"সোনার ঘন্টা" ফ্রান্সিস সিরিজের প্রথম প্রকাশিত গল্প।
দুঃসাহসী ফ্রান্সিস আর তার বন্ধুদের গল্প প্রথম "শুকতারা" পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। দেশ, কাল, মানুষ সবই ভিন্ন, তবু গভীর আগ্রহ নিয়ে কিশোর কিশোরীরা গ্রহণ করে নেয় ফ্রান্সিসের আডভেঞ্চার সমুহ।
অ্যাডভেঞ্চার, প্রতিশোধ, ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসঘাতকতা, একগুঁয়েমি, লড়াই, বড়াই- কি নেই এ বইতে! সবকিছু মিলেমিশে যথার্থ এক প্যাকেজ। কেবল ছটাকখানেক রোমান্স ছড়িয়ে দিতে পারলে অনায়সেই রাফায়েল সাবাতিনির কোনও উপন্যাস বলে চালিয়ে দেওয়া যেতে পারত। কিন্তু হায়, আজকের যুগে খুব কম লোকেই এই বই পড়ার সৎকর্ম করেছে। কেন? এই দোষের প্রথম ভাগী আমার মতে প্রকাশক। কারণ বইটির একটি আধুনিক সংস্করণ তারা বের করতে পারেনি, বাজারজাতও করতে পারেনি। সেই আদ্যিকালের প্রচ্ছদ (এটা নয়, আমি ফ্রান্সিস সমগ্রগুলোর দিকে নির্দেশ করছি), যাচ্ছেতাই কাগজ, সাধারন মানের ছাপা। সব মিলে সিরিজটির প্রতি যে অবর্ণনীয় অপমানজনক আচরন করা হয়েছে, তার আমি নিন্দা করছি। বইগুলো আরও যত্ন নিয়ে অন্য কোনও প্রকাশক ছাপালে ভাল হতো। কিন্তু সে রাস্তা সম্ভবত লেখক রাখেননি। আফসোস।
সে যাই হোক। ফ্রান্সিসের চরিত্রটি বেশ উইনিক লেগেছে আমার কাছে। যেখানে জীবন বাঁচানো কর্তব্য, সেখানে দাঁড়িয়েও সে স্বপ্ন ছাড়তে কিছুমাত্র রাজি নয়। তার বন্ধুদের চরিত্রগুলোও বেশ। আর ফ্রান্সিসের বাবা বিদেশি হলেও একেবারে বাঙালি বাবাদের মতো শাসন করতে ওস্তাদ। এই জিনিসটিও বেশ চমৎকৃত করেছে।
এছাড়া কিছু গোঁজামিল আছে, সেটা কড়া করে ধরলাম না। সব কিছুতে যুক্তির শেকল পড়াতে গেলে আনন্দ কমে যায়। তাতে আমার ঘোরতর আপত্তি আছে। সুতরাং, বইটা ভাল লেগেছে, বেশ ভাল। এবং সিরিজের বাকি বইগুলোও পড়ার ইচ্ছা রইল।
বাংলায় এডভেঞ্চার এর গল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা। লেখকের সাহিত্যগুন হয়ত বিভূতিভূষণ নয় তবে তাঁর এডভেঞ্চার এর ঘটনাপ্রবাহ আর দুর্ধর্ষ কল্পনা ইত্যাদিতে চাপা পড়ে যায়। গল্পটি এতটাই ভালো যে সিনেমা বানানোর উপযুক্ত। আমি 2001 সালে পড়েছিলাম প্রথম। ফ্রান্সিস সিরিজে 32টি গল্প আছে তার মধ্যে প্রথম চারটি গল্প অর্থাৎ সোনার ঘন্টা, হীরের পাহাড়, মুক্তোর সমুদ্র, এবং তুষারে গুপ্তধন আমার পড়া দেশ বিদেশের এডভেঞ্চার কাহিনীগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা (বাকিগুলো গতে বাঁধা, না পড়লেও চলে)। প্রকাশকের দোষে ফ্রান্সিস সমগ্র একেবারে খ্যাতি পায়নি। কিন্তু হলফ করে বলতে পারি এই চারটি কাহিনী পড়লে কাকাবাবুও ফিকে হয়ে যাবে।