সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী (জন্ম. ১৯৩৬) পেশায় সাহিত্যের অধ্যাপক এবং অঙ্গীকারে লেখক। এই দুই সত্তার ভেতর হয়তো একটা দ্বন্দ্বও রয়েছে, তবে সেটা অবৈরী, মোটেই বৈরী স্বভাবের নয়। পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক, অবসরগ্রহণের পর ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রফেসর এমেরিটাস হিসাবে মনোনীত হয়েছেন। তিনি শিক্ষা লাভ করেছেন রাজশাহী, কলকাতা, ঢাকা এবং ইংল্যান্ডের লীডস ও লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে। লেখার কাজের পাশাপাশি তিনি ‘নতুন দিগন্ত’ নামে সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করছেন। তার গ্ৰন্থসংখ্যা আশির কাছাকাছি। তার অকালপ্রয়াত স্ত্রী ড. নাজমা জেসমিন চৌধুরীও লিখতেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।
বইতে সবচেয়ে পছন্দের লেখা "পিতার হুকুম।" অন্যান্য লেখাও ভালো কিন্তু লেখক যে কোনো সমস্যার কারণ হিসেবে কেন একমাত্র পুঁজিবাদকেই বেছে নিয়েছেন তা আমার বোধগম্য হয়নি। মনে হবে, পুঁজিবাদ ছাড়া পৃথিবীতে আর কোনো সমস্যার অস্তিত্ব নেই। নারীর প্রতি সহিংসতা আর অত্যাচারও নাকি শুধুমাত্র পুঁজিবাদের কারণে ঘটছে। মানে, যে সমাজে পুঁজিবাদ নেই সেখানে কি নারীর প্রতি সহিংসতা ছিলো না বা নেই? সমাজতন্ত্রীরা সবকিছুর অব্যর্থ শত্রু হিসেবে পুঁজিবাদকে ব্যবহার করতে সবসময়ই অক্লান্ত। সবকিছুর সহজ সমাধানও পুঁজিবাদ নির্মূল করা।সেই নির্মূলও কীভাবে সম্ভব হবে তার কোনো দিকনির্দেশনা কিন্তু লেখার মধ্যে নেই।