Jump to ratings and reviews
Rate this book

অন্ধ মেয়েটি জ্যোৎস্না দেখার পর

Rate this book
‘অন্ধ মেয়েটি জ্যোৎস্না দেখার পর’ উপন্যাসটি শুরু হয় একটি ধর্ষণের ঘটনা দিয়ে। তারপর খুন, ধর্ষণ, ষড়যন্ত্র, প্রতিহিংসা, জিঘাংসা ইত্যাদি একাকার হয়ে মিশে গেছে কাহিনিতে। একটি জনপদের সামগ্রিক বাস্তবতাকে বিষয় করতে গিয়ে লেখক ইতিহাসের বৃহত্তর পরিপ্রেক্ষিত ঘুরে এসেছেন। ধর্মের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করে এসেছে এক শক্তি, আর এক শক্তি সেই রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখার ব্রত নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

184 pages, Hardcover

First published February 1, 2001

13 people are currently reading
299 people want to read

About the author

Imtiar Shamim

54 books116 followers
ইমতিয়ার শামীমের জন্ম ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৫ সালে, সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। আজকের কাগজে সাংবাদিকতার মাধ্যমে কর্মজীবনের শুরু নব্বই দশকের গোড়াতে। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘ডানাকাটা হিমের ভেতর’ (১৯৯৬)-এর পান্ডুলিপি পড়ে আহমদ ছফা দৈনিক বাংলাবাজারে তাঁর নিয়মিত কলামে লিখেছিলেন, ‘একদম আলাদা, নতুন। আমাদের মতো বুড়োহাবড়া লেখকদের মধ্যে যা কস্মিনকালেও ছিল না।’

ইমতিয়ার শামীম ‘শীতের জ্যোৎস্নাজ্বলা বৃষ্টিরাতে’ গল্পগ্রন্থের জন্য প্রথম আলো বর্ষসেরা বইয়ের পুরস্কার (২০১৪), সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য ২০২০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ দেশের প্রায় সকল প্রধান সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
51 (69%)
4 stars
18 (24%)
3 stars
3 (4%)
2 stars
1 (1%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 24 of 24 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,668 reviews439 followers
July 10, 2023
ইংরেজিতে যাকে বলে "criminally underrated", এ উপন্যাসটা ঠিক তাই। গ্রামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির মেয়ের ধর্ষিত হওয়া থেকে উপন্যাসের শুরু। পুরো উপন্যাস জুড়েই আছে "রাজনীতি।" যেমন- গ্রামীণ রাজনীতি,ক্ষমতার রাজনীতি, নারী পুরুষের সম্পর্কের রাজনীতি ইত্যাদি।গ্রামীণ পরিমণ্ডলের ক্ষমতা,লোভ, বিবাদ, নারীর প্রতি চিরাচরিত নেতিবাচক মনোভাবকে কেন্দ্র করে লেখক যেভাবে পুরো বাংলাদেশের নির্মম ও নিখুঁত বাস্তবতা তুলে ধরেন তা এককথায় বিস্ময়কর। বাংলাদেশ, এর গ্রাম,এর মানুষজন,এর আলো ও অন্ধকার এতো রক্তঅস্থিমজ্জাসহ জীবন্ত হয়ে হাজির হয়েছে খুব কম উপন্যাসে। নির্দ্বিধায় বলতে পারি, ইমতিয়ার শামীমের এখনো পর্যন্ত লেখা সেরা সাহিত্যকর্ম এটিই।

(৩ ডিসেম্বর, ২০২২)
Profile Image for Rifat.
501 reviews328 followers
April 11, 2021
"চৌধুরী সাহেবের মেয়ে রেপড হয়েছে।
মাধাই টাকা গুনছিল। তার হাত থেমে যায়। আবারো মনে হয় মা বলছে, বাঙালিরা মেয়েদের সম্মান দিতে জানে না।"
কে কাকে সম্মান দিতে জানে আর জানে না সে পরে ভাবা যাবে। এই উপন্যাসের শুরুটাই হয়েছে বর্ষণ আর ধর্ষণের মতো দুটি অন্তঃমিলযুক্ত শব্দ দিয়ে। অন্ধ মেয়েটি জ্যোৎস্না দেখার আগের ঘটনা শোনা যাক- প্রফেসর স্বামীটি বাইরে আছে, ঘরে রুগ্ন শাশুড়ি। সোনালী তখন ঘরের বাইরে। তখনি ওরা টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায়, শাড়ির আঁচল গুজে দেয় মুখে যাতে চিৎকার না করতে পারে। সোনালী আর চিৎকার করতে পারে নি; জ্ঞান ফেরার পরে দেখে বৃষ্টি তার সঙ্গী হয়েছে। ততক্ষণে ঘটনার কথা অনেকেই জেনে ফেলেছে। তাহের আসে; প্রফেসর স্বামীটি তখন নিজের সম্মান রক্ষায় ব্যস্ত। স্ত্রীকে আগে পাঠিয়ে দেয় তাহেরের সাথে, তালাকনামা পরে পাঠানো যাবে।

তাহের আর সোনালী হাঁটতে থাকে। আনমনে নিজের থেকে কয়েক বছরের বড় খালাকে বলে, "কারা ছিল বুবু?"
আসলেই তো, কারা ছিল! চেনা মুখই তো ছিল। খড়খড়িপুরেরই তো ওরা। স্কুল-কলেজে যেতে আসতে কত ইঙ্গিত দিয়েছে এরা! তখন কি আর তার এত সময় আছে চেয়ে দেখার; বাইরের জগতে সে অন্ধের মতো। সোনালী হঠাৎ দাঁড়িয়ে যায়, ঐ তো দেখা যাচ্ছে ওদেরই একজনকে। তাহের দৌড়ে যায় সামনে, এরপরের ঘটনার সাক্ষী শুধু সোনালী। নিঃস্তব্ধ হয়ে যাওয়া সোনালীর চোখে বৃষ্টি নামে। ততক্ষণে আকাশের মেঘ সরে গেছে। তাহের তার চুলে হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিতে থাকে- " কাঁদছো কেন খালা ? দেখো, দেখো আকাশে জ্যোৎস্না উঠেছে কেমন ! "

অন্ধ মেয়েটি জ্যোৎস্না দেখার পর!

মেয়েটি জ্যোৎস্না দেখার পর সব উন্মুক্ত হয়ে যায়। সম্ভবত পাঠকরাও মিশে যায় সবকিছুর সাথে। আমরা ক্ষমতা দেখি। দেখি ক্ষমতার বীভৎস রূপ; সাথে দেখি স্বভাব বসত গোলামীর শেকলে আটকে পড়া মূর্খ মানুষ। একটি গ্রামকে দেখি আমরা, দেখি গ্রাম্য নোংরা রাজনীতির নগ্ন রূপ। কোনো খান আর চৌধুরীদের বিবাদে একজোট হয়ে আলাদা হয় গ্রামের মানুষ। কয়েকপুরুষ ধরে চলে আসা শত্রুতা বর্তমানেও চলে। রাজনীতির মারপ্যাঁচের কারণে, রাতের অন্ধকারে গ্রামের সরল মানুষদের হিংস্র আর ঘৃণ্য রূপ আমরা দেখি। দেখি ক্ষমতার লড়াইয়ে কিংবা আক্রমণে জিততে আর পুরুষত্ব দেখাতে তারা নারীদের উপরই চড়াও হয়। এটা কি নারীর দুর্বলতা নাকি পুরুষের দুর্বল শৌর্যবীর্য প্রদর্শন তা বোঝার আগেই দিনের আলো ফুটতে শুরু করে।এই নোংরা রাজনীতির মধ্যেও স্কুলের শিক্ষিকাটিকে আমরা আলো হাতে ঘুরতে দেখি। কিন্তু সামান্য একটি আলোর উৎস কি এমন গাঢ় অন্ধকার দূর করতে পারে!? আবার আঁধার ঘনিয়ে আসে। অবশেষে আমরা দেখি নিজের শিকড়ে এসে কাদার মাঝে পড়ে থাকে সততা।


বইটার রেটিং দিতে গিয়ে রাইফেল, রোটি, আওরাত বইয়ের পাঠ প্রতিক্রিয়া লেখার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। কি আমেইজিং? বারংবার উঠে আসা রেইপের বর্ণনা??
ইমতিয়ার শামীমের লেখনি নিয়ে কিছু বলার নেই। মনে হচ্ছে ২০২১ এর ঐ পুরষ্কারটি তিনি পান নি, পুরষ্কারটিই তাকে পেয়ে ধন্য হয়েছে!


বইয়ের নাম সুন্দর, সাথে প্রচ্ছদও। জীবনানন্দের লাইন মাথায় আসে,"অনেক কমলা রঙের রোদ ছিল।" কিন্তু বইয়ের কালো রঙের অক্ষরেরা সত্যিকার অর্থেই অন্ধকার মাথায় করে লেপ্টে আছে সাদা কাগজে। তাই শখ করে পড়তে গিয়ে শকে চলে না যাওয়ার পরামর্শ রইল।


বহুকাল ধরে রাস্তা-ঘাটে প্রায় সময় দুষ্টু মানুষজন দেখা যায়। এদের হাবভাব অনেকটা নতুন নতুন বাদ্যযন্ত্র বাজাতে শেখা ধেড়েগলার শিল্পীদের মতো! বাদ্যযন্ত্র দেখলেই সুর তোলার জন্য হাত নিশ-পিশ করে বোধহয়। তাই রাস্তাঘাটে চলাফেরা করা নারীদের দেখেই বাদ্যযন্ত্র মনে করে শিল্পী মন জাগ্রত হয়ে যায়! আর অন্যদিকে, অন্য পর্যায়ের দুষ্টুর শিরোমনি হচ্ছে সেই প্রকাশনীগুলো যারা লেখকের বই রিপ্রিন্ট করে ডাকাতিয়া মূল্যে! ¬_¬

~ ১১ এপ্রিল, ২০২১
Profile Image for Amit Das.
179 reviews118 followers
February 1, 2021
ইমতিয়ার শামীমকে নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয় তা বলব না। তাঁর উপন্যাসগুলোর মধ্যে 'আমরা হেঁটেছি যারা' ও 'আমাদের চিঠিযুগ কুউউ ঝিকঝিক' সবচেয়ে বেশি আলোচিত। তবে এই দুই বইয়ের সমপর্যায়ের হওয়া সত্ত্বেও যে উপন্যাসটি নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হতে দেখি না কিংবা বলা যায় অনেকটাই আড়ালে থেকে যাচ্ছে, সেটি হলো 'অন্ধ মেয়েটি জ্যোৎস্না দেখার পর'।
আমার কাছে ইমতিয়ার শামীম এক বিস্ময়ের নাম, এক অপার মুগ্ধতার নাম। তাঁর দেখার ক্ষমতা, লেখার ক্ষমতা নিয়ে কিছু বলার নেই। যেদিন থেকে তাঁর সব লেখা পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সেদিন থেকেই উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম তাঁর সম্মোহনী গদ্যে মুগ্ধ হতে হবে বারবার। আপাতত সেই মুগ্ধতা নিয়েই থাকতে চাই কিছুটা সময়।
Profile Image for সন্ধ্যাশশী বন্ধু .
370 reviews12 followers
July 25, 2023
"অন্ধ মেয়েটি জ্যোৎস্না দেখার পর" পড়তে পড়তে যখন ১০০ পৃষ্ঠার সামান্য বেশি পেরিয়েছি,তখন আবু ইসহাকের  "সূর্য দীঘল বাড়ি" উপন্যাস টা চোখের উপর ভাসতে লাগল,যদিও দুই উপন্যাসের মূল প্রেক্ষাপটে ভিন্ন আছে। "সূর্য দীঘল বাড়ি" পড়তে পড়তে আমি শিহরিত হয়েছিলাম,এত নিখুঁত করে কেউ কিভাবে লিখতে পারে!!

পুরো গ্রামীণ আবহটা একদম নিখুঁত তুলে ধরতে পেরেছিলেন,ইসহাক সাহেব। একদম নিখুঁত। কোন ভণিতা নেই লেখায়,কোন পক্ষপাতিত্ব নেই। যা হয়,যেভাবে হয়, ঠিক তেমনটাই উঠে এসেছে লেখকের কলমে। " সূর্য দীঘল বাড়ি" উপন্যাসের রিভিউ তে অরূপদা লিখেছিলেন ,"এটা সৎ সাহিত্য "। কথাটা ভীষণ মনে ধরেছে আমার,আসলেই তাই। এজন্যই দীঘল বাড়ি বাংলা সাহিত্যের ক্লাসিক।

"অন্ধ মেয়েটি জ্যোৎস্না দেখার পর" অরূপদার ভাষায় বলি,"এটা একটা সৎ সাহিত্য "। এই উপন্যাস টা সব দিক থেকে নিখুঁত একটা লেখা। পুরো গ্রামীণ পট রেখা লেখক এত চমৎকার করে এঁকেছেন,সেখানে কিচ্ছু বাদ পড়েনি। যদিও রাজনীতি ঘেষা লেখা,তা স্বত্বেও লেখক কোন দিকে এক বিন্দুও বাদ দেননি,প্রত্যকটা উপাদান তুলে এনেছেন এবং সেগুলো সঠিক জায়গায় প্রয়োগ করেছেন। আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটা সময় কেটেছে গ্রামের আলো বাতাসে,সুতরাং গ্রামের বিষয়টা খানিক���া হলেও বুঝি,সেই নিরিখেই বুঝলাম, কতটা সৎ, নিরপেক্ষ ভাবে লেখক পুরো বিষয়টা লিখেছেন।

যে জায়গা টা আমাকে সবচে বেশি ভাবিয়েছে,সেটা হচ্ছে লেখক এত নিপুণ ভাবে কী করে গ্রামের সব ধরনের লোকের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়টা উপলব্ধি করেছেন। কত গভীর সংবেদনশীল মন একটা মানুষের মধ্যে থাকলে,সেটা সম্ভব আমি শুধু ভাবছি! স্পেলবাউন্ড।

আমরা হেঁটেছি যারা,আমাদের চিঠিযুগ কু-ঝিকঝিক, পড়ে-ই বুঝেছিলাম , ইমতিয়ার শামীম একটা রত্ন। " অন্ধ মেয়েটি জ্যোৎস্না দেখার পর " উপন্যাস টা আবার আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে,আমার ভাবনা কতটা সত্যি।
Profile Image for Ashkin Ayub.
464 reviews231 followers
July 3, 2021
পৃথিবী মানুষের হয়নি, ঈশ্বর সবার হয়নি, দেশও লেখকের হয়নি


দেশকে দেখার অনেক রকমের মানে হতে পারে। মানুষ চেনা, পোড় খাওয়া, জায়গা-বেজায়গা ঘুরে বেড়ানো। আমার কাছে দেশ দেখার মানে হলো প্রথমবার নদী দেখা, সাগর দেখা, পাহাড় দেখা, পুকুর ঘাটে বসে থাকা। প্রথমবার মফস্বলে থাকার স্মৃতি। সারারাত আন্দোলনে কাটানোর স্মৃতি। গায়ের মধ্যে প্রতিবাদের গন্ধ।

লেখক ইমতিয়ার শামীমের প্রতি আমার বরাবরই পক্ষপাতমূলক দৃষ্টি। আমার এই ক্ষণজন্মা জীবনে সম্ভবত তার বইয়েই আমি সমাজের নগ্ন রূপ খুঁজে পাই প্রবলভাবে। ‘অন্ধ মেয়েটি জ্যোৎস্না দেখার পর’ আমার পড়া চতুর্থ বই।

প্রথম নদী গড়াই। কুষ্টিয়ার শীতের ভোরের অন্ধকারে নানুর সাথে গড়াই যেতাম। ইলেক্ট্রিক তারে সারি সারি কাক ওই প্রথম দেখি। আমি তখন ছোট। এখনও কতটুকু বড় হয়েছি সেটা নিয়ে অনেক গবেষণা হয়। অদ্ভুতুড়ে ভয়ঙ্কর সুন্দর কিছু দেখার শিহরণ আমি তখনো বুঝতে শিখিনি। এখন সবটুকু মনেও পড়েনা। আমি ছোটবেলা থেকেই ক্ষমতার প্রভাব দেখেছি। টাকার জোরে কত কি হতে পারে সেটাও দেখেছি। একটা গ্রামে সামান্য জমি নিয়ে কত রকমের খেলা হয় সেটার তুলনায় একটা মেয়ের জীবন কিছুই না। অথচ আমাদের সমাজে জীবনের দামটাই বেশি হওয়ার কথা ছিলো। বাউলের দেশে সাম্যের গানের চল ছিলো তারপরেও কয়েকপুরুষ ধরে চলা শত্রুতা আমরা এখনো দেখি। এখনো মন্দির-বিহার ভাঙ্গার কথা শুনি। ক্ষমতার লড়াইয়ে পরিবার টুকরা হয়ে যেতে দেখি।

তাই দেশকে দেখা বলতে আমি যা বুঝি, দেখেছি সব এই সমাজের হাত ধরেই। এইভাবেই নিজে নিজে দেশ দেখতে শিখেছি। একা মাঠে বসে মাঠকে দেখতে শিখেছি। বৃষ্টি আসার আগে সবকিছু অন্ধকার হয়ে যায় যখন, সেই অন্ধকারের যে নিজস্ব আলো থাকে, জেনেছি। দেখেছি, মেঘের দিনে আবছা রোদ অনেকটা জ্যোৎস্না রাতের মতো দেখায়। আর মেয়েটি জ্যোৎস্না দেখার পর সব প্রকাশ হয়ে যায়। কি প্রকাশ হয়ে যায় সেই গল্প আরেকদিন। বা আদৌ বলব কি না জানিনা।

description
Profile Image for Anik Chowdhury.
177 reviews36 followers
July 10, 2023
জমি থেকে ধান কেটে ফেলার পর যখন জল থাকে না তখন জমিগুলো ফেটে যায় শিরা-উপশিরার মতো করে। দেখে মনে হবে মাটির দেহ জুড়ে শিরা-উপশিরা হয়ে ছড়িয়ে রয়েছে পুরো প্রান্তর জুড়ে। জমিতে পড়ে থাকে ধান গাছের শুকিয়ে যাওয়া গোড়ালি। খুব ভালোভাবে আরেকটু কাছ থেকে নিরীক্ষণ করলে দেখা যাবে ছোট ছোট সবুজ তৃণ সেইসব ধানের গোড়ালির পাশ দিয়ে অঙ্কুরিত হয়ে আছে। হালকা বাতাসে মৃদুমন্দ নৃত্য করতে থাকে তারা। আর এর মাঝে একদিন আকাশ ডাক দেয় বৃষ্টির, বৃষ্টির সেই জলে অবগাহন হতে হতে নিজের মৃত্যুর পূর্ব প্রস্তুতি নেয় সেইসব তৃন। আর মাটির বুকে সমস্ত শিরা-উপশিরা জুড়ে বইতে থাকে বৃষ্টির জল। আর দিঘির টলমলে জল তখন অশান্ত হয়ে উঠবে। দেখে মনে হবে অসংখ্য সুঁই অনবরত ঝড়ে চলছে দিঘির উপর। সদ্য বৃষ্টিস্নাত কোন হাঁস সাঁতার কাটতে হয়তো ঝাপ দেবে সেই জলে। এই ছন্দপতনে আমাদের আবহমান দৃশ্যের দিক বদল হবে।

একটু পুরানো গ্রাম বাংলা। যার বুক জুড়ে এখনো অসংখ্য ঘটনা নির্বাহিত হয়। সেই টুকরোর নাম খড়খড়িপুর। যার নিস্তরঙ্গহীনতায় ঢেউ তোলে রইস চৌধুরী কিংবা ওবায়েদ খান। গল্পের শুরু সোনালীকে দিয়ে যার হাত ধরে আমরা প্রবেশ করি প্রবাহমান সেই ঢেউয়ের আরো গভীরে। আবিষ্কার করি পুরানো কিন্তু আমাদের কাছে নতুন এক বাংলাদেশকে। সোনালী কিংবা মিলিতা একই সূত্রে বাঁধা হলেও গল্প আমাদের অন্য বাকে নিয়ে চলেন। যে বাঁকে শুকুরালী বসে থাকেন নির্মোহে। কিংবা কাজেমের মায়ের মতো বৃদ্ধা এসে এই দ্বার ঐ দ্বার করতে থাকেন আমাদের চোখে দেখিয়ে দিতে যে, ভগ্ন এবং বয়সের ভারে ন্যুব্জ সেই বৃদ্ধার শতশত বলিরেখা ভেদ করে উঠে আসা ঘোলাটে চোখকে আমাদের সামনে মেলে ধরতে। তার চোখ দিয়ে এক দিগন্ত উন্মোচন করতে। বস্তুত এখানে সবার চোখ দিয়েই নানান দিগন্ত উন্মোচন হয়। গ্রামীণ রাজনীতির মারপ্যাঁচ দেখে দেখে সেই দিগন্তে দেখা দেয় আরেক নতুন আলো। খেটে খাওয়া মানুষজনের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে গজিয়ে ওঠা নতুন কোন কেউ এসে হাত লাগায় সেই পুরানো শতছিন্ন রজ্জুতে। নিজের লোকালয় ছেড়ে বনের ভিতর থেকে বেড়িয়ে আসে গারো সম্প্রদায়ের দূরদর্শী মাধাই। এসে কূল হারায়, এখানে নেই মা বোনের ইজ্জত। এইখানে মেয়েরা নিজেরা আবদ্ধ থাকে নিজেদের খোলসের ভিতর। কিন্তু তার সম্প্রদায়ে তার ভিন্ন চরিত্র। নারীদের অবাধ স্বাধীনতা সেখানে।

"কাঁদছো কেন খালা? দেখো, দেখো আকাশে জ্যোৎস্না উঠেছে কেমন!
সোনালী ঘোলাটে চোখে আকাশে তাকায়, আকাশে তাকিয়ে জ্যোৎস্না দেখতে থাকে । কিংবা সে জ্যোৎস্না দেখে না, দেখে অন্ধকারই, কিন্তু তাহেরের কথা দেওয়ালীর রাতের মত এত অজস্র মোমবাতি জ্বালায় যে মনে হয় আকাশ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে জ্যোৎস্নাধারা।"

ইমতিয়ার শামীমের লেখা উপন্যাস এর আগে তিনটে পড়েছি। সবশেষে এই লেখাটি পড়ার পর মনে হলো, আগের সব লেখাকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। এত অনবদ্য! হ্যাঁ, তার কঠিন গদ্য প্রথমদিকে হয়তো একটু বিহ্বল করে দিতে পারে। সেই রেশ কাটিয়ে উঠলে হাতের কাছে ধরা দেয় অসাধারণ উপন্যাস। যার রেশ থেকে যাবে বহু দিন পর্যন্ত। কিছু জিনিসের রেশ হয়তো আমাদের উন্মুখ করে তোলে আরো কিছুর জন্যে। এই বইটি তেমনই। পড়তে পড়তে হারিয়ে যেতে হয় খড়খড়িপুর নামের সেই অচেনা গ্রামের আনাচকানাচে। প্রতিটি মানুষের রূপ যেন এক অনন্য ছাঁচে গড়ে তুলেছেন লেখক। অনেক চরিত্র, অনেক ঘটনাপ্রবাহ তবে তাল ধরে এগিয়ে গেলেই সুলুক সন্ধান মেলে এমন উপন্যাসের পাঠের সার্থকতার।

"আকাশ বেয়ে নেমে আসা জ্যোৎস্না তাকে গ্রাস করতে থাকে। সে বার বার পথে হোঁচট খেতে থাকে, মনে হয় সে অন্ধ হয়ে গেছে, অন্ধত্বের গ্লানিতে সে নিজেকে অবগাহিত করেছে আজ কাউকে জ্যোৎস্না দেখাতে গিয়ে, জ্যোৎস্নার্ত অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে সে পথ হাতড়ে বেড়াচ্ছে উন্মূল তৃঞ্চা নিয়ে । "

এই বই পড়তে পড়তে মনে হতে থাকে, শেষ কবে গ্রামে গিয়েছিলাম তার কথা। তবে এমন সুন্দর ভাবে নিশ্চয়ই আত্মস্থ করতে পারিনি গ্রামের মানুষজনকে, সেই গ্রাম ঘিরে গড়ে ওঠা রাজনীতিকে কিংবা গ্রামের সৌন্দর্যকে। এইখানেই সকল তৃষ্ণা নিবারণ করে দিয়ে লেখক এক অতিঘোর লাগা উপন্যাসের সৃষ্টি করে তাক লাগিয়ে দেন তার পাঠকদের। এই তো তার হেঁয়ালিপূর্ণ স্বার্থকতা।
Profile Image for Israt Zaman Disha.
194 reviews623 followers
April 19, 2021
গল্পের শুরু একটা ধর্ষণ দিয়ে। মনে হবে এই ঘটনাকে ঘিরেই পুরা উপন্যাস সাজানো। কিন্তু সকল অঘটন আসলে এখান থেকেই শুরু। অন্ধ মেয়েটির জ্যোৎস্না দেখা ছিল ডোমিনোসে��� প্রথম টাইলে ধাক্কা মারার মত। এরপর একের পর পরিচয় পাওয়া যায় গ্রাম্য রাজনীতি, দুর্নীতি, বংশ পরম্পরায় পাওয়া শত্রুতা, অভাব, কুসংস্কার, ফতোয়া। যদিও বেশ কয়েক বছর আগেই লেখা তবুও বর্তমান সময়ের সাথেও সঙ্গতি পাওয়া যাবে বলেই আমার মনে হয়।

ইমতিয়ার শামীমের বই অনেকদিন পর হাতে নিলাম। শুরুতে বুঝতে পারিনি। মনে হয়েছে গল্পটা যেদিকে যাওয়ার কথা সেদিকে যাচ্ছে না। আস্তে আস্তে গুছিয়ে আ��ে। গল্পের শেষ ভালো হবে না জানতাম। তবুও হয়ত লেখনীর জোরেই লেখক এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারেন এই ভয়াবহতায়। না তবে এটা শেষ না। গল্পের শেষে কারো কারো জীবনে শুরু হয় নতুন অধ্যায়, কেউ হয়ত খুঁজে নিতে পারে জীবনের নতুন লক্ষ্য। সে হিসাবে হয়ত এটা কিছুটা সুখকর সমাপ্তি। কিন্তু এর জন্য কাউকে দিতে হয় চরম মূল্য আবার অন্ধ মেয়েটিকে জ্যোৎস্না দেখাতে গিয়ে কাউকে হতে হয় অন্ধ।
Profile Image for Mahmudur Rahman.
Author 13 books356 followers
July 10, 2020
একটি ধর্ষণের ঘটনা থেকে যে গল্পের শুরু হয় তা একটু একটু করে এগিয়ে গিয়ে আমাদের দেখায় গ্রাম্য রাজনীতি, মানুষের অজ্ঞতা, বেচে থাকার সংগ্রামের স্বরূপ। ইমতিয়ার শামিম আমাদের নিচে যান আমাদের গ্রামগুলোর সত্ত্বার কাছে। তার গল্প বলা আর ভাষা এমন যে আমরা এ বই পড়তে পড়তে সোনালীকে অনুভব করি, কখনও রইস চৌধুরীর মতো করে চিন্তা করি। আমরা দেখি গ্রাম্য রাজনীতির নোংরা প্যাঁচ। সেখানেই আবার পাকের পাশে মিলিতার সততা ফুটে থাকে। তাহেরের ক্রমে পাগল হওয়া দেখতে দেখতে আমরা বুঝতে পারি শুকুরালীর পৈশাচিকতার মধ্যে একটা খাঁটি মানুষ আছে। আর সেই কারণেই কিনা জানি না, মিলিতার ধর্ষিত হওয়া এবং হত্যার মধ্যে দিয়ে সে শুদ্ধতা সোনালীর মধ্য দিয়ে ফিরে আসে। ইমতিয়ার শামিম মানুষকে নিরাশার মধ্যে আশা দিয়ে রাখেন আরেকটা গল্পের অপেক্ষায়।
Profile Image for Habib Rahman.
78 reviews1 follower
February 22, 2025
#পাঠচক্র_রিভিউয়ার্স

খড়খড়িপুর গ্রামে দুটো সম্ভ্রান্ত পরিবার বাস করে। খান পরিবার আর চৌধুরী পরিবার। দুটো পরিবারের মাঝে বেশ কয়েক প্রজন্ম ধরে সাপেনেউলে সম্পর্ক। পেশায় কৃষক বলে খানদেরকে অবজ্ঞা করে পা ফাটা নামে ডাকা হয় চৌধুরীদের দ্বারা। আর পেশায় তাঁতি বলে চৌধুরীদের কপালে জুটেছে জোলা নাম। এ দু পরিবারকে কেন্দ্র করেই খড়খড়িপুর গ্রামে অন্য সাধারণ মানুষের বসবাস।

গল্পের শুরু হয় যখন খানদের ছেলে আইয়ুব কর্তৃক ধর্ষিত হয় চৌধুরীদের মেয়ে সোনালী। তা সে হতেই পারে, এ ঘটনার এত বিশেষত্ব কি আছে৷ দেশে তখন অহরহই ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটতো, এখনও ঘটছে। হয়তো গ্রামের অন্য সাধারণ কোনো মেয়ে হলে এ ঘটনা বিশেষত্বহীন ই থেকে যেত। ধর্ষিতার প্রথম চিন্তা ই থাকত কীভাবে এ ঘটনা ধামাচাপা দেয়া যায়। কেননা, সমাজ ধর্ষককে শাস্তি দিতে না পারুক, ধর্ষিতাকে শাস্তি দেয়ার ব্যাপারে বেশ পটু।

সোনালী ধর্ষিতা হবার পরিপ্রেক্ষিতেই চেইন রিয়েকশনের মত একটা ঘটনার পর একটা ঘটনা সংঘটিত হতে থাকে গ্রামে। আর গল্প প্রবেশ করে গ্রামীণ সমাজের আরো অভ্যন্তরে। যেখানে সবসময় শান্তির নীড় হিসেবে গণ্য হওয়া গ্রামের গ্রাম্য রাজনীতি, ক্ষমতার লড়াই,প্রতিশোধপরায়ণতা, হানাহানি, মারামারির মত কুৎসিত দিকগুলো ফুটে উঠে।

ইমতিয়ার শামীমের লেখা এ প্রথম পড়া হলো। শুরুতেই যে ব্যাপারটা লক্ষ্য করলাম তা হচ্ছে বেজায় কঠিন ভাষা! একেকটা লাইন যেন শুরু হলে আর শেষ হতে চায় না! গল্প যত ডালপালা মেলেছে এ ব্যাপারটা তত কষ্টকর করে তুলছিল বই পড়ার ক্ষেত্রে। তবে একটা সময় গিয়ে লেখকের লেখনীর সাথে পরিচিত হয়ে গেলে তেমন একটা প্রভাব ফেলে না।

গল্প যত এগিয়েছে তত যেন বইয়ের গভীরে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে গিয়েছি। বিশেষ করে শেষের ২০-৩০ পেজ যেন চুম্বকের মত আটকে রেখেছিল। বইয়ের হৃদয় বিদারক সমাপ্তি বইটিকে আমার প্রিয় বইগুলোর একটিতে পরিণত করেছে।

বইয়ের একটা পেজ ওলট-পালট হয়ে ছিল। এ ব্যাপারটা পরবর্তী সংস্করণে ঠিক করে নিলেই হবে। তাছাড়া আর কোনো অভিযোগ নেই প্রোডাকশন নিয়ে।

অন্ধ মেয়েটি জ্যোৎস্না দেখার পর
ইমতিয়ার শামীম
ব্যক্তিগত রেটিং : ৪.৫/৫
Profile Image for Kripasindhu  Joy.
555 reviews
October 23, 2025
এই উপন্যাসে, ইমতিয়ার শামীম নানাভাবে তার পাঠকদের আঘাত করেন। চিন্তায়, চেতনায়।

যদিও আকারে এটি খুব বেশি বড় নয়, কিন্তু, সামগ্রিকভাবে এটি এমন এক রচনা যার প্রভাব থেকে বের হয়ে আসা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
Profile Image for Arifur Rahman Nayeem.
208 reviews108 followers
August 6, 2023
মানের বিচারে বর্তমানে ইমতিয়ার শামীমের চেয়ে গ্রামীণ পটভূমিকার সাহিত্য রচনায় কেউ কি এগিয়ে আছেন আমাদের দেশে? আমার উত্তর হবে, ‘না’।

আমাদের সাহিত্যের প্রধান কাজগুলোর অধিকাংশের পটভূমি গ্রাম। সমকালীন অনেকেই লিখছেন গ্রাম নিয়ে। কিন্তু এখনকার গ্রামীণ সাহিত্যের কয়টি বাস্তবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ? খুব কম। গ্রামকে নিখুঁতভাবে সাহিত্যে আনার কাজটা কঠিন। অত্যন্ত সুলেখকও এখানে পুরোপুরি সফল হন না। লেখকের সঙ্গে গ্রামের দূরত্ব ও বিচ্ছিন্নতাই বোধকরি এর প্রধান কারণ। গ্রামের সঙ্গে দূর দূর তাক কোনো সম্পর্ক না থাকলে, অল্পদিনের গ্রামবাস বা দু-চারটি ঝটিকা সফরের অভিজ্ঞতা সম্বল করে লিখলে তাতে ফাঁক রয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক নয় কি? সময় গড়িয়েছে, গ্রাম বদলেছে, কিন্তু গ্রামকে যেন কেউ কেউ হুবহু তাদের পূর্বসূরি সাহিত্যিকদের সাহিত্য থেকেই তুলে নিয়ে আসছেন। নিখুঁত, বাস্তব ও পরিবর্তনশীল গ্রামকে লেখায় আনতে সিদ্ধহস্ত অতি অল্পজনের একজন ইমতিয়ার শামীম। তাঁর গ্রামকেন্দ্রিক লেখাগুলো পড়লে বোঝা যায়, এগুলো স্বল্প অভিজ্ঞতা আর শুধু কল্পনাশক্তির উপর ভর দিয়ে দাঁড়ায়নি। গ্রাম নিয়ে ইমতিয়ার শামীমের পড়াশোনাও ব্যাপক, প্রমাণ পেয়েছি ফেসবুকে তাঁর সঙ্গে যুক্ত থাকায়।

গ্রামের বাস্তবচিত্র আঁকতে ইমতিয়ার শামীমের নিপুণতার প্রধান সাক্ষ্য বহন করে ‘অন্ধ মেয়েটি জ্যোৎস্না দেখার পর’। একটি গ্রামীণ জনপদ, সেটির ইতিহাস, রাজনীতি এবং সেখানকার মানুষের অজ্ঞতা, ক্ষমতা, লোভ, ষড়যন্ত্র, হিংস্রতার বিস্তৃত ও ভয়াবহ আখ্যান এটি। এতে বর্ণিত গ্রামকে বাংলাদেশের যে-কোনো গ্রামের সঙ্গে অদলবদল করানো যায় অনায়াসে। ইমতিয়ার শামীম একটি গ্রামের গল্প বলতে গিয়ে প্রকৃতপক্ষে পুরো বাংলাদেশের কথাই বলেছেন। লেখকের নিজস্ব আঙ্গিক, শক্তিশালী গদ্যভাষা ও স্বভাবসিদ্ধ তীব্র শ্লেষ উপন্যাসটিকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।

খুব খুশি হতাম বইটি যদি ‘আমাদের চিঠিযুগ কুউউ ঝিকঝিক’ ও ‘আমরা হেঁটেছি যারা’র সমান পরিচিতি পেত। তবে আমি আশাবাদী, ‘অন্ধ মেয়েটি জ্যোৎস্না দেখার পর’ নিজের পাঠক খুঁজে পাবে। এখন একেবারে পাচ্ছে না, এমন নয়। আমি যখন বছর তিনেক আগে পড়ি তখন একটি মাত্র রেটিং ছিল, আর রিভিউ ছিল শূন্য।
Profile Image for Momin আহমেদ .
112 reviews49 followers
May 26, 2022
ইমতিয়ার শামিম এর যে বই গুলো পড়লাম তার মধ্যে এটা সবচেয়ে ভালো বই....
Profile Image for Habiba♡.
352 reviews22 followers
February 25, 2025
4.5 Star

যে ঘটনা দিয়ে শুরু সে ঘটনার পরিক্রমায় এসে শেষ। কিচ্ছু বদলাইনি, কিচ্ছু শোধরাইনি। সমাজ, তাদের সাদাকালো চিন্তাধারা, তাদের দৃষ্টতা। এভাবে কালের চক্রের চক্রাকার হতেই থাকবে, ধর্ষক বদলায় শ্রেফ। আমাদের কানে তালা পড়েছে, চোখ অন্ধ হয়েছে, মুখে দেয়া হয়েছে শাড়ির আঁচল লেপ্টে। কিন্ত সে অন্ধ মেয়েটি জ্যোৎস্না দেখেছিলো ঠিক কিন্ত তার মৃত্যুর পরে। মৃত্যুই মেয়ে মানুষের একমাত্র স্বাধীনতা।
Profile Image for Muntasir Dhip.
165 reviews3 followers
May 28, 2024
বইটা আমাকে এতো বেশি পরিমাণে মুগ্ধ করেছে তা আর বলার ভাষা রাখে না। এ বই নিয়ে কিছু বলতে পারবো না কিংবা বলতে চাই না। শুধু এইটুকু বলবো যাঁরা ইমতিয়ার শামীমের লেখা পড়েছেন কিংবা পড়েন নি তারা এ বইটা অবশ্যই পড়বেন। চিঠিযুগ, আমরা হেঁটেছি যাঁরা পড়ার পর এ বইটাও হয়ে ওঠেছে আমার কাছে সেরাদের সেরা।
Profile Image for Saima  Taher  Shovon.
528 reviews198 followers
February 10, 2023
One thing for sure-i will never be the same after reading this. They ask how much a book can affect a person? The answer is a lot.
Profile Image for Mahrin Ferdous.
Author 8 books209 followers
January 20, 2025
4.5
বইয়ের শুরু ও শেষ একই বৃত্তের অংশ—সোনালীর দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা থেকে মিলিতার নির্মম পরিণতি পর্যন্ত। আশির দশকের গ্রামীণ জীবনের টানাপোড়েন, রাজনীতির পঙ্কিলতা, এবং মানব মনের অন্তর্গত অন্ধকার উন্মোচনই এই গল্পের কেন্দ্রবিন্দু। বিষণ্নতার ছোঁয়ায় মোড়ানো ভাষায় অজস্র মানুষের গল্প দিয়ে ইমতিয়ার শামীম নির্মাণ করেছেন একটি অস্বস্তিকর অথচ অনবদ্য আখ্যান।
Profile Image for Uzzal Orpheus.
62 reviews7 followers
November 9, 2022
ইমতিয়ার শামীমের 'আমরা হেঁটেছি যারা" যেদিন পড়েছিলাম সেদিন ই ঠিক করেছিলাম এই লেখকের সব পড়ে ফেলতে হবে। সেই সূত্র ধরেই পড়লাম এই বইটি। হতাশ তো হয় ই নি বরং আরো আশাবাদী হয়েছি লেখকের বাকী বই গুলো নিয়ে। সুখে বিহবল হয়ে আছি এটা ভেবে যে ইমতিয়ার শামীমের অনেক গুলা বই পড়া এখনো বাকী।
Profile Image for Ismat Sumaiya.
29 reviews32 followers
July 8, 2021
খড়খড়িপুর গ্রামে চৌধুরী এবং খান - দের মধ্যে পারিবারিক সুত্রে শত্রুতা ছিল।কেননা তাদের কওম আলাদা,বাহামও আলাদা।চৌধুরীরা ছিল জোলা অর্থাৎ তাঁতি আর এদিকে খান রা হলো পাওফাটা অর্থাৎ কৃষক।রইস চৌধুরীর মেয়ে সোনালীকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় ওবায়েদ খান এর ছেলে আইয়ুব খান। কিন্তু সোনালী তার প্রেমের প্রস্তাব উপেক্ষা করেমন দিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে সোনালী পড়ালেখায় খুব ভাল।তার বাবা,মা,ভাইরা সব চেয়েছিল সে যাতে পড়ালেখা করে শিক্ষিত হয়।ইন্টারমিডিয়েট শেষে পড়াশোনা চলাকালীন সময়ে তার বিয়ে ঠিক হয়ে যায় প্রফেসরের সাথে।আইয়ুব মনের দুঃখে এবং ক্ষোভে ঠিক করে সে সোনালীকে ধর্ষণ করবে।তাছাড়া আইয়ুব ঐকাজে খুব দক্ষ ছিল।সে দিনের পর দিন পরিকল্পনা করতে থাকে কিভাবে সোনালীকে ধর্ষণ করে সে তার পুরুষত্ব বজায় রাখতে পারে এবং একদিন সে সোনালীকে ধর্ষণ করে যেদিন প্রফেসর বাড়িতে ছিল না,প্রফেসরের ভাই সিনেমা দেখতে গেল।
.
এই ধর্ষণকে ঘিরে গ্রাম্য রাজনীতি, ক্ষমতাবানদের স্বার্থ হাসিল,একের পর এক কুটনীতি হয়ে যায়।রইস চৌধুরী অবধি বেমালুম চেপে যায় তার মেয়ের রেপড হওয়ার ঘটনা তার ইমেজ নষ্ট হওয়ার ভয়ে।ওবায়েদ খানের ছেলে আইয়ুব খুন হওয়ার পরও তার ক্ষমতা,চৌধুরীদের প্রতি বিদ্বেষটাকেই প্রাধান্য দেয়! ভিলেজ পলিটিক্সের জাঁতাকলে পরে মিলিতা অবদি ধর্ষিতা হয়ে প্রাণ দিল।
.
বইটি পড়তে পড়তে আমার মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিলো আমি বোধহয় সোনালী আবার মনে হচ্ছিলো আমি বোধহয় মিলিতা। আমি হয়তো ঐ জ্যোৎস্না রাতে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছি ঐ মানুষরূপী জানোয়ারগুলো থেকে যা সোনালী কিংবা মিলিতা পেরে উঠেনি।
আবার মনে হয়েছে আমি বোধহয় শুকুরালী। যার এতটুকু কৃতজ্ঞতা থেকে সে মিলিতাকে রক্ষা করেছিল ঐ ভিলেজ পলিটিশিয়ান্দের হাত থেকে।
.
বইটি আমার জন্মদিনে আম্মু উপহার দিয়েছে। বছরটা শুরু করি এত সুন্দর একটা বই পড়ে।ইমতিয়ার শামীমের লেখা মানেই এক ধরনের ঘোর।ইচ্ছে করে না ঐ ঘোর থেকে বেরুতে।আবার মনে হয় আমরা এই কোন সমাজে বাস করছি? এর থেকে কি কখনো নিষ্পত্তি পাব না?
Profile Image for Asif Khan Ullash.
146 reviews8 followers
August 14, 2024
বইয়ের শুরু আর শেষ একই বিন্দুতে। সোনালীর ধর্ষণ থেকে শুরু হয়ে মিলিতার হত্যা পর্যন্ত ঘুরে এসে বিন্দুদ্বয় যে বৃত্ত রচনা করে তাতে স্থান পেয়েছে আশির দশকের গ্রামের নিখাদ চিত্র, গ্রামের নোংরা রাজনীতি ও স্বার্থপরতা।

প্রকৃতি ও সিচুয়েশন বর্ণনার চেয়ে ইমতিয়ার শামীমের লেখায় বরাবরই মানুষের বর্ণনা স্থান পায় বেশি। এই বইতেও রইস চৌধুরী, শুকুরালী, ওবায়েদ খান দের মানস লেখক উন্মোচন করেছেন পেঁয়াজের মত স্তরে স্তরে। চৌধুরী, খানদের পঙ্কিলতার মধ্যে মিলিতার পদ্মকলি হয়ে ফোঁটার মাঝেও লেখক তার চিরাচরিত বিষন্নতার ছোঁয়া রেখে দেন। এভাবেই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চাপা অস্বস্তির মধ্যে রেখেই ইমতিয়ার শামীম তার গল্প বলে যান দৃ‌‍ঢ় ভাষায়, স্বভাবসুলভ মনোমুগ্ধকর লেখনীর মাধ্যমে।
Profile Image for Fareya Rafiq.
75 reviews1 follower
April 2, 2023
ইমতিয়ার শামীমের সাথে পরিচয় "আমাদের চিঠিযুগ কুউউউ ঝিকঝিক" বইটা দিয়ে। প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ে যাওয়ার মতো করে বইটা শেষ হবার পর ভেবেছিলাম এই লেখকের বাকি সব বই পড়ে নিবো। তারপর অনাকাঙ্ক্ষিতভাবেই উপহার পেলাম এই বইটা। প্রিয় হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো একটু একটু করে চেখে দেখতে থাকলাম এক পাতা-দু'পাতা।
কিন্তু ধীরে ধীরে হতাশ হলাম। না পেলাম বইয়ের গল্পের সাথে নামের মিল, না পেলাম কোনো গূঢ় আবেগ। কেবলই গ্রাম্য রাজনৈতিক কোন্দালের কেচ্ছা। হিংসা-প্রতিহিংসায় ভরা পাতাগুলো উলটে যেতে যেতে ইচ্ছে হচ্ছিল রেখে দেই। কোথা থেকে কাহিনী কোথায় যাচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।
তবুও মনে হচ্ছিল, লেখক হয়তো কোথাও চমক জমিয়ে রেখেছেন।
বলা বাহুল্য,শেষ বেলায় লেখক ইচ্ছা পুরণ করে দিয়েছেন। প্রিয় কোনো খাবার শেষ হয়ে যাবার রেশের মতো করে শেষ পাতার রেশ মনে ধরে গেল।
#অন্ধ_মেয়েটি_জ্যোৎস্না_দেখার_পর
#ইমতিয়ার_শামীম
#মাওলা_ব্রাদার্স
Profile Image for Ronel Barua.
51 reviews6 followers
November 23, 2025
মানুষের স্বপ্ন যতই উজ্জ্বল হোক, বাস্তবের অন্ধকার কখনও কখনও তাকে গ্রাস করতেই পারে। লেখক সেই অন্ধকারকে ভয় বা হতাশা নয়, বরং এক গভীর মানবিক আখ্যানের ভেতর থেকে দেখেছেন।
গ্রামীণ জীবনের ভাষা, লোকাচার, সম্পর্কের টানাপড়েন সব মিলিয়ে এই বইটি হয়ে উঠেছে এক অনবদ্য, সমৃদ্ধ ও সংবেদনশীল সাহিত্যকর্ম। মানুষের জীবন, তার আলো–অন্ধকার, উন্মেষ–বিলীনতা—সবকিছুকে এমনভাবে গল্পে বোনা যায়, তা না পড়লে বিশ্বাস করা কঠিন।


২৪/১১/২০২৫
Profile Image for Rihan Hossain.
109 reviews2 followers
October 26, 2023
ঘাত প্রতিঘাতের এক যুদ্ধ আমার চিন্তাভাবনাকে পুরোপুরি নাড়িয়ে দিয়েছে।
এতদিন ইমতিয়ার শামীমের লেখা পড়িনি বলে আফসোস হচ্ছে।
Displaying 1 - 24 of 24 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.