What do you think?


আমি আর ফেলুদা
Sandip Ray (Bengali: সন্দীপ রায়, Shôndip Rae ?; born 8 September 1953) is an Indian film director who mainly works in Bengali cinema. He is the only child of the noted Bengali director Satyajit Ray and Bijoya Ray.
- GenresNonfiction
82 pages, Kindle Edition
First published January 1, 2006
About the author
Sandip Ray
45 books14 followersSandip Ray (Bangla: সন্দীপ রায়) is a film director living in the city of Kolkata, West Bengal, India. He is the only son of the noted Bengali director Satyajit Ray and Bijoya Ray.
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 15 of 15 reviews
September 11, 2020
বাংলা সাহিত্য পড়তে ভালোবাসেন এমন মানুষ কিন্তু ফেলুদা পড়েননি আজ পর্যন্ত খুঁজে পাইনি আমি আর যারা গোয়েন্দাগিরি পড়তে আর করতে পছন্দ করেন তাদের জন্য তো ফেলু মিত্তির রীতিমতো এক ভালোবাসা ও আদর্শের জায়গা.
সে গল্পের ফেলুদাকে নিয়ে আমরা যতটাই রোমন্থন করি না কেন সিনেমার ফেলুদা কে জানার সুযোগ কাছ থেকে জানার সুযোগ ছবিগুলোর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত যারা ছিলেন তাদের ছাড়া অন্য কেউ জানবেন না এটাই স্বাভাবিক
এই না জানার কাজটাকেই কিংবদন্তি বাবার সুযোগ্যপুত্র সন্দীপ রায় তুলে ধরেছেন এত সুন্দর করে মানসপটে সেই সময়কার কথাগুলো ছবির মত ভেসে উঠছিলো।
বাঙালির ইমোশনের এক বিশাল জায়গা জুড়ে থাকা ফেলুদার সৃষ্টি হয় ১৯৬৯সালে দেশপত্রিকার সম্পাদক সাগরময় ঘোষের নিরন্তর প্রচেষ্টা আর আগ্ৰহের জন্য.শরদিন্দু মশাইয়ের ব্যোমকেশ ছিল বাংলার আবালবৃদ্ধবনিতার পছন্দের শীর্ষে,তার মৃত্যুর পর যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল সে শূন্য জায়গা পূর্ন করতে খানিকটা আলগোছেই সত্যজিৎ রায় সাগরবাবুর অনুরোধে লিখে ফেলেন "গ্যাংটকে ফেলুদা"এবং বরাবরের মতোই এর খসড়া তৈরির পর বিজয়া রায় আর সন্দীপ রায়ের মতামত অনুযায়ী পাল্টে দেন কিছু কিছু জায়গা.
তবে খসড়াতে যাই পরিবর্তন আনা হোক না কেন সত্যজিৎ রায় তার স্বভাবের বেশ খানিকটা ঢুকিয়ে দিয়েছেন ফেলুদার স্বভাবে।অসম্ভব ঠান্ডা মাথা প্রবল বিচক্ষণতা,তীক্ষ্ম বিশ্লেষণ ক্ষমতা আর চরম বিপদেও মগজাস্ত্র ধারালো থাকা এসবই সত্যজিৎ রায়ের নিজের বৈশিষ্ট্য যা পরবর্তীতে আমরা দেখতে পাই ফেলুদাতে.এমনকি সত্যজিৎ এর মতো গড়ন,বা হাতের কড়ে আঙ্গুলের নখ না কেটে রাখা,ট্রাউজারের উপর শার্ট,পাঞ্জাবী কিংবা সত্যজিৎ বাবুর অনুকরণে পরা জ্যাকেটও আমরা দেখতে পাই প্রদোষচন্দ্র মিত্রের গায়ে.পারিশ্রমিকের ব্যাপারে সত্যজিৎ মশাই যেমন ছিলেন উদাসীন,মনের মত শিল্পসৃষ্টিই ছিল যার নিখাদ আনন্দের খোরাক "হত্যাপুরী"রহস্যে দেখতে পাই তোপসের জবান অনুসারে দস্তুরমত কেস জমে উঠলে পারিশ্রমিক নিয়েও মাথা ঘামাতেন না ফেলুদা.মাত্র ৫০০টাকার ফি তে যে রোমাঞ্চকর রহস্য ভেদের কাজ শুরু করেছিলো ফেলু মিত্তির কালক্রমে তা বেড়ে হয়েছিল সবোর্চ্চ ৫০০০।সত্যজিৎ এর পারিশ্রমিকের ব্যাপারে সন্দীপ রায় বলেছেন আসলে বাবার পারিশ্রমিক নিয়ে কখনো তিনি মাথা ঘামাননি আর প্রযোজকদের ও তা দৃষ্টিগোচর হয়নি,নইলে একাধারে লেখক পরিচালক মিউজিশিয়ান সহ আরো নানা কাজের উপযুক্ত মূল্য পেতে গেলে বরং ছবির কাজটাই পন্ড হয়ে যেত।
বিপদে আপদে রাতদুপুরে হরহামেশাই ছুটে গিয়ে পরোপকার করার এক বাতিক ছিল সত্যজিৎ এর.নইলে কি মগনলাল মেঘরাজের চরিত্রে মাত্র তিনটে ছবিতে অভিনয় করা উৎপলকে ছাড়াতে যান জেলখানাতে যখন তখন। নীতিগত দিকে তারা নমনীয় না হয়েও প্রীতির সম্পর্কে ছিলেন পরিনত আর পরিশীলিত।
এ তো গেল গল্পের ফেলুদা আর তার স্রষ্টাকে নিয়ে বাতচিত,সিনেমার ফেলুদাকে নিয়েও সন্দীপ রায় করছেন স্মৃতিচারন,বাবার সাথে কাজ করার সুবাদে দেখছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সন্তোষ দত্ত,আর উৎপল দত্তের মতো বাঘা বাঘা অভিনেতাদের ডেডিকেশন চরিত্রের প্রতি.পরবতীতে নিজেও কাজ করেছেন টিভি এবং চলচিত্রে সব্যসাচী,পরমব্রত,রবি ঘোষ,শশী কাপুর মোহন আগসে বিভু বাবুর মতো লোকদের সাথে.সিনেমার খুঁটিনাটি নিয়ে শূন্যের কোটায় জ্ঞান নিয়েও উনার সুন্দর সাবলীল লেখনীর জন্য শতভাগ না বুঝলেও সিকিভাগ ঠিকই বুঝতে পেরেছি নির্মান কৌশল নিয়ে।
সত্যজিৎ রায় বেঁচে থাকলে পরবর্তী সময়ে কি পেতাম বা না পেতাম তা আমার জানা নেই,বিচার করার ক্ষমতাও নেই তবে সহজেই অনুমেয় যে এই মানুষটি যেখানে তৎকালীন সময়ে এত বাধা প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও নিজের মেধা কর্ম গুনে বিশ্বকে জানিয়েছিলেন বাঙালির জাত শিল্প,রাজ কাপুরের মতো লোকদের মুখে ফুটে বের হয়েছিল "পথের প্যাচালী" দেখে নাহ্ এই লোকটা দেখিয়ে দিল সিনেমা কি জিনিস.সেখানে আজকের দিনের এত সুযোগ-সুবিধা পেলে কি করতে পারতেন তা সকলেরই বোধগম্য.
মানুষ তো মরণশীল,শঙ্কুর মতো মিরাকিউরল থাকলে বোধহয় আরো অনেক বছর সত্যজিৎ সৃষ্টির স্বাদ আস্বাদন করার সৌভাগ্য হত,দেখতে পেতাম লেখক পরিচালক মিউজিশিয়ান চিত্রকর সত্যজিৎ রায়ের জাদু আরো অনন্তকাল ধরে।
রেটিং:🌠🌠🌠🌠🌠
সে গল্পের ফেলুদাকে নিয়ে আমরা যতটাই রোমন্থন করি না কেন সিনেমার ফেলুদা কে জানার সুযোগ কাছ থেকে জানার সুযোগ ছবিগুলোর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত যারা ছিলেন তাদের ছাড়া অন্য কেউ জানবেন না এটাই স্বাভাবিক
এই না জানার কাজটাকেই কিংবদন্তি বাবার সুযোগ্যপুত্র সন্দীপ রায় তুলে ধরেছেন এত সুন্দর করে মানসপটে সেই সময়কার কথাগুলো ছবির মত ভেসে উঠছিলো।
বাঙালির ইমোশনের এক বিশাল জায়গা জুড়ে থাকা ফেলুদার সৃষ্টি হয় ১৯৬৯সালে দেশপত্রিকার সম্পাদক সাগরময় ঘোষের নিরন্তর প্রচেষ্টা আর আগ্ৰহের জন্য.শরদিন্দু মশাইয়ের ব্যোমকেশ ছিল বাংলার আবালবৃদ্ধবনিতার পছন্দের শীর্ষে,তার মৃত্যুর পর যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল সে শূন্য জায়গা পূর্ন করতে খানিকটা আলগোছেই সত্যজিৎ রায় সাগরবাবুর অনুরোধে লিখে ফেলেন "গ্যাংটকে ফেলুদা"এবং বরাবরের মতোই এর খসড়া তৈরির পর বিজয়া রায় আর সন্দীপ রায়ের মতামত অনুযায়ী পাল্টে দেন কিছু কিছু জায়গা.
তবে খসড়াতে যাই পরিবর্তন আনা হোক না কেন সত্যজিৎ রায় তার স্বভাবের বেশ খানিকটা ঢুকিয়ে দিয়েছেন ফেলুদার স্বভাবে।অসম্ভব ঠান্ডা মাথা প্রবল বিচক্ষণতা,তীক্ষ্ম বিশ্লেষণ ক্ষমতা আর চরম বিপদেও মগজাস্ত্র ধারালো থাকা এসবই সত্যজিৎ রায়ের নিজের বৈশিষ্ট্য যা পরবর্তীতে আমরা দেখতে পাই ফেলুদাতে.এমনকি সত্যজিৎ এর মতো গড়ন,বা হাতের কড়ে আঙ্গুলের নখ না কেটে রাখা,ট্রাউজারের উপর শার্ট,পাঞ্জাবী কিংবা সত্যজিৎ বাবুর অনুকরণে পরা জ্যাকেটও আমরা দেখতে পাই প্রদোষচন্দ্র মিত্রের গায়ে.পারিশ্রমিকের ব্যাপারে সত্যজিৎ মশাই যেমন ছিলেন উদাসীন,মনের মত শিল্পসৃষ্টিই ছিল যার নিখাদ আনন্দের খোরাক "হত্যাপুরী"রহস্যে দেখতে পাই তোপসের জবান অনুসারে দস্তুরমত কেস জমে উঠলে পারিশ্রমিক নিয়েও মাথা ঘামাতেন না ফেলুদা.মাত্র ৫০০টাকার ফি তে যে রোমাঞ্চকর রহস্য ভেদের কাজ শুরু করেছিলো ফেলু মিত্তির কালক্রমে তা বেড়ে হয়েছিল সবোর্চ্চ ৫০০০।সত্যজিৎ এর পারিশ্রমিকের ব্যাপারে সন্দীপ রায় বলেছেন আসলে বাবার পারিশ্রমিক নিয়ে কখনো তিনি মাথা ঘামাননি আর প্রযোজকদের ও তা দৃষ্টিগোচর হয়নি,নইলে একাধারে লেখক পরিচালক মিউজিশিয়ান সহ আরো নানা কাজের উপযুক্ত মূল্য পেতে গেলে বরং ছবির কাজটাই পন্ড হয়ে যেত।
বিপদে আপদে রাতদুপুরে হরহামেশাই ছুটে গিয়ে পরোপকার করার এক বাতিক ছিল সত্যজিৎ এর.নইলে কি মগনলাল মেঘরাজের চরিত্রে মাত্র তিনটে ছবিতে অভিনয় করা উৎপলকে ছাড়াতে যান জেলখানাতে যখন তখন। নীতিগত দিকে তারা নমনীয় না হয়েও প্রীতির সম্পর্কে ছিলেন পরিনত আর পরিশীলিত।
এ তো গেল গল্পের ফেলুদা আর তার স্রষ্টাকে নিয়ে বাতচিত,সিনেমার ফেলুদাকে নিয়েও সন্দীপ রায় করছেন স্মৃতিচারন,বাবার সাথে কাজ করার সুবাদে দেখছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সন্তোষ দত্ত,আর উৎপল দত্তের মতো বাঘা বাঘা অভিনেতাদের ডেডিকেশন চরিত্রের প্রতি.পরবতীতে নিজেও কাজ করেছেন টিভি এবং চলচিত্রে সব্যসাচী,পরমব্রত,রবি ঘোষ,শশী কাপুর মোহন আগসে বিভু বাবুর মতো লোকদের সাথে.সিনেমার খুঁটিনাটি নিয়ে শূন্যের কোটায় জ্ঞান নিয়েও উনার সুন্দর সাবলীল লেখনীর জন্য শতভাগ না বুঝলেও সিকিভাগ ঠিকই বুঝতে পেরেছি নির্মান কৌশল নিয়ে।
সত্যজিৎ রায় বেঁচে থাকলে পরবর্তী সময়ে কি পেতাম বা না পেতাম তা আমার জানা নেই,বিচার করার ক্ষমতাও নেই তবে সহজেই অনুমেয় যে এই মানুষটি যেখানে তৎকালীন সময়ে এত বাধা প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও নিজের মেধা কর্ম গুনে বিশ্বকে জানিয়েছিলেন বাঙালির জাত শিল্প,রাজ কাপুরের মতো লোকদের মুখে ফুটে বের হয়েছিল "পথের প্যাচালী" দেখে নাহ্ এই লোকটা দেখিয়ে দিল সিনেমা কি জিনিস.সেখানে আজকের দিনের এত সুযোগ-সুবিধা পেলে কি করতে পারতেন তা সকলেরই বোধগম্য.
মানুষ তো মরণশীল,শঙ্কুর মতো মিরাকিউরল থাকলে বোধহয় আরো অনেক বছর সত্যজিৎ সৃষ্টির স্বাদ আস্বাদন করার সৌভাগ্য হত,দেখতে পেতাম লেখক পরিচালক মিউজিশিয়ান চিত্রকর সত্যজিৎ রায়ের জাদু আরো অনন্তকাল ধরে।
রেটিং:🌠🌠🌠🌠🌠
June 23, 2020
বইটাকে অনেকটা ফেলুদার একাল সেকালও বলা যায়। ভাল্লাগসে। ফেলুদাকে নিয়ে দুই প্রজন্মের শ্যুটিং-এর বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও ভাবনার গল্প।
August 27, 2020
সন্দীপ রায়কে দেখলেই আমার ব্রাডম্যানের ছেলে আর গাভাস্কারের ছেলের কথা মনে পড়ে যায়। বিখ্যাত বাবার ছেলে-মেয়ে হওয়াটা অনেকক্ষেত্রেই বিড়ম্বনার, কিন্তু কিংবদন্তীর সন্তান হলে সেটা বিড়ম্বনা থেকে আত্মপরিচয়ের সঙ্কটে পরিণত হবার অবস্থা হয়। এই যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে ব্রাডম্যানের ছেলে নিজের উপাধিই বদলে ফেলেছিলেন; জন ব্রাডসান নাম নিয়ে ছিলেন দীর্ঘকাল। আর রোহান গাভাস্কার ব্যাটিংটা অতটাও খারাপ করতেন না, কিন্তু প্রতিটা বল খেলার পরেই কেউ যদি বাবার টেকনিকের সাথে তুলনা করে তো আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরতে বাধ্য, আর সেটা ক্যারিয়ারের বারোটা বাজাবেই।
সন্দীপ রায়ের ক্যারিয়ারের বারোটা বাজেনি। পরিচালক হিসেবে তাকে বেশ সফলই বলা যায়, সর্বদা বাবার সাথে থাকায় সিনেমা নিয়েও নিশ্চয়ই তার উন্নতি হয়েছে অনেক, কিন্তু যখনই তার বানানো সিনেমা দেখি, তখনই মনে হয় সত্যজিতের ছায়া থেকে তিনি একেবারেই বের হতে পারেননি, অথবা বের হতেই চাননি। 'আমি আর ফেলুদা', যেটা কিনা ফেলুদা'র সিনেমা বানানো নিয়ে তাঁর জবানির অনুলেখন, সেটা পড়েও মনে হলো সত্যজিতের মুখ থেকেই শুনছি। একজন সত্যজিৎ ভক্তের জন্য ব্যাপারটা নস্টালজিক, কিন্তু সন্দীপ রায়কে আর খুঁজে পাওয়া গেল না। আবারো, হয়তো তিনি আলাদা হতে চানও নি।
যেহেতু সবক'টা লেখাই ফেলুদা নিয়ে, লেখার মান যেমনই হোক, পড়তেই হতো। আমাদের মত যেসব বইপড়ুয়ার কিশোর বয়স কেটেছে প্রদোষ চন্দ্র মিত্রের সাথে ঘুরেফিরে, তাদের জীবনে অজান্তেই তিনি স্থায়ী ছাপ ফেলে গেছেন। সেই গ্যাঙটকে গণ্ডগোলের ইলাস্ট্রেশনে ফেলুদা'র গায়ে যে একখানা জ্যাকেট দেখেছিলাম, আজ অবধি ওরকম জ্যাকেট (মনে হয় সেটা উইন্ডব্রেকারের মতই) আমার খুব প্রিয়। ফেলুদা'র পছন্দ টিনটিন, কাজেই সেটা আমার নিজেরও পছন্দের তালিকায়। ফেলুদা লন্ডন গিয়েই বেকার স্ট্রিটে দৌড়েছিলেন, নিজেও সেটাই করেছি সবার আগে। কোথাও ঘুরতে যাবার আগে সে জায়গা নিয়ে যতটা পারা যায় পড়াশোনা করে নেয়ার অভ্যাসটা নিশ্চিতভাবেই ফেলু মিত্তিরের কাছ থেকে পাওয়া। আর সেই যে তোপসে বলেছিল, কেস জমাটি হলে রোজগার হলো কি না হলো সেটা ফেলুদা ভুলে যায়, সেটা এমনভাবেই মাথায় ঢুকে গিয়েছিল যে, কোন কাজ পছন্দ না হলে টাকার জন্য কোনদিনই সেটায় আগ্রহ পেলাম না। শুধু একটাই সমস্যা, ফেলুদা একটা আদর্শ গ্যাসের মত; বাস্তবে ওরকম হওয়া অসম্ভবের কাছাকাছি। কাজেই মাথায় সেরকম বুদ্ধিও নেই, সেই ছ'ফিট দুই ইঞ্চি হাইটও নেই, সেই ব্যক্তিত্বও নেই। তা বয়েই গেছে, নকল করতে ক্ষতি কি?
সন্দীপের স্মৃতিকথা পড়েই এতগুলো কথা মাথায় এলো। লেখার ধরণটা সাবলীল বলে পড়তেও ভাল লাগলো। এত ছোট বই না হয়ে আরো বড় হলে আরো ভাল লাগতো। আর এখন মনে হচ্ছে, আমি বই পড়া ভালভাবে শেখার আগেই যিনি দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন, সেই না দেখা মানুষটাই যদি আমাকে এতখানি প্রভাবিত করতে পারেন, তবে নিজের সন্তান হয়ে সন্দীপ আর ঐ ছায়া থেকে বের হবেন কিভাবে? তাই ৪-ই দিলাম।
সন্দীপ রায়ের ক্যারিয়ারের বারোটা বাজেনি। পরিচালক হিসেবে তাকে বেশ সফলই বলা যায়, সর্বদা বাবার সাথে থাকায় সিনেমা নিয়েও নিশ্চয়ই তার উন্নতি হয়েছে অনেক, কিন্তু যখনই তার বানানো সিনেমা দেখি, তখনই মনে হয় সত্যজিতের ছায়া থেকে তিনি একেবারেই বের হতে পারেননি, অথবা বের হতেই চাননি। 'আমি আর ফেলুদা', যেটা কিনা ফেলুদা'র সিনেমা বানানো নিয়ে তাঁর জবানির অনুলেখন, সেটা পড়েও মনে হলো সত্যজিতের মুখ থেকেই শুনছি। একজন সত্যজিৎ ভক্তের জন্য ব্যাপারটা নস্টালজিক, কিন্তু সন্দীপ রায়কে আর খুঁজে পাওয়া গেল না। আবারো, হয়তো তিনি আলাদা হতে চানও নি।
যেহেতু সবক'টা লেখাই ফেলুদা নিয়ে, লেখার মান যেমনই হোক, পড়তেই হতো। আমাদের মত যেসব বইপড়ুয়ার কিশোর বয়স কেটেছে প্রদোষ চন্দ্র মিত্রের সাথে ঘুরেফিরে, তাদের জীবনে অজান্তেই তিনি স্থায়ী ছাপ ফেলে গেছেন। সেই গ্যাঙটকে গণ্ডগোলের ইলাস্ট্রেশনে ফেলুদা'র গায়ে যে একখানা জ্যাকেট দেখেছিলাম, আজ অবধি ওরকম জ্যাকেট (মনে হয় সেটা উইন্ডব্রেকারের মতই) আমার খুব প্রিয়। ফেলুদা'র পছন্দ টিনটিন, কাজেই সেটা আমার নিজেরও পছন্দের তালিকায়। ফেলুদা লন্ডন গিয়েই বেকার স্ট্রিটে দৌড়েছিলেন, নিজেও সেটাই করেছি সবার আগে। কোথাও ঘুরতে যাবার আগে সে জায়গা নিয়ে যতটা পারা যায় পড়াশোনা করে নেয়ার অভ্যাসটা নিশ্চিতভাবেই ফেলু মিত্তিরের কাছ থেকে পাওয়া। আর সেই যে তোপসে বলেছিল, কেস জমাটি হলে রোজগার হলো কি না হলো সেটা ফেলুদা ভুলে যায়, সেটা এমনভাবেই মাথায় ঢুকে গিয়েছিল যে, কোন কাজ পছন্দ না হলে টাকার জন্য কোনদিনই সেটায় আগ্রহ পেলাম না। শুধু একটাই সমস্যা, ফেলুদা একটা আদর্শ গ্যাসের মত; বাস্তবে ওরকম হওয়া অসম্ভবের কাছাকাছি। কাজেই মাথায় সেরকম বুদ্ধিও নেই, সেই ছ'ফিট দুই ইঞ্চি হাইটও নেই, সেই ব্যক্তিত্বও নেই। তা বয়েই গেছে, নকল করতে ক্ষতি কি?
সন্দীপের স্মৃতিকথা পড়েই এতগুলো কথা মাথায় এলো। লেখার ধরণটা সাবলীল বলে পড়তেও ভাল লাগলো। এত ছোট বই না হয়ে আরো বড় হলে আরো ভাল লাগতো। আর এখন মনে হচ্ছে, আমি বই পড়া ভালভাবে শেখার আগেই যিনি দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন, সেই না দেখা মানুষটাই যদি আমাকে এতখানি প্রভাবিত করতে পারেন, তবে নিজের সন্তান হয়ে সন্দীপ আর ঐ ছায়া থেকে বের হবেন কিভাবে? তাই ৪-ই দিলাম।
October 14, 2016
এই ছোট্ট, সহজ, ছিমছাম বইটাতে সন্দীপ রায়ের 'গোড়ার কথা'-র পর সেবাব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুলিখনে এইক'টা লেখা আছে~
১. কিসসা কাঠমাণ্ডু কা: হিন্দি ফেলু বাংলায় ফেল;
২. বাক্স রহস্য: টাফ ফেলুর পয়লা টক্কর;
৩. একবগগা স্টান্ট মাস্টার;
৪. জটায়ুরা;
৫. মগনলাল মেঘরাজ!
৬. বোম্বাইয়ের বোম্বেটে: ট্রেনের সঙ্গে ফের দৌড়;
৭. ছবি তুলতে কত তোড়জোড়;
৮. বাবা আর ফেলুদা
এই লেখাগুলো থেকে সত্যজিতের গবেষকেরা নতুন কিছু পাবেন না। ঝাঁ-চকচকে মাল্টিপ্লেক্সে এখনকার ফেলুদা তথা ত্রিমূর্তির শ্লথ, প্রায় পিরিয়ড সিনেমাগুলো দেখে বিরক্ত হয়ে যাওয়া দর্শকেরাও এতে বিশেষ কিছু পাবেন না। তবে গত শতাব্দীর সাত ও আটের দশকে যাঁরা ফেলুদায় মজেছিলেন, এমনকি আজ থেকে প্রায় বছরবিশেক আগে পর্দায় 'বোম্বাইয়ের বোম্বেটে' দেখে যাঁরা আসনে একেবারে টানটান হয়ে বসেছিলেন,
এই বই তাঁদের জন্যই লেখা।
স্মৃতিরোমন্থনের আনন্দ পেতে চাইলে এই ছিমছাম, বেশ কিছু আলোকচিত্রে শোভিত বইটি হাতে তুলে নিতে পারেন। সময়টা নেহাত মন্দ কাটবে না।
১. কিসসা কাঠমাণ্ডু কা: হিন্দি ফেলু বাংলায় ফেল;
২. বাক্স রহস্য: টাফ ফেলুর পয়লা টক্কর;
৩. একবগগা স্টান্ট মাস্টার;
৪. জটায়ুরা;
৫. মগনলাল মেঘরাজ!
৬. বোম্বাইয়ের বোম্বেটে: ট্রেনের সঙ্গে ফের দৌড়;
৭. ছবি তুলতে কত তোড়জোড়;
৮. বাবা আর ফেলুদা
এই লেখাগুলো থেকে সত্যজিতের গবেষকেরা নতুন কিছু পাবেন না। ঝাঁ-চকচকে মাল্টিপ্লেক্সে এখনকার ফেলুদা তথা ত্রিমূর্তির শ্লথ, প্রায় পিরিয়ড সিনেমাগুলো দেখে বিরক্ত হয়ে যাওয়া দর্শকেরাও এতে বিশেষ কিছু পাবেন না। তবে গত শতাব্দীর সাত ও আটের দশকে যাঁরা ফেলুদায় মজেছিলেন, এমনকি আজ থেকে প্রায় বছরবিশেক আগে পর্দায় 'বোম্বাইয়ের বোম্বেটে' দেখে যাঁরা আসনে একেবারে টানটান হয়ে বসেছিলেন,
এই বই তাঁদের জন্যই লেখা।
স্মৃতিরোমন্থনের আনন্দ পেতে চাইলে এই ছিমছাম, বেশ কিছু আলোকচিত্রে শোভিত বইটি হাতে তুলে নিতে পারেন। সময়টা নেহাত মন্দ কাটবে না।
August 25, 2020
সোনার কেল্লা আর জয় বাবা ফেলুনাথ ছবির শ্যুটিংয়ের বিবরণ গল্প সত্যজিৎ রায়ের জবানবন্দিতে 'একেই বলে শ্যুটিং' বইয়ের দুটি প্রবন্ধতে উঠে এসেছে৷ সেইসব দিনে সন্দীও রায়ও বাবা সাথে ছিলেন৷ পরবর্তীতে সন্দীপ রায় নিজ পরিচালনায় ফেলুদার ছবি তৈরির সময় বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা, সমস্যা এবং চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ফেলুদা সৃষ্টি নেপথ্যে ও চরিত্র বিশ্লেষণ নিয়ে লিখেছেন ' আমি আর ফেলুদা '৷
'গ্যাংটকে গন্ডগোল' লেখা আর 'জয় বাবা ফেলুনাথ' ছবিতে মগনলালের বাড়িতে জটায়ুর প্রতি 'নাইফ থ্রোয়িং' এর শ্যুটিং— এই দুইটি অংশ বইটা থেকে সেরা প্রাপ্তি৷ জটায়ুর কথা উঠলেই সন্তোষ দত্তের কথাও মনে পড়ে৷ চরিত্রটার প্রতি এতটা সুবিচার আর কেউ করতে পারে নি৷ এমনি ফেলুদার পরের বইগুলোতে জটায়ুর ইলাস্ট্রেশনে সত্যজিৎ রায় সন্তোষ দত্তের রূপ দিয়েছেন৷
অন্যদিকে, উৎপল দত্ত ছাড়াও মগনলাল মেঘরাজকে হয়ত এত নিঁখুতভাবে অন্যকেউ উপস্থাপন করতে পারত না৷ বইয়ের একটা অংশে উৎপল দত্তের পর্দার পিছনের জীবন উঠে এসেছে৷
'গ্যাংটকে গন্ডগোল' লেখা আর 'জয় বাবা ফেলুনাথ' ছবিতে মগনলালের বাড়িতে জটায়ুর প্রতি 'নাইফ থ্রোয়িং' এর শ্যুটিং— এই দুইটি অংশ বইটা থেকে সেরা প্রাপ্তি৷ জটায়ুর কথা উঠলেই সন্তোষ দত্তের কথাও মনে পড়ে৷ চরিত্রটার প্রতি এতটা সুবিচার আর কেউ করতে পারে নি৷ এমনি ফেলুদার পরের বইগুলোতে জটায়ুর ইলাস্ট্রেশনে সত্যজিৎ রায় সন্তোষ দত্তের রূপ দিয়েছেন৷
অন্যদিকে, উৎপল দত্ত ছাড়াও মগনলাল মেঘরাজকে হয়ত এত নিঁখুতভাবে অন্যকেউ উপস্থাপন করতে পারত না৷ বইয়ের একটা অংশে উৎপল দত্তের পর্দার পিছনের জীবন উঠে এসেছে৷
July 13, 2019
সুন্দর ঝরঝরে লেখা, অনেকটাই সত্যজিৎএর আদলে। যদিও অনুলেখক ছিলেন কিন্তু সন্দীপের ছাপ স্পষ্ট। তবে সন্দীপ কেন অনুলেখক ব্যবহার করেছেন আমি জানি না! এত পুরুষের লেখালেখি তাদের!
সত্যজিতের মৃত্যুর কথা আসলেই এত কষ্ট লাগে! কেন কিছু কিছু মানুষ অনন্তকাল বেঁচে থাকে না?
মুভি বানানো খুবই কষ্টকর কাজ। একেকটা দৃশ্যের শুটিং এর বর্ণনা পড়লে মনে হয়, এইভাবে কয়েক মিনিট করে করে এত্তবড় একটা মুভি বানিয়েছে! এরপরেও মানুষ ফালতু মুভি বানায় কিভাবে!
সন্দীপের একই সাথে সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য যে, সে অতি প্রতিভাবান বাবা পেয়েছে!
সত্যজিতের মৃত্যুর কথা আসলেই এত কষ্ট লাগে! কেন কিছু কিছু মানুষ অনন্তকাল বেঁচে থাকে না?
মুভি বানানো খুবই কষ্টকর কাজ। একেকটা দৃশ্যের শুটিং এর বর্ণনা পড়লে মনে হয়, এইভাবে কয়েক মিনিট করে করে এত্তবড় একটা মুভি বানিয়েছে! এরপরেও মানুষ ফালতু মুভি বানায় কিভাবে!
সন্দীপের একই সাথে সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য যে, সে অতি প্রতিভাবান বাবা পেয়েছে!
September 24, 2017
'একেই বলে শুটিং' বইটার অস্তিত্ব না থাকলে রেটিং কিছুটা অন্য রকম হতো।
August 28, 2025
বইটা কেনার বা পড়ার সবচেয়ে বড় মোটিভেশন যে ‘ফেলুদা’ চরিত্রটির প্রতি আমার পাঠক হিসেবে দুর্নিবার আকর্ষণ, সে-কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলা পাঠকমহলে এমন পাঠকের সংখ্যা যথেষ্ট। মূল গল্প-উপন্যাস কিংবা সিনেমার বাইরে পছন্দের চরিত্রটির বিষয়ে নানাবিধ ‘behind the scenes’-এর ব্যাপার-স্যাপার পড়তে আগ্রহ জাগাটাই স্বাভাবিক। এই বইটির বিষয়বস্তুও হুবহু তাই। ফেলু-কে নিয়ে বানানো টেলিফিল্ম/সিনেমার মেকিং সংক্রান্ত, ফেলু সিরিজের মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীদের সংক্রান্ত এবং সর্বোপরি এসবকিছুর আড়ালে থাকা আসল ‘পরিচালক’ মানুষটি, অর্থাৎ সত্যজিৎ রায় সংক্রান্ত নানারকমের ঘটনার সমাহার রয়েছে এই ছোট্ট প্রবন্ধ সংকলনটিতে।
প্রথমেই বলে রাখা ভালো যে, এই সংকলনটিতে বেশিরভাগই ফেলুর চলচ্চিত্রায়নের বিষয়ে সন্দীপ রায়ের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অভিজ্ঞতাই উঠে এসেছে। কিছুটা অবশ্য তাঁর নিজস্ব মূল্যায়নও রয়েছে। এবং সেটা স্বাভাবিকও। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বইটির আটটি প্রবন্ধের যাবতীয় ঘটনার সময়কাল হল — পত্রিকার পাতায় ফেলুর আনাগোনা থেকে শুরু করে ‘বোম্বাইয়ের বোম্বেটে’ সিনেমাটি বড়পর্দায় আসা অবধি। অর্থাৎ, সব্যসাচীবাবুর পরবর্তী ফেলু সিনেমাগুলি (‘ডবল ফেলুদা’ অবধি) এবং হালফিলের নতুন ত্রয়ীর ফেলুদা সিনেমার ব্যাপার হতে এই বই বহুদূরে অবস্থান করছে।
এখন বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করতে চাইলে বইটির আটটি প্রবন্ধের নাম এবং সামান্য বিষয়-ধারণা (ব্র্যাকেটে) মেনশন করাই বোধহয় যথেষ্ট হবে :
১) কিসসা কাঠমাণ্ডু কা : হিন্দি ফেলু বাংলায় ফেল (শশী কাপুর অভিনীত ফেলুদার হিন্দি ভার্সান সংক্রান্ত চাপানউতোর)
২) বাক্স রহস্য : টাফ্ ফেলুদার পয়লা টক্কর (সব্যসাচী চক্রবর্তীর ফেলুদা হিসেবে প্রথম ভেঞ্চারের খুঁটিনাটি)
৩) একবগ্গা স্টান্ট মাস্টার (‘বোম্বাইয়ের বোম্বেটে’ সিনেমার ভিক্টর বনাম ফেলু দৃশ্যের ইতিবৃত্ত)
৪) জটায়ু’রা (সন্তোষ দত্ত, রবি ঘোষ, অনুপকুমার, বিভু ভট্টাচার্য — এই চার অভিনেতার জটায়ু-ফিকেশন)
৫) মগনলাল মেঘরাজ (উৎপল দত্ত, এই মানুষটির নামই যথেষ্ট)
৬) বোম্বাইয়ের বোম্বেটে : ট্রেনের সঙ্গে ফের দৌড় (‘বোম্বাইয়ের বোম্বেটে’ সিনেমার ক্লাইম্যাক্সের ট্রেন দৃশ্যের চলচ্চিত্রায়ন)
৭) ছবি তুলতে কত তোড়জোড় (ফেলু সিনেমায় জড়িত সাউণ্ড এবং ক্যামেরার কাজের ইতিবৃত্ত)
৮) বাবা আর ফেলুদা (স্রষ্টা ও সৃষ্টি — সত্যজিৎ রায় ও ফেলু মিত্তির)
বইটির পরিসর ছোট। মাত্র ৬৩ পৃষ্ঠার। তবুও অনেকগুলি বিষয় ক্যাটার করে এই অল্প পরিসরেই। দীর্ঘায়িত জার্নালিং নেই, তাই পড়াও হয়ে যায় তাড়াতাড়ি। বিষয়ের পাশাপাশি বহু পরোক্ষ ঘটনাও জানার সুযোগ রয়েছে। অনেকগুলি রঙিন ফটোগ্রাফও রয়েছে শুটিং সংক্রান্ত। সবমিলিয়ে আমার মতো অল্প পরিমাণে নন-ফিকশন পড়ার পাঠকের ক্ষেত্রে একটি সুখপাঠ্য ব্যাপার। ঠিক এমনটাই মনে হয়েছিল গতবছর ‘একেই বলে শুটিং’ বইটি পড়ার সময়।
শেষে যে কথাটা না বললেই নয়, তা হল বইটির লেখকের জায়গায় দু’জনের নাম লেখার কারণ। আসলেই এই বইটি দ্বৈত-প্রচেষ্টায় লিখিত। মূল রসদ অবশ্যই জুগিয়েছেন সন্দীপ রায় এবং সেইসব তথ্য সন্দীপ রায়ের নিজস্ব জবানির ভঙ্গিতে লেখ্যরূপ দান করেছেন সেবাব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এমন অনুলিখন করা বই এই প্রথম পড়লাম। এইরকম ক্ষেত্রে লেখনী-শৈলীর মূল্যায়ন করা কঠিন তো বটেই, কারণ দু’জনের মিলিত প্রয়াস পৃথক করে দেখার উপায় নেই। তবে সামগ্রিকভাবে প্রচেষ্টাটি যে ফেলুপ্রেমীদের জন্য একটা দারুণ ট্রিট, সেটা বইটির ‘পেজ-টার্নার’ বৈশিষ্ট্যই জোরগলায় বলে দেয়।
প্রথমেই বলে রাখা ভালো যে, এই সংকলনটিতে বেশিরভাগই ফেলুর চলচ্চিত্রায়নের বিষয়ে সন্দীপ রায়ের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অভিজ্ঞতাই উঠে এসেছে। কিছুটা অবশ্য তাঁর নিজস্ব মূল্যায়নও রয়েছে। এবং সেটা স্বাভাবিকও। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বইটির আটটি প্রবন্ধের যাবতীয় ঘটনার সময়কাল হল — পত্রিকার পাতায় ফেলুর আনাগোনা থেকে শুরু করে ‘বোম্বাইয়ের বোম্বেটে’ সিনেমাটি বড়পর্দায় আসা অবধি। অর্থাৎ, সব্যসাচীবাবুর পরবর্তী ফেলু সিনেমাগুলি (‘ডবল ফেলুদা’ অবধি) এবং হালফিলের নতুন ত্রয়ীর ফেলুদা সিনেমার ব্যাপার হতে এই বই বহুদূরে অবস্থান করছে।
এখন বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করতে চাইলে বইটির আটটি প্রবন্ধের নাম এবং সামান্য বিষয়-ধারণা (ব্র্যাকেটে) মেনশন করাই বোধহয় যথেষ্ট হবে :
১) কিসসা কাঠমাণ্ডু কা : হিন্দি ফেলু বাংলায় ফেল (শশী কাপুর অভিনীত ফেলুদার হিন্দি ভার্সান সংক্রান্ত চাপানউতোর)
২) বাক্স রহস্য : টাফ্ ফেলুদার পয়লা টক্কর (সব্যসাচী চক্রবর্তীর ফেলুদা হিসেবে প্রথম ভেঞ্চারের খুঁটিনাটি)
৩) একবগ্গা স্টান্ট মাস্টার (‘বোম্বাইয়ের বোম্বেটে’ সিনেমার ভিক্টর বনাম ফেলু দৃশ্যের ইতিবৃত্ত)
৪) জটায়ু’রা (সন্তোষ দত্ত, রবি ঘোষ, অনুপকুমার, বিভু ভট্টাচার্য — এই চার অভিনেতার জটায়ু-ফিকেশন)
৫) মগনলাল মেঘরাজ (উৎপল দত্ত, এই মানুষটির নামই যথেষ্ট)
৬) বোম্বাইয়ের বোম্বেটে : ট্রেনের সঙ্গে ফের দৌড় (‘বোম্বাইয়ের বোম্বেটে’ সিনেমার ক্লাইম্যাক্সের ট্রেন দৃশ্যের চলচ্চিত্রায়ন)
৭) ছবি তুলতে কত তোড়জোড় (ফেলু সিনেমায় জড়িত সাউণ্ড এবং ক্যামেরার কাজের ইতিবৃত্ত)
৮) বাবা আর ফেলুদা (স্রষ্টা ও সৃষ্টি — সত্যজিৎ রায় ও ফেলু মিত্তির)
বইটির পরিসর ছোট। মাত্র ৬৩ পৃষ্ঠার। তবুও অনেকগুলি বিষয় ক্যাটার করে এই অল্প পরিসরেই। দীর্ঘায়িত জার্নালিং নেই, তাই পড়াও হয়ে যায় তাড়াতাড়ি। বিষয়ের পাশাপাশি বহু পরোক্ষ ঘটনাও জানার সুযোগ রয়েছে। অনেকগুলি রঙিন ফটোগ্রাফও রয়েছে শুটিং সংক্রান্ত। সবমিলিয়ে আমার মতো অল্প পরিমাণে নন-ফিকশন পড়ার পাঠকের ক্ষেত্রে একটি সুখপাঠ্য ব্যাপার। ঠিক এমনটাই মনে হয়েছিল গতবছর ‘একেই বলে শুটিং’ বইটি পড়ার সময়।
শেষে যে কথাটা না বললেই নয়, তা হল বইটির লেখকের জায়গায় দু’জনের নাম লেখার কারণ। আসলেই এই বইটি দ্বৈত-প্রচেষ্টায় লিখিত। মূল রসদ অবশ্যই জুগিয়েছেন সন্দীপ রায় এবং সেইসব তথ্য সন্দীপ রায়ের নিজস্ব জবানির ভঙ্গিতে লেখ্যরূপ দান করেছেন সেবাব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এমন অনুলিখন করা বই এই প্রথম পড়লাম। এইরকম ক্ষেত্রে লেখনী-শৈলীর মূল্যায়ন করা কঠিন তো বটেই, কারণ দু’জনের মিলিত প্রয়াস পৃথক করে দেখার উপায় নেই। তবে সামগ্রিকভাবে প্রচেষ্টাটি যে ফেলুপ্রেমীদের জন্য একটা দারুণ ট্রিট, সেটা বইটির ‘পেজ-টার্নার’ বৈশিষ্ট্যই জোরগলায় বলে দেয়।
December 21, 2021
সত্যজিৎ পুত্র শ্রী সন্দিপ রায় নিজে বহু ফেলুদা ছবির পরিচালক থাকার সাথে সাথে সত্যজিৎ রায়ের বহু ছবিতে স্টিল ফটোগ্রাফার এর কাজ ও করেছিলেন। সোনার কেল্লা ও জয় বাবা ফেলুনাথ-এও সেই ভুমিকাতে ছিলেন উনি। এই বইতে সেই সব অভিজ্ঞতার-ই বর্ননা দেওয়া আছে। ছোট্ট এই বইতে বহু এমন গল্প বলা আছে যেগুলি Behind the scene ঘটেছে, যা এর আগে দর্শকদের জানার কথা নয়,কিন্ত এই বই এর দৌলতে জানা যায়। সিনেমাগুলি নিয়ে বহু ঘটনা থাকার সাথে সাথে, ফেলুদার গল্প লেখা নিয়ে শ্রী রায়ের এমন অনেক কথা আছে যেগুলি এর আগে নেপথ্যে রয়ে গেছিলো, সেগুলি পড়েও বেশ অবাক হতে হয়। যাঁরা ফেলুদা সিনেমাগুলি বারংবার দেখতে ভালোবাসেন তাদের কাছে এই বইটি পড়ার অভিজ্ঞতা বেশ সুখকর হবে বলেই আমার ধারনা।
August 23, 2026
কালকে এই বইটি পড়ে শেষ করলাম, মাত্র ৬০ পাতার বই, দাম সাধ্যের মধ্যে, অনেক অজানা তথ্য পেলাম বইটি থেকে যেগুলো ঠিক সন্দীপ রায় বা বাকি ফেলুদা ইউনিটের ইন্টারভিউতে অ্যাভেলেবল নেই বা ডিপ্লোম্যাটিকালি বলা হয়েছে, যেমন অমিতাভ বচ্চন কেন ফেলুদা হতে পারলেন না, উৎপল দত্ত আর সত্যজিৎ রায়ের সম্পর্ক, জটায়ুর সেই নাইফ থ্রোয়িং সিনটি শুট করার চ্যালেঞ্জ, সব্যসাচী চক্রবর্তী চোখ চশমা পরতেন বলে ফেলুদার চোখে চশমা দেওয়া যায় কিনা তা নিয়ে চিন্তাভাবনা, অসাধারণ সময় কাটলো বইটি পড়ে, প্রকাশক কে অনুরোধ দয়া করে একটু বানানগুলো সংশোধন করে নেবেন, প্রচুর ভুল আছে।
June 5, 2020
ফেলুদা এবং সত্যজিৎ কে নিয়ে সবসময়ই আমার সহজাত আগ্রহ কাজ করে। এই বইটির খোঁজ পাওয়ার সাথে সাথেই ডাউনলোড করে ১ ঘন্টায় পড়ে নিলাম।
ঝরঝরে লেখা, সাবলীল শব্দচয়ন। সন্দীপ রায় এবং অনুলেখক সেবাব্রত, দুজনেরই কৃতিত্ব।
সত্যজিৎ, সৌমিত্র এই দুজনের দৃষ্টিকোণ থেকে ফেলুদা এবং শুটিং সম্পর্কে জেনেছিলাম। এবার সন্দীপের ফেলুদার শুটিং সম্পর্কে জেনে আরো ভালো লাগলো, আরো কিছু তথ্যে সমৃদ্ধ হলাম।
সবসময়ের প্রিয় এই চরিত্র এবং চরিত্রের স্রষ্টাকে নিয়ে তাঁরই পুত্রের জবান তাই মুগ্ধ করল।
ঝরঝরে লেখা, সাবলীল শব্দচয়ন। সন্দীপ রায় এবং অনুলেখক সেবাব্রত, দুজনেরই কৃতিত্ব।
সত্যজিৎ, সৌমিত্র এই দুজনের দৃষ্টিকোণ থেকে ফেলুদা এবং শুটিং সম্পর্কে জেনেছিলাম। এবার সন্দীপের ফেলুদার শুটিং সম্পর্কে জেনে আরো ভালো লাগলো, আরো কিছু তথ্যে সমৃদ্ধ হলাম।
সবসময়ের প্রিয় এই চরিত্র এবং চরিত্রের স্রষ্টাকে নিয়ে তাঁরই পুত্রের জবান তাই মুগ্ধ করল।
April 29, 2020
অজানা অনেক কিছু জানতে পারলাম
December 29, 2015
****** আমি আর ফেলুদা - সন্দীপ রায় ******
প্রাপ্তিস্হান - দীপ প্রকাশন - দাম - ৫০ টাকা
সত্যজিত রায় "উট বনাম ট্রেন " এবং "ফেলুদার সঙ্গে কাশীতে " নামক ২টি প্রবন্ধ লিখেছিলেন সন্দেশ পত্রিকার জন্য , যেটা পরে আমরা পড়েছি "একেই বলে শুটিং" নামক গ্রন্থে। সেখানে ছিল "সোনার কেল্লা " ও "জয় বাবা ফেলুনাথ" ছবির শুটিংয়ের নানা মজার ঘটনা।"আমি আর ফেলুদা "বইতে আমরা জানতে পারি সন্দীপ রায়ের ফেলুদাকে নিয়ে ছবি তৈরী করার নানান নেপথ্য ঘটনা বা কাহিনী।
সন্দীপ রায় ফেলুদাকে নিয়ে প্রথম ছবি বানিয়েছিলেন হিন্দিতে দূরদর্শনের ন্যাশনাল নেটওয়ার্ক-এর সৌজন্যে ; ছবির নাম ছিল "Kissa Kathmandu Kaa (1986)" ছবিতে তিনি সৌমিত্রবাবুকে নিতে চাইলেও সর্ব-ভারতীয় দর্শকদের কথা ভেবে দূরদর্শনের পক্ষ থেকে হিন্দিভাষী কোনো নামী অভিনেতাকে নেবার অনুরোধ করা হয়। অভিনেতাদের মধ্যে একেবারে অটোমেটিক চয়েস ছিল "অমিতাভ বচ্চন"; যাকে সন্দীপ রায়েরও খুব পছন্দ ছিল। কিন্তু কি কারণে তাকে নেওয়া সম্ভব হয়নি আর কি ভাবে শশী কাপুর শেষমেষ ফেলুদা হলো তার কাহিনিই বলা হয়েছে এই বইয়ের প্রথম অংশের লেখা "কিসসা কাঠমান্ডু কা : হিন্দি ফেলু বাংলায় ফেল" এই শিরোনামে।
সে ছবি কেন সফল হয়নি তার বিশ্লেষণও করার হয়েছে এই অংশে।
এরপর সন্দীপ রায় ফেলুদার কিভাবে প্রত্যাবর্তন ঘটালেন ; সব্যসাচী চক্রবর্তী কে কিভাবে ফেলুদা হিসাবে নেওয়া হলো তার কাহিনী আমার জানতে পারি"বাক্স রহস্য - টাফ ফেলুর পয়লা টক্কর" এই অংশে। এই ভাগে সব্যসাচীর সাথে ফেলুদার শুটিংয়ের নানান অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা হয়েছে যা পাঠকদের পড়তে বেশ ভালো লাগবে। আর বেনুদা এই রোলটা করে কতটা খুশি হয়েছিলেন তার কাহিনিও বলেছেন লেখক এই লেখার শেষ ভাগে একটা সুন্দর ঘটনার মাধ্যমে।ফেলুদা তো বাছাই হলো কিন্তু জটায়ু কে হবেন ?এই জটায়ু খোজার কাজটা মোটেও সহজ ছিল না ; তা নিয়ে সন্দীপ রায়কে বেশ ভাবনা চিন্তা করতে হয়েছিল।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিভাবে জটায়ু নির্বাচিত হলো এবং রবিঘোষ ; অনুপ রায় হয়ে বিভু ভট্টাচার্যের সাথে শুটিংয়ের নানা মজার ঘটনা ও অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা হয়েছে এই অংশে। আর জটায়ুর কথা হবে আর তাতে সন্তোষ দত্ত থাকবেন না তাই কি হয় - এই অংশে রয়েছে "জয় বাবা ফেলুনাথ" ছবির শুটিংয়ের এমন এক রোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা যা আগে কখনো কোথাউ শোনানো হয়নি। এই ঘটনাটা নিঃসন্দেহে এই বইয়ের "সেরা প্রাপ্তি".
এর পরের অংশ হলো "মগনলাল মেঘরাজ" - ফেলুদার চিরশত্রু। আর এই চরিত্রটা বললে যে অভিনেতার মুখ আমাদের মনে ভেসে ওঠে তিনি হলেন উৎপল দত্ত। উৎপল দত্ত ব্যক্তিগত জীবনে মানুষ হিসাবে কেমন ছিলেন এবং অভিনেতা হিসাবে তার জীবনের নানান ঘটনার কথা আমরা জানতে পারি এই অংশে। এই অংশের শেষে আছে উৎপল দত্তকে নিয়ে একটা মজার ঘটনা।
বোম্বাইয়ের বোম্বেটে ছবির শুটিংয়ের বিবিধ অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে "একবগ্গা স্টান্ট-মাস্টার" এবং "ট্রেনের সঙ্গে ফের দৌড়" এই ২টি অংশে। ছবি করতে গিয়ে কতরকম অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত কিভাবে তা সফল ভাবে উতরে গেছে তাই বলেছেন সন্দীপ রায় এই ২টি লেখায়।
বইয়ের শেষ অংশের লেখাটি হলো "বাবা আর ফেলুদা ", এই অংশে সত্যজিত রায় ফেলুদা চরিত্রটিকে কিভাবে সৃষ্টি করেছিলেন সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো পূর্ব-পরিকল্পনা ছাড়া তিনি তৈরী করেছিলেন এই চরিত্রটিকে আর সেটি কিভাবে উঠলো "বাঙালির আইকন" তার কথাই বলা হয়েছে এই পরিচ্ছদে। ফেলুদা সমন্ধে অনেক না জানা কথা, তথ্য পাওয়া যাবে এই লেখাতে যা যেকোনো ফেলুদাপ্রেমীর কাছে চরম-প্রাপ্তি।
প্রাপ্তিস্হান - দীপ প্রকাশন - দাম - ৫০ টাকা
সত্যজিত রায় "উট বনাম ট্রেন " এবং "ফেলুদার সঙ্গে কাশীতে " নামক ২টি প্রবন্ধ লিখেছিলেন সন্দেশ পত্রিকার জন্য , যেটা পরে আমরা পড়েছি "একেই বলে শুটিং" নামক গ্রন্থে। সেখানে ছিল "সোনার কেল্লা " ও "জয় বাবা ফেলুনাথ" ছবির শুটিংয়ের নানা মজার ঘটনা।"আমি আর ফেলুদা "বইতে আমরা জানতে পারি সন্দীপ রায়ের ফেলুদাকে নিয়ে ছবি তৈরী করার নানান নেপথ্য ঘটনা বা কাহিনী।
সন্দীপ রায় ফেলুদাকে নিয়ে প্রথম ছবি বানিয়েছিলেন হিন্দিতে দূরদর্শনের ন্যাশনাল নেটওয়ার্ক-এর সৌজন্যে ; ছবির নাম ছিল "Kissa Kathmandu Kaa (1986)" ছবিতে তিনি সৌমিত্রবাবুকে নিতে চাইলেও সর্ব-ভারতীয় দর্শকদের কথা ভেবে দূরদর্শনের পক্ষ থেকে হিন্দিভাষী কোনো নামী অভিনেতাকে নেবার অনুরোধ করা হয়। অভিনেতাদের মধ্যে একেবারে অটোমেটিক চয়েস ছিল "অমিতাভ বচ্চন"; যাকে সন্দীপ রায়েরও খুব পছন্দ ছিল। কিন্তু কি কারণে তাকে নেওয়া সম্ভব হয়নি আর কি ভাবে শশী কাপুর শেষমেষ ফেলুদা হলো তার কাহিনিই বলা হয়েছে এই বইয়ের প্রথম অংশের লেখা "কিসসা কাঠমান্ডু কা : হিন্দি ফেলু বাংলায় ফেল" এই শিরোনামে।
সে ছবি কেন সফল হয়নি তার বিশ্লেষণও করার হয়েছে এই অংশে।
এরপর সন্দীপ রায় ফেলুদার কিভাবে প্রত্যাবর্তন ঘটালেন ; সব্যসাচী চক্রবর্তী কে কিভাবে ফেলুদা হিসাবে নেওয়া হলো তার কাহিনী আমার জানতে পারি"বাক্স রহস্য - টাফ ফেলুর পয়লা টক্কর" এই অংশে। এই ভাগে সব্যসাচীর সাথে ফেলুদার শুটিংয়ের নানান অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা হয়েছে যা পাঠকদের পড়তে বেশ ভালো লাগবে। আর বেনুদা এই রোলটা করে কতটা খুশি হয়েছিলেন তার কাহিনিও বলেছেন লেখক এই লেখার শেষ ভাগে একটা সুন্দর ঘটনার মাধ্যমে।ফেলুদা তো বাছাই হলো কিন্তু জটায়ু কে হবেন ?এই জটায়ু খোজার কাজটা মোটেও সহজ ছিল না ; তা নিয়ে সন্দীপ রায়কে বেশ ভাবনা চিন্তা করতে হয়েছিল।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিভাবে জটায়ু নির্বাচিত হলো এবং রবিঘোষ ; অনুপ রায় হয়ে বিভু ভট্টাচার্যের সাথে শুটিংয়ের নানা মজার ঘটনা ও অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা হয়েছে এই অংশে। আর জটায়ুর কথা হবে আর তাতে সন্তোষ দত্ত থাকবেন না তাই কি হয় - এই অংশে রয়েছে "জয় বাবা ফেলুনাথ" ছবির শুটিংয়ের এমন এক রোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা যা আগে কখনো কোথাউ শোনানো হয়নি। এই ঘটনাটা নিঃসন্দেহে এই বইয়ের "সেরা প্রাপ্তি".
এর পরের অংশ হলো "মগনলাল মেঘরাজ" - ফেলুদার চিরশত্রু। আর এই চরিত্রটা বললে যে অভিনেতার মুখ আমাদের মনে ভেসে ওঠে তিনি হলেন উৎপল দত্ত। উৎপল দত্ত ব্যক্তিগত জীবনে মানুষ হিসাবে কেমন ছিলেন এবং অভিনেতা হিসাবে তার জীবনের নানান ঘটনার কথা আমরা জানতে পারি এই অংশে। এই অংশের শেষে আছে উৎপল দত্তকে নিয়ে একটা মজার ঘটনা।
বোম্বাইয়ের বোম্বেটে ছবির শুটিংয়ের বিবিধ অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে "একবগ্গা স্টান্ট-মাস্টার" এবং "ট্রেনের সঙ্গে ফের দৌড়" এই ২টি অংশে। ছবি করতে গিয়ে কতরকম অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত কিভাবে তা সফল ভাবে উতরে গেছে তাই বলেছেন সন্দীপ রায় এই ২টি লেখায়।
বইয়ের শেষ অংশের লেখাটি হলো "বাবা আর ফেলুদা ", এই অংশে সত্যজিত রায় ফেলুদা চরিত্রটিকে কিভাবে সৃষ্টি করেছিলেন সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো পূর্ব-পরিকল্পনা ছাড়া তিনি তৈরী করেছিলেন এই চরিত্রটিকে আর সেটি কিভাবে উঠলো "বাঙালির আইকন" তার কথাই বলা হয়েছে এই পরিচ্ছদে। ফেলুদা সমন্ধে অনেক না জানা কথা, তথ্য পাওয়া যাবে এই লেখাতে যা যেকোনো ফেলুদাপ্রেমীর কাছে চরম-প্রাপ্তি।
May 28, 2013
It would be wrong to compare Sandip Ray with his father, both as a director as well as a writer. Specially since this book has been written by someone else, Sandip Ray only shared his memories with the writer. The narrative is very incoherent and it seems sometimes the writer is in a hurry to finish the anecdote. However, the memoir takes you on a trip down memory lane, of the childhood and teen days, when you spent most of your time reading Feluda. The chapter on Maganlal Meghraj had no reference to Mohan Agase, and overall the book is very small, i finished it in 2 hours!
June 20, 2017
ফেলুদা-র পেছনের এত এত গল্প- আর সিনেমার একেকটি চরিত্র চিত্রায়নে, একেকটি দৃশ্য ধারণে এত মহাযজ্ঞ এবং সত্যজিৎ রায়ের সব্যসাচিতার কাব্য- সব মিলিয়ে অসামান্য বই মনে হল!
Displaying 1 - 15 of 15 reviews















