মা মনসার আরেক নাম হল তরিতা। এই কাহিনি যাঁকে নিয়ে, তাঁর নামও তরিতা। মা মনসার আশীর্বাদধন্য তরিতা মায়ামিতে সর্পবিদ্যায় শিক্ষানবিশী সেরে দেশে ফেরার পর অ্যান্টি ভেনম সিরাম তৈরির কারখানা খোলার ইচ্ছায় সুন্দরবনের দয়াপুরে গেলেন। সেখানে গিয়ে তিনি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী চন্দ্রভানুর বিরোধিতার মুখে পড়লেন। আশ্চর্যের ব্যাপার, মঙ্গলকাব্যে দেবী মনসা আর চাঁদ সওদাগরের মধ্যে যা ঘটেছিল, দয়াপুরেও তাই ঘটতে লাগল তরিতা ও চন্দ্রভানুর মধ্যে। দু’জনের লড়াইতে জড়িয়ে পড়ল হারপেটোলজিস্ট অঙ্কুশ, এ ভি এস কারখানায় চাকরি করতে গিয়ে। শেষ পর্যন্ত কি মা মনসার মতো নারীশক্তির জয়ধ্বজা ওড়াতে পারলেন তরিতা? চন্দ্রভানু কি তাঁর বশ্যতা স্বীকার করলেন? জীবনযুদ্ধে হারতে হারতে অবশেষে অঙ্কুশও কি ফিরে পেল তার প্রেমিকা উষসীকে। টানটান এই কাহিনিতে তার উত্তর মিলবে।
Rupak Saha Started his journalistic career as a freelance journalist in “AnandaBazar Patrika”, before shifting to the sports section. He later became the sports editor for” Ananda Bazar Patrika”. After serving as a sports editor for twelve years he was transferred to their films oriented magazine called “Anandalok”. In 2004 he became the editor of “Anandalok”. Here his tenure was for few years. At present he is the sports Editor of the newspaper “Sakalbela”
As a sports editor he had to cover World Cup Football, World Cup Cricket, Olympic Games and Asian Games for which he had widely traveled abroad. He is also seen as an authority on football and cricket in the panel of experts he was associated with various news channel.
In 1994, he wrote his first novel “Juwari”, when this was published in “Ananda Bazar Patrika” it brought him instant fame two of his novels “Juwari” & “Lal Ranger Prithivi” were made into films. He wrote sixteen novels the last one titled “Reality Slow” which was recently published. This new concept was well received by his fans. Even in the small screen he made his presence felt in the form of two serial “Sada Patay Kalo Daag” and Football in Zee TV. There were several telefilms and also another serial “Chorapothey Chiriakhana”. Rupak Saha also had contributed to several books on football. He was the proud recipient of the “Best Sports Journalist” award by the Govt. of West Bengal.
রূপক সাহার 'ক্ষমা কর হে প্রভু' পড়ার পর থেকে ওনার লেখা বেশ পছন্দ করে ফেলেছিলাম। তবে ব্যক্তিগত মত হল ওনার উপন্যাসের শুরু যতটা জমাটি হয়, শেষটা যেন সেভাবে শেষ হয়না। মনে হয় শেষ করার সময় উনি কখনো সখনো খেই রাখতে না পেড়ে অলৌকিকত্ব এনে ফেলেন। এই উপন্যাসটা ও ব্যতিক্রম নয়। উপন্যাসটা পড়ার বড় ইচ্ছা ছিল, যখন জেনেছিলাম গল্পটা লেখা হচ্ছে মনসামঙ্গলের উপাখ্যান কে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এনে। দুই রাইভাল (চাঁদ ও মনসা) ও তাদের মধ্যে একে অপরকে ক্ষতি করার প্রতিযোগিতা। ইন্টারেসটিং প্লট সন্দেহ নেই, কিন্তু শেষটা তড়িঘড়ি মনসামঙ্গলের গল্পটাই এনে ফেললেন লেখক। সাপ সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াতে বিশাল জাঁকজমক করে চতুর্দিকে মনসা পুজো করার বা লোককে সাপেরই ভয় দেখিয়ে বেড়ানোর যৌক্তিকতা খুঁজে পেলাম না। আগেই বলেছি গল্পে অলৌকিক ঘটনা রাখতে লেখক কার্পণ্য করেননা, ফলে পাঠকের যদি মনে হয়, কোনো জায়গার বৈজ্ঞানিক ক্লারিফিকেশন পরে পাবেন, তাহলে হতাশ হতে পারেন। একবার যেখানে দাবি করা হয়, বুজরুকীতে বিশ্বাস নেই, সেখানেই মায়াবিদ্যা ফলিয়ে গ্রাম্য লোকেদের ভয়ে বা ভক্তিতে নিজের দলে টেনে আনার চেষ্টা একটু দৃষ্টিকটু লেগেছে। খামোকা দুই রাইভালের পায়ে পা দিয়ে ঝামেলায় জোড়ানোটা খুব একটা গ্রহণযোগ্য নয়।
স্পয়লার...
সাপকে কি সত্যি হিপ্নোটাইজ করা যায়? নাকি দর্শকদের হিপ্নোটাইজ করেন তরিতা? সাপদেরই যদি করেন, তাহলে কি উনি সাপ ব্যাগে নিয়ে ঘোরেন সবসময়? নাহলে যেখান সেখান মায় cm কেও সর্পদর্শন করালেন কি ভাবে! যদি ধরে নি সাপ নয়, সামনের মানুষদের হিপ্নোটাইজ করেন উনি, সেক্ষেত্রে গল্পের শুরুতেই শঙ্খচূর টি অকারণে মাথা নিচু করে পালালো কেন? উঁহু... কোথাও একটা হিসেব যে মিলিলো না!
নাহ্, শারদীয়া 'পত্রিকা'-য় যে লেখকের 'জুয়াড়ি' পড়ে শীর্ষেন্দু-র 'ঋণ' ফিকে হয়ে গেছিল, তিনি অবসর নিয়েছেন। এখন যিনি লেখালেখি করছেন তিনি সিরিয়ালের স্ক্রিপ্টই লিখতে পারেন। এই উপন্যাসটা ভালো, তবে নাথিং স্পেশাল। তবে হ্যাঁ, 'ভূমিকন্যা' নামের পৈশাচিক সিরিয়ালটার তুলনায় এই উপন্যাসটা অনেএএএক ভালো। সুযোগ পেলে পড়ে ফেলুন।
ছোটবেলায় নিজের এলাকায় মনসা পূজো হতে দেখেছি বহুবার কিন্তু এত যে ঘটনা বা মিথ জড়িয়ে আছে সেকথা আমার জানাছিল না। অসম্ভব সুন্দর একটি বই। প্রেম, ভালবাসা,ক্রোধ প্রতিশোধ, মিথ প্রাচীন ইতিহাস, ফেমিনিজম কি নেই বইটায়!!
বইটা কিনেছিলাম কলকাতার কলেজ ষ্ট্রিট থেকে ঘুরে ঘুরে এক দোকান থেকে, স্রেফ নাম দেখে। মিথের উপর ভাল একটা বই খুজছিলাম। শুধু কাভার দেখেই কিনেছিলাম। বইটা ইচ্ছে করেইএকবছর পড়েছিল , করোনা না এলে বোধহয় পড়া হত না।
মনসামঙ্গলের সাথে মিল রেখে এক দূর্দান্ত এক থ্রিলার। মনসামঙ্গলকারেরা যে মনসা দেবী সম্পর্কে বিরূপ এক মনোভাব ফুটিইয়ে তুলেছেন সেটা বেশ ভাল্ভাবেই দেখানো হয়েছে গল্পের মাধ্যমে। সাপ নিয়ে , সাপের ভেনম নিয়ে, সাপ বা মনসা দেবী সম্পর্কে যেসব কুসংস্কার বা মিথ চালু আছে তাকে উপজীব্য করে মনসামঙ্গলের সাথে মিল রেখে লেখক বইটা লিখেছেন। বইটা পড়তে গিয়ে আরেকটি যে ভালবাসার আবেশ পেয়েছি তা হল সুন্দরবন নিয়ে এবং এই অঞ্চলের মানুষ নিয়ে লেখা । সুন্দরবন নিয়ে বরাবর আমার আগ্রহ বিশেষ কওরে বনবিবির মিথ গুলা নিয়ে তবে এবার মনসা নিয়ে মিথ বেশ মজা দিয়েছে। মূল লেখাটাতে সাপ সম্পর্কে বহু ইনফো দেওয়া আছে । হার্পেটোলজিষ্ট নিয়ে এত বড় একটা আছে আমার জানা ছিল না।
বইয়ের মূল চরিত্র তরিতা , মনসা দেবীর মত ফেমিনিজমের আরেকরূপ। চন্দ্রভানু চাঁদ সওদাগরের মাত প্রতিবাদী এক চরিত্র। তবে তারিতার সব গুন ঠিক আছে কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে এসে তার অলৌকিক ক্ষমতা গুলা ছাড়া বাকি সব ঠিক আছে । লেখক চাইলে শুরুর দিকের মত করে অলৌকিকতা বাদ রেখে কাহিণী লিখতে পারতেন সেক্ষেত্রে আরো যুক্তি পূর্ন ও ইন্টারেষ্টিং মনে হত। শেষের দিকে এসে কাহিনী খুব তাড়িঘড়ি করে শেষ করে দিয়েছেন।
কুসংস্কার ও অলৌকিকতা বাকি রেখে বইটা আসলেই সুপাঠ্য । ফ্ল্যাপে দেখি লেখক নাকি নিজেকে ফেডরিক ফরসাইট দাবি করেন। আমি ফেডরিক ফরসাইটের সব গুলা বই পড়েছি এবং সেক্ষেত্রে দাবিটা খুব বেশি অমূলক নয়।
#তরিতাপুরাণ:- মনসাচরিত্র আধারিত সমকালীন একটি উপন্যাস #রূপক_সাহা #দীপ_প্রকাশন #মূল্য_৩০০_টাকা #প্রথম_প্রকাশ_কলকাতা_বইমেলা_২০১৭
বিগত কয়েকবছরে বাংলাসাহিত্যের যেকটি শাখায় নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে,তারমধ্যে থ্রিলার বা রোমাঞ্চসাহিত্য অগ্রগণ্য।বিভিন্ন পত্রপত্রিকা বা ফেসবুকীয় আঙিনায় চোখ রাখলেই দেখা মেলে নবীন-প্রবীণ সাহিত্যিকদের নবতম থ্রিলারগুলির খোঁজখবর।লেখাগুলি যে শুধু রহস্যের গলিঘুঁজি বা চরিত্রদের মারমারকাটকাট হস্তপদচালনায় ভরপুর তা নয়,প্রায়শঃই লেখকের রীতিমতো পরিশ্রমী বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনা এবং উপযুক্ত তথ্য পরিবেশনায় থ্রিলারের ধর্ম বজায় রেখেও তা হয়ে ওঠে প্রায় গবেষণাপত্রস্বরূপ।সাম্প্রতিককালের এমনই কিছু লেখায় উঠে এসেছে বাংলার প্রাচীন ইতিহাসের বিস্মৃতপ্রায় কয়েকটি অধ্যায়ের কথা।যেমন,মঙ্গলকাব্য ও চর্যাপদ-ভিত্তিক উপন্যাস, 'পাঁচমুড়োর পঞ্চাননমঙ্গল'ও 'চৌথুপীর চর্যাপদ',দেবতোষ দাশের ভাষার উৎসসন্ধানমূলক উপন্যাস বিন্দুবিসর্গ,সন্মাত্রানন্দের ইতিহাসাশ্রয়ী উপন্যাস 'নাস্তিক পন্ডিতের ভিটা' উল্লেখযোগ্য ভাবে রুচিশীল পাঠকমহলে আলোড়ন তুলেছে।জনপ্রিয় সাংবাদিক-লেখক রূপক সাহার লেখনীর সঙ্গে আমরা সকলেই কমবেশি পরিচিত।সমকালীন রাজনৈতিক-সামাজিক সমস্যাই তাঁর বেশিরভাগ উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলেও এবার তিনি লোকদেবী মনসার গুণকীর্তনে নিযুক্ত। মনসা লৌকিক দেবী।মূলতঃ সর্পসঙ্কুল সুন্দরবনের জলমগ্ন বাদা এলাকা,জঙ্গলাকীর্ণ পুরুলিয়া-বাঁকুড়ার অন্ত্যজশ্রেণীর মানুষের মধ্যেই দেবীর পূজা অধিক প্রচলিত।অথচ জন্মসূত্রে তিনি দেবকন্যা।কিন্তু দেবীত্ব অর্জনের জন্য,নারীশক্তির প্রতিষ্ঠা করার জন্য তাঁর লড়াই মনসামঙ্গলের পাতায় আমরা দেখতে পাই।বিয়ের রাতেই হঠকারী স্বামী জরৎকারু তাঁক��� ছেড়ে যান।চাঁদ সদাগরের সঙ্গে লড়াইয়ে পিতা শিবকেও তিনি পাশে পাননি।এমনকী মঙ্গলকাব্যকাররাও ছিলেন তাঁর প্রতি বিরূপ,মনসাকে ছলনাময়ী,প্রতিহিংসাপরায়ণ হিসেবে দেখানোই যেন ছিল তাদের উদ্দেশ্য।চাঁদের মুখ দিয়ে মনসাকে 'চ্যাং মুড়ি কানি' বলতেও তাঁরা পিছপা হননি।তবে শেষপর্যন্ত পরাক্রমশালী পুরুষ চাঁদকে তাঁর পূজা করাতে বাধ্য করে চিরকালীন নারীশক্তির ধ্বজা উড়িয়ে জয়লাভ করেন তিনি। এখন বর্তমান সময়ে,সুন্দরবনের প্রেক্ষাপটে তরিতা নাম্নী এক সর্পবিদ্যাবিশারদকে কেন্দ্র করে রহস্য ঘনীভূত হয়।প্রসঙ্গত,তরিতা মনসারই অপর নাম।সুন্দরবনের দয়াপুর এলাকায় একটি সাপের বিষের প্রতিষেধক তৈরির কারখানা খুলতে উদ্যোগী তরিতাকে সবরকমভাবে বাধা দেয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ী শিবভক্ত চন্দ্রভানু।আশ্চর্যজনকভাবে মঙ্গলকাব্যে চাঁদ সদাগর এবং দেবী মনসার মধ্যে যা যা ঘটেছিল,ঠিক তাই ঘটতে থাকে তরিতা ও চন্দ্রভানুর মধ্যেও।এভিএস কারখানায় চাকরি করতে এসে এর মধ্যে জড়িয়ে পড়ে হারপেটোলজিস্ট অঙ্কুশ।পুরোনো কাহিনীর মত চন্দ্রভানু কি তরিতার বশ্যতা স্বীকার করবেন?অঙ্কুশও কি ফিরে পাবে প্রায় হারাতে বসা তার প্রেমিকা উষসীকে? ঘটনা পরম্পরা সাজিয়ে ছবি আঁকতে সিদ্ধহস্ত লেখক এখানেও চূড়ান্ত সফল।অত্যন্ত সাবলীল ও গতিময় গল্প বলার ভঙ্গি একঘেয়েমিকে ধারেকাছে ঘেঁষার সুযোগ তো দেয়ই না,উপরন্তু পাঠককে বইয়ের সঙ্গে চুম্বকের মত আটকে রাখে।ব্যতিক্রমী বিষয়নির্ভর এবং অলৌকিক ঘটনাসমৃদ্ধ লেখা কাহিনীর অন্তিম পরিণতি অনুমানযোগ্য হলেও বর্ণময় চরিত্রগুলির উপস্থিতি পাঠককে শেষ অব্দি পড়িয়ে নিতে সক্ষম।বিশেষ করে সর্পবিজ্ঞান সম্পর্কিত তথ্যাবলী এবং প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশে সুন্দরবনের বাসিন্দাদের কঠিন জীবনসংগ্রামের বিবরণ একে সজীবতা দান করেছে।উপন্যাসের অলৌকিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।ধারণা এই,প্রাচীন মিথের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাযুজ্য রাখতে সচেতনভাবেই তা গল্পের মধ্যে প্রবেশ করেছে।দেবী মনসা-চরিত্র বিশ্লেষণপূর্বক তাঁর আত্মাভিমান,দেবীত্বে উন্নতির জন্য সংগ্রাম, কঠোর পৌরুষকে হার মানিয়ে নিজের জায়গা তৈরি করা এবং সর্বোপরি নারীশক্তির জয়ধ্বজা উত্তোলন,'তরিতা' চরিত্রটির মাধ্যমে আলোকপ্রাপ্ত হয়েছে।যুগে যুগে সমাজের বর্বরতা,ভোগলালসা,নারীলাঞ্ছনার বিরুদ্ধে একা রুখে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে নিতে শিখেছে যে সর্বহারা,অকুলীন নারী,মনসা বা তরিতা তাঁরই প্রতিভূ।প্রথম প্রকাশের পর একবছর সময় অতিক্রান্ত হলেও,বর্ষাকালে গ্রামেগঞ্জে মনসাপূজার সময়টুকু ছাড়া বিস্মৃতপ্রায় মনসামঙ্গল এবং তাকে ঘিরে থাকা কথকতা-নির্ভর এই মননশীল উপন্যাস বাংলা রোমাঞ্চসাহিত্যে প্রাসঙ্গিক ও উল্লেখযোগ্য অবদান,একথা অনস্বীকার্য।
মা-মনসার পৌরাণিক কাহিনী, মনসামঙ্গলকাব্যের ওপর ভিত করে বর্তমান সময়ে এই গল্প দাঁড়িয়ে আছে।
সুন্দরবন অঞ্চলে চন্দ্রভানু দুঁদে ব্যবসায়ী। স্ত্রী সনকা, দুই ছেলে, বৌমা, নাতি নিয়ে ভরা সংসার। সঙ্গে রয়েছে বন্ধু মন্টু। শিবের অনেক বড় ভক্ত। মনসাদেবীকে দেবী বলে মানেন না।
সুন্দরবন অঞ্চলেই তরিতা আসে আন্টি ভেনম সিরাম এর কারখানা খুলতে। এসেই সে দিকে দিকে মা-মনসার পুজো প্রচলনে উদ্যোগী হয়ে পড়ে। চন্দ্রভানু স্বভাবতই নানা উপায়ে বাধা দেবার চেষ্টা করে। অন্যদিকে তরিতা নিজ মায়াবলে সমস্ত বিপত্তি কাটিয়ে ওঠে, AVS তৈরির সৎ কাজে সহযোগিতা পায় স্থানীয় মানুষ এবং রাজ্য সরকারের।
গল্প চলতে থাকে মা-মনসার পৌরাণিক গল্পের ধাঁচে। মাঝে গল্পের কিছু শাখা-প্রশাখা বেরিয়ে আসে। মানুষের ভালো-মন্দ, দোষ-গুন্ সব দিক গুলোই বেশ ভালোভাবে প্রকাশ পেয়েছে। গল্প খুব মসৃন গতিতে এগিয়েছে। সুন্দরবন অঞ্চলের সামাজিক, সাপ নিয়ে বিস্তর তথ্য, লৌকিক দেবী মা মনসার গল্পগাঁথা, পারিবারিক অন্তর্দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক প্রতিচ্ছবি, ঈর্ষা - সমস্ত কিছু নিয়ে আমার বেশ ভালো লেগেছে এই কাহিনী।
মনসা মঙ্গলের কাহিনী সবারই জানা। সে কাহিনীকেই বর্তমান যুগের আঙ্গিকে নতুন করে বলেছেন লেখক। চরিত্রের নামগুলো পড়লেই বোঝা যায় কে কোন চরিত্রকে রিপ্রেজেন্ট করছেন। তবে গল্পের মধ্যে বারবার এসেছে অলৌকিকতা। এই অলৌকিকতা দিয়ে সূত্রগুলো না মিলিয়ে আর একটু বাস্তবভিত্তিক ভাবে যোগসূত্রগুলো মেলানো হলে ভালো লাগত। সেজন্য একটা স্টার কাটলাম। আর অঙ্কুশের মত লেখাপড়া জানা বাস্তববাদী ছেলের পক্ষে ঈপ্সিতা প্রেমিকাকে না পাওয়ার ফ্রাস্টরেশনটা ঠিক মানতে পারলাম না। অঙ্কুশের ভূমিকা গল্পের মাঝামাঝি থেকেই অপ্রয়োজনীয় লেগেছে। ওর মত একটা স্ট্রং চরিত্রকে আরও কাজে লাগানো যেত বলেই আশা করেছিলাম। সেজন্য আর একটা স্টার কাটলাম।