War, Genocide, Holocaust, Riots ... 20th century has seen some of the unspeakable forms of violence and brutality inflicted by man against fellow human beings. Yet, the spirit of man has remained unvanquished. Some of the greatest works of art have been forged out of pain and grief. Words and memories have been used, like weapons, by artist and poets as diverse as Pablo Neruda, Francis Bacon, Lorca, Sartre, Paul Eluard, Luis Bunuel, Urvashi Butalia, Tarkovsky ...A selection from their writings.
পরিমল ভট্টাচার্য বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই লেখেন। স্মৃতিকথা, ভ্রমণ আখ্যান, ইতিহাস ও অন্যান্য রচনাশৈলী থেকে উপাদান নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন এক নতুন বিশিষ্ট গদ্যধারা, নিয়মগিরির সংগ্রামী জনজাতি থেকে তারকোভস্কির স্বপ্ন পর্যন্ত যার বিষয়-বিস্তার। ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক। কলকাতায় থাকেন।
কদিন আগেই অভিজিৎ রায়ের বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের উপর একটি চমৎকার বই পড়লাম-ভালোবাসা কারে কয়। সেখানে অনেক বিষয়ই আলোচনায় এসেছে, রেফারেন্স সহ। যেখানে মানুষের মধ্যকার হিংসাত্মক প্রবৃত্তি নিয়েও আলোচনা করেছেন লেখক, অবশ্যই দীর্ঘকালের আচরণ বিশ্লেষণ করে। এই যে মানবসভ্যতার ইতিহাসে নানা কদর্য ঘটনা রয়েছে, রয়েছে নানা অত্যাচারের ইতিহাস, তা এই গত শতাব্দী বা এই শতাব্দীতেই কেবল সীমাবদ্ধ তা তো নয়। গ্ল্যাডিয়েটরদের সিংহের মুখে ছেড়ে খেলা দেখে উল্লসিত হওয়া মানুষ বা ডাইনী সন্দেহে পুড়িয়ে আনন্দ করার মানুষের যে জিন তাতো আমরা এখনো বহন করে চলেছি। আর সেই কারণেই অন্যের দুর্দশাতে আমরা আনন্দিত হই- এই প্রবৃত্তিটা কিছুতেই অস্বীকার করা যায় না। হলোকাস্ট, দেশভাগের সময়কালীন দাঙ্গা বা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের যত ধরনের অত্যাচারের কাহিনী শোনা যায়, শুনে একজন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ শিউরে উঠে ভাবতে বাধ্য হবে যে মানুষ এমনও কীভাবে করতে পারে। এই কথাগুলো বলার কারণ এই যন্ত্রণার উত্তরাধিকার বইটি সেইসব যন্ত্রণা থেকেই ফিরে আসা বা প্রত্যক্ষ করা বা অনুভব করা মানুষের কলমের চিহ্ন। পরিমল ভট্টাচার্য তাঁর প্রজ্ঞা এবং ভাষা দিয়ে যন্ত্রণা থেকে সৃষ্ট শিল্প-সাহিত্যকেই যন্ত্রণার উত্তরাধিকার নামাঙ্কিত করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবর্ণনীয় নারকীয়তা সামনে আসার পর জার্মান চিন্তাবিদ থিয়োডোর অ্যাডর্নো বলেছিলেন, 'অউশভিৎস-এর পর আর কবিতা নয়!' সৃষ্টিশীল মানুষ তাঁর সেই ঘোষণাকে দাম দেয়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য চলচ্চিত্র, লেখা হয়েছে গান-কবিতা-উপন্যাস, পর্যটনক্ষেত্রেও রূপান্তরিত হয়েছে বন্দিশিবির। নির্মিত হয়েছে শীতল অনুভূতিপ্রদানকারী ডকুমেন্টারি। কোন ক্ষতটা সৃষ্টিশীল মানুষকে উদ্দীপিত করেনি? আমাদের উপমহাদেশীয় দেশভাগ, বা মুক্তিযুদ্ধ বা কাশ্মীর? জন্ম দেয়নি কি রাশি রাশি সাহিত্য? চলচ্চিত্র? ভাস্কর্য? হ্যাঁ, যন্ত্রণার মধ্য দিয়েই গিয়েছে সেই মানুষ, যন্ত্রণা দিয়েছে একে অন্যকে, একটা জাতিকে, একটা গোটা দেশকে, পুরো পৃথিবীকে আবার সেই মানুষই রচনা করে গেছে তারই ক্রুরতার কাহিনী আর সতীর্থের অসহায়তার গল্প। সেই ক্রুর গল্পে যখন রোয়ান্ডার হুটু টুটসির লড়াইকালীন সময়ে গোরিলা বাঁচানোর জন্য অসংখ্য ফোন আসে অথচ মানুষ বাঁচানোর জন্য একটিও না অথবা মরিচঝাঁপির বাঘ বাঁচানোর আন্দোলনে উৎখাত করা হয় হাজার হাজার মানুষকে-তখন একজন মানুষ হিসেবে মানুষের অবমূল্যায়ন আমাকে খুব পীড়িত করে। আফগানিস্তান, স্পেনের গৃহযুদ্ধ, সিরিয়া, গাজা, ইউক্রেন, ভূপাল, গুজরাট বা কম্বোডিয়া- প্রতিটি অধ্যায়ই মানুষ হিসেবে যন্ত্রণার চিহ্নটুকু বহন করে চলেছে। পরিমল ভট্টাচার্য ছুঁয়ে গেছেন বিশ্বের কদর্য ইতিহাসের ফলগুলোকে। সঙ্গে তাঁর অনবদ্য অনুবাদ এবং চিত্তাকর্ষক অনুষঙ্গ আরো অনেক বেশি দীপ্যমান। যে অনপনেয় শোক এখানে শক্তি হিসেবে কাজ করেছে, সেই বলেই মানবেতিহাসের বিপর্যয় প্রত্যক্ষ করেছেন পাবলো নেরুদা, মিলন কুন্দেরা থেকে স্বর্ণ পটুয়া পর্যন্ত। তেমন নানাপ্রান্তের ভাবনাগুলোই মূর্ত হয়ে উঠেছে লেখকের কলমে।
The word that was invented by humans for unity is widely used for division. "Us". This simple word makes people of one religion or nationality, or ethnicity feel others as non-human. Cruelty over them, then ceases to be cruel. It turns into sacred act from a heinous one. Sometimes, it feels like men created mythology of monsters to be sure that the one they see in the mirror does not feel like one.
"অউশভিৎস-এর পর আর কবিতা নয়!"- অ্যাডর্নো বলেছিলেন।
কেন কবিতা নয়, তা বুঝতে গেলে গা ঝাড়া দিয়ে উঠে বসতে হয়। বিশ শতক জুড়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক যেসব সমাধিক্ষেত্র গড়ে উঠেছে অথবা গড়া হয়েছে বললেই হয়তো ভালো হয়, চোখ রগড়ে তাকালে দেখা যায়, শুধুমাত্র মানবদেহ গোর দেবার জন্যে নয়, বস্তুত এ গড়ে ওঠা ছিল মনুষ্যত্ব গোর দেবার প্রবৃত্তি থেকেই। ঠিক কোন মুহূর্তে একটা নিছক প্রতিশোধপরায়ণতা মনের ভুলে বুনে ফেলে গণহত্যার বীজ, তা খুঁজে পেতে গেলে ইতিহাসের সাহায্য নেয়া বোকামী। কেননা প্রচন্ড নির্মম সত্য হলো, ইতিহাস সর্বদাই লেখা হয় বিজয়ীর কলমের কালিতে, তার বিবৃতি থেকে, তার দৃষ্টিভঙ্গী থেকে। নিরপেক্ষ সত্য জানার উপায় কি তাহলে? হয়তো নেই, হয়তো কিছুটা আছে। এই অন্তত কিছুটা ধারণ করার প্রচেষ্টা থেকেই সৃষ্টি হয় 'যন্ত্রণার উত্তরাধিকার'-এর মত একেকটি বইয়ের। 'Essential Read' কথাটার বাংলা অর্থ কি, আমার জানা নেই। তবে এই বইকে সেই অর্থের সমার্থক হিসেবে ধরে নেয়া ভুল হবে না।
বইয়ের শুরু 'কংক্রিটে নখের আঁচড়' দিয়ে। অনুবাদক পরিমল ভট্টাচার্য আমাদের দেখান, কি করে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হাতবদল হয় গণহত্যা আর হিংসার বীজ। কিভাবে যুদ্ধ রাতারাতি মানুষের মনে আনে আমূল পরিবর্তন, কি করে অতীত হয়ে যাবার পরেও এ যুদ্ধ তাদের জীবনে থেকে যায় ঘটমান বর্তমান হিসেবে। বই তারপর আরো এগোয়; প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ে বেরানো ক্ষতের বিবৃতি থেকে শুরু করে খোলা চিঠির মধ্য দিয়ে। কখনো আমরা পড়ি মিলান কুন্দেরার বিবেককে হত্যা করতে চাইবার দুর্বল মুহূর্তের স্বীকারোক্তি, আবার কখনো সলঝেনিৎসিনের মর্মভেদী ভাষণ, কখনো আবার স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধের সময় লোরকার হত্যা নিয়ে নেরুদার আক্ষেপপূর্ণ স্মৃতিচারণ। মকমলবাফ তুলে আনেন বিস্মরিত আফগানিস্তানের কথা, পল ব্র্যাডলি শোনান রোয়ান্ডার গৃহযুদ্ধের সময়কার ভয়াবহ গণহত্যার বিবরণ যার খবর এই উপমহাদেশে আদৌ পৌঁছেছে কিনা সন্দেহ আছে। কাশ্মির, গুজরাট, পাঞ্জাবসহ দেশভাগের বিবরণে বারবার পড়ি ভারতের প্রচন্ড হৃদয়বিদারক একেকটি গণহত্যার ইতিহাস, শিউরে উঠি দেশটির নির্মমতা ও উদাসীনতার মিশেল প্রত্যক্ষ করে। 'আমার স্বদেশ খুন হয়ে যায়'-এ মুজামিল জলিল লিখেছেন, "যে খেলার মাঠগুলোয় আমরা ফুটবল ক্রিকেট খেলেছি, যে সুন্দর সবুজ বাগানে আমরা ইস্কুল থেকে চড়ুইভাতি করতে গিয়েছি, সেখানে গজিয়ে উঠতে লাগলো শহিদদের কবর। একসময় ওখানে যারা খেলা করেছে, তাদের গোর দেয়া হতে লাগলো একে একে।" অ্যাডর্নো কেন কবিতা লিখতে মানা করেছিলেন তা উপলব্ধি করা ঠিক কঠিন কিছু না। তবে এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা নিষ্প্রয়োজন মনে হয় যখন যন্ত্রনার উত্তরাধিকারীরা যুগে যুগে তীক্ষ্ণ অতীতকে চেঁছে শিল্পে রূপান্তর করে যেতে থাকেন অবিরাম; যখন এসথার মুজাউইয়ো শেখান কি করে 'বেঁচে বাঁচতে' হয়, যখন রাজা মাট্টার তাঁর কবিতায় চুরি যাওয়া শৈশবের জন্য কাঁদতে আহ্বান করেন, যখন তারকোভস্কি তাঁর সিনেমার মধ্য দিয়ে অশুভ প্রগতির বাস্তব তুলে ধরেন, যখন আমির আযিয জমিনের জুলুমের বিরুদ্ধে আকাশে ইনকিলাব লিখে দেন, "সাব ইয়াদ রাখা জায়েগা সাব কুছ ইয়াদ রাখা জায়েগা।"
পরিমল ভট্টাচার্যকে ধন্যবাদ, এই সংকলন আর অসম্ভব সুন্দর অনুবাদের জন্য।