিলালিপি কাহিনী' ইত্যাদির মত আটটি গল্প তুলে দেওয়া হল কৌতুহলী পড়ুয়াদের হাতে। উদ্দেশ্য তারা ইতিহাসের গল্পও জানুক।
জন্ম ৫ জানুয়ারি ১৯৪৯। অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিক। প্রথম প্রকাশিত গল্প মৌচাক পত্রিকায়। কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ততার কারণে সাহিত্যচর্চা অনিয়মিত। তবুও যখনই সুযোগ হয়েছে কলম ধরেছেন ছোটোদের জন্য। হাসির গল্প থেকে শুরু করে সুন্দরবনের কাহিনি, রোমহর্ষক অ্যাডভেঞ্চার, ভৌতিক-অলৌকিক, এমনকি ঐতিহাসিক গল্প-উপন্যাসও। এ পর্যন্ত শুকতারা, সন্দেশ, কিশোর ভারতী, আনন্দমেলা, আমপাতা জামপাতা, মায়াকানন, ঝালাপালা, শিশুমেলা, রঙবেরঙ প্রভৃতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত গল্প ও উপন্যাসের সংখ্যা কয়েক শত।
প্রথম গ্রন্থ ‘নিউস্ক্রিপ্ট’ প্রকাশিত ‘বাঘবন্দি মন্তর’। তারপর একে একে প্রকাশিত হয়েছে আরও বহু গ্রন্থ। তার কয়েকটি: ‘শিশু সাহিত্য সংসদ’ প্রকাশিত আমবাগানের পদ্মগোখরো, মৃন্ময়ী মন্দিরের তোপদার, সোনার পাহাড়, পাথরের চোখ, জনাইগড়ের জঙ্গল রহস্য। এছাড়া গ্রন্থ প্রকাশ করেছে দেব সাহিত্য কুটির, নির্মল বুক এজেন্সি, মায়াকানন, জয়ঢাক, নৈর্ঋত, অরণ্যমন প্রভৃতি প্রকাশন সংস্থা। তার সাম্প্রতিক কয়েকটি: নিশুতি রাতে আসে, সাঁঝরাতের অন্ধকারে, জল জঙ্গল নরখাদক সমগ্র ১ম খণ্ড, মৃত্যু যখন ডাক দেয়, বাদাবনে আতঙ্ক, হঠাৎ এল হার্মাদ, বর্মার অন্ধকারে, মায়ংয়ের মন্ত্র, সাক্ষী ছিলেন পূর্ণচন্দ্র প্রভৃতি।
এই গল্পগুলো এককালে ছোটোদের পড়তে হয়তো ভালো লাগত। এখনকার ছোটোরা এগুলো পড়ে না। এখনকার আমি তো পড়িই না। একটা তারা বাড়ালাম অবিশ্বাস্য কম দাম (মাত্র ৬৫/- টাকা!)-এর সম্মানে।