ম্যানিকুইন কি কেবলই পুতুল ? কেন প্রয়োজন হয় ? শপিংমলের ঝাঁ-চকচকে, কাঁচঘেরা শোরুম বলুন কিংবা এলাকার ছোটো, বড়ো, মাঝারি দোকানে যেভাবেতাদের দেখা যায় তার বাইরেও কি ব্যবহার হয়ে থাকে ? কোথায় পাওয়া যাবে? কিভাবেই বা ব্যবহৃত হয়? উত্তর খুঁজবেন প্রাক্তন সি.বি.আই অফিসার কিংশুক রায়।
লোকাল ট্রেনের কামরায় গান গেয়ে সামান্য রোজগার করত শম্পা। হঠাৎই একটি চাকরি পেয়ে সে মানুশ হিসেবে আমূল বদলে গেল। রোজগার বাড়তে লাগল, বারতে লাগল আপনজনের থেকে দূরত্বও। এক সন্ধ্যায় মগরাহাটে নিজে রপাড়াতেই খুন হয়ে গেল শম্পা। সন্দেহ গিয়ে পড়ল তার প্রেমিক পলাশের উপর। কোনোরকমে পুলিশের হাত থেকে বেঁচে পলাশ এসে উপস্থিত হল তার পূর্বপরিচিত প্রাক্তন সি.বি.আই। অফিসার কিংশুক রায়ের কাছে। প্রথমে তাকে ফিরিয়ে দিতে চাইলেও শেষে সত্য উদ্ঘাটনের দায়িত্ব নিলেন কিংশুক। এদিকে এক স্বঘোষিত দেবীর বিরুদ্ধে হঠাৎই বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন তাঁরই আশ্রমের সদস্যা এক ভোজপুরী অভিনেত্রী। শুরু হল দু’পক্ষের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই।
কিংশুক রায়-কে মনে আছে? তিনি হলেন এক অবসরপ্রাপ্ত সি.বি.আই অফিসার। কঠিন অঙ্কের সামনে পড়া ভালো ছেলে যেমন রাতজাগা চোখেও জলের ঝাপটা দিয়ে খাতা-কলম নেয়, তেমন করেই যুক্তির সহজ ছন্দে মেলানো যায় না এমন কোনো ধাঁধা সামনে এলে কিংশুক ফিল্ডে নামেন। বেশ কয়েক বছর আগে তিনি এমন করেই লেগে পড়েছিলেন এক সাংবাদিকের মৃত্যুরহস্য উন্মোচনে, যেটা আপাতভাবে ছিল দুর্ঘটনা। কিন্তু সেই সত্যানুসন্ধানের সূত্র ধরে সামনে এসেছিল বাংলার রাজনীতিকে টলিয়ে দেওয়া এক ভয়ঙ্কর ঘটনা। ‘অপ্রকাশিত ছবি’-র সেই রোমাঞ্চকর উপাখ্যানের পর আবার ফিরে এলেন কিংশুক রায়। তাঁকে ফিরিয়ে আনলেন লেখক, আর প্রকাশনা সংস্থা ‘দ্য কাফে টেবিল’। তবে এবার পলিটিক্যাল থ্রিলার নয়। এবার লেখকের ক্ষুরধার কলম আর হিসেবি পদসঞ্চার কিংশুকের ক্রসহেয়ারে এনে ফেলেছে অন্য এক জিনিসকে, যা নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে মিডিয়ায় কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বারংবার বেরিয়ে পড়ছে চন্দ্রবোড়া, রাজগোখরো, আর কালকেউটে। গল্পটা ছোট্ট করে বলে নিই? মগরাহাটের প্রতিভাবান কণ্ঠশিল্পী শম্পা নৃশংসভাবে খুন হল। খুনের আগের দিনই তার সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল তার প্রেমিক পলাশের। গ্রামের ইনস্ট্যান্ট জাস্টিস অনুযায়ী পরের লাশটা পলাশেরই হবে, একথা বুঝে সে পালায়। বেশ কয়েক বছর আগে এক হেভিওয়েট তদন্তের জন্য কিংশুক মগরাহাটে গেছিলেন। তখন পলাশের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। তারই সূত্র ধরে পলাশ তাঁর কাছেই এসে সাহায্য চায়। প্রাথমিক অনিচ্ছা কাটিয়ে কিংশুক একটু খোঁজখবর নিতে অকুস্থলে যান, আর তারপরেই তাঁর অভিজ্ঞ চোখে ধরা পড়ে বিস্তর গোলমাল। ট্রেনে গান গাওয়া ছেড়ে অন্য কাজ ধরা শম্পার হাতে গত কিছুদিনে এত টাকা আসছিল কীভাবে? কী এমন কাজ পেয়েছিল সে, যাতে ঘর বন্ধ করে রিহার্সাল দিতে হয়, অথচ যার চাপে সংসারের আর সবার সঙ্গে তার সম্পর্ক ক্রমেই শুকিয়ে আসছিল? তাকে নতুন কাজ দিয়েছিল যে লোকটি, তার আসল পরিচয় কী? একদিকে যখন মগরাহাটের সৎ, বুদ্ধিমান, ও দক্ষ পুলিশ অফিসার বিদ্যুৎ, এবং অবশ্যই কিংশুক, ও তাঁর সহ-সত্যান্বেষী শর্মিষ্ঠা শম্পার খুনের পেছনে থাকা প্যাঁচালো ষড়যন্ত্রের লেজটা দেখতে পাচ্ছেন, তখন ষড়যন্ত্রের মাথাটা আমরা দেখতে পাচ্ছি সমান্তরাল এক কাহিনির মাধ্যমে। সেই কাহিনিতে ধর্ম, অর্থ, কাম, ও মোক্ষ চতুরঙ্গের মতো করে তৈরি করে দিচ্ছে সেই চিরন্তন শতরঞ্জ, যাতে ঘুঁটি হয় অভাগারা, আর সাম্রাজ্য গড়ে মুষ্টিমেয় কেউ। যেহেতু লেখক হাতের সব তাস পাঠকদের দেখিয়ে দিয়েছেন, তাই আমরা অনেক আগেই বুঝে ফেলি ঠিক কী ঘটেছে, কেন ঘটেছে, ও এরপর কী ঘটবে। কিন্তু তবু, এই বিশেষ উপন্যাসটির শেষ অবধি লেখক আমাদের ছুটিয়ে নিয়ে যান তিনটি ফ্যাক্টরের সাহায্যে: ১] গল্পের গতি এক মুহূর্তের জন্যও শ্লথ হয়নি। ওস্তাদ থ্রিলার-লিখিয়ে হিসেবে দেবাঞ্জন নন-লিনিয়ার ন্যারেটিভেও ছোট্ট-ছোট্ট অধ্যায়ের সাহায্যে এটা নিশ্চিত করেছেন, যাতে পাঠকের মনোযোগ লেখা ছেড়ে অন্যত্র পালাতে না পারে। ২] রেলগাড়ির কামরায় এমন অনেক শিল্পীকেই আমরা দেখি বা শুনি, যাঁদের প্রতিভা হয়তো শুধুই চাকার ঘড়ঘড়ানিতে চাপা পড়ার মতো নয়। তাঁদের নিয়ে সস্তা সেন্টিমেন্টাল গল্প মাঝেমধ্যে লেখা হয় ঠিকই, কিন্তু রহস্য কাহিনিতে তেমন এক শিল্পীর এহেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাপালন আমার জ্ঞানত এই প্রথম। ৩] ‘ম্যানিকুইন রহস্য’ নামক একটি গল্পে সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ কর্নেল নীলাদ্রি সরকারকে দিয়ে রহস্যভেদ করিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু বস্তুর বদলে তার ধারণাটিকে এক মায়াবিনীর সঙ্গে জুড়ে দিয়ে লেখক যে সাহস দেখিয়েছেন, তা তারিফযোগ্য। সেই সুবাদে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের অর্থনীতি, রাজনীতি, ও সমাজে বিরাট গুরুত্ব অধিকার করে থাকা বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের দিকেও নীরব অঙ্গুলিনির্দেশ করেছেন তিনি হয়তো এই আশায় যে ‘সমঝদারোঁ কে লিয়ে ইশারা হি কাফি হ্যাঁয়’। একতা ভট্টাচার্য-র প্রচ্ছদ চমৎকার। কয়েকটি বানান ভুল, যার মধ্যে আবার দুটি ‘ভূমিকা’-তেই, ছাড়া বইটির মুদ্রণ বেশ ভালো, এবং লেখকের অন্যান্য বইগুলোর থেকে অনেক-অনেক এগিয়ে। সর্বোপরি, ১৫৯ পাতার এই বাস্তবানুগ রহস্য উপন্যাসটির মধ্যে এমন একটা পরিচ্ছন্ন কাহিনিনির্মাণ ও কথন আছে, যেটা বাজারে উপলব্ধ শত-শত রহস্য উপন্যাসের মধ্যেও স্বকীয়। পড়ে ফেলুন। বইটি আপনাদের ভালো লাগবে বলেই আমার ধারণা।
দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার মেয়ে শম্পা, ট্রেনে ট্রেনে দল নিয়ে গান গেয়ে যে টাকা পেতো তা দিয়ে দিন চালাতো। হঠাৎ করে খুন হয়ে গেলো সে। খুনের দায় চাপলো তার প্রেমিক পলাশের ঘাড়ে। পলাশ বিপাকে পড়ে আশ্রয় নিলো সাবেক সিবিআই অফিসার কিংশুক রায়ের কাছে। কিংশুক প্রথমে মাথা না ঘামালেও পলাশের স্বার্থে কেসটা তলিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিলেন। তখনই বুঝলেন এই কেসটা সাধারন নয়, বেশ জটিল কোন ব্যাপার জড়িয়ে আছে।
এবার চোখ ফেরাই উত্তর প্রদেশে। বিখ্যাত আধ্যাত্মিক গুরু দেবপ্রিয়াকে নিজেদের প্রচারণার জন্য নির্বাচন করেছে শাসকদল। কথিত আছে, দেবপ্রিয়ার উপর মা কালীর আশীর্বাদ আছে। দেবপ্রিয়া তথা দেবীমায়ের সামাজিক সংস্থা শক্তিবাহিনী। ঘরে বা বাইরে নির্যাতনের স্বীকার যুবতীদের নিয়েই এই সংগঠন। সবকিছু চলছিল ঠিকঠাক, এমন সময় ভোজপুরি নায়িকা সন্ধ্যাকুমারী দাবি করলেন উপরে শক্তিবাহিনীর নাম দিয়ে এর ভেতরে চলে অসামাজিক কার্যকলাপ। এখন কথা হলো দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার অতি সাধারণ এক যুবতীর খুনের সাথে এসব ঘটনার সম্পর্ক কী?
মার্ডার মিস্ট্রি হিসাবে বেশ ভালো একটা বই। যদিও ট্যুইস্টটা অনেক আগেই ধরে ফেলেছিলাম, আমি জানি গোয়েন্দা গল্প পড়ার অভ্যাস যাদের আছে তারাও ধরতে পারবেন। তারপরেও লেখকের ঝরঝরে লেখনী আর কাহিনীর জোরে গল্পের শেষভাগ পর্যন্ত আটকে রাখবে পাঠককে।
মানব ম্যানিকুইন কনসেপ্ট টা আমার কাছে নতুন নয়। রহস্য রোমাঞ্চ ছোটবেলা থেকেই আমার অত্যন্ত প্রিয় এবং তার দরুন বাংলা ইংরেজি নানান বই ও সিরিজ আমার পড়া ও দেখা। এই ঘরানার আমার একটি খুব পছন্দের সিরিজ হলো castle যেখানে একটি এপিসোডে একজন কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার, যাদের NYPD তে কর্মরত একজন গোয়েন্দা এবং ডিপার্টমেন্ট এর সাথে জড়িত একজন মেডিক্যাল এক্সামিনার এর সাথে চেহারার সাথে সাদৃশ্য থাকা কিছু সাধারণ গরীব মানুষদের খুঁজে খুঁজে, তাদের বিপুল অর্থের লোভ দেখিয়ে তুলে এনেছিল। তারপর সেই সিরিয়াল কিলার তার প্লাস্টিক সার্জারিতে পটিয়সী বান্ধবীর সাহায্যে সামান্য ছুরি কাঁচি চালিয়ে হুবহু একই দেখতে করে কিছুদিন পর তাদের মেরেও ফেলে।
এই বইটির blurb পড়েই আমার castle এর এপিসোড টির কথা মনে পড়েছিল। কনসেপ্ট টা একই প্রায়। স্টেশন গান করে রোজগার করা শম্পা নামে একটি মেয়েকে হটাৎ করে যেচে এসে একজন চাকরির প্রস্তাব দেয়। মেয়েটিও হাতের লক্ষ্মী পেয়ে ঠেলতে না পেরে রাজি হয়ে যায়। এর পরই তার জীবন একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে যায়। টানাটানির সংসারে আকস্মিক অর্থের অবিরাম ঢেউ খেলে যায়। শুরু হয় বিলাসবহুল জীবনযাপন। অথচ চাকরি টা যে ঠিক কি সেটা শম্পা কাউকে জানায় না। কয়েক মাস পরে শম্পা খুন হয় এবং খুনের দায়ে তার প্রেমিক ফেঁসে যায়। সেই প্রেমিক নিরুপায় হয়ে কলকাতা��় পালিয়ে এসে প্রাক্তন সিবিআই অফিসার কিংশুক রায়ের সাহায্য প্রার্থনা করে। প্রথমে আপত্তি থাকলেও পরে কিংশুক রায় কেস টির তদন্তে নামেন! শিগ্রহিই তিনি বুঝতে পারেন ত্রিকোণ প্রেমের জেরে খুনের মত ছেঁদো কেস নয় বরং রহস্যের জাল বাংলা ছাড়িয়ে সুদূরে লন্ডন পর্যন্ত বিস্তারিত!
রহস্যের বুনন বেশ মজবুত এবং কনসেপ্ট নির্বাচন ও অভিনব। কিংশুক রায়ের তদন্ত পদ্ধতি পাঠক কে মুগ্ধ করবেই। দেবঞ্জনমুখোপাধ্যায় এর প্রতিটা থ্রিলার এর মধ্যে বাস্তবের এক নিখুঁত চিত্র ফুটে ওঠে যেটা বরাবর আমাকে টানে! পড়লে মনে হবে আরে! এই রকম ঘটনা তো সেদিনই কাগজে পড়লাম!
তবে বলে রাখা ভালো, যেহেতু গল্পের দুটো দিক সমান্তরাল ভাবে এগিয়েছে, মূল প্লট কিন্তু পাঠক ৬০-৭০ পাতা পড়লেই ধরতে পারবে ( আমার মত প্রচুর রহস্য গল্প পড়া থাকলে অনেক আগেই ধরতে পারবেন) । শেষে আপনার জন্য কোনো টুইস্ট অপেক্ষা করে নেই। তাহলে বাকি অর্ধেক পাতা কেনো পড়লাম?? শুধুমাত্র কিংশুক রায় কি কি অভিনব কায়দায় রহস্যের কিনারা করলেন সেইটা জানার তাগিদে বাকি পাতাগুলো কখন যে শেষ হয়ে গেলো বুঝতেই পারিনি!
আগেই বলেছি লেখা তে বাস্তবতা বারে বারে ফিরে আসে! গল্পের শেষ টাও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আগের বইয়ের মতোই লেখক শেষ টা করেছেন দুঃখজনক একটি ঘটনা দিয়ে। সব কিছুর সুরাহা হওয়ার পর দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা দিয়ে শেষ করাটা হয়তো লেখকের ট্রেডমার্ক! একটা সমস্যার সমাধানের পর শুধু ক্ষণিকের প্রশান্তি। তারপরই আসে নতুন অপরাধ, নতুন লড়াই! অপরাধের কোনো শেষ নেই! তাই লড়াই জারি রাখতেই হবে, থেমে গেলে চলবেনা!!
🎋🍁বইয়ের নাম - মায়াবিনীর ম্যানিকুইন🍁🎋 ✍️লেখক - দেবাঞ্জন মুখোপাধ্যায় 🖨️প্রকাশক - দ্য কাফে টেবল 🖼️🎨প্রচ্ছদ - একতা 📖পৃষ্ঠা সংখ্যা -১৫৯ 💰মূল্য - ২০০₹
🎋🍂সদ্য পড়ে শেষ করলাম সাহিত্যিক দেবাঞ্জন মুখোপাধ্যায় এর লেখা “মায়াবিনীর ম্যানিকুইন”! প্রথমেই বলি লেখকের লেখা এই প্রথম পড়ছি। এই বই এর প্রচ্ছদ দেখে মনে হয়েছিলো ভুতের উপন্যাস বোধহয়। পড়ে বুঝলাম রহস্য উপন্যাস, উপন্যাস এর শুরুতেই দেখতে পাই "শম্পা" নামে একটি মেয়ে খুন হয়েছে। এবং এই কেশের তদন্তে নামে প্রাক্তন সি.বি.আই. অফিসার কিংশুক রায়। দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ড। মামলার মূল তদন্তকারী অফিসার হল দক্ষিন চব্বিশ পরগনা জেলার মগরাহাট থানার আই সি বিদ্যুৎ হালদার। লোকাল ট্রেনর শিল্পী হল শম্পা ভালো গান গাইতো , অবিকল গলা নকল করতে পারে বিভিন্ন জনপ্রিয় শিল্পীদের। হঠাৎ ই একদিন মেয়েটির নলি কাটা দেহ উদ্ধার হয়। কেনো খুন হয় শম্পা ? এই হত্যাকাণ্ড আসলে একটি ব্যার্থ প্রেমের পরিণাম, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো জটিল রহস্য? উত্তর খুঁজবেন অফিসার কিংশুক রায়।এই উপন্যাস সম্পর্কে বেশি কিছু বলবো না। তিন-চারটি ঘটনা একসাথে চলতে থাকে এই উপন্যাস এর মধ্যে, অসাধারণ একটি উপন্যাস। পড়ে আমার ভালোই লেগেছে,লেখক কে অসংখ্য ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটা বই পাঠকদের উপহার দেওয়ার জন্য!🍂🎋
♦️ পাঠ প্রতিক্রিয়া - শুরুতেই বলা উচিত এটা কোনো থ্রিলারধর্মী উপন্যাস নয় বরঞ্চ কিছুটা গোয়েন্দা ও পুলিশী ইনভেস্টিগেশন ধর্মী উপন্যাস যেখানে কাহিনীর মাজ পথেই পাঠকদের বোঝা হয়ে যাবে শেষে কি হতে চলেছে তবে, যেই পদ্ধতিতে কাহিনী এগিয়েছে সেটাই এই কাহিনীর মূল আকর্ষণ। ক্লাইম্যাক্স বলে আলাদা কিছু নেই বলতে হয় । শুধু ইনভেস্টিগেশন পদ্ধতি ও দেশের পুলিশের সোর্স ও মিডিয়া কে কিভাবে একটা তদন্তে ব্যবহার করা হয় তার একটা সুন্দর বর্ণনার পেলাম এই গল্পে।
♦️ ভালো লাগার বিষয় বলতে গেলে দুটো বিষয়কে আলোকপাত করা উচিত এক - গল্পের প্লট খুব প্রাসঙ্গিক ও বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত । আর একটি বিষয় না বললেই নয় তা হলো পুরো উপন্যাসের বাঁধন এত সুন্দর যে পড়ে মনে হবে আদও উপন্যাস পড়ছি নাকি সত্যি কোন ক্রিমিনাল কেস স্টাডি। নিখুঁত ভাবে লেখা যেখানে কোনো চরিত্রও অপ্রাসঙ্গিক বা অতিরঞ্জিত নয়। পড়ে দেখা যেতেই পারে আশা করি আমার মত সবারই ভালো লাগবে।
♦️লেখক তথা পাবলিশার্স কে ধন্যবাদ দেব এত সুন্দর একটা নিখুঁত বই পাঠক দের উপহার দেওয়ার জন্যে। আশা রাখি এরকম বাস্তব ভিত্তিক ও সামাজিক অপরাধ মূলক গোয়েন্দা কাহিনী আরও পড়তে পারবো।।