বিধ্বংসী মারণাস্ত্র আছে অজুহাত তুলে ইরাক আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি নুরুল আলম এই সাজানো অভিযোগের বেলুন ফুটো করে সাক্ষাৎকার দিলেন ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায়। বিপাকে পড়লো মার্কিন সরকার। জাতিসংঘের তহবিলের সিংহভাগের যোগানদাতা রাষ্ট্রটি নাখোশ হওয়ার পরও নুরুল আলম নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন না। সত্য বলার দায় নিয়ে পদত্যাগ করেন বাংলাদেশের কৃতি সন্তানটি। এরপর দেশে ফিরেই বিমানবন্দর থেকে নিখোঁজ হন। তাঁর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-প্রবাসী মেয়ে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ইজাবেল। বাবাকে খুঁজতে এসে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয় ইজাবেলের। এই উপন্যাসের কাহিনি থ্রিলারের মতোই টানটান।
প্লট চমৎকার। মন ছুঁয়ে যাবার মতো! শুধু লেখনী খানিকটা আরোপিত মনে হলো। কিছু জায়গায় মনে হয়েছে জোর করে শব্দ জুড়ে দিয়ে বাক্য সাজানো। বারবার মনে হচ্ছিলো বই পড়ছি। অথচ অন্যসময় একবার গল্পে ঢুকে গেলে ঐ জগৎ-টাই সত্য বলে ভ্রম হয়।
২৩ বছর আগের ঘটনা। ইরাক আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা বিধ্বংসী মারণাস্ত্র সহযোগে ওৎ পেতে আছে ইরাক। কিন্তু জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি নুরুল আলম এই সাজানো অভিযোগের বিরুদ্ধে সাক্ষাৎকার দিলেন ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায়। ফলে বিপাকে পড়লো মার্কিন সরকার। এরপর পদত্যাগ করেন সাহসী নুরুল আলম। কিন্তু ১৯৯১ সালের ২৫ মার্চ এমিরেটস এর প্যাসেঞ্জার লিস্টে নুরুল আলমের নাম থাকলেও, বাংলাদেশের এয়ারপোর্ট থেকে মুছে যায় নুরুল আলমের অস্তিত্ব, যেন নুরুল আলম বলে কারও পা পড়েনি এ মাটিতে! যার জন্য শুরুতেই আমরা দেখতে পাই ইজাবেল নামের একটি মেয়েকে, যে কিনা ২৩ বছর আগে উধাও হয়ে যাওয়া বাবাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে!
জলের উৎসের প্লট খারাপ না, বরং পৃষ্ঠা উল্টিয়ে মূল কাহিনী জানার জন্য মনকে প্রবোধ দেয়। কিন্তু গল্পের শুরু থ্রিলারের মতো টানটান মনে হলেও, গল্পের বিস্তার কিংবা উপসংহারকে মিইয়ে যাওয়া মুড়ির মতো লাগে। লেখনী মনে ধরলো না।