ছয় দশকের অধিককাল ধরে সৈয়দ শামসুল হক লিখেছেন অজস্র ও বিচিত্র রচনা। তাঁর কাছ থেকে আমরা পেয়েছি কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, অনুবাদ, কলাম, আত্মজৈবনিকসহ বহুমাত্রিক রচনা। এজন্যই তিনি আমাদের সব্যসাচী লেখক।
তাঁর সৃজন-জীবনের যে কটি রচনা কালের অমরতায় অভিষিক্ত হয়েছে, তার মধ্যে সবিশেষ উল্লেখযোগ্য ‘হৃৎকলমের টানে’। অনেক বছর আগে সাময়িকপত্রের পাতায় যখন ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছিল এই রচনারাশি, তখনই তা পাঠকহৃদয়ে চিরকালের মতো জায়গা করে নিয়েছিল। কারণ সৈয়দ হক তাঁর হৃদয়ের নিবিড় নির্যাস কলমে ঢেলে এই রচনাটি লিখছিলেন। একই শিরোনামে এর গ্রন্থভুক্ত হবার ইতিহাসও বেশ পুরনো। আর বইটি বহুদিন ধরেই অমুদ্রিত।
তাঁর ভক্ত-পাঠকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবার পুরো বইটিই একসঙ্গে প্রকাশ করেছে নান্দনিক।
এই বইতে সৈয়দ হকের আশি নব্বই দশকের কিছু কলাম সংকলিত হয়েছে। বইটা খাপছাড়া লাগেনা তবুও। মূলত আত্মজৈবনিক। বহু মানুষের কথা এসেছে, সাহিত্যভাবনা এসেছে, রাজনীতি এসেছে, যা যা এরকম লেখার প্রাণ আর কী। প্রীতম বইটা ধার দেবার আগে তরিকা বাতলে দিয়েছিল পড়বার। যেকোনদিন, যেকোন জায়গায়, একটু বইটা খুলে পড়া, একটু একটু করে। সেই তরিকার বাইরে যেয়ে টানা পড়তে মাঝে মাঝে একঘেয়ে লেগেছে।
মোটমাট, হক যেহেতু সব্যসাচী, এই লেখাও কেবল তার কবিতাযাপন না। নাটক, উপন্যাস, গল্প, কবিতা, পেইন্টিং- সবকিছু নিয়েই আলাপ আছে যা ওজনদার, শিল্পচর্চা নিয়ে তাঁর উচ্চারণ স্পষ্ট, বোধগম্য।
বেশি কিছু বলার পাচ্ছি না। কিবোর্ড টা ঠিক ঠাক চলছে না। শুধু যিনি বইটা শেষ করবেন, এই রিভিউটা দেখলে আমাকে জানায়েন, এই বইতে "করোটি" শব্দের প্রতি লেখকের যে নেশা দেখা যায়, তা আপনাকে বিরক্ত করেছে কিনা। আমার না জীবনটা অতিষ্ট সৈয়দ হকের পাইকারি দরে করোটি শব্দ ব্যবহারে। এর বিকল্প শব্দগুলা উনি একটা বারও পরখ করে দেখলেন না। এইটাই আফসোস।
সুন্দর বই, আহামরি কিছু না। পড়তে খারাপ লাগে নাই, "করোটি" শব্দের অতিব্যবহার বাদ দিলে।