কিছু-কিছু বই ছোটোবেলায় ছাড়া পড়া উচিত নয়। সৌভাগ্যক্রমে এই বইটা তেমন নয়। ছোটোবেলায় আনন্দমেলা, কিশোর ভারতী, আর দেব সাহিত্য কুটির থেকে প্রকাশিত নানা পূজাবার্ষিকীতে এই গল্পগুলো পড়তে গিয়ে গা-ছমছম করত। এখন সেই অনুভূতি ফিরে পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু বৈঠকী চালের গল্পগুলো পড়তে ভারি ভালো লাগে। মোট ছাব্বিশটি গল্পের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ের গল্প 'পাঁচমুন্ডির আসর', 'অমর-ধাম', আর 'পিছনের জানলা'। সবচেয়ে বেশি মনে রাখার ও হাসার মতো গল্প 'সামন্ত বাড়ি'। আর সবচেয়ে মর্মস্পর্শী গল্প 'লাল নিশান' আর 'রূপে সে কুরূপা'। আবারও বলছি, এই গল্পগুলো পড়ে এখন ভয় পাওয়া অসম্ভব। সেই জঙ্গল, গ্রাম, প্রায়ান্ধকার অলিগলি - এ-সব কিছুই আর নেই আমাদের চারপাশে। এমনকি ভয়ের ধরনও পালটে গেছে এই বিপন্ন পৃথিবীতে। তবু এই গল্পগুলো পড়ে ছোটোবেলার কথা মনে পড়ে মনের আরাম হয়। সেই আরামটুকু চাইলে এই সুমুদ্রিত, ছিমছাম অলংকরণে শোভিত বইটি সংগ্রহ ও পাঠ করতেই পারেন।
খুব বেশি গাঁ ছমছম করার মত ভয়ের গল্প না হলেও কিংবা প্লটের বৈচিত্র কম থাকলেও গল্পগুলো পড়তে বেশ লেগেছে। তবে 'সামন্ত বাড়ি' গল্পটি হাস্যরসাত্বক গল্প হিসেবে ভালো, কিন্তু এটা কোনোভাবেই ভৌতিক গল্প মনে হয়নি।