কবর খুঁড়ে রাখলেও পাকিস্তানীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দুঃসাহস দেখায়নি। জাতির জনক শেখ মুজিব নিহত হয়েছেন তিনি যে দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন সেই দেশের কিছু সেনা কর্মকর্তার হাতে। বঙ্গবন্ধু তাঁর প্রিয় দেশের মানুষকে বিশ্বাস করেছিলেন বলে খুনিরা খুব সহজেই তাদের মিশনে সফল হয়েছে। কিন্তু, তাঁর নিরাপত্তা যাদের নিশ্চিত করার কথা ছিল তারা ব্যর্থ হয়েছে পুরোপুরি। একদিকে যেমন খুব বেশি গোয়েন্দা তথ্য ছিল না তেমনি খুনিরা আগের দিন বিকেল থেকে প্রকাশ্যেই সব প্রস্তুতি নিলেও সেটা ব্যর্থ করে দিতে সেনাবাহিনী বা অন্য কেউ সক্রিয় ছিল না। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্যে শব্দে শব্দে ফুটে উঠেছে সেই ব্যর্থতার কথা। গোয়েন্দা ও সামরিক ওই ব্যর্থতা নিয়েই নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস তুলে ধরার দায় থেকে এ বই।
সিনিয়র সাংবাদিক জাহিদ নেওয়াজ খানের বইটির নাম আকর্ষণীয়। 'আগে দর্শনধারী, পরে গুণবিচারী' নীতিতে বিশ্বাস করে বইটি পড়তে শুরু করি ব্যাপক আশা নিয়ে। জনাব জাহিদ নেওয়াজ খান পুরো বইটি লিখেছেন ১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পুর্ণাঙ্গ রায়ের ওপর ভিত্তি করে। মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্য আর খুনিদের বয়ানকে পর্যালোচনা করেছেন।রায় বিশ্লেষণ পাঠককে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কথা জানিয়ে দেয়। যেমনঃ বঙ্গবন্ধুকে গুলি করে মেজর নূর ও হুদা। এই মেজর নূর শেখ কামালের বন্ধু ছিল এবং প্রায়শই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে আসত। আবার এই নূরই জিয়ার পিএস ছিল।
বাদবাকি তথ্য-উপাত্ত নিয়ে এর আগে রচিত বইয়ের সংখ্যা শত ছাড়িয়ে গেছে। তাই সেসব তথ্য জাহিদ নেওয়াজ খানের বইতে উঠে আসলেও তা আলাদা কোনো মূল্য রাখে না। বরং বইয়ের নাম যত নজর কাড়ে, বইয়ের ভেতরকার মালমসলা ততটা ভালো তো নয়ই।
সূক্ষ্মবিচারে বাজারে আর আটদশটি ভেতো বইয়ের মতোই জাহিদ নেওয়াজ খানের বইটি। বিশেষ কিছু নয় মোটেই। শফিউল্লাহ,খালেদ মোশাররফ,শাফায়েত জামিল, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ব্যর্থতার দুঃখজনক ইতিহাস যেমন কমবেশি সবাই জানে,তেমনি জিয়ার রহস্যময় ভূমিকা,মোশতাক,তাহের ঠাকুর, চাষী আর খুনি মেজরদের ষড়যন্ত্রের কলঙ্কিত অতীতও সচেতনজনেরা জানেন। তাহলে নতুন কী পেলাম সিনিয়র সাংবাদিক জাহিদ নেওয়াজ খানের বই থেকে? দুঃখিত জনাব আপনার বইতে নতুনত্ব নেই বরং যা আছে তা হল চর্বিতচর্বণ।