"আমি কি কিছুর মতো? কারো মতো? কোনো সদৃশ বস্তুর মতো? যে আমাকে মেলাবে, সোনালি ঝর্নার সাথে, সবুজ বৃক্ষের সাতে, নদী বা তারার সাথে? আমি কি কিছুর মতো? শিশু ও শিল্পির মতো? রদাঁর মূর্তির মতো? হয়তোবা পাখি, হয়তোবা ফুল, হয়তো সে দরবেশ আমি এ কিসের মতো?- যে আমাকে মেলাবে; চাঁদের বর্ণের মতো? টিয়ার চোখের মতো? অরণ্যে শিলার মতো? আমি ঠিক কিসের মতন না ঝর্ণার সদৃশ, পাখির সমান, না বৃক্ষের তুলনা আমি কি নদীর শব্দ, পাতার শিশির নাকি কোনো যুবতীর রাঙা অভিমান!
আমাকে যা ভাবো, ধরো হাতের অঙ্গুরি মেঘ, ভাঁটফুল, সিংহের আকৃতি, আমি ঠিক কিসের মতন, কার মতো? কোনো সদৃশ বস্তুর মতো? আমাকে যা ভাবো, ধরো নদী, ধরো স্তল, ধরো অগ্নি, আমি বস্তুত স্বভাব।"
"তোমার শরীরে হাত আকাশ নীলিমা স্পর্শ করে ভূমণ্ডল ছেয়ে যায় মধ্যরাতে বৃষ্টির মতন মুহূর্তে মিলায় দুঃখ, দুঃখ আমাকে মিলায় জলের অতল থেকে জেগে ওঠে মগ্ন চরাচর দেশ হয় দেশ, নদী হয় পূনর্বার নদী নৈঃশব্দ্য নিরুণ হাতে করতালি দেয় নিসর্গ উন্মুক্ত করে সারাদেহে নগ্ন শরীর কোন খানে রাখি তুলে দেহের বিস্তার তোমার শরীরে হাত দীর্ঘতর আমার শরীর; তোমার শরীরে হাত সূর্যোদয়, মেঘে রৌদ্র জন্মান্তর আমার আবার; তোমার শরীরে হাত একদিন, এই জন্মে শুধু একবার!"