কিপ্টে আর বোকাসোকা চেহারার একেনবাবু যে গোয়েন্দা এটা ভাবাই মুশকিল। একটু ন্যালা ক্যাবলা টাইপের ভদ্রলোক। সেই তিনি আবার কলকাতা পুলিশ থেকে অ্যামেরিকায় ট্রেইনিং নিতে গিয়ে, ওখানেও গোয়েন্দাগিরি করে টু-পাইস কামান। একেনবাবু থাকেন বাপি এবং প্রমথর সঙ্গে। বাপি নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে পড়ান, প্রমথ পিএইচ.ডি করছেন। যোগ্য ব্যাচেলর কিন্তু বিয়ে করার জন্য কোনো চাড় নেই । বাপিবাবু লিখে রাখেন একেন বাবুর কীর্তি কলাপ। একেনবাবু বিবাহিত কিন্তু “পরিবার” কলকাতায় থাকেন । কবে কোলকাতা থেকে অ্যামেরিকা নিয়ে আসবেন – এই প্রশ্নের উত্তরে একেনবাবু ভদ্রলোকের এক কথার মত বলেন – নেক্সট ইয়ার। যদিও সেই নেক্সট ইয়ার কবে আসবে – ভগা ন জানন্তি। যাই হোক– একেনবাবু সকলকেই স্যার বা ম্যাডাম বলেন আর আপনি ছাড়া কথা বলেন না। অবশ্য বিবাহিতা স্ত্রীকে কি বলে সম্বোধন করেন, সেটা কেউ জানেন না। ও ! একটা কথা বলা হয় নি – একেনগিন্নি উবাচ , একেনবাবু ঘোড়ার ডিমের রিসার্চ করেন। একেনবাবুর পাঁচটা গোয়েন্দা গল্প নিয়ে এই বই।
সূচিপত্র – ১. ম্যানহাটনে মুনস্টোন ২. ম্যানহাটনে ম্যানহান্ট ৩. ঢাকা রহস্য উন্মোচিত ৪. একেনবাবু ও কেয়াদিদি ৫. সংখ্যার সংকেত
একেনবাবুর নাম প্রথম শুনি হৈ চৈ এ। ক্যান জানি এতো দিন এই সিরিজ দেখার ইচ্ছাও হয়নি। কিন্তু কিছুদিন আগে 'দ্য একেন' মুভি মুক্তি পাওয়ার পর হৈ চৈ এর মুভির পোস্টারে দেখি একেনরূপী অনির্বাণ চক্রবর্তীর সাথে আছে আমার বর্তমান ক্রাশ সুহার্ত। ^_^ একেন দেখায় আমাকে আর ঠেকায় কে?
বই আর মুভির মাঝে তুলনা করলে বই-ই বরং বেশি ভালো। মুভিতে যাও একটু আধটু একেন বাবুকে ফুটায় তুলতে পারসে বাট ওয়েব সিরিজটাতে তাকে বেশি লেইম বানায় ফেলসে। শুধু লেইম না, ভালোমতোই লেইম বানাইসে। বইয়ের একেনবাবু অগোছালো, ল্যাদব্যাদে টাইপ হলেও তার দৃষ্টি তীক্ষ্ণ, সবদিকেই সমান নজর। আর ওয়েব সিরিজে তারে পুরাই ইয়ে টাইপ বানায় ফেলসে। ভাল্লাগেনাই। একেনবাবু মজা করে কথা বলেন সেটা ঠিক আছে কিন্তু মজা করে কথা বলা আর ভাঁড়ামির মধ্যে যে সূক্ষ্ম একটা পার্থক্য আছে সেটা বোধ হয় ওয়েব সিরিজের ডিরেক্টর ধরতে পারেন নাই। যার কারণে গোলযোগ :3 লাইট রিডিং হিসেবে একেন বাবু বেশ। সিরিজের বাকি গল্পগুলো পড়বার আশা রাখি।
একেনবাবু সিরিজের প্রতি আমার প্রত্যাশা ছিলো শূন্য। ভেবেছিলাম সমগ্রের প্রথম উপন্যাসটা পড়েই ক্ষান্ত দেবো।দেখতে দেখতে পুরোটা পড়া হয়ে গেলো।গোয়েন্দাপ্রবর একেন্দ্র বাবু আর তার দুই সহকারী বাপি আর প্রমথকে নিয়ে গল্প।গোয়েন্দা বা তার সহকারীরা কেউই বাংলা সাহিত্যের অন্যান্য বিখ্যাত গোয়েন্দা গল্পের চরিত্রদের অনুকৃতি নয় যা বেশ স্বস্তিদায়ক ও নতুনত্বের দাবিদার।কাহিনিগুলোয় "কে অপরাধ করেছে" অংশটা সাদামাটা হলেও "কীভাবে অপরাধ করেছে" অংশটা বেশ আকর্ষণীয়। অপরাধের ধরন ও অপরাধী ধরার কৌশলগুলো চমকপ্রদ।সবচেয়ে ভালো লেগেছে "ম্যানহাটানে মুনস্টোন" ও "ম্যানহাটানে ম্যানহান্ট।"তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে দুর্বল গল্প হচ্ছে "একেনবাবু ও কেয়াদিদি।" একেনবাবু,বাপি,প্রমথ সবার জন্যই মায়া জন্মে গেছে।যার অর্থ হচ্ছে,সিরিজের পরবর্তী বইগুলো যেমনই হোক না কেন,অনেকটা বাধ্য হয়েই পড়ে যেতে হবে।
কৌশিক মজুমদারের 'হোমসনামা' পড়ার পরে মাথায় খেয়াল চেপেছিল যে, বাংলা সাহিত্যে যত গোয়েন্দা আছে, সব না হলেও অন্তত সিরিজ হয়েছে এমন গোয়েন্দাদের একটা করে হলেও গল্প বা উপন্যাস পড়ে দেখবো। সেইমত খুঁজতে গিয়ে দেখি, কাজটা অসম্ভব না হলেও বইপত্র লেখার ইচ্ছা না থাকলে খুবই কঠিন। বাংলার আনাচে-কানাচে যে এত গোয়েন্দা ছড়িয়ে আছে কে জানতো! একটা ব্যাপার ভাল লাগলো যে, তথাকথিত সিরিয়াস লেখকরা গোয়েন্দা বা রহস্য গল্প নিয়ে নাক সিঁটকালেও অনেক বড় বড় লেখকই দু'য়েকটা রহস্য কাহিনী লেখার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু খারাপ ব্যাপারটা হলো, সেগুলোর বেশিরভাগই জাতে ওঠেনি, যেটা প্রমাণ করে যে, সিরিয়াস (?) লেখক হলেই রহস্য কাহিনী লেখা যায় না, সেটার জন্য আলাদা চিন্তাধারা লাগে। কাজেই মোটামুটি ৩০টার মত সিরিজ নামিয়ে যখন পড়া শুরু করলাম, বেশিরভাগ সিরিজই এতটাই হাস্যকর যে, এক বা দু'টোর বেশি গল্প পড়তেই পারলাম না। মানি যে, ফেলুদা বা ব্যোমকেশ প্রতিদিন সৃষ্টি হয় না, কিন্তু তাই বলে কাকাবাবু-অর্জুন-গোগোল-কর্নেল এরকম কিছুও হবে না? একমাত্র শীর্ষেন্দু'র শবর-ই জাতে উঠতে পেরেছে, বাকিগুলো নিয়ে সাহিত্যের ছাত্ররা থিসিস করতে পারে, পাঠকের না পড়লেও বিশেষ ক্ষতি নেই।
এগুলো পড়তে পড়তেই সুজন দাশগুপ্তের 'একেনবাবু'-র সাথে পরিচয়। তেমন প্রত্যাশা ছিল না, কিন্তু ভদ্রলোক ভালই উৎরে গেছেন। টিপিক্যাল গোয়েন্দাগল্পের মতই এখানে গোয়েন্দা একেনবাবু'র কীর্তিকলাপের একজন ন্যারেটর আছেন, সেটা হলেন আমেরিকার নিউ ইয়র্ক প্রবাসী এবং নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্সের অধ্যাপক বাপি (আসল নামটা কোথাও বলে থাকলে ভুলে গেছি)। বাপি এবং তার বন্ধু প্রমথ'র সাথেই থাকেন একেনবাবু, তিনি এককালে কলকাতা পুলিশের চাকরি করতেন, সেটা ছেড়ে নিউ ইয়র্কে এসেছেন ফুলব্রাইট ফেলোশিপ নিয়ে রিসার্চ করতে। কেন চাকরি ছেড়েছেন সেটার খানিক ইঙ্গিত পাওয়া যায় পরের দিকের বইগুলোতে, সম্ভবত পুলিশে কাজ করলে সততার ব্যাপারে যে ছারগুলো দিতে হতো সেটা পারেননি বলে। অন্য গোয়েন্দাদের সাথে একেনবাবুর তফাৎ হলো, তিনি যে শুধু দেখতে 'আনইমপ্রেসিভ' (বাপিবাবুর ভাষায়) তা-ই নয়, তার পোশাকআশাকও পুরানো ও অগোছালো, আর কথাবার্তায় রীতিমত গ্রাম্য ধরণের। এজন্য বাপি আর প্রমথ প্রথমদিকে ছিল ভয়ানক বিরক্ত। এগুলোর সাথে যোগ হয়েছে তার যেখানে-সেখানে ছোঁকছোঁক করার স্বভাব আর অযাচিত কৌতুহল। তিনি হাড়কেপ্পনও বটে। পয়সা বাঁচাতে রেস্টুরেন্টে খাননা, ট্যাক্সিও চড়েন না। যদিও পরে বোঝা যায়, এটা তার পেশারই অংশ, তিনি একজন তীক্ষ্ণবুদ্ধির ডিটেকটিভ। একের পর এক রহস্য সমাধান করে তিনি এলাকার পুলিশ ক্যাপ্টেন স্টুয়ার্টেরও প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন। এতটাই যে, একসময় ক্যাপ্টেন স্টুয়ার্টও বিভিন্ন জটিল সমস্যায় তার কাছে আসতে থাকেন। একসময় তিনি আমেরিকার সিটিজেনশিপও পেয়ে যান, আর মেলে সেখানে গোয়েন্দাগিরির অনুমতিও। একেনবাবু কলকাতা আর নিউ ইয়র্ক দু'জায়গাতেই ডিটেকটিভ এজেন্সি খুলে বসেন।
সাড়ে তিন খণ্ড একেনবাবু পড়ে এটাই সারসংক্ষেপ। রহস্যগুলো আহামরি কিছু না, এবং একেনবাবু ও তার সঙ্গী বাপি ও প্রমথ অন্যান্য গোয়েন্দাদের মত সরাসরি বিপদের মুখে ঝাঁপ দিয়েও পড়েন না, অন্তত এখন পর্যন্ত। কাজেই অ্যাডভেঞ্চার জিনিসটা এখনো মেলেনি। রহস্যের চেয়ে বরং একেনবাবু-বাপি-প্রমথ'র রোজকার জীবনযাত্রার গল্পই এখানে বেশি। সম্ভবত একারণেই পড়তে মন্দ লাগে না। লেখায় ইংরেজি শব্দের ছড়াছড়ি; ন্যারেটর একজন প্রবাসী সেটা বোঝাতেই মনে হয়। ব্যাপারটা যে বেমানান লাগে তা না, লেখককে এখানে কৃতিত্ব দিতে হবে। লেখক নিজে প্রবাসী বলেই সম্ভবত, কিছু জায়গায় তার নিজস্ব মতামত (ভারত-বাংলাদেশ-মুসলিম-দেশি মানুষজন-দেশি সিস্টেম ইত্যাদি সম্পর্কে) এসে পড়েছে যেগুলো দৃষ্টিকটু লাগে; এগুলো না আনাই ভাল ছিল। তবে প্রবাসীদের জীবনযাত্রার একটা চেহারা মেলে এখানে। ন্যারেটরের চরিত্রটা পরের দিকে যেভাবে ডেভেলপ করেছে, সেটা দেখে অবশ্য ইদানিংকার একটা প্যারডি মনে পড়লো--"আমার ক্রাশ কয় আমি একটা কামিনা, ভাল ফ্রেন্ড হইতে পারি কিন্তু স্বামী না।" সবমিলিয়ে, একেনবাবু হয়তো ফেলুদা-ব্যোমকেশের ধারেকাছেও নন, কিন্তু ব্যতিক্রমী চরিত্র হিসেবে টিকে যাবেন।
আর হ্যাঁ, একেনবাবুকে নিয়ে একটা ওয়েব সিরিজও হয়েছে, দয়া করে সেটা দেখবেন না। এক পর্ব দেখেই মনে হয়েছে, পরিচালক-চিত্রনাট্যকার সবক'টাকে সিরিজ ধরে কান বরাবর রামথাবড়া দিলে হয়তো গাঁজাখোরগুলোর মাথায় কিছু ঢুকতো। বই থেকে পর্দায় কিছু আনতে হলে কি কি করা যাবে না, তার একটা ভাল টিউটরিয়াল অবশ্য এটা হতে পারে। ভাগ্য ভাল এরকম আফিমখোরদের হাতে ফেলুদা কখনো পড়েননি!
গোয়েন্দা একেনবাবু বাংলা সাহিত্যে অদ্বিতীয়। ইংরেজি সাহিত্য তথা পপ কালচারে তাঁর পূর���বসূরী হলেন কলম্বো। তবে কথায়-কথায় স্যার বলা, ঘ্যানঘেনে স্বভাবের, অথচ অসামান্য পর্যবেক্ষণ এবং দুয়ে-দুয়ে চার করার ক্ষমতা রাখা এই সৃষ্টিছাড়া চেহারার গোয়েন্দা আমাদের ভীষণ প্রিয়। সুদর্শন, ব্যক্তিত্বের প্রখর ছটায় ক্লায়েন্ট ও পাঠককে পেড়ে ফেলা রহস্যভেদীদের ভিড়ের বাইরে দাঁড়ানো এই গোয়েন্দার পাঁচটি নভেল্লা সংকলিত হয়েছে এই বইয়ে। এদের মধ্যে চারটি পূর্ব-প্রকাশিত, বিচ্ছিন্নভাবে গ্রন্থবদ্ধও। তবে সেইসব বই খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। একটি সুমুদ্রিত, মোটের ওপর টাইপো-বর্জিত হার্ডকভারে স্থান দিয়ে কাফে টেবিল আমাদের কৃতজ্ঞতাভাজন হলেন। প্রথমেই আক্ষেপ জানাই। 'লেখকের কথা' অংশটি বড়োই সীমিত। লেখাগুলো প্রথম প্রকাশিত হওয়ার তারিখও তাতে নেই। ডকুমেন্টেশনের আকালের যুগে এগুলো বলে দিলে আমাদের আরও ভালো লাগত। এবার আসা যাক লেখা প্রসঙ্গে। ১) ম্যানহাটানে মুনস্টোন: এই কাহিনিতেই একেনবাবু-র আবির্ভাব। রহস্যের জটিলতায়, এবং সেই জাল ছিন্ন করে একেবারে প্রমাণসহ অপরাধীদের ধরার কারণে এই কাহিনিটিকে বইয়ের সেরা লেখা স্বচ্ছন্দে বলা চলে। ২) ম্যানহাটানে ম্যানহান্ট: শুধু রহস্য নয়, প্রবাসী ভারতীয়দের জীবনের বেশ কিছু অন্তরঙ্গ জিনিস সরস অথচ নমনীয়ভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই গল্পে। এর একটা মোচড় ধীমান পাঠক অনেক আগেই আন্দাজ করে ফেলবেন। অন্যটা সত্যিই চমকে দেবে। ৩) ঢাকা রহস্য উন্মোচিত: এই গপ্পোটার সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হল, এতে একেনবাবু প্রায় পুরোপুরি আর্মচেয়ার ডিটেকটিভ হিসেবে কাজ করেছেন। আগে রহস্য খোঁজা হয়েছে, তারপর অনুমান আর সম্ভাব্যতা বিচার করে সেই অপরাধে সম্ভাব্য অপরাধীদের ফিট করানো হয়েছে। ৪) একেনবাবু ও কেয়াদিদি: এই গল্পে একটা প্রকাণ্ড ফ্ল আছে। সেটা আর ব্যাখ্যা করছি না, তবে একেনবাবুর আখ্যানমালা নিয়ে আমার শ্রদ্ধাভক্তি বেশ বড়োসড়ো চোট খেল এই গল্পটা পড়ে। ৫) সংখ্যার সংকেত: একেনবাবু ছাড়া এই গল্পগুলোয় সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র হলেন কথক। মুশকিল হল, এই গল্পে কথক ও তাঁর বন্ধুর বিকারিং এত বেশি জায়গা খেয়েছে, আর বাকি রহস্যভেদের জায়গাটা এতটাই আন্দাজ-ভিত্তিক, যে হোমসিয়ান ডিডাকশন পড়ে অভ্যস্ত আমার মন রীতিমতো বিদ্রোহ করল। সব মিলিয়ে এটাই বলার যে প্রথম খণ্ড যতটা উৎসাহ নিয়ে শুরু করেছিলাম, দ্বিতীয় খণ্ডের ক্ষেত্রে সেটা হওয়া চাপ আছে।
একেনবাবুর গল্পগুলো শীতের ম্যাজম্যাজে কুয়াশাজড়ানো শেষ বিকেলে বন্ধুদের সাথে ধোঁয়া উঠা চায়ের সাথে নারকোলমুড়ির গোলটেবিল বৈঠকে গল্প শুনিয়ে আড্ডা জমানোর মত৷ একেনবাবুর কেসগুলো রোমহষর্ক কিংবা মস্তিকে বিস্ফোরণ ঘটাবে না — বরং গল্পের সৌষ্ঠবে মুগ্ধ শ্রোতাদের শরীরে সতেজ ভাব এনে দিবে৷
বইয়ে মোট পাঁচটি গল্প আছে৷ ম্যানহাটানে মুনস্টোন আর ম্যানহাটানে ম্যানহান্ট — এই দুটো গল্প আগেই পড়া ছিল৷ ম্যানহাটানে মুনস্টোন একেনবাবুর প্রথম কেস এবং নিঃসন্দেহে বইয়ের সেরা গল্প৷ ঢাকা রহস্য উন্মোচিত এবং 'একেনবাবু ও কেয়াদিদি' গল্প দুটো বিশেষ ভালো লাগে নি বৈকি, শেষ গল্প 'সংখ্যার সংকেত' আরামদায়ক ছিলো৷
বাংলা গোয়েন্দা গল্পের এই নায়কের নাম আমি প্রথম শুনি যখন এটা নিয়ে সিরিজ হয়। তারপরে মৃদু ইচ্ছা ছিল যে পড়ব। কিন্তু সময়ের অভাব এবং নানাবিধ কারণে বইটা পড়তে পারিনি। এবার পড়লাম। ভালই লাগল সব মিলায়। অন্যান্য গোয়েন্দাদের মত ক্ষুরধার বুদ্ধিসম্পন্ন হলেও মানুষ একেনবাবু অগোছালো। গলার আওয়াজ এবং ব্যক্তিত্ব কোনটাই টানতে পারবে না কাউকেই। মামলায় নেমে গেলে আবার উনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। প্রথম সংকলনে মোট ৫টা গল্প পড়লাম। সবগুলাই বেশ উপভোগ করেছি। ভাল সময় কেটে গেল ছুটির দুদিন। ধন্যবাদ একেনবাবু।
দুর্দান্ত কিছু না। তবে হেমন্তের সন্ধ্যার হালকা হিম বাতাসের মতো। স্বস্তিদায়ক। আর পাঁচটা গোয়েন্দা গল্পের মতো হলেও একেনবাবু আর পাঁচটা গোয়েন্দার মতো না। একেবারে গ্রামার না মেনে বানানো যেন। আর এজন্যই একেনবাবুর প্রতি একটা সফট কর্নার তৈরি হবেই যদি আপনি বেরসিক না হন।
Came across this book when I was quite in doubt about my Bengali reading speed. Ended up finishing it long before the two other English books I was simultaneously reading. Such a breath of fresh air. Felt transported back to the feeling of reading Bengali detective stories as a teenager for the first time! I know it's a good book when I have this irrational urge to translate just so I can share with non-Bengali crime fic and mystery loving friends! Ughsgshajjs, like all good reads, overwhelmed.
প্রথম গল্পটাই বেশ ভালো তবে বাকী গুলো অত বিশেষ কিছু নয়। ভালো লাগার যে ব্যাপার তা হলো একটু অন্যরকম গোয়েন্দা যে কীনা খুবই বিনয়ী এবং মোটেই হামবড়া ভাব টা নেই।আর গল্পের লেখনী খুবই ঝরঝরে। পিডিএফ পড়ে বেশ আরাম পেয়েছি এইটুকুই।
তেমন আহামরি কিছু না হলেও, একেনবাবুর গল্পগুলো একবার পড়াই যায়৷ টিভি সিরিজের থেকে কিন্তু এই গল্পগুলোর স্বাদগন্ধ বেশ আলাদা৷ বাঙালিয়ানার উপর অযথা জোর দেওয়াও হয় নি। নিউ ইয়র্কে একটা হাবাগোবা গোয়েন্দা বেশ মানিয়ে গেছে। চারখানা তারা দিতে ইচ্ছে ছিল, কিন্তু বাধ সাধল ওই "একেনবাবু ও কেয়াদিদি" গল্পটা। ওখানে লজিকটা হঠাৎ ফুড়ুৎ করে উড়ে গেল।
বাকি গল্পগুলো বেশ সুন্দরভাবে পরিবেশিত। যদিও প্রথম দুটো গল্পে অযথা অনেক ইংরেজি শব্দ দেখে অল্প বিরক্তি ধরেছিল, কিন্তু গল্পের কথক যেহেতু আধা-ইয়াংকি হয়ে গেছে, তাই সেটা নিয়ে অধিক সমালোচনা আর করলাম না।
প্রতিটা গল্পের কেন্দ্রে কিন্তু একটা ধাঁধা রয়েছে। সেইগুলোর সমাধান একটু মাথা খাটালে অনুমান করা সম্ভব। তবে ধাঁধার উত্তর নিজে থেকে বার করলেও, গল্পগুলো শেষ না করে পারা যায় না৷ হাস্যরস আর গোয়েন্দাগিরির এই মিশ্রণে সুজন দাশগুপ্ত ভাল মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন।
Boi ta recently kinlam. Eken babu er bapare hoi Choi thekai jante pari. Hoi Choi te webseries gulo dekhe eto bhalo lagechilo j golpo gulo porte icha prokas kori tai boi gulo kine fela. Boi ta pore ektu hotas hoyechi. Karon, amar mone hoy kothao giye golpo gulo jano bishon bhabe rasta hariye fele. R lekhok purono rastay niye aste paren na. Golpo gulo no doubt unique, kintu lekhar man bhalo noy. Sesh gulo khub e jor jar kore sesh kora hoyeche. Ektu hotash hoyechi bolte gele. Series gulo onek better kora hoyeche, normally golper boi besi jonopriyo hoy r series gulo kom. Kintu ekhetre ulto. Pore mota muti legeche.
এরকুল পোয়ারোর ধুয়ো তুলে মস্তিষ্কপ্রসূত থিয়োরিকে প্রায় প্রমাণ ছাড়াই রহস্যের সমাধান বলে চালিয়ে দেওয়া ভালো লাগল না। বেশিরভাগ প্লট কে ঘুরিয়ে নাক ছোঁয়ানো হয়েছে যার ফলে অতিরিক্ত জটিল মনে হওয়ার পরিবর্তে অপরাধীদের করা ভুল নিতান্ত দায়সারা গোছের মনে হয়েছে, যেন গল্পের খাতিরেই ভুল করা। বেশির ভাগ সময়ই প্রমথবাবুকেই প্রধান চরিত্র মনে হয়েছে। তিন তারা দেওয়া যেত কিন্তু এরকম লিখেও আগাথা ক্রিস্টিকে টানার জন্য আরো একটি তারা মাইনাস।
সিরিজ টা দেখেই বই পড়ার আগ্রহ হয়েছিল। ফেলুদার জটায়ুর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন একেনবাবু । মজা পেয়েছি ।তবে রহস্যগুলো একটু বেশিই সরল সোজা লেগেছে ।বয়সের কারনে + অনেক গোয়েন্দা বই পড়া হয়েছে বলে এমন হতে পারে ৩.৮/৫
I took a long time reading this one, not because of the difficulty of plot, but rather of language (Bangla being my third language). This is a collection of short (or not so short) stories, featuring the detective Eken Sen and his friends Bapi and Pramakh. The book is narrated Bapi's perspective, and I found his introduction as well as how he ended up with Eken very hilarious. Humor is, in my opinion, the USP of this book. The humor is simple, but so typically Bengali in its nature, that every Bengali reader will relate to it. The stories in themselves are not very complicated, although they are not predictable either, but rather it is the how they are written which makes them interesting. One fact which did annoy me quite a lot, was the excessive description and even exposition in the writing style of the book. The author dives into the detailing of the tiniest of things at times and refuses to resurface. I would've appreciated more of dialogues and inference through the same, and less of telling me everything. As such, it is an interesting book to read during travelling, when doesn't want to venture into something deeper.