Saradindu Bandyopadhyay (March 30, 1899 – September 22, 1970) was a famous Bangla penman. He was born in the town of Jaunpur in Uttar Pradesh. Father- Tarabhusan Sharadindu Bandyopadhyay and mother- Bijaliprabha Debi. Tarabhusan was an advocate in Purnia, Bihar. After passing the Matriculation, Saradindu admitted in Vidyasagar College, Kolkata. His first literature was published at the age of 20 that was twenty-two poems Compilation ‘Jouban-Smriti’. His creation detective character- Byomakesh Bakshi was debut in 1932. The first story in the series of Byomakesh was ‘Pother Kanta’ after that ‘Simanto Hira’. Saradindu award by Rabindra Puruskar for his novel Tungabhodrar Tire.
Sharadindu Bandyopadhyay (Bengali: শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়; 30 March 1899 – 22 September 1970) was a well-known literary figure of Bengal. He was also actively involved with Bengali cinema as well as Bollywood. His most famous creation is the fictional detective Byomkesh Bakshi. He wrote different forms of prose: novels, short stories, plays and screenplays. However, his forte was short stories and novels. He wrote historical fiction like Kaler Mandira, GourMollar (initially named as Mouri Nodir Teere), Tumi Sandhyar Megh, Tungabhadrar Teere (all novels), Chuya-Chandan, Maru O Sangha (later made into a Hindi film named Trishangni) and stories of the unnatural with the recurring character Baroda. Besides, he wrote many songs and poems.
Awards: 'Rabindra Puraskar' in 1967 for the novel 'Tungabhadrar Tirey'. 'Sarat Smriti Purashkar' in 1967 by Calcutta University.
বাংলা গোয়েন্দা চরিত্রের ভেতর অতি প্রিয় চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সী। ধারালো নাক, লম্বা চেহারা, নাতিস্থূল অবয়ব। অসামান্য পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, অনবদ্য বিশ্লেষণী দক্ষতা। শুধু বুদ্ধি দিয়েই যাবতীয় জটিল রহস্যের জট ছাড়ান এই সত্যান্বেষী। তবু কী রোমাঞ্চকর একেকটি ব্যোমকেশ কাহিনী। আসলে ব্যোমকেশের গল্প উপন্যাস নিছক গোয়েন্দা কাহিনী হয়। বরং সাহিত্যের ভোজে যা ছিলো অপাঙ্ক্তেয়, সেই গোয়েন্দা কাহিনীকে ব্যোমকেশ কাহিনীর মধ্য দিয়ে চিরায়ত সাহিত্যের স্তরে উত্তীর্ণ করেছিলেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। জীবনকে এড়িয়ে ব্যোমকেশ এড়িয়ে ব্যোমকেশ কাহিনী সৃষ্টি করেননি তিনি। চেনা জীবনের মধ্যেই ফুটিয়ে তুলেছেন অচেনা চমক। ব্যোমকেশ জীবনের এক ধারাবাহিক চলচ্ছবি এই বই।
অজিত বাবুর জবানবন্দিতে ব্যোমকেশের গল্পগুলো লেখা হয়েছে। অজিত শুধু ব্যোমকেশের সহকারী না বন্ধুর থেকেও বেশি ভাইও বলা যায়। ব্যোমকেশ যখন সত্যবতীকে বিয়ে করে তখনও অজিত বাসা বদল করেনি একসাথেই থেকেছে। ব্যোমকেশের প্রধান অস্ত্র ছিলো তার শাণিত মস্তিষ্ক। কথার মার প্যাচেই বেশ অর্ধেক সত্যিটা বের করে ফেলতেন। পেশায় প্রাইভেট ডিটেকটিভ হলেও নিজেকে 'সত্যান্বেষী' পরিচয় দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। ব্যোমকেশের কাহিনী গুলো পড়লে মনে হবে যে এমন ঘটনা আমদের আশেপাশে হরহামেশাই ঘটছে। সাদাসিধা গল্পের ভিতরে ছিলো রহস্যের চাদর। মারকুট ছাড়া শুধু বুদ্ধির জোরে কোথাও বিশ্বাসঘাতকতা, পারিবারিক কোন্দল, প্রতিশোধ কিংবা সুচারু চক্রান্ত সকল রহস্য ভেদ করেছেন ব্যোমকেশ। সবকিছুর ছিমছাম তবে প্রাণোচ্ছল বর্ণনা দিয়েছেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। লেখক ব্যোমকেশ ক্যারিয়ারে ''বিশুপাল বধ'' উপন্যাসটি শেষ করে যেতে পারেননি। তার জন্য খারাপই লাগলো।
কিছু গল্পে শার্লক আর পোয়ারোর আদল মনে হবে কিন্তু ব্যোমকেশের আছে নিজস্বতা, প্লট, পটভূমি আর বৈচিত্রতা। ব্যোমকেশের সাথে অনেকেই ফেলুদা তুলনায় নিয়ে আসেন তা আসবেই স্বাভাবিক কিন্তু আমার ব্যাক্তিগত ভাবে মনে হয়, ফেলুদা কিশোর সাহিত্যের গোয়েন্দাদের সর্দার আর ব্যোমকেশ সার্বজনীন। কখনো কখনো গল্পে খুন আর অবৈধ সম্পর্কের আধিক্য থাকলেও বিরক্তি আসেনি। কিছু না কিছু বৈচিত্র সবজায়গাতেই খুঁজে পেয়েছি। যারা এখনো পড়েননি অবশ্যই পড়ে ফেলুন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যোমকেশ বক্সী।
বাংলা সাহিত্যে ব্যোমকেশ একদম প্রথম দিককার গোয়েন্দা (তার ভাষায় সত্যান্বেষী) হলেও এখনও তার জুড়ি মেলা ভার। শার্লক, পয়রট দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা হয়েছিল, কিন্তু ব্যোমকেশের চরিত্রায়নে স্বকীয়তা চোখে পড়ার মতন।
আমার কাছে যে কারণে সবচেয়ে উপাদেয় মনে হয়েছে তা হচ্ছে ব্যোমকেশ সহ আশেপাশের সব চরিত্রের আটপৌরে আচরণ। এমন সাংসারিক গোয়েন্দা আর কোথায় পাবেন? আর ভিলেন/ খল চরিত্রগুলোও যেন সমাজের অন্ধকার দিকের প্রতিমূর্তি। এরকমই আমার ভালো লাগে, কারণ মানুষের জীবনে বিপদ কিন্তু বলে কয়ে আসে না। মুহূর্তের ব্যবধানে ওলট পালট হয়ে যায়, আর তখন দরকার পড়ে সত্য অনুসন্ধানের। কালের পার্থক্যের কারণে কিছু কেস এখন প্রেডিক্টেবল মনে হলেও তৎকালীন সময় বিবেচনায় তা প্রশংসার দাবিদার।
ব্যোমকেশের সাথে, ফেলুদার তুলনা আসবেই। কিন্তু আমি বলবো ফেলুদা কিশোর সাহিত্যের গোয়েন্দাদের সর্দার আর ব্যোমকেশ সার্বজনীন। কখনো কখনো গল্পে খুন আর পরকীয়া/অবৈধ সম্পর্কের আধিক্য থাকলেও কখোনোই একঘেয়ে লাগেনি। বৈচিত্র্য ছিল সব ক্ষেত্রেই।
বাংলা সাহিত্যের রহস্যপ্রেমীদের অবশ্যপাঠ্য -কথাটা বলা অত্যুক্তি হবে না মোটেও। :)
ভালো লাগার একটা মুখ্য কারণ লেখনী। এরকম স্মুথ লেখনী পড়ে ভীষণ আরাম। ব্যস্ততার মাঝেও ৪ দিনে ১০০০ পেইজের বই শেষ।
ব্যোমকেশের সাথে ক্ষেত্র বিশেষে শারলকের মিল পাওয়া গেলেও তার নিজস্ব স্বকীয়তা আছে। আবার ব্যোমকেশের সংসারী দিকটা দেখতে ভালো লেগেছে। শেষের দিকে অজিতকে লেখক কেন অমন গায়েব করে দিল বুঝতে পারলাম না যদিও।
গল্পগুলোকে ৪ তারাই দিতাম হয়ত, লেখনীর জন্য ৫ তারা দিলাম।
ব্যোমকেশ কাহিনী পড়া শুরু করেছিলাম পথের কাঁটা দিয়ে।তারপর পেলাম সত্যান্বেষীর খোঁজ। সত্যি বলতে ব্যোমকেশ আর অজিতের বন্ধুত্ব,কেস-কাহিনীগুলো গল্প আকারে লিখে অজিতের লেখক হওয়া এসব আমাকে শার্লকের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছিল। যদিও এ ব্যাপারটায় মিল আছে কিন্তু পরে দেখলাম ব্যোমকেশ এক্কেবারে আলাদা একটা চরিত্রে রূপ নিয়েছে।ব্যোমকেশ একটি স্বতন্ত্র চরিত্র যার কেস-কাহিনী সমাধান করার বাইরেও ঘরকন্যার দিকেও বেশ গভীর নজর আছে! অজিত আর ব্যোমকেশের সম্পর্কটা শুধুমাত্র বন্ধুত্বের ছিল না,রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও ভ্রাতৃত্ববোধ ছিল সুদৃঢ়। তাইতো ব্যোমকেশ আর সত্যবতী বিয়ে করার পরেও অজিতকে বেঁধে রেখেছিল পারিকবারিক বন্ধনে। এই ভাবেই একেরপর এক সত্যান্বেষণ করে গেছে বক্সী।
বইটার ভাষা সাধু হলেও দাঁত ভাঙার মতো কঠিন ছিল না।স্মুথলি পড়া যায়, একদম আরামসে!
পুরো সমগ্রটা পড়ার সময় অনেক উপভোগ করেছি। ওদের বন্ডটা সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে।যদিও শেষটা কেমন যেন ছিল :( বেশি উপভোগ করার আরও একটা কারণ হল আমি আর আপু একসাথে এটা শুরু থেকে শেষ করেছি অডিও বুক শুনে। এরমধ্যে অর্ধেকটার অডিও বুকের রিডার ছিলাম আমি😌কত আইডিয়া করেছি যে কে খুনি হতে পারে, পড়তে পড়তে আপুকে যে কতবার বলেছি দম নাই আর!!অনেক ভ���লো সময় কেটেছে🖤
যদিও দু'জনের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য বিদ্যমান তবুও ব্যোমকেশ বক্সী কে বাংলার শার্লক হোমস বললে মোটেই অতিশয়োক্তি হবে না।
আর বইটি সম্পর্কে কিছু কথা বলতে হয়। শেষ গল্পটি অসম্পূর্ণ। শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায় গল্পটি শেষ করে যেতে পারেন নি। মনের মধ্যে একটা জিজ্ঞাসা কাজ করেছিল,শেষ পর্যন্ত ব্যোমকেশ,সত্যবতী,অজিতের কি হল? বইটির শেষে লেখকের একজন গুণগ্রাহী প্রতুলচন্দ্র গুপ্তের লেখা পরিশিষ্ঠের মাধ্যমে সে কৌতুহলের নিবৃত্তি ঘটেছে।
ভাল থেকো ব্যোমকেশ।পাঠকের অন্তরালে চলুক তোমার এই সত্যান্বেষণ।
There had been and perhaps always will be comparison between the two most famous detective series in Bengali.Feluda and Byomkesh....both are masterpieces and simply unputdownable...But the fact remains that this two series are different in their own ways..While the central character Feluda is someone who is a genius,Byomkesh bakshi appears to be a next door guy. The time-period in which the plots are set is also different. Sharadindu Bandyopadhyay, the author is heavily influenced by Sherlock Holmes and followed the same second person narrative, Ajith in place of Dr. Watson..He has finely depicted the socio-economic conditions of Bengal during Post World-War II and during partition of Bengal.I simply love it. You can't put the book down if you start reading it and believe me...even if you have read it once.Every time you read it.You’ll have something to cherish upon. While I feel Feluda is very entertaining for school going kids...I highly recommend Byomkesh for mature readers.
শ্যাষ!!! পুরো মাস ধরে ভেবেছিলাম শুধু মিতিনমাসী আর ব্যোমকেশ সমগ্র পড়বো। কিন্তু মিতিন মাসীর ৫-৬ টা গল্প পড়ে মন আর টানেনি। তাও পড়বো দেখি আরো কয়টা। কিন্তু ব্যোমকেশ বক্সী! আহা, আগে যখন একটা দুইটা পড়তাম,তখন সাথে সাথে মুভিও দেখে ফেলতাম৷ এবার যদিও তা সম্ভব হয়নি। কিন্তু বই পড়ার সময় কিছু কিছু মুভির নাম মনে পড়ছিল। শার্লক হোমস-ওয়াটসন জুটির পর কেন জানি এখন ব্যোমকেশ-অজিতের জুটিও বেশ ভালো লাগলো। সমগ্রটা শেষ করে আসলেই অনেক খারাপ লাগছে। কিন্তু সমস্যা নেই,মির্চির ব্যোমকেশ বক্সীর অডিওবুক সবগুলো এক এক করে শুনবো এখন। ধন্যবাদ সত্যান্বেষী, এই মাসটায় আমার পাশে থাকার জন্য💜
ব্যোমকেশ এতদিন পড়া হয় নাই... কেন পড়া হয় নাই তা জানি না। কেউ কেউ বলতো কঠিন বাংলা, কেউ বলতো বড়দের বই ইত্যাদি ইত্যাদি। বেশ কিছুদিন আগে মোটামুটি রোখ চেপে গেল... ব্যোমকেশ এখন... এই মুহূর্তেই পড়ব। পড়তেই হবে। মাথা গরম করে দিলাম পিডিএফ ডাওনলোড। এদিকে বই খুলে মাথা চক্কর! ১০০৮ পৃষ্ঠা!! এই পর্যন্ত পিডেফে হাইয়েস্ট সাড়ে ছয়শো পেজ পড়েছি.. কিন্তু হাজার!
চোখের যা হয় হোক এই ভেবে পরিচিতি পর্ব শেষে ডুব দিলাম ব্যোমকেশের সাথে সত্যান্বেষণে। ব্যাস... আর যায় কোথা? পরবর্তী ১৫/২০ দিন ব্যোমকেশই আমার সঙ্গী। হাঁটছি... সাথে সাথে বই পড়ছি, শুয়ে আছি, বই পড়ছি, ক্লাসে টিচার আসতে দেরী হচ্ছে? আলাপ বাদ দিয়ে বই পড়ছি এতদিন এভাবেই ঘোরের ভিতর কেটেছে আমার দিবস রজনী। ইচ্ছে করে কৃপণের মতো অল্প অল্প করে পড়ছিলাম.. শেষ হয়ে যাবে যে! অবশ্য সব কিছুরই একটা শেষ আছে- এই আপ্তবাক্য অনুযায়ী বইও পড়া শেষ হল। কিন্তু শেষ হবার পর থেকে, এখন পর্যন্ত খুব চিনচিনে একটা 'মন খারাপ' ভাবে আচ্ছন্ন হয়ে আছি।
শরদিন্দু বাবুর ব্যোমকেশ শার্লক হোমসের কিছুটা অনুকরণে তৈরি, অনুপ্রেরণাও বলা চলে। তেইশ-চব্বিশ বছর বয়স, ধারালো নাক, কিছুটা লম্বাটে চেহারা, নাতিস্থুল অবয়ব আর চোখ-মুখ ইঙ্গিত দিচ্ছে শাণিত মগজের- মোটামুটি এই হল ব্যোমকেশের বাহ্যিক পরিচয়। আগে থাকতেন হ্যারিসন রোডের উপর পরবর্তীতে কলকাতার দক্ষিণে কেয়াতলায় ঘাঁটি গাড়ে। ব্যোমকেশের প্রথম গল্প সত্যান্বেষীতে পরিচয় হয় তাঁর এক ও অদ্বিতীয় সহকারী অজিতের সাথে। ব্যাস... বাংলা সাহিত্য পেয়ে যায় অনবদ্য এক জুটি। অজিত যে কেবল তার সহকারী তা-ই নয়, তাঁর বন্ধু, ভাই, সুহৃদ। আর তাই তো ব্যোমকেশের বিয়ের পর আলাদা হয়ে যেতে চাইলেও নব দম্পতির আপত্তির চোটে তা আর হয়ে উঠে না।
যা হোক, যা বলছিলাম... ব্যোমকেশ কোন পুলিশ কর্মকর্তা নন, কিংবা নন কোন গোয়েন্দা বিভাগের কোন হর্তাকর্তা। খুব সাধারণ একজন মানুষ; যে কি না শখের বসে সত্য অন্বেষণ করে। অন্যান্য ডিটেকটিভদের সাথে ব্যোমকেশের পার্থক্য এখানেই। অন্য ডিটেকটিভরা যেখানে খুনী কিংবা অপরাধী ধরার জন্য বদ্ধ পরিকর, ব্যোমকেশ সেখানে খুঁজছে আসলে ঘটনা কি হয়েছিল, কেন হয়েছিল। অপরাধী কে, কেন, কি কারণে অপরাধ হয়েছে সেটাই সবসময় মুখ্য না। সাহিত্য জগতে ব্যোমকেশের যে সময়ে আবির্ভাব, সে সময়টা তার জন্য উপযুক্ত সময় ছিল না। সামাজিক উপন্যাস কিংবা অন্যান্য উপন্যাসের ভিড়ে গোয়েন্দা গল্প নেহায়েত অপন্যাস। ঠিক এখানটাতেই শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৃতিত্ব। ব্যোমকেশের মাধ্যমে গোয়েন্দা গল্পকে সাহিত্যের মর্যাদায় পৌঁছে দেয়া। আমরা বর্তমানের বেশিরভাগ পাঠককুল গোয়েন্দা গল্প কিংবা থ্রিলারের ভক্ত বলে নিজেদের পরিচয় দিতে ভালবাসি, আমাদের ভিতটা মুলত গড়ে দেয়া হয়েছিল তখনই। ব্যোমকেশের সত্যান্বেষণের জন্য যেসব কাহিনীর সৃষ্টি করেছিলেন, তখন তো বটেই এমনকি এখনও পড়লে মনে হবে 'আরে! এরকমই তো আজকাল ঘটছে!'
এমন জীবন ঘনিষ্ঠ উপন্যাস বলেই চরিত্রের উপরও তার প্রভাব পড়েছে। ব্যোমকেশ যে অন্যান্য আট দশজন ডিটেকটিভের মতো নয় তা বলা হয়েছে অনেক আগেই। তাইতো দেখা যায়, শুধুমাত্র কাট্টাখোট্টা সত্যান্বেষণ ছাড়াও সে ডুব দেয় এক নারীর হৃদয়ে লুকিয়ে থাকা সত্য উদঘাটনের মাঝে। হ্যা, ব্যোমকেশও প্রেমে পড়ে। বিয়ে করে পছন্দের সেই নারীকেই। বিয়ের পর থেকে অন্যান্য গল্পগুলো জুড়ে ছিল সত্যবতীর উপস্থিতি। হয়তো অতোটা বিশদভাবে নয় তারপরেও যেটুকু ছিল, সত্যবতীকে বোঝার জন্য, তাদের দাম্পত্য জীবনটাকে বোঝার জন্য যথেষ্টই ছিল। সত্য অন্বেষণ করা ছিল ব্যোমকেশের নেশা, পেশা নয়। কিন্তু শুধু সত্যান্বেষণ করলেই তো হবে না, জীবিকা নির্বাহের জন্যও কিছু করা চাই। তাই তো অজিত আর তাকে যৌথ মালিকানায় বইয়ের দোকান দিতে দেখি। কালক্রমে অন্যান্য গৃহী ব্যক্তির মতো বাড়িও করতে দেখি।
বইয়ের শুরুতে যেই চব্বিশ বছর বয়সী টগবগে তরুণ যুবাপুরুষ ব্যোমকেশের সাথে আমাদের পরিচয় হয়, সময়ের আবর্তনে সেও বুড়ো হয়ে যায় :/ সাথে সত্যবতীও। অজিত তাদের সাথে থাকে না, জীবিকার ধান্দায় সেও থাকে অন্য আরেক জায়গায়। ওহ! হ্যাঁ... ব্যোমকেশের সমস্ত কীর্তিকলাপ আমরা অজিতের লেখনীতে পড়তে পাই। ব্যোমকেশের সহকারী বলে হেলাফেলার উপায় নেই একদম! সে কিন্তু বিখ্যাত একজন লেখকও। বেশ যাচ্ছিল দিনকাল, শরদিন্দু বাবুর মাথায় কি ভূত ভর করল, কে জানে... অজিতকে ব্যোমকেশ থেকে আলাদা করে দিলেন। একদম হুট করেই। তাহলে ব্যোমকেশের কীর্তি প্রচার করবে কে?
"যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে "- এই প্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে শরদিন্দু বাবু দিলেন কলম তুলে ব্যোমকেশের হাতে! -_- (ব্যক্তিগতভাবে ব্যাপারটা আমার একদম পছন্দ হয়নি, এই দু:খে পুরো একটা দিন ব্যোমকেশ পড়া বন্ধ রেখেছিলাম)
বিস্তর কথাবার্তা বললাম। এদ্দিন গোয়েন্দা চরিত্রে প্রথম পছন্দ ছিল ফেলুদা, এখন যুক্ত হয়েছে ব্যোমকেশও। এখন অনেকেই ক্যাচাল লাগাত��� চাইবে এই বলে যে- কে শ্রেষ্ঠ? ব্যোমকেশ নাকি ফেলুদা? আসলে দুইজন ডিটেকটিভ হলেও তাদের ক্ষেত্র আলাদা। গল্পের ভিতরের কন্টেন্টের কথা চিন্তা করে যদি শ্রেণী বিভাগ করি তাহলে বলা যায় ফেলুদা যদি কৈশোরকালের পাঠ্য বই হয়, ব্যোমকেশ হওয়া উচিত কৈশোর পরবর্তী ধাপে। অনেকে বলে, ব্যোমকেশের ভাষা কঠিন কিসের কি! হাল্কা সাধু ভাষা (মানুষজন বঙ্কিম পড়ে হজম করে ফেলে আর এই বই তো কোন ছাড়!) আর একটা জিনিস যাস্ট অস��বিধা হচ্ছিল সেটা হল টাকার হিসাব :D ব্যোমকেশের আমলের টাকা আর এখনকার আমলের টাকার মাণ ভিন্ন যেখানে আমরা হাজার/লাখখানেক টাকা নিয়ে কথা বলি সেখানে কেবল শ' টাকার দৌরাত্ম্য :v
যাই হোক.... ব্যোমকেশের সাথে দুর্দান্ত কয়েকটা দিন কেটেছে আমার। এখনও যারা পড়েননি তারা সেই ভাগ্যবান/ভাগ্যবতী :/ কারণ পড়ে ফেললেই তো সব শেষ...
তারপরেও আমন্ত্রণ.....
বই: ব্যোমকেশ সমগ্র লেখক: শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশনী: আনন্দ
ব্যোমকেশের কাহিনী পড়া শুরু করি সেই লকডাউনের মাঝে। একটু একটু করে পড়ছিলাম, এখন মনে হচ্ছে ধুপ করে শেষ হয়ে গেল! এই গোগ্রাসে গিলছি, তো এই আবার শেলফে উঠিয়ে রাখছি। বলা যায়, রসিয়ে রসিয়ে খাচ্ছিলাম।
ব্যোমকেশের গল্পগুলো লেখা হয়েছে অজিতের জবানবন্দিতে। অজিতকে ব্যোমকেশের সহকারী না, বন্ধুর থেকেও বেশি, ভাইই বলা চলে। সবসময় একসাথেই থাকতো। এমনকি ব্যোমকেশের বিয়ের পরেও এই ভ্রাতৃত্ববোধের কারণে অজিতের বাসা বদল করা হয়নি, ব্যোমকেশ-সত্যবতীর সাথেই থেকে গেছে। ওহ, সত্যবতী হচ্ছে ব্যোমকেশের সহধর্মিণী। অজিতের ভাষায় ব্যোমকেশ হচ্ছে তেইশ-চব্বিশ বছর বয়সী এক যুবক, যাকে দেখলে শিক্ষিত ভদ্রলোক বলে মনে হয়৷ গায়ের রঙ ফরসা, বেশ সুশ্রী সুগঠিত চেহারা-মুখে চোখে বুদ্ধির একটা ছাপ আছে। ব্যোমকেশের প্রধান অস্ত্র ছিল তার শাণিত মস্তিস্ক। কথা বলেই অর্ধেক সত্যিটা বের করে নিতো। পেশায় প্রাইভেট ডিটেক্টিভ হলেও নিজেকে সে 'সত্যান্বেষী' বলে পরিচয় দিতে বেশি পছন্দ করতো৷ কারণ তার কাজ হচ্ছে সত্য অন্বেষণ করা। চোর-ডাকাত-খুনীকে খোঁজা নয়, তার কাজ হচ্ছে অপরাধের পেছনের কাহিনী খুঁজে বের করা৷ সত্য অন্বেষণ করার পাশাপাশি জীবনধারণের জন্য সে আর অজিত মিলে একটা ছাপাখানাও খুলে ফেলে। আমার মনে হয় ব্যোমকেশ এমনই একজন গোয়েন্দা, যে কীনা বেশ সাংসারিকও! তাই তো সে একটু প্রেম করে, নিজের প্রেমিকাকে বিয়েও করে, বাড়িও কিনে বসে৷ সাংসারিক বটে!
ব্যোমকেশের কাহিনীগুলো পড়লে মনে হবে এমন ঘটনা আমাদের আশেপাশে প্রতিনিয়তই ঘটে থাকে। অতিরঞ্জিত না, সবকিছুরই ছিমছাম, তবে সূক্ষ্ম বর্ণনা দেওয়া। এমনকি প্রতিটি গল্পের চরিত্রগুলোও মেকি মনে হয়নি৷ অপরাধী তো আমাদের আশেপাশের এসব সাধারণ মানুষই হয়ে থাকে। একেক গল্পের রসদও একেক রকম। কোথাও পরকীয়া ছিল, কোথাও বিশ্বাসঘাতকতা, পারিবারিক কোন্দল কিংবা সুচারু চক্রান্ত। একদম সামাজিক উপন্যাসের মশলাও এখানে পাওয়া যায়। এক কথায় বলা যায় ব্যোমকেশ হচ্ছে আমাদের ঘরের লোক। কোনো ঢিশুম ঢাশুম নেই, শুধুই বুদ্ধির খেলা।
কিছু কিছু কেস প্রেডিক্টেবল ছিল, গল্পে আর কতটুকুই বা সাসপেন্স তৈরি করা যায়৷ তবে কাহিনীগুলো দেশভাগেরও আগের লেখা দেখে মনে হয় বেশ কিছু গল্পে মেয়েদেরকে হেয় করা হয়েছে৷ কিংবা লেখক বোধহয় কিঞ্চিৎ নারী বিদ্বেষী ছিলেন, সুযোগ পেলেই গল্পের নারীদের খোঁচা মারতেন। কখনো সত্যবতীকে নিয়ে সস্তা মজা করছেন, কিংবা "মেয়েরাই অপরাধের উৎস", "মেয়েদের জন্যেই দুনিয়ায় এত সমস্যা"- এসব বলছেন। আগেকার সমাজে এমন মন্তব্য স্বাভাবিক ছিল বলে এই সমস্যাটুকু না দেখার ভান করলাম৷
ব্যোমকেশের শেষ গল্প 'বিশুপাল বধ' লেখক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ করে যেতে পারেননি।
সাধু ভাষায় লেখা হলেও পড়তে আরাম, পুরো সমগ্র চাইলেই দু'সপ্তাহের মধ্যে শেষ করে দেওয়া যায়। আপনি যদি রহস্যপ্রেমী হয়ে থাকেন, তাহলে এটা পড়ে দেখুন, হতাশ হবেন না। আমি মুগ্ধ হয়েছি, সবগুলো পড়া শেষ হয়ে গেছে দেখে একটু কষ্ট লাগছে, এই যা।
বাঙলা ভাষায় গোয়েন্দাকাহিনীর শিরদাঁড়া বলা চলে। যুক্তির মারপ্যাঁচ, অকল্পনীয় কিন্তু স্বাভাবিক পরিণতি আর সুপাঠ্য প্রাঞ্জল ভাষা রচনাগুলোকে এমন মাত্রা দিয়েছে যে এক নিশ্বাসেই পড়ে ফেলতে পারলেই যেন পাঠকের পূর্ণতা ! পটভূমি সাজাতেও লেখকের জুড়ি মেলা ভার। তুলনামূলকভাবে ভৌগলিক বৈচিত্র্য আর সম্ম্মুখ সংঘাত কম হলেও কাহিনীর শক্তিতে লেখক সেই অপূর্ণতাকে জয় করেছেন।
ব্যোমকেশ বক্সী নিয়ে রিভিউ লিখার দরকার নাই। কিনুন আর পড়া শুরু করুন। একটানা না পড়ে ধীরে ধীরে পড়ুন। প্রতিটা গল্পের স্বাদ পাবেন এতে। আমি জুনে শুরু করে আজ শেষ করলাম দুই একটা পরে অন্য বই পড়তাম। এতে দীর্ঘকাল সত্যান্বেষীর সাথে কাটাতে পেরেছি।
কালজয়ী গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সী চরিত্রের ৩৩ খানা কাহিনী নিয়ে এই সমগ্র। অনেকদিন পর গোয়েন্দা কাহিনী পড়লাম, নিরাশ করেনি। কী বুদ্ধি বাবারে বাবা! চোখের নিমিষে ভাবতে ভাবতেই রহস্য সমাধান করে ফেলেন। একশন একটু কম ছিল, ছিটেফোঁটা আরকি। যদিও গোয়ান্দাগিরি বুদ্ধির কর্ম, তবুও একটু মারামারি থাকলে মন্দ হত না।সাধু ভাষায় লিখা হলেও প্রতিটা কাহিনীর মাঝে এমন একটা সাবলীলতা ছিল যে পড়তে পড়তে ঘুম সাবার হয়ে গেছে, পাঠকের কৌতূহল ধরে রাখার মাধ্যমেই গোয়েন্দা কাহিনীগুলোর সার্থকতা বটে! ব্যোমকেশ, অজিত এবং সত্যবতীর দীর্ঘায়ু কামনা করছি। (2021)
একটা দীর্ঘ সময় ব্যোমকেশের সাথে কাটালাম। ইচ্ছাকৃতভাবে অল্প অল্প করে রসিয়ে রসিয়ে পড়ছিলাম যেন শেষ না হয়ে যায়। অন্য একটা কোন বই পড়ি, মাঝে কিছু ব্যোমকেশ। তবুও শেষের সময় তো আসেই। একটু বিষণ্ণ লাগছে, বিশেষত শেষ গল্পটা পড়তে গিয়ে গল্প যখন জমে উঠছে তখন ”অসমাপ্ত” বলে দুম করে বইটাই শেষ হয়ে গেলো। পরে জানতে পারলাম জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত লেখক ব্যোমকেশের সাথে ছিলেন। মৃত্যুর ছয় মাস আগে এই গল্পটা লিখতে শুরু করেন যা আর শেষ করার সময় পান নি।
ব্যোমকেশ আমি অধিকাংশ সময় ট্রেনে বসে পড়েছি, কাজে যাবার পথে। পুরোটা সময় এই বাংলা রহস্যে ডুবে থেকে যখন শুনতে পেতাম You’ve reached Flinders St Station, কেন যেন এরকম অনুভূতি হত যে কেউ যেন ঠাস করে একটা চড় দিলো গালে! হায় কোথায় বাংলা সাহিত্য, তাও সাধু ভাষায়, কোথায় ব্যোমকেশ মাত্র ঘুম ভেঙ্গে পুঁটিরামের হাতে সকালের রোদ পোহাতে পোহাতে এক কাপ কড়া বাংলা চা খাবে আর কোথায় আমার আরেকটা ভিনভাষী দিন শুরু করা! সাধু ভাষার বর্ণনা যে আধুনিক হতে পারে আর তা এত সাবল��লভাবে আমি পড়তে পারবো কখনও ভাবি নি। এত আগে এতটা আধুনিক গোয়েন্দা কাহিনী তাও সাধু ভাষায়, কেমন করে লিখলেন লেখক জানি না। বিবাহিত কোন গোয়েন্দার গল্প কখনও পড়েছি বলেও মনে পড়ে না!
কোন গল্প নিয়ে আলাদা করে কিছু লিখবো না, এটা কোন রিভিউ-ও নয়, পুরোটাই ব্যক্তিগত অনুভূতি। ব্যোমকেশসমগ্র যখন পড়লাম তখন পুরোটা নিয়েই আমার সামগ্রিক অনুভূতি, সেটা কেবলই ভালো লাগার।
আমার থ্রিলারপাঠের ���ৃদয়ে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ব্যোমকেশ একাধারে Bold, Italic আর Underlined ফন্টে গেঁথে রইলো।
ব্যোমকেশ সমগ্র! প্রথম যখন বইটা হাতে পেয়েছিলাম, অজানা এক আশ্চর্য শিহরণ বয়ে গিয়েছিলো শিরদাঁড়া বেয়ে। নেড়েচেড়ে আবার শেল্ফে তুলে রেখেছিলাম। সাহস হয়নি।
প্রথম ব্যোমকেশের সাথে অভিযান শুরু হয় লকডাউনের মাঝে। হাতে অখণ্ড অবসর। একবার শুরু করেই নিজের অজান্তেই গোগ্রাসে গিলেছি। আবার হঠাৎ থমকে গেছি। তুলে রেখেছে শেল্ফে। শেষ হয়ে যায় কিনা। আটকে রাখতে পারিনি নিজেকে আবার রহস্যের গলি ঘুপচিতে ঘুড়ে বেড়ানো। থমকে দাঁড়ানো। সত্য অন্বেষণের বিচিত্র পথ একরকম আচ্ছন্ন করে রেখেছে। অবশেষে, আজ সত্যিই শেষ হয়ে গেল। অসমাপ্ত!
ব্যোমকেশের রহস্যগুলোকে কোনো বিশেষ বিশষণে বিশেষায়িত করার স্পর্ধা আমার নেই। এটা যেন এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা। কখনো পারিবারিক কোন্দল, কখনো বিশ্বাসঘাতকতা, চক্রান্ত, পরকীয়া.. কি নেই এতে? পড়তে যেয়ে আপনি কখনোই অধৈর্য হবেন না, সে সুযোগই নেই। এতটুকু নিশ্চয়তা নির্দ্বিধায় দিতে পারি।
ব্যোমকেশ আমাদের খুব কাছের। কখনোই মনে হবে না সে আপনার ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিন্তু তার শূন্যতা ঘিরে থাকে। এর থেকে রেহাই নেই।
অল্প কথায় ব্যোমকেশের প্রংশসা যেমন করা যায় না। তেমনি অনেক প্রশংসার বুলি ছড়িয়েও ব্যোমকেশকে নিয়ে আমার মুগ্ধতা প্রকাচ করা যাবে না, সম্ভব না। বিশুপাল বধের অসমাপ্ততা এটাই প্রমাণ করে, ব্যোমকেশ চিরঞ্জীব, তার অবস্থান চিরদিন অম্লান হয়ে থাকবে পাঠকদের হৃদয়ে। তার শূন্যস্থান পূরণ করা সম্ভব নয়!
যদিও আগেই একটা গল্প পড়া ছিল, কিন্তু সত্যি বলতে কি, ব্যোমকেশ সম্পর্কে আমার তেমন উঁচু ধারণা ছিল না। বাংলা গোয়েন্দার জগতে ফেলুদাই আমার কাছে রাজা। আর ব্যোমকেশ? অনেকেই তো গোয়েন্দা গল্প লেখার চেষ্টা করে, এও সেরকম কিছুই হবে। তারপর? একটা একটা গল্প পড়ি, আর ধারণা যায় পাল্টে। ফেলুদার গল্পগুলোতে একটা চেনা গৎ আছে, বেশিরভাগ কেস একই রকমের; কিন্তু ব্যোমকেশের প্রতিটা গল্পই আলাদা। আলাদা আলাদা প্রেক্ষাপট, আলাদা টুইস্ট। শার্লক হোমসের চেয়ে আমাদের ব্যোমকেশ কোনো অংশে কম নয়। তবে পুরোপুরি বাঙালি গোয়েন্দা আমাদের এই ব্যোমকেশ। আমার মত যেসব কল্পনাপ্রবণ টিনেজার গোয়েন্দা হতে চায়, তারা শার্লক হোমসকে অনুসরণ না করে ব্যোমকেশকে অনুসরণ করলেই বেশি কাজে দেবে! ফেলুদাকে এখন থেকে আমি বলব শিশু কিশোরদের সেরা গোয়েন্দা, আর ব্যোমকেশ, সে তো সার্বজনীন।
I read it at the age of 15. And believe me, it was an epic journey to experience. Each and every story has a great plot. The stories are not that typcal detective thriller types but also contain social structures and human natures as well. Byomkesh is a famous detective of Bengali. But if you haven't read it yet, then you are missing a bunch of masterpiece. Just give it a try, you won't regret:-)
হাজার পৃষ্ঠার বই পড়ে শেষ করা তাও আবার ১ মাসে, it's like a dream to me. এহেম এহেম! একচুয়ালি বইটা আমি পড়ি নাই। পুরোটা অডিও শুনেছি। কখনো ইউটিউব থেকে আবার কখনো আমার বোন নিজেই পাঠক হয়ে আমাকে বই টা পড়ে শুনিয়েছে। ১০০৮ পেজের প্রায় অর্ধেক অংশই আমার বোন আমাকে পড়ে শুনিয়েছে। নাহলে এটা পড়ার সাহস আমার হতো না। এজন্যই হয়তো ১ মাস টাইম লেগেছে। জোরে পড়া আর নিরবে পড়ার মাঝে অনেক পার্থক্য হয়ে থাকে। সে যদি বইটা নিজে একা একা পড়তো তাহলে ৩/৪ দিনেই শেষ করে ফেলতো। এটা তার লাইফের সর্বোচ্চ সময় নিয়ে বই পড়া। আর এই বইটা পড়া অবস্থায় সে আমার অসংখ্য নাম আবিষ্কার করে ফেলেছে 😂😂😂.........
I am thankful to Rifat 🤪 Love You so much Sis 🥰
বইটা খুবই ভাল লেগেছে। স্পেশালি চিড়িয়াখানা আর অচিন পাখি অনেক ভাল লেগেছে। অচিনপাখি টার খুনীকে ক্র্যাকই করতে পারি নি কে হতে পারে। বিশুপাল বধ শেষ হওয়ার আগেই লেখক শরদেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় মারা যান। না জানি উনি কিভাবে এর শেষ কল্পনা করে রেখেছিলেন।একটা রহস্য থেকেই যায় এখানে। তার পর বাকী লেখা টা সম্পন্ন করেন নারায়ণ সান্যাল। মন্দ ছিল না। কিন্তু বোঝাই যাচ্ছিল অন্য কারো হাতের স্পর্শ লেগে গেছে গল্পটায়। 😐
তবে এই বই পড়ার জার্নিটা ভাল ছিল। লক ডাউনে আমি আর আমার বোন অনেক টাইম স্পেন্ট করলাম এই বই এর সুবাদে।
ব্যোমকেশ বক্সী—একটা নাম, একটা যুগ, একটা অভ্যাস। বাঙালির অলিন্দে, পাড়ায়, ঘরের বইয়ের তাক আর চায়ের কাপে যিনি আছেন বহুকাল ধরেই, তিনি শুধুই একজন গোয়েন্দা নন—তিনি এক ধরনের নস্টালজিয়া, এক নিঃশব্দ গর্ব, এক সংস্কৃতির স্থায়ী প্রতিনিধি। ‘সত্যান্বেষী’ শব্দটি দিয়ে যে চরিত্রের সূচনা শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় করেছিলেন, তার যে কত প্রজন্ম ধরে কী গভীর প্রভাব—তা বোঝা যায়, যখন এক পাঠক সদাশিব নামের এক মারাঠা কিশোরকে দেখে তার শৈশবের ব্যোমকেশকে চিনে নিতে চায়, অথবা যখন কেউ ব্যোমকেশের ‘খোকা’ নিয়ে প্রশ্ন তোলে—সে কি এবার নতুন গোয়েন্দা হবে? ব্যোমকেশ কি তাঁর ‘ডিটেকটিভ’ জীবন থেকে অবসরে যাবার সময় এসে গিয়েছে?
এই গভীরতা আসলে জন্মেছে তার সাহিত্যিক নির্মাণশৈলীতে। ব্যোমকেশ বাঙালি গৃহস্থের ছেলের মতো করে আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়—ধুতি-পাঞ্জাবিতে, চায়ের কাপ হাতে, স্ত্রী সত্যবতীর সঙ্গে গৃহস্থালির কথোপকথনে। অথচ এই সরল আবরণ ভেদ করে বেরিয়ে আসে এমন ক্ষুরধার বুদ্ধি ও আবেগমথিত মানবিকতা যা তাকে ফেলুদা বা শার্লকের আলাদা গোত্রে নিয়ে যায়। সে কোনও পিস্তল চালায় না, সিগারেট ফুঁকে না (বা গাঁজা ধরায় না), সে ধরে যুক্তির ছুঁড়ি, আর কেটে ফেলে রহস্যের জটিলতম স্তরগুলো। এমনকি, সস্তা নাটকীয়তা নয়, বাস্তবের অনিশ্চয়তা—সেইটাকেই সে আঁকড়ে ধরে।
তবু, ‘মগ্নমৈনাক’ কিংবা ‘বেণীসংহার’-এর মতো কিছু গল্পে পাঠক যখন খটকা তোলেন তথ্যগত অসঙ্গতি নিয়ে, তখন মনে পড়ে, ব্যোমকেশও তো শেষপর্যন্ত মানুষ। শরদিন্দু কল্পনাকে কেতাবি নির্ভুলতায় বন্দি না রেখে জীবনের মতোই কিছু অস্পষ্টতা রেখে গেছেন—যেখানে কিছু প্রশ্নের উত্তর নেই, কিছু অমিল স্পষ্টই ধরা পড়ে। পাঠক এসব খুঁটিয়ে ��েখে, আলোচনা করে, কারণ এই চরিত্রটা তার নিজের হয়ে উঠেছে।
ব্যোমকেশের জনপ্রিয়তা কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। উত্তমকুমার থেকে শুরু করে আবির, যিশু, অনির্বাণ—প্রত্যেকেই ব্যোমকেশের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ তুলে ধরেছেন। কেউ বাঙালিয়ানায় মোড়া, কেউ অ্যাকশন-ভরা আধুনিক প্রতিচ্ছবি, কেউ আবার মধ্যবয়সের ক্লান্ত ধ্যানমগ্ন পুরুষ। প্রত্যেকেই সফল, প্রত্যেকেই সীমিত। কারণ ব্যোমকেশ আসলে একটা মুখ নয়—একটা প্রতীক। সময়ের সঙ্গে তার চেহারা বদলেছে, কিন্তু তার জিজ্ঞাসা, সত্যান্বেষণ, আর সেই গভীর বাঙালি আত্মশক্তি—সে আজও একই আছে।
ব্যোমকেশের এই বহুমাত্রিকতা, এই ঘরোয়া অথচ গূঢ় প্রতিমা আজকের দিনে যখন বাংলা বইয়ের দোকান একে একে হারিয়ে যাচ্ছে, তখন এক প্রশ্ন তুলছে—এই অমরত্ব কি ক্লান্তিকর নয়? রুটিন ওয়েব সিরিজ আর ফিল্মে ব্যোমকেশের পুনরাবৃত্তি কি আদৌ নতুন কিছু যোগ করছে, নাকি চরিত্রটিকে ধীরে ধীরে নিঃশ্বাসরুদ্ধ করে তুলছে? সে কি বলছে না, "সত্যবতী, আজকাল বড় ক্লান্ত লাগে..."?
তবু, তার ক্লান্তির মাঝেও তার প্রয়োজন শেষ হয়নি। কারণ, সদাশিবেরা হারিয়ে যাচ্ছে, খোকারা জন্ম নিচ্ছে না। নতুন কোনও ব্যোমকেশ তৈরি হচ্ছে না। বাংলা সাহিত্যে অন্য কোনও গোয়েন্দা এতটা বাঙালি হয়নি, এতটা মানুষ হয়নি, এতটা আত্মীয় হয়নি। তাই ব্যোমকেশ এখনও শ্রেষ্ঠ, কারণ সে নিখুঁত নয়—সে রক্তমাংসের। ভুল করে, প্রশ্ন তোলে, প্রেমে পড়ে, সংসার চালায়, সত্যের জন্য লড়াই করে।
এই ব্যোমকেশই আমাদের প্রয়োজন। আর হয়তো ঠিক সেই কারণেই আমরা আজও তাঁর গল্পগুলো পড়ি, বারবার। আর বলি, “সব তো খোকার জন্য একটা সুন্দর পৃথিবী গড়ার তাগিদ।”
This is the bestest work of fiction in the genre of mystery and crime detection by any Bengali writer. Absolutely world class. Far better than Feluda or any other similar series. Highly recommended.
সীমিত আকারে লকডাউনের প্রথম দিনে পড়া শুরু, আজ সন্ধ্যায় শেষ। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যোমকেশ সমগ্র। ফেলুদার পর দ্বিতীয় সেরা বাঙালী গোয়েন্দা। চমৎকার আকর্ষণীয় লেখনী। গল্পগুলোকে স্রেফ গোয়েন্দা কাহিনী না বলে সামাজিক গল্প বা উপন্যাস হিসেবেও চালানো যেতে পারে। চটকদার গোয়েন্দা গল্পের মতন গোলাগুলি বা মারপিটের আবহ নেই। সাধারণ সব সামাজিক চরিত্র আর তাদের রিপুমত্ত অপরাধের সব গল্প।
তবে একটা জিনিস খুবই দৃষ্টিকটু - বেশ কটা গল্প পড়লে বুঝা যায় লেখক বেজায় নাক উঁচু ধরণের মানুষ ছিলেন। বিশেষ করে নারীদের প্রতি তার দ্বেষ লুকিয়ে রাখেন নি। একাধিক গল্পে 'মেয়েরাই অপরাধের উৎস' বা 'মেয়েদের জন্যেই দুনিয়ায় এত সমস্যা' এরকম কিছু কথাবার্তা নিজের বয়ানেই বলেছেন। তবে স্বীকার করতেই হবে, খুবই ভাল মানের সাহিত্য।
ব্যোমকেশ সম্বন্ধে বাক্যব্যয় বাতুলতা। বাংলায় গোয়েন্দা সাহিত্য প্রচুর লেখা হলেও, গুণগত মানের বিচারে বিশ্বের বাকি ভাষার গোয়েন্দা সাহিত্যের সামনে বিশেষ কল্কে পায় না। এহেন দীনতার মাঝে ব্যোমকেশ ব্যতিক্রম৷
বিংশ শতাব্দীর তিরিশ দশকের শিক্ষিত এক যুবক; ধারালো নাক, লম্বা-ফর্সা-সুশ্রী চেহারা, নাতিস্থুল অবয়বের সাথে অসাধারণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং উপস্থিত বুদ্ধির এক দারুণ সংমিশ্রণ যেন তার মাঝে! সুহৃদ অজিতকে সাথে নিয়ে যেকোনো রহস্যের পর্দা উন্মোচন করেন নিজের ক্ষুরধার মগজের ধোলাইয়ের মাধ্যমে, যার সাথে যুক্ত হয় সেই রহস্যের সাথে যুক্ত থাকা প্রতিটি চরিত্র এবং প্রতিটি ঘটনাপ্রবাহকে বিশ্লেষণ করার অসামান্য দক্ষতা। তেইশ চব্বিশ বছরের শিক্ষিত এই যুবকটি নিজেকে গতানুগতিক প্রাইভেট ডিটেকটিভদের দলে ফেলে খেলো হতে চাননা, বরং স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন “সত্যান্বেষী” হিসেবে পরিচিত হতেই। আর এখানেই তার অনন্যতা।
কার কথা বলছি ইতোমধ্যেই সবার কাছে বেশ পরিষ্কার। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৃষ্ট কালজয়ী চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সীর জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকা রহস্য কাহিনীতে বুঁদ হননি এমন পাঠক খুব কমই পাওয়া যাবে। ব্যোমকেশ সমগ্রের প্রতিটি গল্পকে একাধারে নিখাঁদ রহস্যগল্প বললে বোধহয় ভুল হবে; একে সামাজিকতার আচ্ছাদনে গোয়েন্দা কাহিনী বললেই হয়ত বেশ মানানসই শোনায়।
লেখক নিজেই বলেছেন, তিনি জীবনকে এড়িয়ে, জীবনের বাস্তবতাকে এড়িয়ে গিয়ে ব্যোমকেশকে বিকশিত করেননি; আর তার যথাসাধ্য প্রমাণের ছাপ সুস্পষ্ট তার প্রতিটি কাহিনীবিন্যাসের চিত্রাঙ্কনে। দারুণ সব শব্দচয়ন ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিটি চরিত্রের অভিব্যক্তিকে মনের দোড়গোড়ায় পৌছে দেয়ার মাধ্যমে চরিত্র চিত্রায়ণের কাজটি বেশ সাবলীলতার সাথে সম্পন্ন করেছেন লেখক।
সামাজিক-পারিবারিক সম্পর্ক, লোক-লৌকতা, বন্ধুত্ব কিংবা নিখাঁদ ভালবাসাময় দাম্পত্য জীবনের ছক আঁকাতে শরদিন্দুবাবু এতই সিদ্ধহস্ত ছিলেন যে প্রতিটা কাহিনীই বাস্তব হয়ে আমার চোখের সামনে ধরা দিচ্ছিলো। এমনকি মানুষের মাঝে বিদ্যমান আদিম রিপুর প্রকটতাও এক শৈল্পিক আকার ধারণ করেছিলো লেখকের লেখনীর জাদুতে। এছাড়াও প্রতিটি রহস্যগল্পের প্লটের বুনিয়াদ এবং ঘটনাপ্রবাহের প্রতিটি বিন্দুতে সম্ভাব্যতা ও সাসপেন্সের ছোঁয়ার পাশাপাশি সত্যান্বেষী হিসেবে ব্যোমকেশের ভূমিকাও ছিলো একদম সতেজ ও মেদহীন।
ব্যক্তিগতভাবে যেসব গল্প আমার মনে বিশেষ দাগ কেটে গিয়েছে সেগুলোর মাঝে দুর্গরহস্য, চিড়িয়াখানা, বহ্নি-পতঙ্গ, অদ্বিতীয়, সজারুর কাঁটা এগুলো প্রথম তালিকায় থাকবে। দুর্গরহস্য গল্পটিতে ঐতিহাসিক কাহিনীর ছাপ সুস্পষ্ট, চিড়িয়াখানা ও সজারুর কাটা নামক দুটো গল্পের আগাগোড়া জুড়েই সাসপেন্সের ছড়াছড়ি; এবং ক্লাইম্যাক্সে এসে টানটান উত্তেজনার মাত্রা তীব্র। তবে প্রায় সব গল্পেই অপরাধীর মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণে মুন্সীয়ানার পরিচয় দিয়েছেন ব্যোমকেশ। আমার দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যোমকেশ-সাহিত্যের শিল্পমান বহুগুণে বাড়িয়ে তুলেছে ব্যোমকেশের সাথে তার কাছের প্রিয় মানুষদের সুসম্পর্ক। যেকোন রহস্য সমাধানেই হোক কিংবা অবসরের আড্ডা জমানোতেই হোক, অজিতের সাথে তার বন্ধুত্বের বিষয়টি বেশ প্রাণবন্ত হয়ে উঠে এসেছে। এবং সহধর্মিণী সত্যবতীর সাথে তার আটপৌরে অথচ মিষ্টিমধুর দাম্পত্য জীবনের টুকরো টুকরো চিত্রকে যেভাবে লেখক রহস্য গল্পের ফাঁক-ফোকরে মিশিয়েছেন, তাতে করে একঘেয়েমির কোন অবকাশই থাকেনা, বরং একরাশ মুগ্ধতা ঘিরে ধরতে বাধ্য পাঠকের মনে। আর বেশকিছু পুলিস কর্মকর্তাদের সাথে ব্যোমকেশ ও অজিতের অম্ল-মধুর সম্পর্ক কাহিনীতে যোগ করেছে নির্মল হাস্যরস।
তবে কিছু বিষয���ে বেশ খটকা লেগেছে আমার। প্রথমত, প্রথমদিকের কিছু কাহিনী বিবৃত হয়েছে অজিতের নিজস্ব জবানীতে, কিন্তু পরের তিন চারটা গল্পে অজিত যেন বেশ নিষ্প্রভ, লেখক সেগুলোকে প্রথম পুরুষে বর্ণনা করেছেন। তাই রহস্য সমাধানে সাহায্যকারীর সেই চিরায়ত ভূমিকায় অজিতকে না দেখতে পাওয়ায় বেশ মিস করছিলাম তাকে। হয়ত লেখক শেষদিকে ব্যোমকেশকে ছুটি দিতে যেয়ে আগে অজিতের ব্যস্ততা বাড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। দ্বিতীয়ত, ব্যোমকেশের কাজ শুধু প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের সাহায্যে রহস্যের গভীরে যেয়ে সত্য অন্বেষণ করা; অন্যায়কারী বা অপরাধীর প্রতি তাকে ঘৃণ্য মনোভাব পোষণ করতে খুব কমই দেখেছি। তবে তাই বলে যে সে অনুভূতিশূন্য একজন মানুষ তা নয়। শরদিন্দুবাবু ব্যোমকেশকে এভাবে চিত্রায়িত করার মাধ্যমে হয়ত একটাই মেসেজ দিতে চেয়েছেন—“পাপকে ঘৃণা করো, পাপীকে নয়”।
কিছু বই পড়ে শেষ করবার সময়টা যত ঘনিয়ে আসতে থাকে, মন খারাপের মাত্রাও যেন ততই বাড়তে থাকে। “ব্যোমকেশ সমগ্র” ও ঠিক তেমনই একটি বই। ছোট বাচ্চাকে আইসক্রিম বা চকলেট দিলে ফুরিয়ে যাবার ভয়ে সে যেমন একটু একটু করে স্বাদ গ্রহণ করে, বইটি আমার কাছে ঠিক তেমনই কিছু ছিল। যখনই অবসাদগ্রস্থ হতাম, কিংবা রিডার্স ব্লক নামক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতাম, তখন বইটি আমার নিত্যসঙ্গী ছিলো। সময়টা ফুরিয়ে আসাতে খারাপই লাগছে বেশ।
পাঠ প্রতিক্রিয়া ব্যোমকেশ সমগ্র লেখকঃ শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় ধরনঃ রহস্য, ক্রাইম ফিকশন প্রথম প্রকাশঃ মে, ১৯৯৫ প্রকাশনীঃ আনন্দ পাবলিশার্স মোট পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ১০০৮
For someone who has just started reading Bengali detective books, this book was a goldmine for me. I've read Feluda and Kakababu books before it but those were for a somewhat younger audience. Byomkesh is the first adult detective book I've read in Bengali. What I liked about the Byomkesh books are, it covers a wide range of crimes. A lot of the crimes are driven by lust, but the writer has portrayed fraud, larceny, revenge, forgery, abduction and even contract killing very spontaneously.
Byomkesh's adventures begin in the 1930's. At first we see a young Byomkesh who meets Ajit. The stories are naraated by Ajit. In the first story Byomkesh arrives at Ajit's mess pretending to be a tenant looking for a room. He later reveals his landlord who happened to be the head of a drug cartel. Byomkesh and Ajit becomes friends and he invites Ajit to live at his house. Thus the duo of Byomkesh and Ajit were born who later solved some of the most mind boggling mysteries.
After solving some crimes and gaining popularity, Byomkesh meets Satyabati in one of the cases, who he goes on to marry afterwards. Sharadindu has portrayed some complexities between the husband and wife, which brings the stories closer to the society. He goes deep into the personal life of the sleuth, presenting the financial dilemmas being one. Byomkesh and Ajit later starts a printing press as a secondary income source. These events gives us a closer look at the detective's life and let us connect to him deeply.
The thing I liked most about Byomkesh is his values and principals. He justifies his actions according to his values than logic. In a period when the country was just beginning it's journey, Byomkesh didn't have a lot of faith in the law. On the contrary, in some of the stories he judges the criminals according to his own values and takes no action.
The crimes commited in the stories are versatile. Sharadindu has presented the plots uniquely. The criminals commited near perfect crimes which the police has no clues of. Without Byomkesh it would have been impossible to catch them. Though in most of the stories the villains would not give in and take their own lives in front of Byomkesh and the police. This might be common back then but seems very unlikely now. But the way the stories unfold and from the clues the sleuth reveals the crime is where Sharadindu has worked his magic to make Byomkesh one of the finest in Bengali literature.
From the stories, it seems very obvious that Byomkesh seems to shares his roots with Sherlock Holmes and Poirot. But I have a nightmare imagining Hercule and Sherlock in the streets of Kolkata. Byomkesh, and only Byomkesh is the sole answer for the crimes back then!
This entire review has been hidden because of spoilers.
It took me a month to finish this book. I think this is my third-fourth full read of the collection. But I think this is the read that I am most mindful and aware of. Last month has been tough. Byomkesh has been my safe place in such dark times. It gave me refuge and kept me safe, to the best of its ability. I didn't leave any word out of this book this time. Even the edition. I think I am ready to record my feelings now.
I own the 2005 edition of this collection, which was first published in 1995. I own this book since 2009. Sharadindu Bandyopadhyay wrote 32 stories/novels in total, in a span of 35-36 years (with a gap of 15 years between story 10 and 11). Byomkesh grows from a young detective of 23-24 to around 60 years in age in these stories. Ajit (his friend/brother/narrator) takes a backseat from narrating and writing in the later stories. Perhaps as a writer, Shardindu sir wanted to change his style of writing. There are so many other trivia that make it a world on its own. But throughout it, remain the stories of the detective which are gripping, have flavors of all sorts, crafted in the social and political contexts of the 20th century, and some good, really good, detective work dependent only on the brain. I will not review the stories, I really think this collection is one of the best things I have read in my life. It's a (literary) journey I am lucky to have taken.