Jump to ratings and reviews
Rate this book

শান্ত

Rate this book
A Collection of Short Stories

120 pages, Paperback

First published January 1, 2017

6 people want to read

About the author

Raja Bhattacharjee

20 books8 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
5 (35%)
4 stars
4 (28%)
3 stars
3 (21%)
2 stars
1 (7%)
1 star
1 (7%)
Displaying 1 - 3 of 3 reviews
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 38 books1,870 followers
October 5, 2017
ধরে নিন, আপনি একজন ‘ভদ্রলোক/ভদ্রমহিলা’, যিনি নিজে কাউকে ঝামেলায় ফেলেন না, আবার কেউ আপনাকে ঝামেলায় জড়াক, সেটাও চান না।
ট্রেনে বা বাসে আপনি দেখলেন, কোনো অভাগিনী শিকার হচ্ছে কালো হাত আর ততোধিক কালো দৃষ্টির, অথবা নিরীহ একটা ছেলেকে অকারণে যাচ্ছেতাই অপমান করছে কেউ। কখনও বা অফিসের ঘেরাটোপে দেখলেন কোনো স্যাডিস্টকে, অন্যকে কষ্ট দেওয়ার ব্যাপারে যার কুশলতা দেখলে দুঃশাসন দ্রৌপদীর দিকে হাত বাড়ানোর আগে ক’টা দিন তার আন্ডারে কোচিং নিত।
তখন আপনার কী করতে ইচ্ছে হয়?
ঘাবড়াবেন না। আমি আপনাকে ডান্ডা হাতে “ত্বয়া হৃষীকেশ” বলে ফিল্ডে নামতে বলছি না।
বাবা লোকনাথ নাকি রণে-বনে স্মর্তব্য। কিন্তু এই আধুনিক চক্রব্যূহে ঢুকে পড়া সৎ, নির্বিরোধী, অথচ “অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে” মন্ত্রে বিশ্বাসী একাকী অভিমন্যুদের জন্য এবার এল এক নতুন প্রফেট, তার নিজস্ব দাওয়াইয়ের সঙ্কলন নিয়ে।
শান্ত!
ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, ফেসবুকের মাধ্যমে, রাজা ভট্টাচার্য-র আশ্চর্য সৃষ্টি এই নিপাট ভালোমানুষটির কীর্তিকলাপ আপনারা অনেকেই পড়েছেন। এই ছোকরা, ও তার অদৃশ্য অবতার কাটা বল্টু-র দাপট দেখে আমরা ইতিমধ্যেই মুগ্ধ হয়েছি, হেসেছি, হয়তো কেঁদেছি কখনও...
আর হাত মুঠো করে ভেবেছি, অবকি বার, শান্ত-কে দরকার!

যাঁরা এখনও শান্ত-কে চেনেন না, তাঁদের জন্য রাজা ভট্টাচার্য-র অকপট ও অনাবিল “লেখকের কথা” থেকে কিছুটা তুলে দিই বরং, যাতে ব্যাপারটা কিঞ্চিৎ স্পষ্ট হয়।
“... জাতের নামে বজ্জাতিই হোক, আর পণের নামে ভিক্ষাবৃত্তি; যত্রতত্র ময়লা ফেলাই হোক বা বাচ্চাদের খেলার মাঠ কেড়ে নেওয়া – আমার সমস্ত বিরক্তি আর ঘৃণা বাঁকা পথে বেরিয়ে এল প্রতিশোধ নিতে, প্রতিবাদ করতে।
আমার মতো হাজারো মানুষ – যারা সহ্য করতে বাধ্য হন এমনই শতেক বর্বরতা – তাঁদের প্রত্যেকের ‘অল্টার ইগো’ এই সাদামাটা ছেলেটা। তার না আছে দল, না আছে বল, না আছে নেতা, না আছে অভিনেতা। আছে শুধু ন্যায্য কথা মুখের ওপর বলে দেওয়ার ক্ষমতা। মুখের ওপর – কিন্তু বাঁকা পথে। সে এমনই কথা – যাকে ‘না যায় ছাড়ানো, না যায় এড়ানো’।
হে শান্ত-প্রেমী জনগণ, আপনাদের (আইজ্ঞা হ, তার মধ্যে আমিও আছি বটে) সবার খ্বোয়াইশ পুরো করতে বইমেলায় এগিয়ে এসেছিল ‘দ্য কাফে টেবল’। তাদের তত্ত্বাবধানে শান্তর বাছাই করা কিছু আখ্যানমালা ধরা পড়েছিল দু’মলাটের মধ্যে, ১২০ পৃষ্ঠার, ১৫০/- টাকার এই ঝকঝকে পেপারব্যাকে। অনেক মর্ষকামী বিমর্ষর মুখে ঝামা ঘষে দিয়ে বইটা হু-হু করে বিক্রি হয়েছিল, ও হচ্ছে।
খুঁটিয়ে দেখলে বইটা নিয়ে কিছু ঘ্যানঘ্যান করাই যায়, যেমন: -
 বেশ কিছু মুদ্রণ প্রমাদ ও কী/কি সংশয় একে ক্লিষ্ট করেছে,
 কল্যাণ দাস-এর অলঙ্করণ ক্যারিকেচার-সুলভ বলে প্রতিটি গল্পেই মাখনের মতো হাসির আড়ালে লুকোনো ছুরিটার অস্তিত্ব লঘু হয়ে গেছে, এক্ষেত্রে মডেল হিসেবে ‘কাণ্ডজ্ঞান’ ও অন্যান্য কলামে অহিভূষণ মালিকের আঁকা অবিস্মরণীয় ছবিগুলোর দিকে আমি লেখক ও শিল্পীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি;
 এই লেখাগুলোর প্রকাশের তারিখ একটু কষ্ট করে দেওয়াই যেত, তাতে সেগুলো কালানুক্রমিক ভাবে সাজানোও যেত।০

কী কী গল্প(-হলেও-সত্যি) আছে এতে? সূচিপত্র পেশ করা যাক।
১. প্রশংসা
২. পরিচয়
৩. শব্দজব্দ
৪. কৃপণ
৫. মাঠ
৬. বোমা
৭. পঞ্চবার্ষিকী
৮. ভোটের লাইনে
৯. আঘাত
১০. মৃত্যুভয়
১১. ফ্রি-গিফট
১২. ডিপ্রেশন
১৩. ভাগ
১৪. বুলি ও গালি
১৫. সম্বোধন
১৬. প্রথা
১৭. পণ
১৮. প্রত্যক্ষ
১৯. মার
২০. নেশা
২১. লুডো
২২. প্রমাণ
২৩. খিল্লি
২৪. কর্মসংস্কৃতি
২৫. আদুরে
২৬. ছোঁয়াচ
২৭. গান
২৮. দেখা
২৯. জুতো
৩০. ডাস্টবিন
৩১. খুনি

একটা সময় সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়-এর “রসেবশে” কলাম পড়ে লক্ষ-লক্ষ বাঙালি তাঁদের মলিন ও শতচ্ছিন্ন পোশাক-কে ‘ওয়েল ভেন্টিলেটেড’ জেনে ফুরফুরে থাকার মন্ত্র পেয়েছিলেন। ফেসবুকে সেই কাজটাই করে চলেছে শান্ত।
আসুন, তার অ্যাডভেঞ্চারগুলো পড়ে ফেলি, ভাবি, “এখানে শান্ত থাকলে কী করত?”, আর পরের বার যখনই কোনো অন্যায় দেখব তখনই ...!
Profile Image for Preetam Chatterjee.
7,283 reviews394 followers
July 1, 2025
শান্ত: এক নিঃশব্দ বিপ্লবের মুখপাত্র

রাজা ভট্টাচার্য-র 'শান্ত' কোনও রোমাঞ্চকর গোয়েন্দা কাহিনি নয়, কোনও প্রেমকথার উপাখ্যানও নয়। এটি এক সাদামাটা, সাধারণ অথচ অনন্য এক চরিত্রের ক্রমাগত আত্মপ্রকাশ—যার অস্ত্র একটাই: ন্যায়বোধ। যে একত্রিশটি ছোট গল্পের মাধ্যমে শান্তকে আমরা চিনতে থাকি, সেখানে প্রতিটি ঘটনার পেছনে আছে সমাজের চেনা চেহারা, চেনা অসঙ্গতি, এবং আমাদের চেনা নির্বাকতা। কিন্তু শান্ত চুপ করে থাকে না। সে কথা বলে—ভদ্রভাবে, নিরীহভাবে, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, অপ্রতিরোধ্যভাবে।

শান্ত এমন এক প্রতিরোধের নাম, যা গর্জে ওঠে না, বরং নিঃশব্দে তীব্রতা তৈরি করে। তার প্রতিবাদ গালাগাল নয়, তার অস্ত্র চিৎকার নয়—তবে তার কণ্ঠস্বর এমনভাবে স্থাপন করে যুক্তি ও রসবোধকে, যা অপরাধীকে চুপ করিয়ে দিতে বাধ্য করে। রাজা ভট্টাচার্য এখানে আমাদের সেই অল্টার ইগো তৈরি করেছেন, যে আমরা হতে চেয়েও হই না—সমাজে ঘটে চলা অবিচারের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যে প্রশ্ন তোলে, কিন্তু অপমান করে না; যে প্রতিবাদ জানায়, কিন্তু ভদ্রতা বজায় রাখে।

এই বইয়ের চরিত্রগুলো যেন আমাদের আশপাশের প্রতিবেশী—অতিরিক্ত বখে যাওয়া বাচ্চা, পণের লোভে গৃহস্থালি কাঁপানো আত্মীয়, অফিসে বসে বসে টিজ করা সহকর্মী, বা রাস্তায় বেআব্রু লালসা ছড়ানো পথচারী। আমরা যাদের দেখি, চিনি, অথচ প্রায়ই এড়িয়ে চলি। শান্ত তাদের উপেক্ষা করে না, বরং একেবারে চোখের দিকে তাকিয়ে বলে, "এই অন্যায়টা ঠিক নয়।"

এই যে কথাগুলো মুখের ওপর বলার সাহস, তা-ও আবার এতটা মার্জিত অথচ সূক্ষ্ম ব্যঙ্গে মোড়া—এটাই শান্তর আসল শক্তি। সে কেবল প্রতিবাদ জানায় না, সে শিক্ষা দেয়। এবং পাঠকের মনে এমন এক বাসনার জন্ম দেয়—ইস, আমি যদি এরকম হতে পারতাম!

রাজা ভট্টাচার্য তাঁর সহজ অথচ তীক্ষ্ণ গদ্যে যে চরিত্র নির্মাণ করেছেন, তাকে শুধুই এক কৌতুকপ্রিয় 'ভদ্রলোক' হিসেবে দেখলে ভুল হবে। শান্ত আসলে এক সামাজিক চেতনার বাহক—যিনি হাসির আড়ালে তুলে ধরেন জীবনের গভীর সত্য। এই গল্পগুলো পড়তে পড়তে মনে পড়ে যায় সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়-এর ‘রসেবশে’, কিংবা বিমল করের ‘ছোট গল্প’—যেখানে হাসি ও হাহাকারের মধ্যকার সূক্ষ্ম সীমানা প্রতিনিয়ত লঙ্ঘিত হয়।

'শান্ত' শুধু এক বই নয়—এটি এক মানসিক অবস্থান। যেখানে ক্ষোভ আছে, কিন্তু সহিংসতা নেই; রসবোধ আছে, কিন্তু হালকা ভাব নেই; প্রতিবাদ আছে, কিন্তু অহংকার নেই। এবং এই কারণেই শান্ত আমাদের প্রত্যেকের প্রয়োজন।

এই সমাজে, যেখানে সত্যকে উচ্চারণ করা কঠিন, সেখানে শান্ত যেন আমাদের প্রত্যেকের হয়ে সেই কথাগুলো বলে ফেলে—যা আমরা ভাবি, কিন্তু বলি না। ঠিক এখানেই সে হয়ে ওঠে এক নিঃশব্দ বিপ্লবের মুখপাত্র।

শান্ত রায় একজন সাদাসিধে মফস্বলের ছেলে। না, সে কোনও হিরো নয়, তার নেই রাজনৈতিক দাওয়াই, নেই গলার জোর, নেই বাহুবল। বরং, তার আছে একধরনের গভীর মানবিক বুদ্ধি, যার শিকড় পড়ে আছে তার রুচি, শালীনতা, স্থিতধী ব্যক্তিত্ব, আর একপ্রকার নির্মোহ স্পর্ধায়। সে এমনভাবে সত্য কথা বলে, যে সেই কথাগুলোকে আর বাতিল করা যায় না—কারণ সেগুলো শুদ্ধ, সোজাসাপটা, এবং ভিতরে ভিতরে জ���বালাময়।

এই শান্ত কোনও বীরপুরুষ নয়, বরং সেই নীরব প্রতিবাদী, যিনি ভদ্রতার মুখোশে ঢেকে রাখা অন্যায়ের গায়ে এক নিঃশব্দ অথচ গভীর চাবুক মারেন। তার সত্য ভাষণ কুৎসিত সমাজের মুখে আয়না ধরার মতোই নির্মম। এ যেন সত্যজিৎ রায়ের প্রফেসর শঙ্কুর মতো এক মৃদু অথচ দমবন্ধ করে দেওয়া স্মার্টনেস—তবে এখানে বিজ্ঞান নয়, অস্ত্র মানবিক বোধ। এবং সেই বোধের প্রেক্ষাপট শহরের অলিগলি, রাস্তাঘাট, বাস-ট্রেন, অফিসকক্ষ, কিংবা ঘরোয়া বউ-দেখার আসর।

শান্ত আমাদের চারপাশে থাকা হাজারো নিরীহ মানুষের প্রতিভূ, যারা কথা বলতে জানে, কিন্তু বলতে ভয় পায়। রাজা ভট্টাচার্য সেই ভয়কে সাহসে রূপ দিয়েছেন, হাসির মোড়কে গেঁথেছেন প্রতিবাদের স্পষ্ট বার্তা। শান্ত তাই কেবল একটি চরিত্র নয়—সে একটি মনন, একটি অবস্থান, একটি সাহসী প্রশ্ন, যা বলে ওঠে: "অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে।"

লেখকের কথায়, শান্ত আসলে হাজারো নিরীহ মানুষের অল্টার ইগো—যারা পথে-ঘাটে, অফিসে, বাড়ির উঠোনে জীবনের নানা অন্যায় দেখে চোখ বুজে থাকেন, চুপ করে যান, আর ঘরে ফিরে গুমরে মরেন। শান্ত সেই একই মানুষের প্রতিবাদী ছায়া, যে বলে ওঠে—কিন্তু ভদ্রভাবে। সে চেঁচায় না, মারধরও করে না; সে বলে, হাসির আড়ালে, যুক্তির সূক্ষ্ম তিরে। তার কথাগুলো যেন চায়ের কাপের ধোঁয়ার মতোই—উঠে আসে ধীরে, কিন্তু চোখ জ্বালায় ঠিকঠাক।

"এই যে সুর, তারও কোনও ঠিকঠিকানা নেই। বর্ষার সকালে জয়জয়ন্তী হতে পারে, চাঁদের রাতে পিলু।"—এই ধরনের পংক্তির মতোই শান্তর প্রতিবাদ, তার অস্তিত্ব—সাবলীল, সুরেলা, এবং অসাধারণভাবে যুক্তিসঙ্গত। তা এমন এক সুর, যা মৃদু হলেও শেষমেশ মাথার ভেতর ঢুকে যায়।

প্রতিটি গল্প যেন সমাজের একেকটা দৃশ্যপট—যেন নোটিস বোর্ডে পিনে গাঁথা, আমাদের প্রতিদিনকার নির্বাক সহ্য করে যাওয়া ঘটনাগুলোর পোস্টার। পণের নামে ভিক্ষাবৃত্তি হোক বা শিশুর খেলার মাঠ কেড়ে নেওয়া, অফিসে নিরীহ সহকর্মীর নিগ্রহ হোক বা পথেঘাটে অবাঞ্ছিত শারীরিক স্পর্শ—শান্ত মুখ খোলে। কিন্তু তার খোলার ধরন এতটাই অভিনব, এতটাই অমায়িক, যে অপরাধীর চেহারায় নিজের মুখটাই যেন ফুটে ওঠে। পালাবার পথ থাকেই না।

লেখক "লেখকের কথা" অংশে এক নির্মোহ স্বীকারোক্তির মতো জানান, শান্ত তার নিজের ভেতরের অবদমন, ক্লান্তি, ক্রোধেরই রূপান্তর। প্রতিটি গল্পে যেন লেখক নিজেই হাঁটছেন শান্তর পাশে—কখনও কাটা বল্টু হয়ে, কখনও নীরব গুনগুনানি হয়ে, আবার কখনও ট্রামে বসা এক অচেনা সহযাত্রী হয়ে। শান্ত আসলে কেবল গল্পের চরিত্র নয়, সে এক প্রবণতা—যা লেখক থেকে শুরু করে পাঠকের মধ্যেও মৃদু কণ্ঠে বাঁচতে চায়।

বইটির অলংকরণ ও প্রচ্ছদ নিয়ে কিছু সমালোচনা থাকতেই পারে—বিশেষত ছবিগুলির অতিরিক্ত কার্টুনীয় রূপ অনেক সময় গল্পের গভীর ব্যঙ্গকে ঢেকে দেয়। তবু রাজা ভট্টাচার্যের বর্ণনাত্মক মুন্সিয়ানা এই সীমাবদ্ধতা ছাপিয়েই যায়।

একজন পাঠক এই বই পড়ে যেমন হো হো করে হেসে ফেলতে পারেন, তেমনি পড়া শেষ করে গভীর আত্মসমীক্ষায়ও ডুবে যেতে পারেন। শান্তর প্রতিবাদ কখনও একটি পণপ্রথার বিরুদ্ধে, কখনও কোনও অসংবেদনশীল অভিভাবকের বিরুদ্ধে, কখনও বা পথেঘাটের এক লম্পটের মুখোমুখি দাঁড়ানো। কিন্তু কোথাও সে সুপারহিরো হয়ে ওঠে না। শান্ত সর্বদা শান্ত থাকে। তার অস্ত্র—ভদ্রতা, সরলতা, তীক্ষ্ণ রসবোধ এবং নির্ভীক যুক্তি।

'শান্ত' আসলে এক নিঃশব্দ বিপ্লবের গল্প। একুশ শতকের ভারতীয় মধ্যবিত্ত সমাজে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া কিন্তু চেপে রাখা, বলা না হয়ে থেকে যাওয়া কাহিনিগুলোর এক সরল, সাহসী, এবং সাবলীল ভাষ্য। রাজা ভট্টাচার্যের এই বই সেই সব পাঠকের জন্য, যারা অন্তত একবার জীবনে মনে মনে বলেছেন—“ইস্, যদি বলতে পারতাম!”

আমরা সবাই কখনও না কখনও চুপ করে থেকেছি। কিন্তু যদি শান্তর মতো করে বলা শিখতে পারতাম, হয়তো সমাজটাও একটু বদলাত। এই বই কেবল মুগ্ধ হয়ে পড়ে রাখার জন্য নয়, এটি আমাদের সেই একাকী অভিমন্যুদের জন্য এক নব দিগন্তের পথনির্দেশ।

শেষে বলতেই হয়, 'শান্ত'-র যাত্রা যেন অক্ষয় থাকে। কারণ এমন একটি চরিত্র, যার মধ্যে আছে হাসির আড়ালে গম্ভীর প্রতিবাদ, যার ভাষা ভদ্র কিন্তু যুক্তিসম্মত, যে পারে সুপারহিরো না হয়েও সমাজকে প্রশ্ন করতে—তাকে আমাদের আজ, এখন, এবং সর্বদা প্রয়োজন।
Profile Image for Rupam Das.
73 reviews2 followers
April 13, 2024
'শান্ত' এই ব‌ইটা অনেক দিন আগে‌ থেকে‌ই সংগ্ৰহে ছিল। এই সপ্তাহে এই মজার ব‌ইটা পড়লাম।

একজন সাদাসিধে মফস্বলের ছেলে শান্ত রায় কে নিয়ে একত্রিশটি ছোট গল্পের সংকলন। না, ঠিক গল্প হয়ত নয় ,গল্পগুলিতে আসলে সমাজে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা ছোট বড় সমস্যাগুলি মজার ছলে দেখানো হয়েছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষেরা এই ধরনের ঘটনার বা সমস্যার সম্মুখীন হতে‌ থাকি । কখনো এড়িয়ে চলি , কখনও চুপ করে থাকি ,ভেতরে ভেতরে গুমরে থাকি , প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ করতে চা‌ইলেও বিভিন্ন কারনে করতে পারিনা সেখানেই এই সংকলনে প্রধান চরিত্র শান্ত সহজভাবেই সেই সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখের উপর কথা বলে দেয়। কিন্তু তার কথা বলার কৌশল বেশ অভিনব।এমনভাবে শান্ত ন্যায্য কথা গুলো মুখের উপর বলে দেয় অপর পক্ষের আর বলার কিছুই থাকে না। এমনটা নয় যে সে খুব উত্তেজিত হয়ে বা গলার জোরে বলে কিন্ত শান্তভাবে যা বলে বা করে তাকে এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই।

একটা ছোট্ট ভূমিকার মাধ্যমে লেখক বলেছেন কেন ও কিভাবে শান্ত চরিত্রের সৃষ্টি করেছেন। লেখনী চমৎকার। বেশীরভাগ গল্পগুলি মজার, ভালো লেগেছে পড়তে। ব‌ই এর কভার ও অলংকরণ গুলিও সুন্দর হয়েছে।সব মিলিয়ে ভালোই লাগলো শান্ত রায়কে। এমন শান্ত মানুষের সত্যি‌ই আজকের সমাজে প্রয়োজন ☺️
Displaying 1 - 3 of 3 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.