মহুলসুখার চিঠি নামের এই উপন্যাসে জনপ্রিয় কথাকার বুদ্ধদেব গুহ নিজেকেই যেন নতুন ভাবে তুলে ধরেছেন। অভিনব আঙ্গিকে রচিত এই উপন্যাসে একই সঙ্গে ভ্রমণ কাহিনি, প্রণয়কাহিনি ও পত্রসাহিত্যের ত্রিবেণী সঙ্গম ঘটিয়েছেন তিনি। ম্যাঙ্গানিজের জন্য বিখ্যাত ভুত্রামাইন্ স্বামহুলসুখা থেকে পাঠানো একের পর এক চিঠি নিয়েই এই পত্রোপন্যাস। সে-চিঠি যাঁর উদ্দেশে, সেই পরকীয়া নায়িকার কোনও প্রত্যুত্তর নেই, কিন্তু এ-সত্ত্বেও প্রত্যক্ষ গোচর হয়ে ওঠে এক নিষিদ্ধ সম্পর্কের তীব্র, গভীর, উষ্ণ ও অন্তরঙ্গ ছবি। আবার এমনও মনে হয় যে, প্রেমএ-উপন্যাসের ছদ্ম-আবরণ মাত্র, যেমন আবরণ ভ্রমণ বর্ণনাও, লেখকের মূল লক্ষ্য বোধকরি ভিন্নতর, নায়িকার উদ্দেশে লেখা হলেও এযেন ব্যক্তিগত সীমানা ছাড়িয়ে যেতে চায়। জীবন জগৎ ও সমসময় সম্পর্কে কিছু জরুরি, তর্ক-প্ররোচক, ভাবিয়ে-তোলা প্রসঙ্গের অবতারণা এবং আধুনিক জীবনের গোপন ফাটল ও অসঙ্গতির প্রতি, বহু ভুল মনোভঙ্গির প্রতি অঙ্গুলিনির্দেশই যেন পত্র-প্রেরকের সব-ছাপানো অভীপ্সা।
Buddhadeb Guha (Bengali: বুদ্ধদেব গুহ) is a popular Bengali fiction writer. He studied at the well-known St Xavier's College of the University of Calcutta.
His novels and short stories are characterized by their dreamy abstractness and romantic appeal. His essays reveal the soul of a true wanderer providing some of the most beautiful renditions of travel in Bengal. His love for forests and nature provide the background for many of his novels.
A highly successful chartered accountant by profession, and an accomplished musician, Guha is very urbane in his lifestyle. He was one of the first to create characters representing easy-going, upper middle-class modern Bengali families, whom readers could identify with, and that gave him instant popularity.
He is the recipient of many awards including Ananda Puraskar, 1976; Shiromani Puraskar; and Sharat Puraskar.
The Library of Congress has over fifty titles by him. His most famous novel, according to many, is Madhukori. It is considered a milestone in Bengali literature. He is also the creator of Rijuda, an imaginary character who moves about in jungles with his sidekick Rudra. The jungles that he wrote about were mainly in Eastern India.
বুদ্ধদেব গুহর "এলোঝেলো" নামের এলোমেলো বিষয়বস্তু সম্বলিত বইটি পড়তে গিয়ে তাঁর এই বইটির নাম পেলাম। লেখক নিজেই অকুন্ঠ প্রশংসা করেছেন "মহুল সুখার চিঠির "। তাই আমিও লোভীর মত হামলে পড়লাম "মহুল সুখার চিঠি"র ওপর। ঠিক উপন্যাস নয়, আবার উপন্যাস ভিন্নতর অন্যকিছুও বলতে পারছিনা একে। বুদ্ধদেব গুহর আত্মজৈবনিক ফ্লেভার আছে।
উপন্যাসের নায়ক এক মাইনিং কোম্পানিতে কাজ করে বলে মনে হলেও সে আসলে লেখক।প্রকৃতির নৈসর্গিক বর্ণনা, মানবরীতি আর ভারতীয় সমাজের সমালোচনা করে পত্র লিখে যাচ্ছে কলিকাতার বধূ পদ্মার কাছে। যে পদ্মা তার প্রয়সী বটে। সে আবার আরেকজনের বউও!
বুদ্ধদেব গুহর গড়পড়তা লেখার মতো এতেও অনেক সুন্দর সুন্দর কথা লেখা, কোটেশনে ভর্তি, রোমান্টিকতায় পূর্ণ। গুহ কট্টর হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী তা লুকান না, লুকান নি। তবে সেই বিশ্বাসকে বড় করে দেখাতে পরোক্ষ আক্রমণ করেন অন্যান্য মত,পথকে।
পত্রোপন্যাস বরাবরই আমার প্রিয় জনরা। বুদ্ধদেব গুহের "সবিনয় নিবেদন" পড়ার পর এটার প্রতি যতটুকু এক্সপেক্টেশন ছিল, তার খুব একটা সুবিচার পাইনি। তবুও বুদ্ধদেবের যে প্রধান কারিশমা - ডিটেইলিং, পরিবেশের একদম গভীরে নিয়ে যাওয়া, ছোট ছোট জিনিস গুলো কে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা - এটা পুরো উপন্যাস জুড়েই ছিল। অল্পকিছু জায়গায় অতিরিক্ত ইনফরমেশন দেয়া ছাড়া (প্রাপ্তবয়স্ক কথাবার্তা অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে) প্রায় পুরোটা জুড়েই লেখক তার বিভিন্ন চিন্তা, পরিবেশ ও ঘটনার ঠাস বুননে একটি আবহ তৈরি করে গেছেন। গল্পের মধ্যে গল্প বলতে পারাটা একটা আর্ট। সৈয়দ মুজতবা আলী এই কাজটা করে থাকেন। বুদ্ধদেব গুহ এই বইতে গল্প বলেন চিঠির মধ্যে। এর কিছুটা তার জীবন থেকে নেয়া, কিছুটা তার উপলব্ধি। ৯৫ পৃষ্ঠার ছোট্ট বইটার কোথাও বোরড ফিল করিনি । রিকমেন্ড করব পড়ার জন্য।
"যে দেখেছে, সে আরও দেখতে চায়, যে শুনেছে, সে আরও শুনতে চায় এবং যে এক গন্তব্যে পৌঁছে ছে সে অন্য গন্তব্যের উদ্দেশ্যে আবারও পথে পা বাড়ায়। পথ মানুষের জীবনে অন্য এক কল্পিত, অনাস্বাদিত, অনাঘ্রাত, স্বপ্ণময় দেশের সন্ধান দিতে থাকে প্রতিনিয়ত - যে কল্পলোক মরীচিকার মতো কেবলি দূরে সরতে থাকে। 'ইয়ারো ভিজিটেডের' চেয়ে 'ইয়ারো আনভিজিটেড' অনেক ভালো জেনেও নতুন নতুন ইয়ারোর তালাশে ঘুরে মরে মানুষ। মানুষের মতো চালাক এবং বোকা, মুক্ত এবং বন্দী জানোয়ার এ পৃথিবীতে আর দুটি নেই।"
"বিবেক তো সুখ ও মানিব্যাগের নীচে চাপা থাকে।"
"ভগবান ত বাইবেলে, গীতায়, গ্ৰন্থসাহেব আর মসজিদে মন্দিরে নেই। ভগবান যে থাকেন মানুষের মনে। কোন্ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে কে ভগবান দেখে তার কি কোনো ঠিক ঠিকানা আছে?"
"প্রত্যেকটি মানুষেরই কত দুঃখ। অথচ আমরা তার কতটুকুই বা খোঁজ রাখি। খোঁজ রাখলে, অন্য মানুষকে একটু বোঝার চেষ্টা করলে, নিজেদের সমস্ত অপ্রাপ্তি ও দুঃখের বোঝা হয়তো অনেকটাই হালকা লাগত। মানুষ যেদিন থেকে পরের দুঃখে দুঃখী হতে শেখে সেদিন থেকে তার নিজের দুঃখটা আর তার কাছে বড় বা দুঃসহ বলে মনে হয় না।"
"এই আঁকড়ে থাকা মনোবৃত্তি ছেড়ে, জীবনের নদীর উদ্দাম স্রোতে ভেসে নতুন থেকে নতুনতর তীব্র অনুভূতিময় অন্য জীবনে নিরন্তর পৌঁছনো এবং পৌঁছনোর চেষ্টা করার আরেক নামই ত বেঁচে থাকা। প্রশ্বাস নেওয়া ও নিঃশ্বাস ফেলা ত কখনই বেঁচে-থাকার সমার্থক নয়।"
এটি একটি পত্র উপন্যাস। লেখকের অন্যান্য লেখা পড়া থাকলে, এখানে নতুন কিছুই পাওয়া যাবে না। দুটি মানুষের মধ্যের সম্পর্ক আর তার সাথে বুদ্ধদেব গুহর ফিলোসফি,এই হল উপন্যাসের সম্পদ।
এটাকে ঠিক পত্র উপন্যাস বলা যাবে না, আবার গতানুগতিক উপন্যাসও নয়। লেখক ভুত্রা মাইন্স্ বা মহুল সুখা নামক পাহাড়ি আর আদিবাসী এলাকায় কয়েক দিনের জন্য বেড়াতে গিয়ে সেখান থেকে তার কোন প্রিয় মানুষকে লেখেন কিছু পত্র, এমনি একটি রচনা এই উপন্যাস। একদিক থেকে এটা পত্র সংকলন, আবার ভ্রমণ কাহিনি বলা চলে, আবার প্রণয় কাহিনি বললেও ভুল হবে না। তবে এই বই ম্যাচিউর পাঠকের জন্য রচিত।